চাঁদপুর। শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭। ১০ চৈত্র ১৪২৩। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬০। বরং তিনি, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং আকাশ হইতে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেন বৃষ্টি, অতঃপর আমি উহা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, উহার বৃক্ষাদি উদ্গত করিবার ক্ষমতা তোমাদের নাই। আল্লাহর সহিত অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা সত্য বিচ্যুত হয়। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা কর তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।   -জেমস এ, গ্যারফিল্ড।



যে ব্যক্তির স্বভাবে নম্রতা নেই, সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হতে বঞ্চিত। 


 

শিশুর জন্য গড়তে হবে বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী
সোহায়েল হোসেন সোহেল
২৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বিশ্বের প্রতিটি শিশুই জন্মগ্রহণ করে সুস্থ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ও বেড়ে ওঠার অধিকার নিয়ে। ছয়টি মৌলিক অধিকার তার প্রাপ্য। শিশুর অধিকারের মধ্যে তার বাঁচার অধিকার, যত্নের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার, আনন্দময় জীবন যাপনের অধিকার, বৈষম্য না হওয়ার অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার, শিশু শ্রম বন্ধের অধিকার অন্তর্ভুক্ত। শিশুর এ অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দায়-দায়িত্ব শুধু মা-বাবা বা পরিবারের নয় সমাজ তথা রাষ্ট্রেরও।

১৬ কোটি জনসংখ্যার এই দেশ বাংলাদেশ। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত একটি দেশ। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ ১৮ বছরের কম বয়সের সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করায় আমাদের দেশে শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এর সাথে প্রতিবছর যোগ হচ্ছে প্রায় আড়াই মিলিয়ন শিশু। বয়সের পার্থক্য ভেদে শিশুদেরকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। ৫ বছরের নিচে শৈশবকাল, ৬ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাল্যকাল এবং ১১ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কৈশোরকাল। এই শিশুদের তিন-চতুর্থাংশ বাস করে দারিদ্র্য সীমার নিচে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪৫ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, যার প্রায় ১৭ লাখেরও বেশি শিশু শ্রমিক শুধু রাজধানীতেই?

সোনার চামচ মুখে নিয়ে কিছু শিশু জন্মগ্রহণ করলেও বৃহৎ একটা অংশ জন্ম নেয় পরিবারের অভিশাপ হিসেবে। যে শিশুটা আদরে-যত্ন, ভালোবাসায় তার সব মৌলিক অধিকার নিয়ে বেড়ে উঠার কথা, বড় হবার কথা; সেই শিশুটাই অবহেলা, লাঞ্চনা আর অপরিসীম মানসিক যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে বেড়ে উঠে। বয়স তার দশ হতে না হতেই তুলে নিতে হয় পরিবারের ভার। জীবিকা উপার্জনের জন্য তাকে নামতে হয় মাঠে।

নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোকাবিলা করার স্বার্থে শিশুদের হাতে অভিভাবকরা বাদামের ঝুড়ি, রিকশার প্যাডেল অথবা বৈঠা তুলে দেয়। যে শিশুটি পা দিয়ে রিকশার প্যাডেলের নাগাল পাচ্ছে না, সে শিশুটিও রিকশার প্যাডেল ঠেলছে। যে শিশুটি হাতুড়ি তুলতে পারছে না সেও কাঠফাটা রোদে বসে পাথর ভাঙ্গছে।

শিশুদের কোন ধরনের কাজে নিয়োজিত করা যাবে তা নিয়ন্ত্রণে আমাদের দেশে আইন রয়েছে। এই আইনে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে দোকান, অফিস, হোটেল ও কয়েক ধরনের ওয়ার্কশপে কাজ করানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের কারখানায় এবং ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবহন খাতের কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু শিশুদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এই আইন ও নীতি কোনটাই যথাযথভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শিশুদের বেআইনিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র সহ বিভিন্ন শ্রমে নিয়োগ করা হচ্ছে।

বিদ্যমান শ্রম আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও ব্যাপক সংখ্যক শিশু ঘরে ও বাইরে অর্থাৎ কল-কারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান, মোটর গ্যারেজ, বাস ও টেম্পো, নির্মাণ কাজ, চা বাগান, কৃষি ও গৃহকর্ম ইত্যাদিতে নিয়োজিত। এই কাজ গুলোর অধিকাংশতেই নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজপথে, ফুটপাতে, খালে বিলে এখনো পড়ে থাকে কতো শিশুর লাশ। প্রতিদিন দেশের দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয় কতো শিশু নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী। গৃহকর্ত্রীর গরম খুন্তির ছ্যাকা ও সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করার খবর এখনো ছাপা হয়। এসব গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর দু'একজনকে গ্রেফতারের খবর পত্রিকার পাতায় ছাপা হলেও বিচারের খবর আর শোনা যায় না।

অথচ প্রতিবছর অক্টোবর মাস (বিশ্ব শিশু দিবস-৫ অক্টোবর) এলে আমরা বক্তৃতা আর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিশুদিবসের কার্যক্রম করে থাকি। জাতিসংঘ শিশু সনদের একটি ধারা হলো, দুর্যোগে শিশুরা সবার আগে ত্রাণ পাবে। বিশ্বের ১২৪টি দেশ বিশ্ব শিশু দিবস উদযাপন করে। শিশুদের নতুন নতুন কথা শোনায়। ভালো উপদেশ দেয়। পত্রিকার পাতা জুড়ে ছাপা হয় জ্ঞানী মানুষের বাণী। প্রতি বছর বিশ্ব শিশু দিবস আসে, শিশু দিবস যায়, কিন্তু শিশুদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পথ শিশু বাড়ছে, শিশু শ্রম বাড়ছে, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। বেশিরভাগ পথশিশুর পিতামাতা নেই। অনেকের পিতামাতা আছে, কিন্তু যোগাযোগ নেই। শিশুরা দারিদ্র্য, দাম্পত্য বিচ্ছেদ, পরিবার থেকে পলায়ন ও যৌন নিপীড়নের কারণেই রাস্তায় নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।

সামাজিক মূল্যবোধের প্রবল অবক্ষয়ের কারণে এখন শিশুদের এ ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার হতে হচ্ছে। যেসব শিশু নির্মমতার শিকার হচ্ছে তারা অধিকাংশই পথশিশু এবং বিভিন্ন শ্রম ও গৃহকর্মে জড়িত। এই শিশুরা অসহায় হওয়ায় তাদের যারা কাজ দিচ্ছেন; তারা অত্যাচার চালাচ্ছেন। যেসব অপরাধী শিশুদের হত্যা করছে, তাদের শাস্তি না হওয়ায় অবলীলায় তারা এ ধরনের হত্যার ঘটনা ঘটাচ্ছে। কঠোর শাস্তির জায়গা থেকে সরে যাওয়ায় এত ঘন ঘন শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। অপরাধীদের বিচার হয় না বলেই সমাজে শিশুহত্যার মতো যে নিষ্ঠুরতা দেখা যাচ্ছে, তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই শিশুদের হাতেই কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ। কারণ আজকের শিশুই পরবর্তীতে ওবামা, কফি আনান, বান কি মুন, আনোয়ার সাদাত, শেখ মুজিবুর রহমান, এ পি জে আব্দুল কালাম আজাদ হয়ে উঠবে। এদের ভিতর থেকেই গড়ে উঠবে রাষ্ট্রের কর্ণধার। কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় ৫০ লাখ শিশু শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী? সমাজ অথবা রাষ্ট্র অথবা পরিবার থেকে কী পাচ্ছে তারা? আইন তাদের কতটুকু রক্ষা করতে পারছে? লাখো শিশুর চোখে মুখের অনাগত সুখ স্বপ্নগুলো কে ফিকে হতে দিলে আমাদের রাষ্ট্রই তার ফল ভোগ করবে।

শিশুদের মানুষ হবার জন্য ভালবাসা চাই। চাই আনন্দের আয়োজন, উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা, জন্ম লাভের উপযুক্ত পরিবেশ, পরিচর্যা ও চিকিৎসা সেবা। বিশ্বের সব শিশুর জন্যই বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবেই গড়ে উঠবে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত, গড়ে উঠবে ঝলমলে পৃথিবী। তাই বিশ্বের প্রতিটি শিশুর সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার ও মানুষ হবার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সবাই শপথ নিয়ে বলি-

'চলে যাব, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল-

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৮২৪১
পুরোন সংখ্যা