চাঁদপুর। শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭। ১০ চৈত্র ১৪২৩। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬০। বরং তিনি, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং আকাশ হইতে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেন বৃষ্টি, অতঃপর আমি উহা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, উহার বৃক্ষাদি উদ্গত করিবার ক্ষমতা তোমাদের নাই। আল্লাহর সহিত অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা সত্য বিচ্যুত হয়। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা কর তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।   -জেমস এ, গ্যারফিল্ড।




তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? তাহলে এখন মানুষকে ভালোবাসতে শেখ। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালাকে ভালোবাসার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে মানুষকে ভালোবাসতে শেখ।


নীলিমার জন্য উপহার
বিন্দু সাহা
২৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সেদিন বাবা নীলিমার জন্য দুটি গাছ নিয়ে এলেন। নীলিমা গাছ দুটি পেয়ে ভীষণ খুশি হলো। ওকে সবাই অনেক কিছুই কিনে দিয়েছে। কিন্তু গাছ কখনো উপহার দেয়নি। বাবাই প্রথম ওকে গাছ উপহার দিলেন। নীলিমা আর বাবা মিলে খুব আনন্দের সঙ্গে বারান্দায় দুটি টবে গাছ দুটি লাগিয়ে দিলো। নীলিমা প্রতিদিন দুই বেলা গাছে পানি দেয়। গাছের প্রতি সতর্ক নজরও রাখে। যেন পিঁপড়া গাছের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। গাছের সঙ্গে কথাও বলে। সেদিন পিকলু ভাইয়া বলল, গাছ নাকি গান শুনতেও ভীষণ ভালোবাসে। শুনে তো নীলিমা অবাক! তাও আবার হয় নাকি?

পিকলু ভাইয়া বলল, 'কেন হবে না? গাছের তো জীবন আছে। তাহলে ও গান শুনতে পারবে না কেন?'

পিকলু ভাইয়া কে, তা তো বলা হয়নি। পিকলু ভাইয়া হলো নীলিমার মামাতো ভাই। কলেজে পড়ে। অনেক বুদ্ধি। অনেক কিছু জানে।

ভাইয়ার কথা শুনে নীলিমা খুব খুশি হলো। নীলিমা প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে গাছগুলোকে আদর করে। গান গেয়ে শোনায়। কিন্তু একদিন নীলিমার মনে হয়, ওর গান শুনে গাছগুলো খুশি হয় কি না তা তো ও বুঝতে পারছে না।

সন্ধ্যায় বাবা অফিস থেকে ফিরলে নীলিমা ছুটে যায় বাবার কাছে। 'বাবা, বাবা, পিকলু ভাইয়া বলেছে, গাছ নাকি গান শুনে আনন্দ পায়। আমি তো প্রতিদিন গাছগুলোকে গান শোনাই। গাছ আমার গান শুনে আনন্দ পায় কি না, বুঝব কী করে?'

বাবা নীলিমাকে কোলে তুলে নিয়ে বারান্দায় যান। বলেন, 'তোমার গাছগুলো তো বেশ সুন্দর হয়েছে।'

শুনে নীলিমা ভীষণ খুশি হয়। বাবা বলেন, 'গাছগুলো তোমার গান শুনে খুব খুশি হয়।'

নীলিমা অবাক হয়ে বলে, 'কী করে বুঝলে?'

বাবা হাসেন। 'দেখছ, গাছগুলো কী সুন্দর হয়েছে! তুমি যে ওদের ভালোবেসে গান শোনাও, তাই তো ওরা সজীব হয়ে উঠেছে।'

বাবার কথায় নীলিমার মনটা ভরে যায়। গাছদের প্রতি ওর ভালোবাসা গাছেরা বুঝতে পারছে। আনন্দে নীলিমা পাতাগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। একদিন গাছগুলোতে কলি আসে। নীলিমা আনন্দে নাচতে থাকে। তারপর একদিন ফুলও ফোটে। সাদা সাদা বেলি ফুল আর লাল লাল জবা ফুল। লাল আর সাদায় বারান্দাটা কেমন সেজে ওঠে! মাঝে মাঝে বারান্দায় কিছু পাখিও আসে। গাছ লাগানোর আগে ওরা কখনো আসত না। দুদিন পর ফুলগুলো একে একে ঝরে যেতে লাগল। তাই দেখে নীলিমার কী মন খারাপ! মা যতই বলেন এই ফুলগুলো ঝরে গিয়ে আবার নতুন কলি আসবে, তবু নীলিমার মন ভালো হয় না। মা কত আদর করেন, গান শোনান, গল্প বলেন। কিন্তু নীলিমার মন পড়ে থাকে ফুলগুলোর কাছে। আহারে, কী সুন্দর ফুলগুলো! এভাবে ঝরে যাবে! অফিস থেকে বাবা ফিরলে নীলিমা বাবাকে বারান্দায় নিয়ে যায়। 'বাবা দেখো, ফুলগুলো ঝরে যাচ্ছে।'

বাবা বলেন, 'এটাই নিয়ম। এগুলো ঝরে যাবে। আবার নতুন কলি আসবে। ফুল ফুটবে। তারপর সেগুলোও ঝরে যাবে। এভাবেই চলবে। মানুষ, পশুপাখি_সব প্রাণীর ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। তবে ফুলগুলোর সৌন্দর্য ও সুবাস তোমার মনে রয়ে যাবে।'

'মানুষের কাজের সৌন্দর্য ও সুবাসও কি অন্য মানুষের মনে থেকে যায়, বাবা?'

বাবা বলেন, 'হ্যা, মা।'

নীলিমা ঝরা ফুলগুলোকে বিদায় জানিয়ে নতুন ফুলের অপেক্ষায় থাকে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৯০০৬৩
পুরোন সংখ্যা