চাঁদপুর। শুক্রবার ১০ মার্চ ২০১৭। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক || হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৩। আল্লাহ্র পরিবর্তে সে যাহার পূজা করিত তাহাই তাহাকে সত্য হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

নম্রতা-ভ্রদ্রতা গুণ দুটো মানুষের জীবনের পুরাতন ঐশ্বর্য।               -জন স্টুয়ার্ট মিল।


যে মুসলমান অবৈধ (হারাম) বস্তু হইতে দূরে থাকে ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে দূরে থাকে, যাহার শুধু একটি পরিবার (স্ত্রী), খোদাতায়ালা তাহাকেই ভালোবাসেন।   


ফটো গ্যালারি
দুই ভাই ও ভূতের গল্প
জাহিদ হাসান
১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



আমাদের ক্লাসে ক্লাসের ফাঁকে প্রায়ঃশই একটা আড্ডা জমে । বলতে গেলে রীতিমত মাছের বাজার হয়। সেই খানে মাছ বিক্রির মত হাঁক-ডাক ছেড়ে জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গল্প শেয়ার করে কেউ কেউ । এই কেউ কেউ দলে আছে সুজন-সুমন দুই ভাই । বেশ গপ্পোবাজ । দুই ভাইয়ের একই স্বভাব । কেউ কেউ বলে দুজন ভাই হওয়াতে বেশ মিল হয়েছে । আমাদের ক্লাসে তারা রোজ রোজ গল্প শোনায়। দুজনই দাবি করে এগুলো গল্প নয় স্রেফ নিজেদের জীবনের ঘটনা। তবে অনেকেই হেসে ফেলে বলে- আরে যা, তোদের এই সব গল্প যে বিশ্বাস করে সে পাগল বা মাতাল ছাড়া আর কেউ নয়। সুমন মেনে নিলেও সুজন ক্ষেপে যায়। এই বিষয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে একটা অমিল দেখা যায়। বিষয়টা হল এক ভাই শান্ত অন্য ভাই রাগী । সেই রাগীটা হল সুজন । সে ক্ষেপে বলে- তোরা বিশ্বাস না করলে আমাদের কোন ক্ষতি নেই । আর বিশ্বাস করলেও আমাদের কোন লাভ নেই । আমরা আমাদের গল্প শেয়ার করলাম- যেটা তোরা চাস । যেদিন বলবি যে ,সুজন আর সুমন তোদের এসব বানোয়াট গল্প শুনব না সেদিন তোদের আর গল্প শোনাবো না । মুখে তালা এটে আমরা দুভাই তোদের গল্পই শুনব। বলে দিলাম ।



সুজন এরকম করে বলায় আমরা কেউ কেউ তাদের গল্প বিশ্বাস করে ফেলতে বাধ্য হই। তাদের বলা যেসব গল্প আমি নিজে বিশ্বাস করেছি তার মধ্যে একটি হল- সুমন আর সুজনকে ভূতে তাড়া করা।এত নিখুঁতভাবে বলেছে যে না বিশ্বাস করে কোন উপায় নেই। গল্পটা সুজন আর সুমনের মুখ থেকেই শোনা যাক। প্রথমেই সুজন বলে -শোন, গত ফাইনাল পরীক্ষার ছুটিতে আমি আর সুমন গেছি নানু বাড়ি। নানু আমাদের অনেকদিন পরে দেখে খুশিতে আটখানা। আমাদের জন্য পিঠা-পায়েস কত কিছু বানাল। খেতে খেতে আমার সুমনের পেট ফুটবল হয়ে গিয়েছিল ! এবার সুমন বলে- হ্যারে ভাই, অনেক খেয়েছিলাম ।



সুজন আবার গল্প বলা শুরু করে- তারপর সারাদিন শুয়ে কাটালাম। কিন্ত বিকেলের দিকে আর ভালো লাগছিল না। চিন্তা করছিলাম আমি আর সুমন বাইরে যাবো। নিশাত নামে আমাদের এক সহপাঠী প্রশ্ন করল, "বাইরে মানে কোথায়? বুঝতে পারিনি।" সুজনের হয়ে সুমন জবাব দেয়- আরে ! বাইরে বুঝিস না ? আমরা বাড়ির বাইরে ঘুরতে যাবো বলে ঠিক করেছিলাম।



এবার সুজন বলতে শুরু করে- শোন, আমরা জানতাম না যে আমাদের কত বিপদ সামনে রয়েছে। আমরা নানুর কাছে বলে বাইরে ঘুরতে বেরুলাম। কাছেই ছিল বড় একটা খাল। খালের পানিতে ঢিল ছুয়েই কাটিয়ে দিলাম বিকাল। সন্ধ্যা হয়ে কখন রাত হয়ে গেল টেরই পেলাম না। বাড়িতে যাওয়া দরকার। কিন্তু আমরা শত চেষ্টা করেও বাড়ি যাওয়ার পথ খুঁজে পেলাম না। সব দেখি কালো অন্ধকার। আমি আর সুমন ভয়ে কাদতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি একটা ছোট ছেলে হারিকেন হাতে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। আমরা বুঝতে পারলাম এটাই আমাদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা। এক দৌড়ে আমি আর সুমন সে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি সেই ছেলেটাকে অনুসরণ করে।



হঠাৎই আমরা খেয়াল করি আমরা যাকে অনুসরণ করছি সে ছোট ছেলে নয় একটা বুড়ো লোক। আমি আর সুমন তো অবাক । আমরা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ।



' লোকটার দাড়ি ছিল । ধবধবে সাদা দাড়ি ' সুমন আরো যোগ করে।



সুজন তার কথা টেনে এনে বলে- হ্যাঁ, লোকটার ইয়া বড় দাড়ি ছিল। ধবধবে সাদা। আমরা তবুও লোকটাকে অনুসরণ করছিলাম । হঠাৎ লোকটা থেমে যায়। আমাদের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। আমার আর সুমনের চোখ লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে বড় বড় হয়ে যায়। লোকটার দুচোখ আগুনের মত লাল । মুখে দুটি লম্বা দাঁত। বুঝলাম ভূতের পাল্লায় পড়ে গেছি। ভূতটি আমাদের দিকে উড়ে আসতে লাগল। আমরা পেছনে প্রাণ-পণ ছুট দিলাম। হঠাৎই আমরা দুজন জ্ঞান হারালাম। সকালে খালটার একটু দূর থেকে আমাদের অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৩২৩
পুরোন সংখ্যা