চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৮। যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করিবেন উহাদের সকলকে, তখন উহারা আল্লাহর নিকট সেইরূপ শপথ করিবে যেইরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং উহারা মনে করে যে, ইহাতে উহারা ভালো কিছুর উপর রহিয়াছে। সাবধান! উহারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।


 


 


দুর্বলের পক্ষে সবলের অনুকরণ ভয়াবহ। -দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া ও করণীয়
তারজিনা আকতার
০৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন। যাতে একটি শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষা হতে বঞ্চিত না হয়। এজন্যে বিদ্যালয়ে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত সকল শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোকে শিশুদের নিকট আকর্ষনীয় করে তুলতে প্রতিবছর সস্নিপ-এর বরাদ্দ প্রদান করা হয়। যার প্রধান সস্নোগান হচ্ছে : আমার স্বপ্ন, আমার বিদ্যালয়। এ সস্নিপের বরাদ্দ মূলত মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে ব্যয় হয়।



 



শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রাথমিক ক্রীড়াও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরস্কৃত হয়। এছাড়া লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি শিশুদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে প্রতিবছর বিদ্যালয় পর্যায়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-এর আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচম্যান্ট এলাকার ৫+ ও ১০+ বয়সী সকল শিশু যাতে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, এজন্য শিশু জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকরে সকল শিশুকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ভর্তির আওতায় আনেন। এই সমস্ত কার্যাবলি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করার জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে পরিচালিত হয়।



 



তবু কেন শতভাগ ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না তা হলো :



১। পারিবারিক অসচেতনতা।



২। পিতা ও মাতার আর্থিক অসচ্ছলতা।



৩। পিতা ও মাতার শিক্ষার প্রতি অন্যাগ্রহ।



৪। সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা ।



৫। বিদ্যালয়গুলোতে খেলাধুলার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট ক্লাস না থাকা।



৬। মিড ডে মিল এর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া।



৭। কার্যকর হোমভিজিট না হওয়া।



৮। শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা ।



৯। পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা।



১০। বিদ্যালয়ের দীর্ঘসময় অবস্থান।



 



ঝরে পড়া রোধ কল্পে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ নেয়া যেতে পারে :



 



১। শ্রেণিকক্ষ সমূহ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আকর্ষণীয়ভাবে সজ্জিত করা।



২। মিডডে মিল শতভাগ নিশ্চিত করা।



৩। শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার রুটিনে ৩০ মিনিট সময় রাখা।



৪। মাসিক সর্বোচ্চ উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিমাসে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা।



৫। বিদ্যালয়গুলোকে ১ শিফট করে কর্ম ঘণ্টা কমিয়ে আনা।



৬। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা করা।



৭। ক্লাস পার্টির আয়োজন করা।



৮। সপ্তাহে ২/১ দিন বিদ্যালয়ের রুটিনে সকল শিক্ষার্থীকে একসাথে করে শিক্ষামূলক কার্টুন ও নাটক দেখানোর ব্যবস্থা করা।



৯। 'মা' সমাবেশ ও উঠোন বৈঠক প্রতিমাসে নিশ্চিত করা। কার্যকর হোমভিজিট নিশ্চিত করা।



১০। কেস স্টাপি করা এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা।



১১। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে উদ্বুদ্ধ করা।



 



অতএব, ঝরে পড়া রোধকল্পে সকল শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ/শিক্ষকবৃন্দ বিদ্যালয়ের এসএমসি; পিটিএ ও স্থানীয় সচেতন অভিভাবকদের সহযোগিতায় এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শক্রমে যদি উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। 'শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ/শেখ হাসিনার বাংলাদেশ' এই সস্নোগানে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিটি শিশু আনন্দের সাথে বিদ্যালয়ে আসবে এবং সঠিক শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।



 



'প্রতিদিন সবাই মিলে আমরা শপথ করি



মানুষ হতে হলে আগে নিজেকে গড়ি।'



 



লেখক : সহকারী শিক্ষক, ৭৬নং উত্তর বালিয়া সপ্রাবিঃ।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৭১৪
পুরোন সংখ্যা