চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৭। তিনি তোমাদিগকে উদ্ভূত করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে।


১৮। অতঃপর উহাতে তিনি তোমাদিগকে প্রত্যাবৃত্ত করিবেন ও পরে পুনরুত্থিত করিবেন,


১৯। এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে করিয়াছেন বিস্তৃত


 


যুগ যতই নূতন হোক পুরাতনের অভিজ্ঞতা ছাড়া তা অচল।-ডেফে।


 


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণ সাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক
মাছুম বিল্লাহ
০৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পরীক্ষায় পাস করা মেধা ও প্রকৃত জ্ঞানচর্চার মধ্যে যে আসলেই বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তার প্রমাণ আমরা দেশে এবং পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই দেখতে পাই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত তাদের অনেকেরই অ্যাকাডেমিক রেকর্ড খুব একটা উজ্জ্বল নয়। তারা জীবনে কিছু করতে চেয়েছিলেন, করতে চেয়েছেন এবং করতে পেরেছেন। বহু মানুষের জন্য এবং দেশের জন্য তারা কিছু একটা করেছেন। আবার অনেক সময় যারা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য ভালো ছাত্র হিসেবে, নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন, তারা শুধু জীবন ধারণের জন্যে একটু চাকরির ব্যবস্থা করেছেন, চারদিকের মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। এটি থাকবে, আছে। সবাই সবকিছু করবেন না। এটিই নিয়ম। কিন্তু তাই বলে যারা প্রচলিত পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের মেধা নেই এটি কি বলা যাবে? প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থীদের ভেতরকার মেধার খবর জানা এবং সেটি কোন্দিকে ধাবিত হতে চায়, সেটি জানা হচ্ছে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন। এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু সফল একজন শিক্ষকের সেটি পারা প্রয়োজন।



২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশে গড় পাসের হার ৮২.৮৭ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ৮২.২০ শতাংশ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। এত ভালো ফলের পরও ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। এর মধ্যে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৮টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৫০টি ভোকেশনাল স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮১৯ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৮টি মাদ্রাসায় একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, তার মধ্যে অন্তত নয়টি মাদ্রাসা ছিল যেগুলোর পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন করে। অথচ শিক্ষক ছিল এগারোজন। এমপিওভুক্তির জনবল কাঠামো অনুসারে মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় একজন প্রধান শিক্ষক/সুপারসহ ১২ জন শিক্ষক সরকার থেকে এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন পেয়ে থাকেন। এর সঙ্গে আরও চারজন কর্মচারীও এমপিওভুক্ত হন। এমপিওভুক্তির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, 'শতভাগ ফেল করা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাও নোটিস দেয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে এমপিও বন্ধ থাকবে।'



যদি শিক্ষকদের কথায় আসি, তাহলে বলা যায়, শিক্ষকরা যদি গল্প করেও বিভিন্ন বিষয়ের তথ্যগুলো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জানাতেন তাহলে তো একেবারে ৩৩ না পাওয়ার কথা নয়। প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি করে কমিটি থাকে। তাদের দায়িত্ব বা কর্তব্য কী? যখন অর্থের ভাগাভাগির বিষয় থাকে তখন তো বিদ্যালয়ের/মাদ্রাসার আঙিনা তারা ছাড়তে চান না। কিন্তু একটি শিক্ষার্থীও যেখানে পাস করল না, সেখানে তাদের তো কোনো কথা শোনা যাচ্ছে না, তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাহলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এলাকার তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করার প্রয়োজন আছে কি?



একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালেও ১০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। এবার দেখা গেছে দিনাজপুরের একটি বিদ্যালয়ে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি, অথচ সেখানে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সেই ৪৮টি মাদ্রাসার একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, তার মধ্যে অন্তত ৯টি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল মাত্র একজন করে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০১৮ সালের ৭ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বেতন-ভাতার সরকারি অংশপ্রাপ্তির শর্তাবলি মানতে হবে। সে শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নূ্যনতম সংখ্যা প্রতিটি ট্রেড থেকে ৩০ জন এবং পাসের নূ্যনতম হার হতে হবে ৭০ শতাংশ। এই শর্ত পূরণ না হলে ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমপিও স্থগিত, কর্তন ও বাতিলকরণ হবে। যে ৪৮টি মাদ্রাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থীও দাখিল পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি, সেগুলোর স্বীকৃতি বাতিল, পাঠদানের অনুমতি স্থগিত এবং ইআইএন নম্বর বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। মাদ্রাসাগুলোকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ডাকযোগে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছে। যে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫০টি কারিগরি বিদ্যালয় থেকে একজনও পাস করেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে বা হচ্ছে তাও দেখার বিষয়।



দীর্ঘ সাড়ে নয় বছর অপেক্ষার পর ২০১৯ সালে চার শর্তে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে, যদিও কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওর অর্থ পায়নি। প্রায় নয় হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। নতুন ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদে বর্তমানে ২৬ হাজারের কিছু বেশি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত। যেসব প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি, সেগুলোর তুলনায় অনেক নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এবারও অনেক ভালো ফল করেছে। কাজেই এমপিওভুক্তকরণ বিষয়টি যে সঠিক কারণ মেনে করা হচ্ছে না, তাও এখান থেকে বোঝা যায়। যারা ভালো গ্রেড নিয়ে পাস করেছে আমরা কিন্তু তাদের সবার থেকে আশা করতে পারি না যে, তারা বাংলায় সুন্দর করে কিছু একটা লিখতে পারবে, ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে শুদ্ধ করে দু-চারটি বাক্য লিখতে পারবে, গণিতের ফিগার পরিবর্তন করে দিলে সহজে সমাধানটি করতে পারবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় প্রায় চবি্বশ লাখ গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন ২.৩ শতাংশ প্রার্থী। আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখলাম কিছু কিছু এলাকায় ফল পুরোপুরি নেমে গেছে। কারণ হিসেবে জানলাম যে, গণিত পরীক্ষার দিন কিংবা ইংরেজি পরীক্ষার দিন ম্যাজিস্ট্রেট এসে কিংবা ইউএনও এসে হঠাৎ করে কড়াকড়ি করায় এ অবস্থা হয়েছে। তার মানে কী? যে ফল আমরা দেখি তা প্রকৃত ফল নয়। আর তা তো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা থেকেই দেখতে পাচ্ছি।



শিক্ষার্থীদের বিচার করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এটি তিন বছর বা পাঁচ বছর পর হঠাৎ একটি দুই বা তিন ঘণ্টার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিচার করা সব সময়ই যুক্তিযুক্ত হয় না। তারপরও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের এটির ওপরই নির্ভর করতে হয়। তবে, রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা যাই হোক, যেভাবেই হোক একজন প্রকৃত শিক্ষক কিন্তু তার শিক্ষার্থীদের গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের লুক্কায়িত প্রতিভা আবিষ্কার করতে পারেন, যেটি হচ্ছে প্রকৃত মূল্যায়ন।



লেখক : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির কর্মকর্তা।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৯০৭২
পুরোন সংখ্যা