চাঁদপুর, বুধবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৬। ৩০ পৌষ ১৪২২। ২ রবিউস সানি ১৪৩৭
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস || পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকূ, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



১/ হে মানুষ! ভয় কর তোমাদের প্রতিপালককে; কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার!

২/ যে দিন তোমরা উহা প্রত্যক্ষ করিবে সেই দিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী বিস্মৃত হইবে তাহার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তাহার গর্ভপাত করিয়া ফেলিবে; মানুষকে দেখিবে নেশাগ্রস্ত সদৃশ, যদিও উহারা নেশাগ্রস্ত নহে। বস্তুত আল্লাহ্র শাস্তি কঠিন।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।

              -ইংরেজি প্রবাদ।       

                            

 



 


যে ধনী বিখ্যাত হওয়ার জন্য দান করে সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।

                   -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

 


শিক্ষকতা জীবন ও কিছু উপলব্ধি
প্রফেসর রুহুল আমিন
১৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমার জন্ম ফরিদগঞ্জের বালিথুবা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ২৭ ডিসেম্বর ১৯৫৪ সালে। তখন উন্নয়ন বলতে তেমন কিছু ছিল না। রোড-ঘাটের বালাই ছিল না। আমার পড়া-লেখার হাতেখড়ি আমার মায়ের নিকট। আমার মা ছিলেন শিক্ষিতা নারী। আমি স্কুলে প্রথমেই ভর্তি হয়েছিলাম বড় ওয়ানে। তখনকার দিনে ছোট ওয়ানে বর্ণমালা শিখাতো আর বড় ওয়ানে কচি কথা নামক বই। আম্মার হাতের লেখা আমি অনুসরণ করেছি। তিনি আমাকে খুব যত্ন করে পড়াতেন। আসলে আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার মায়ের। তার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি। প্রতিদিন পৌনে তিন কি.মি. পায়ে হেঁটে স্কুলে আসা যাওয়া করতাম। আমার স্কুলে যাওয়ার পথে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল। আমার ঐ সময় সবচেয়ে চিন্তার বিষয় ছিল আমি কিভাবে এটি পার হব। কি যে ভয় কাজ করত তখন তা বলে বুঝানো মুশকিল। আমাকে তখন প্রতিদিন আমার এক জেঠাতো বোন এ সাঁকোটি পার করে দিতেন। তখনকার দিনে শহরে-গ্রামে শিক্ষাক্ষেত্রে এত বৈষম্য ছিল না। আমার এসএসসি ও এইসএসসির রেজাল্ট ভালো হওয়ায় এবং ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করায় আমি খুব সহজেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে গেলাম। মূলত আমার প্রাথমিক জীবনে শিক্ষার ভিত্তি খুবই শক্ত ছিল, তাই পরবর্তী জীবনে আমাকে আর পড়ালেখার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হয়নি। তরুণ বয়সে আমি প্রচুর পরিমাণ বই পড়েছি। তলস্তয়-শেঙ্পিয়র থেকে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল কাউকেই বাদ দেই নি। আমি অনেক লেখাও লিখেছি ঐ সময়ে। অনেকগুলো ছাপাও হয়েছে। আমাদের সময়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত এবং ম্যাগাজিন-দেয়ালিকা বের হত। সেখানে আমরা নিয়মিত অংশ গ্রহণ করতাম।



আমাদের সময়ের শিক্ষাঙ্গন আর বর্তমান সময়ের শিক্ষাঙ্গনের তফাৎ হল তখন শিক্ষাঙ্গনে এত হানাহানি ছিল না। পড়া লেখার একটি পরিবেশ ছিল। জ্ঞানের চর্চা ছিল। শিক্ষকরা তাদের রাজনীতি করত নিজেদের মত করে। দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছিল না। আর এখনতো শিক্ষকরা সরাসরি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। আর এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উপর। আরো পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেশি শক্তি এবং টাকার প্রভাব। এখন ছাত্র রাজনীতি যারা করে তাদের অধিকাংশই অছাত্র। আর আমাদের সময়ে যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল তারা সকলেই ছিল মেধাবী। তখন মেধার কদর ছিল রাজনীতিতে। তবে আশাহত হওয়ার কিছুই নেই । কারণ, এই সমস্যা সাময়িক আর শেষ পর্যন্ত মেধা এবং সততারই জয় হবে। আমার মতে, সৎ-মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা উচিত দেশপ্রেমের তাড়না থেকেই। বিশেষ করে যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশুনা করে তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত। এর ফলে রাজনীতিতে মেধার কদর বাড়বে এবং দেশ-জাতি লাভবান হবে। জ্ঞানভিত্তিক এবং উন্নত সমাজ গঠনে এর বিকল্প নেই।



ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের বিষয়টি আসলে অল্প কথায় মূল্যায়ণ করা সম্ভব নয়। আমি নিজেও তো একজন ছাত্র আবার একজন শিক্ষকও। আমি স্টুডেন্ট হিসেবে এক সময় শিক্ষকদের সাথে কাজ করেছি। আমার কাছে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতায় যতটুকু মনে হয়েছে তা হলো এটা একটা আদর্শিক সম্পর্ক। আমি এখনও আমার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারদের ভুলিনি, ভুলতে পারি নি অথচ কত আত্নীয় আছে যাদেরকে আমি ভুলে গেছি। আসলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা একটি পবিত্র ও স্বর্গীয় সম্পর্ক। আমি শিক্ষক হিসেবে কখনো আমার ছাত্রদেরকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে চাইনি। আর এটা করা উচিতও নয়। কারণ,এর ফলে এন্ট্রি পার্টির ছাত্ররা আমার থেকে বিমুখ হয়ে যেত এবং আমি চিহ্নিত হয়ে যেতাম। আমি আমার স্টুডেন্টদেরকে সর্বদা সন্তানতুল্য মনে করতাম। এমনকি আমার ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র লেকচারারদেরকেও আমার সন্তানের মত মনে হয়। কারণ,আমার ছেলেও তাদের সমবয়সি। মোদ্দা কথা হল ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক একটি পবিত্র সম্পর্ক। এর মর্যাদা সবার রক্ষা করা উচিত। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমার সর্বদাই আপনজন মনে হয়েছে।



তোমরা এখন যে হতাশায় ভুগছ তখন আমাদের এমন অবস্থা ছিলনা চাকরি পাওয়ার বিষয়ে। আমি এক সাথে প্রথমে তিনটি চাকরি পেয়েছিলাম। তার মধ্যে আমি চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কলেজে জয়েন করলাম সপ্তাহিক পঞ্চাশ টাকা বেতনে। কিন্তু আমি বিবাহিত হওয়ায় আমার এ চাকুরিটি দিয়ে পোষাতে পারছিলাম না। তাই আমি বিভিন্ন বিদেশি এনজিওতে গবেষক হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু শিক্ষতার প্রতি আমার একটি মোহ রয়েই গেল। আমি আবার শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিলাম চাঁদপুর মহিলা কলেজে লেকচারার হিসেবে।



একটা মজার ঘটনা এখনো মনে আছে। আমাদের সময়ে নামাজ পড়া ছিল বাধ্যতামূলক। একদিন মাঠে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার মাথার উপর ছিল নারিকেল গাছ। হঠাৎ আমার মাথার উপর একটি নারিকেল পড়ল। আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। এই ঘটনা আমার খুবই মনে পড়ে। আরেকটি বিষয় ছিল যে, আমার বাবা আর জেঠা দেখতে একই রকম ছিলেন। আমার জেঠা যখন বাড়িতে আসতেন তখন দূর থেকে আব্বা মনে করে জেঠাকে জড়িয়ে ধরতাম। আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে। বোটানি বিভাগের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। তিনি খুব সিগারেট পান করতেন। আগের দিন আমরা একসাথে আড্ডা দিলাম। সকালে আমি শিক্ষার্থীদের সাথে পড়ালেখা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তখন খবর এল যে আমাদের তাজুল ইসলাম স্যার মারা গেছেন। আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না। ছাত্রদের সামনেই আমি কেঁদে ফেললাম।



লেখক : সাবেক বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, চাঁসক।



 


খবরটি সর্বমোট 1 বার পড়া হয়েছে
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯১২৫৩
পুরোন সংখ্যা