চাঁদপুর। সোমবার ৯ জানুয়ারি ২০১৭। ২৬ পৌষ ১৪২৩। ১০ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৭৭। যখন শু ‘আয়ব উহাদিগকে বলিয়াছিলো, তোমরা কি সাবধান হইবে না?’


১৭৮। ‘আমি তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল’।


১৭৯। ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও আমার আনুগত্য করো’।     


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


পরিশ্রমী লোকের ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়। 


                             -জর্জ হার্বাট। 

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।    


গিলবার্ট সিন্ড্রোম
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জ-িসের নাম শুনলেই আমজনতা অাঁতকে উঠেন ভয়ে। অনেকেরই হাত-পা বুকে সেঁধিয়ে যায়। আসলে সকল জন্ডিস মারাত্মক হয় না। কিছু কিছু জন্ডিস আছে যা খুব ক্ষতিকর নয় তবে বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরকম একটি রোগের নাম গিলবার্ট সিন্ড্রোম।



গিলবার্ট সিন্ড্রোম কি :



গিলবার্ট সিন্ড্রোম মূলত একটি পারিবারিক পরম্পরাগত জীনজনিত ত্রুটির রোগ যাতে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা সর্বদা ১.১ মিলিগ্রাম/ডেসি লিটার হতে ৫.৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার অব্দি বিরাজ করে।



সাধারণত এই রোগ লিভারের কোনো ক্ষতিসাধন করে না তবে অনাহার বা অনশন, মানসিক চাপ, অনিদ্রা, শারীরিক কসরত বা পরিশ্রমে বিলিরুবিনের রক্তমান বৃদ্ধি পায়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে আনকনজুগেটেড বিলিরুবিনই বৃদ্ধি পায়।



আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত উপসর্গবিহীন থাকে। চোখে বা স্ক্লেরায় হলদেভাব তৈরি হয় না এবং কোনো রকমের জটিলতা দেখা দেয় না।



গিলবার্ট সিন্ড্রোমের বিশ্বপরিস্থিতি :



বিশ্বজুড়ে মোট জনসংখ্যার ৩% থেকে ১২% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এতে গ্লুকোরোনাইল ট্রান্সফারেজ এনজাইম কমে যায়। সাধারণত এই রোগের কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না এবং আপনা-আপনিই তা ভালো হয়ে যায়।



উপসর্গ :



* সর্বদা ক্লান্তি বোধ করা।



* মনোযোগ অটুট রাখায় দুর্বলতা তৈরি হয়।



* অস্বাভাবিক রকমের উত্তেজনা তৈরি হয়। উদ্বেগ দেখা দেয়।



* খাওয়ার রুচি কমে যায়।



* ওজন হ্রাস পায়।



* লালচে র‌্যাশবিহীন চুলকানি তৈরি হয়।



* রক্তে স্বল্প মাত্রার বিলিরুবিন বৃদ্ধি বজায় থাকে।



রোগ নিরুপন :



* রুক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা ১.২ হতে ৫.৩ সমষফষ পর্যন্ত বাড়ে।



* একদিন বা দু' দিনের অনশনে এই বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।



* স্বল্প মাত্রার ফেনোবার্বিটাল প্রয়োগে বিলিরুবিনের বাড়তি মাত্রা হ্রাস পায়।



চিকিৎসা :



* রোগীকে উপযুক্ত পরামর্শ বা কাউন্সেলিং প্রদান করতে হবে।



* ফেনোবার্বিটাল এবং কার্বামাজেপিন স্বল্পমাত্রায় প্রয়োগ করলে গিলবার্ট সিন্ড্রোমের আনকনজুগেটেড বিলিরুবিন এর রক্তমান হ্রাস পায় এবং অন্যান্য উপসর্গগুলো তিরোহিত হয়।



* রোগীর খাবার এর পরিবর্তন দ্বারা গিলবার্ট সিন্ড্রোমজনিত বিলিরুবিন বৃদ্ধি হ্রাস করা যায়।



ইতিহাস :



১৯০১ সালে ফরাসী পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অগাস্টিন নিকোলাস গিলাবার্ট এবং তাঁর সঙ্গীরা সর্বপ্রথম এই সিন্ড্রোম ব্যাখ্যা করেন। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি গিলবার্ট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, ন্যাপোলিয়ন-১, আর্থার করনবার্গ গিলবার্ট সিন্ড্রোম আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব।



গিলবার্ট সিন্ড্রোমের অন্য নাম :



* ফ্যামিলিয়াল বিনাইন আনকনজুগেটেড হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া।



* কন্সিটিউশনাল লিভার ডিজফাংকশান।



* ফ্যামিলিয়াল নন-হেমোলাইটিক নন-অবস্ট্রাক্টিভ জন্ডিস।



* ইক্টেরাস ইন্টারমিটেনস জুভেনিলিস।



* লো গ্রেড ক্রনিক হাইপার বিলিরুবিনেমিয়া।



* আনকনজুগেটেড বিনাইন বিলিরুবিনেমিয়া।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩১৪৫৬
পুরোন সংখ্যা