চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১ মাঘ ১৪২৬, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫। যখন উহাদিগকে বলা হয়, 'তোমরা আইস, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবেন, তখন উহারা মাথা ফিরাইয়া লয় এবং তুমি উহাদিগকে দেখিতে পাও, উহারা দম্ভভরে ফিরিয়া যায়।


 


সভ্যতাই সভ্য মানুষ তৈরির যন্ত্র।


-জন রাসকিন।


 


 


প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


ফটো গ্যালারি
এইচএসসি পরীক্ষা-২০২০
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
ফয়সাল আহম্মেদ ফরাজী
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)



 



প্রথম অধ্যায় : অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তরসমূহ



 



বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত ডেটা কী? ব্যাখ্যা করো।



উত্তর : বায়োইনফরমেটিক্স হলো বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইনফরমেশন থিওরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে বায়োলজিক্যাল ডেটা এনালাইসিস করা হয়। বায়োইনফরমেটিক্স যেসব ডেটা ব্যবহৃত হয় তা হলো ডিএনএ, জিন, এমিনো অ্যাসিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড ইত্যাদি।



 



বায়োইনফরমেটিঙ্রে সুবিধা ও অসুবিধা লিখো।



উত্তর : বায়োইনফরমেটিক্স এর সুবিধা :



১। আণবিক জেনেটিক্সে ভিজ্যুয়ালাইজেশনকে সম্ভব করে তোলে।



২। বিপুল পরিমাণ পুনরাবৃত্তিমূলক এবং অ-অনুরাবৃত্তিমূলক তথ্যসমূহের সংরক্ষণে সহায়তা করে।



৩। অ্যালগরিদমিক ডেটা মাইনিং করা সম্ভব।



৪। প্যাটার্ন রিকগনিশন করা যায়।



 



বায়োইনফরমেটিক্স এর অসুবিধা :



১। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রযুক্তি। প্রকল্প চালিয়ে যেতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন পড়ে।



২। এ প্রযুক্তি কিনতেও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় এবং বেশ জটিল একটি প্রযুক্তি।



৩। এর মাধ্যমে তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ হতে পারে। কারণ মেডিকেল ও জেনটিক তথ্যাদি সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়ে থাকতে পারে।



৪। জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফসল কিংবা গৃহপালিত পশুপাখি 'সুপার স্পিশিস' সৃষ্টি করতে পারে যা প্রকৃতি বিরুদ্ধ।



৫। যদিও বায়োটেকনোলজি বহু নতুন ও মূল্যবান রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করতে পারে তথাপি এদের মধ্যে অজানা কোনো রাসায়নিক তৈরি হতে পারে যা পরিবেশের উপর ক্ষতির প্রভাব ফেলতে পারে।



৬। ব্যাপক হারে বায়োইনফরমেটিক্সে প্রয়োগের ফলে জীববৈচিত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।



 



জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কৃষিক্ষেত্রে কী প্রভাব রাখে? ব্যাখ্যা কর।



উত্তর : কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA L- পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-কে জেনেটিক মডিফিকেশনও বলা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কৃষিতে উৎপাদনের লক্ষ্য চারটি :



১। শস্যের গুণাগুণ মান বৃদ্ধি করা।



২। শস্য থেকে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান উৎপাদন করা।



৩। পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের হুমকি থেকে শস্যকে রক্ষা করা।



৪। শস্যের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।



 



কোন্ প্রযুক্তি ব্যবহারে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।



উত্তর : পাটের জীবনরহস্য উন্মোচিত হয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে। কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA L- পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-কে জেনেটিক মডিফিকেশনও বলা হয়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে শস্যের গুনাগুণ বৃদ্ধি করা যায়। নতুন জাত তৈরি করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা যায়।



 



তথ্যপ্রযুক্তির সামপ্রতিক প্রবণতায় ডায়াবেটিস রোগীরা উপকৃত হচ্ছে_ব্যাখ্যা করো।



অথবা, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে মানুষের সহায়ক? ব্যাখ্যা করো।



উত্তর : কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিনবহনকারী DNA L- পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিকম্বিনেন্ট উঘঅ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের জন্যে ইনসুলিন তৈরি করা হয় যা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী শরীরে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। তাই বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সামপ্রতিক প্রবণতায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহারে ডায়াবেটিস রোগীরা উপকৃত হচ্ছে।



 



আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো।



অথবা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইলেক্ট্রনিঙ্সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যাখ্যা করো।



অথবা, ন্যানো টেকনোলজি মডার্ন লাইফকে করেছে সাশ্রয়ী ও গতিশীল_ব্যাখ্যা করো।



উত্তর : আণবিক পর্যায়ের গবেষণা প্রযুক্তিটি হচ্ছে ন্যানো টেকনোলজি। পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্যে ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর প্রযুক্তিকে ন্যানো টেকনোলজি বলে। অর্থাৎ ন্যানো প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোমিটার স্কেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপাদান দিয়ে কাঙ্ক্ষিত কোনো বস্তুকে এতোটাই ক্ষুদ্র করে তৈরি করা যায় যে, এর থেকে আর ক্ষুদ্র করা সম্ভব নয়। ন্যানো টেকনোলজির ফলে সকল যন্ত্রের আকার ছোট হয়েছে, উৎপাদন ব্যায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইলেক্ট্রনিঙ্সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মডার্ন লাইফকে সাশ্রয়ী ও গতিশীল করছে। এছাড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স শক্তি উৎপাদনসহ বহু ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারছে।



 



তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা ব্যাখ্যা করো।



অথবা, তথ্যপ্রযুক্তিতে সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে_ব্যাখ্যা করো।



উত্তর : নৈতিকতা হচ্ছে মানুষের কাজ-কর্ম ও আচার-ব্যবহারের এমন একটি মূলনীতি যার উপর ভিত্তি করে মানুষ একটি কাজের ভালো বা মন্দের দিক বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাবও বিস্তার করা শুরু করেছে। এর ফলে হ্যাকিং, স্প্যামিং, সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ কর্মকা- সংঘটিত হচ্ছে। যা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতাবিরোধী। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবার সচেতন থাকতে হবে যাতে কারো দ্বারা অন্য ব্যক্তির ক্ষতি সাধন না হয় এবং পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি না হয়।



 



'হ্যাকিং নৈতিকতাবিরোধী কর্মকা-'_ব্যাখ্যা করো।



উত্তর : সাধারণত হ্যাকিং একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কেউ অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে এবং সিস্টেমের ক্ষতিসাধন, ডেটা চুরি, ডেটা বিকৃতিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। যেহেতু অনুমতি ব্যতীত অন্যের সিস্টেমে প্রবেশ, ডেটা চুরি এগুলো অপরাধমূলক কর্মকা- এবং নৈতিকতাবিরোধী তাই বলা যায় হ্যাকিং একটি নৈতিকতাবিরোধী কর্মকা-।



 



ICT ব্যবহারে নৈতিকতা, সমাজ জীবনে ICT-এর প্রভাব, ICT ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।



এই পাঠ শেষে যা যা শিখতে পারবে_



১। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ICT ব্যবহারে নৈতিকতা ব্যাখ্যা করতে পারবে।



২। সমাজজীবনে ICT-এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারবে।



৩। হ্যাকিং সম্পর্কে ধারনা পাবে।



 



উত্তর : যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী ব্যক্তির নৈতিকতার বিষয়ে নিম্নলিখিত নিয়মসমূহ মেনে চলা উচিত :



১। প্রতিষ্ঠানের সকল গোপনীয় তথ্যের গোপনীয়তা এবং বিশ্বস্ততা রক্ষা করা।



২। কোনো তথ্যের ভুল উপস্থাপন না করা।



৩। অনুমোদন ছাড়া চাকুরিদাতার সম্পদ ব্যবহার না করা।



৪। অফিস চলাকালীন চ্যাট বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করে অযথা সময় নষ্ট না করা।



৫। ইন্টারনেটে অন্যের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন না করা।



৬। ভাইরাস ছড়ানো, স্প্যামিং ইত্যাদি কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করা।



 



একজন সুনাগরিকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারে যে নৈতিকতা মেনে চলা উচিত :



১। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনগণকে সাহায্য করা।



২। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন এবং নীতিমালা মেনে চলা।



৩। জনগণের সমস্যার কারণ হয় এমন কোনো তথ্যের ভুল উপস্থাপন না করা।



৪। ব্যক্তিগত অর্জনের জন্যে অবৈধভাবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার না করা। (চলবে)



 



 



লেখক : প্রভাষক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৮১৮৭০৩৭৪২।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৮৫৭২
পুরোন সংখ্যা