চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১ মাঘ ১৪২৬, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫। যখন উহাদিগকে বলা হয়, 'তোমরা আইস, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবেন, তখন উহারা মাথা ফিরাইয়া লয় এবং তুমি উহাদিগকে দেখিতে পাও, উহারা দম্ভভরে ফিরিয়া যায়।


 


সভ্যতাই সভ্য মানুষ তৈরির যন্ত্র।


-জন রাসকিন।


 


 


প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


ফটো গ্যালারি
ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা
গৌরব ধরে রাখতে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঘিলাতলী সামাদিয়া কাসেমুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসাটি ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। এ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ঘিলাতলী কাজী বাড়ির কাজী মোঃ ওয়াহিদুল্লাহ মৌলভী। তিনি একটি ছোট্ট ছনের ঘরে কয়েক জন ছাত্র দিয়ে প্রথম এ মাদ্রাসার কার্যক্রম চালু করেন। তখন এটি মক্তব পর্যায়ে ছিলো। মরহুম কাজী মোঃ ওয়াহিদুল্লাহ মৌলভী সাহেবের সেই মক্তব আজ ছনের ঘর থেকে টিনের ঘর, টিনের ঘর থেকে পাকা দালানে পরিণত হয়ে স্নাতক (সমমান) পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। মাদ্রাসাটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন চারদিকে এ উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ বিদায়ের পদধ্বনি। শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা মুসলিম জনগোষ্ঠীর দ্বীনি এলেম শিক্ষালাভের এক মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিকূলতার পথ মাড়িয়ে আজকের অবস্থানে এসে পেঁৗছেছে ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা। এলাকার গণ্যমান্য, বিদ্যানুরাগী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ক্ষুদ্র মক্তব আজ ২ একর ৭০ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে এ শিক্ষানিকেতন। এ জমির মধ্যে ৬০ শতাংশ জমি মাদ্রাসাকে দান করেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম পাটোয়ারী। লেখাপড়ার মান ও ফলাফলের দিক থেকে আজ চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এটি।



 



ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৬৭ বছর যাবৎ এ এলাকার মানুষকে আলো দান করে আলোকবর্তিকার ভূমিকা পালন করলেও সরকারি কোনো উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ না থাকায় কেবল নিজস্ব অর্থায়নে চলেছে মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজ। নিজস্ব তহবিল থেকে একটি ৪তলা ভবনের ২য় তলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪তলা ফাউন্ডেশনের ৩ কক্ষবিশিষ্ট ১তলা সম্পন্ন করা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে ৫টি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। যার মেঝে কাঁচা মাটির তৈরি। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা মাটির টিনশেড ঘরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি পড়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করতে ব্যাহত হয় বলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান। মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে ফাযিল ৩য় বর্ষ পর্যন্ত শ্রেণিকার্যক্রমের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে হিফ্জ বিভাগ এবং নূরানী বিভাগ। এ দুটি বিভাগের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতায়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাসার এ কাজে দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণে সকলের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।



 



নানা সমস্যায় জর্জড়িত ঐতিহ্যবাহী ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা। এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো অবকাঠামোগত সমস্যা। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজন ২৫টি শ্রেণিকক্ষ। বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ আছে ১৫টি। এর মধ্যে পাকা শ্রেণিকক্ষ ৯টি এবং টিনশেডে কাঁচা ঘরে আছে ৬টি শ্রেণিকক্ষ। বাকি শ্রেণি কার্যক্রমগুলো হোস্টেলের কার্যক্রম দিনের বেলায় বন্ধ রেখে চালাতে হয়। জরাজীর্ণ টিনের ঘর হওয়ার কারণে এ সকল শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।



 



মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা আলাদাভাবে আদর্শ পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ভবনের সমস্যা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে আল্লাহর মেহেরবানীতে ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০০৫ সালে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের সহ-শিক্ষার পরিবর্তে আলাদা শাখা চালু করতে সক্ষম হয়েছি। ফলে আমাদের প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মেধা-মনন-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এর সুবিধাদি অন্বেষণ করে উপকৃত হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এ কাজে সহায়তা করছেন সুযোগ্য, আদর্শ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লী। বলাবাহুল্য, শিক্ষার এ সুন্দর পরিবশে তৈরি করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে শ্রেণিকক্ষের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।



 



এছাড়া ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসায় ৫ম, ৮ম এবং দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস করতে কর্তৃপক্ষের হিমশিম খেতে হয়। একটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র থাকার জন্যে যে সকল অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন তা অনেকাংশেই নেই মাদ্রাসাটির। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির ৫ম, ৮ম ও দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র এখান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা করেন অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এখানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার শিক্ষানুরাগী মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা হলেই অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সক্ষম হবে ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ।



 



শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি রেফারেন্স শিক্ষার প্রয়োজন। এজন্যে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার থাকা আবশ্যক। কিন্তু মাদ্রাসায় একটি গ্রন্থাগার থাকলেও এর পুস্তক সংগ্রহ অত্র মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ছাত্র-ছাত্রীরা পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বাড়তি জ্ঞান অর্জনের জন্যে লাইব্রেরিওয়ার্ক করতে চায়। সেজন্যে ঘিলাতলী মাদ্রাসার লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ করার দাবি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের।



 



মাদ্রাসার অফিসসূত্রে জানা যায়, এখানে ১১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। তাদের শিক্ষা দেয়ার জন্যে ২৮ জন শিক্ষক নিরলসভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১৯ জন এমপিওভুক্ত ও ৯ জন খ-কালীন হিসেবে কর্মরত আছেন। এ শিক্ষকম-লীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে ইহকালীন এবং পরকালীন জ্ঞান লাভ করে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশ-বিদেশে দ্বীনের খেদমতসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।



 



শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যে খেলার মাঠ থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় খেলাধুলার সামগ্রী। নেই কোনো ইনডোর খেলার সুব্যবস্থা। সার্বিক বিবেচনায় ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসার নানাবিধ সমস্যার সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাসার আশা পোষণ করেন।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২২৯৬৫
পুরোন সংখ্যা