চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১ মাঘ ১৪২৬, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫। যখন উহাদিগকে বলা হয়, 'তোমরা আইস, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবেন, তখন উহারা মাথা ফিরাইয়া লয় এবং তুমি উহাদিগকে দেখিতে পাও, উহারা দম্ভভরে ফিরিয়া যায়।


 


সভ্যতাই সভ্য মানুষ তৈরির যন্ত্র।


-জন রাসকিন।


 


 


প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


ফটো গ্যালারি
শিক্ষক সাক্ষাৎকার : মোঃ মাসুদুর রহমান
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সদাহাস্যোজ্জ্বল শিক্ষক মোঃ মাসুদুর রহমান। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করতে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবীমুখ। বর্তমানে তিনি মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের সভাপতি, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চাঁদমুখ-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস)-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সম্প্রতি এ গুণী শিক্ষকের মুখোমুখি হয় 'শিক্ষাঙ্গন' বিভাগ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এইচএম জাকির।



 



কেমন আছেন?



মোঃ মাসুদুর রহমান : আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের ও আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি।



 



শিক্ষকতা পেশায় কীভাবে এলেন?



মোঃ মাসুদুর রহমান : ইচ্ছে ছিলো ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু এইচএসএসসি পরীক্ষার পর যখন মেডিকেলে চান্স পেলাম না, তখন ভাবলাম শিক্ষকতা পেশায় এসেও মানুষের সেবা করা যায়। তাছাড়া আমার বাবা একজন সৎ সরকারি কর্মচারী ছিলেন। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাবলাম জীবনে কীভাবে সৎ থাকা যায়। তাই শিক্ষকতাকে পেশা বেছে নিলাম। অগ্রণী ব্যাংকে তিন মাস চাকুরি করেছি কিন্তু মন পড়ে থাকতো শিক্ষকতা পেশায়। পরে সরকারি হাইস্কুলে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরপরই ব্যাংক থেকে চলে আসি এবং শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করি।



 



শিক্ষক হিসেবে প্রথম দিন কেমন কেটেছে?



মোঃ মাসুদুর রহমান : শিক্ষকতা পেশায় প্রথম দিন খুব আনন্দ উপভোগ করেছি। মনে হয় যেনো নিজের পছন্দের একটা পেশা বাছাই করতে পেরেছি। খুব ভালো লেগেছিলো। আসলে শিক্ষকতা কোনো পেশা নয়, কোনো চাকুরি নয় এটা একটা মহান ব্রত।



 



আপনার ছাত্রজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।



মোঃ মাসুদুর রহমান : আমার ছাত্রজীবন সম্পর্কে বলতে গেলে খুবই ভালো লাগে। কারণ আমি বরাবর ভালো ছাত্র ছিলাম। ৫ম, ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পাই। প্রায় সব ক্লাসে রোল ছিলো ১। এসএসসি ও এইচএসসিতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হই। মাঝে মাঝে ২/১টা ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে। তারপরও ছাত্রজীবন খুব ভালোই ছিলো। আনন্দেই ছিলাম।



 



আপনাদের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ্য করেন?



মোঃ মাসুদুর রহমান : আসলে আমাদের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। আমাদের সময় শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধা-ভক্তি ছিলো বহুগুণে। কিন্তু এখন ছাত্ররা শিক্ষকদের, অভিভাবকদের এমনকি মুরুবি্বদের সম্মান করছে না। নৈতিক শিক্ষার ব্যাপক অধঃপতন হচ্ছে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি নৈতিক শিক্ষার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন। আসলে শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষা থাকলে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদেরকে অন্তত সম্মান করে, ভয় করে। পরীক্ষা না থাকলে ছাত্র-ছাত্রীরা বেপরোয়া হয়ে যায়। কাউকে পাত্তা দেয় না। আসলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতরে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সময়নিষ্ঠা ইত্যাদি গুণাবলি তৈরি করতে হবে।



 



আপনি শিক্ষামন্ত্রী হলে বিশেষ যে তিনটি কাজ করতেন?



মোঃ মাসুদুর রহমান : আমি শিক্ষামন্ত্রী হলে প্রথমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা এবং দেশপ্রেমের উপর গুরুত্ব দিতাম। যা আমাদের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দিচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিভাগ থাকবে না। তাদের বিষয় থাকবে বাংলা ১ম ও ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (সমাজবিজ্ঞান), সাধারণ বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, কৃষি ও শারীরিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি। বিজ্ঞানের ভেতরে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান থাকবে। সমাজের ভেতরে ইতিহাস, ভূগোল, পৌরনীতি থাকবে। ইংরেজির উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। ধীরে ধীরে শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে তুলতাম। অর্থাৎ যে সেক্টরে চাকুরি করবে, সে সেক্টরের বিষয়বস্তুর উপরই তাত্তি্বক ও ব্যবহারিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতাম।



 



শিক্ষার্থীদের জন্যে খেলাধুলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?



মোঃ মাসুদুর রহমান : শিক্ষার্থীদের জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। আমি বলবো শুধু ছাত্রজীবনে না, সবসময়ই খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। 'বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা, নয়নের অঙ্গ যে নয়নের পাতা।'



খেলাধুলা মানুষের মনকে সতেজ করে। কাজ করার জন্যে মনকে তৈরি করে দেয়। মনের সকল জড়তা, অবসাদ, ক্লান্তি দূর করে। তাই বর্তমান সরকার খেলাধুলার ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রতিদিনই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খেলাধুলার ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছেন।



 



এ বিদ্যানিকেতনটি সম্পর্কে কিছু বলুন।



মোঃ মাসুদুর রহমান : ইলিশের বাড়ি 'চাঁদপুর'-এ অবস্থিত। দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির এলাকার শ্রেষ্ঠ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আমাদের মতে এ বিদ্যালয়টি খুবই সুচারুরূপে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে এ বিদ্যানিকেতনটির জন্যে আরো আন্তরিক হতে হবে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে অনেক ভালো করছে। এবারো জাতীয় সংগীত এবং দেশাত্মবোধক গানে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমাদের প্রধান শিক্ষকও খুব আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।



 



আপনার প্রিয় ছাত্র কারা? কেনো প্রিয়?



মোঃ মাসুদুর রহমান : আমার প্রিয় ছাত্র হচ্ছে যারা নম্র, ভদ্র, নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এবং যাদের ভেতরে সত্যিকার দেশপ্রেম আছে। একজন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষকের কথা, বাবা-মায়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং মান্য করে তাহলে এটাই যথেষ্ট। ভালো ছাত্র হয়ে যদি বেয়াদব হয়, দেশদ্রোহী হয় তাহলে এ ধরনের শিক্ষার্থী জাতির জন্যে এবং দেশের জন্যে ক্ষতিকর। আর প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা এসে যখন দেখা করে আর বলে আমি অমুক মেডিকেলে আছি, আমি বুয়েট/কুয়েট/চুয়েট/অমুক ভার্সিটিতে আছি তখন আনন্দে বুকটা ভরে যায়।



 



শিক্ষকতা জীবনের একটি আনন্দের ঘটনা বলুন।



মোঃ মাসুদুর রহমান : আসলে শিক্ষকতা জীবনটাই আনন্দের। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতায় আসার আগেই অনার্স ফাস্ট ইয়ার থেকেই ছাত্র-ছাত্রী পড়াই। তাই অনেক ছাত্র এখন বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভালো পদে আছে। এমনকি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় একজন ছাত্রনেতাও আমার ছাত্র ছিলো। যাই হোক, একদিনের একটা ঘটনা বলি_২০১৫ সালে কোনো একদিন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহসংক্রান্ত একটা প্রোগ্রামে ডিসি অফিসে কজন ছাত্রীকে নিয়ে যাই। তো ঢাকা থেকে আগত অতিথি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন মনে মনে ভাবছি তাঁকে কোথায় যেনো দেখেছি। আবার মনে হলো আমার সহপাঠী হবে। হয়তো ঢাকা কলেজের ছাত্র। যখন তিনি আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম_স্যার, আপনি কি ঢাকা কলেজের ছাত্র? তিনি হাসিমুখে আমাকে তাঁর বুকে তুলে নিয়ে বললেন, 'আপনি মাসুদ স্যার না?' আমি আপনার ছাত্র মমিনুর রশিদ। তারপর সে আমাকে ডিসি অফিসেই সালাম করলো। এটা আমার জীবনের এক আনন্দের এবং খুশির ঘটনা। এ রকম অনেক ঘটনা আছে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩১৮১৪
পুরোন সংখ্যা