চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৮। যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করিবেন উহাদের সকলকে, তখন উহারা আল্লাহর নিকট সেইরূপ শপথ করিবে যেইরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং উহারা মনে করে যে, ইহাতে উহারা ভালো কিছুর উপর রহিয়াছে। সাবধান! উহারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।


 


 


দুর্বলের পক্ষে সবলের অনুকরণ ভয়াবহ। -দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জ্ঞানদানের বিপরীতে কী পাচ্ছেন শিক্ষক?
মাছুম বিল্লাহ
০৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। সমাজের অনেকেই ধারণা করে থাকেন, শিক্ষকতা পেশায় কাজ কম, ছুটি বেশি; অতএব অন্য চাকরির মতো বাড়তি কোনো প্রেসার নেই। বিষয়টি আসলে তা নয়। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর এডুকেশনাল রিসার্চের এক সমীক্ষায় সমপ্রতি উঠে এসেছে এমন তথ্য। পরিসংখ্যান বলছে, অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে যেখানে ৩২ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, সেখানে শিক্ষকদের এ হিসাব দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশ। এমনকি নিজের কাজ নিয়ে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন শিক্ষকই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে প্রতি আটজন দুশ্চিন্তায় ভোগেন। গবেষক জ্যাক ওয়ার্থ বলেন, ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে শিক্ষকতা পদে নিয়োগ ও পড়ুয়াদের সংখ্যার মধ্যে বিশেষ অসাম্য লক্ষ করা যায়। ফলে দিনকে দিন এ প্রশিক্ষকদের মানসিক সমস্যা বেড়ে চলেছে। অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠিন সময় আসতে শুরু করবে।



ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম্যারি বোস্টেড বলেন, এর ফলে অনেকেই শিক্ষকতার পেশা থেকে দূরে থাকতে চাইছেন। শিক্ষকতা পেশায় সমস্যা চলছে বিশ্বব্যাপী। এটি শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়। শিক্ষকদের পেশার যথাযথ স্বীকৃতিপ্রদান, সম্মান বৃদ্ধি, শিক্ষকতা পেশায় বিদ্যমান সমস্যাসমূহ দূর করে এ পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের আয়োজন করাই হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সোয়া চার লাখ অথচ তাদের নিজস্ব কোনো ক্যাডার নেই। প্রশাসন ক্যাডার থেকে ধার করে কর্মকর্তা এনে তাদের দ্বারা প্রাথমিক শিক্ষার বিশাল বহর চালানো হচ্ছে; ফলে শিক্ষকদের কোনো পদোন্নতিরও সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে স্বভাবতই মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষায় আসছেন না। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। সরকারের এমন কোনো কাজ নেই, যেমন- ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোট গ্রহণ, এমনকি গ্রামের পাকা পায়খানা বানানোর কাজটাও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা করেন এবং এসব কাজ স্কুল খোলা থাকার সময় হয়। ফলে শিক্ষকদের যত শিক্ষাঘণ্টা পাঠদান করানোর কথা ততক্ষণ তারা পাঠদান করতে পারছেন না। এভাবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের ঠকাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় দুই কোটি উনিশ লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ২০২০ সালের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা দেয়া রাতারাতি সম্ভব নয় বলে মনে করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। কেননা প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রবর্তন করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সরকার সবার জন্য শিক্ষা বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখতে গিয়ে শুধু সংখ্যার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সংখ্যা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরা কতটা জ্ঞান অর্জন করল, সে দিকে দৃষ্টি দেয়া।



মাধ্যমিক শিক্ষার মাত্র তিন শতাংশ রাষ্ট্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে, বাকি ৯৭ শতাংশই বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্মান দেয়ার মতো শিক্ষিত লোক বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ম্যানেজিং কমিটির অশিক্ষিতরা শুধু শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্বই ফলান না, তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেন। আইএলও ও ইউনেস্কোর সনদ অনুযায়ী 'সমযোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমান পেশায় নিয়োজিত থাকলে তারা সমান মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।' সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের পেশাগত সমান মর্যাদা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজ দেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে যে দৃশ্য দেখতে পাই, তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কলঙ্ক। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, শিক্ষার মতো পবিত্র বিষয়ে সবকিছুই পবিত্র থাকবে। সবকিছুর বিনিময়ে আমাদের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে পবিত্রতম স্থান এবং শিক্ষকরা হবেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত কা-ারি।



 



মাছুম বিল্লাহ : সাবেক ক্যাডেট কলেজ শিক্ষক



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৪২৬
পুরোন সংখ্যা