চাঁদপুর। শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭। ১০ চৈত্র ১৪২৩। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিবুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬০। বরং তিনি, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং আকাশ হইতে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেন বৃষ্টি, অতঃপর আমি উহা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, উহার বৃক্ষাদি উদ্গত করিবার ক্ষমতা তোমাদের নাই। আল্লাহর সহিত অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা সত্য বিচ্যুত হয়। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা কর তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।   -জেমস এ, গ্যারফিল্ড।


ইহা খোদার আদেশ যে, তোমরা নারী জাতিকে সম্মান করবে। কারণ, তারাই তোমাদের জননী, ভগ্নি ও ফুফু।


ফটো গ্যালারি
রেডিও
নাসরীন মুস্তাফা
২৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

পুরনো একটা টিনের বাঙ্। দাদিমার বাঙ্। ওটা খুলতে খুলতে বললেন, 'টেলিভিশন তখনও চোখে দেখিনি। তবে রেডিও চিনতাম। শুনতে খুব ইচ্ছে হতো। আব্বার জন্য পারতাম না।'

দাদিমারও আব্বা ছিলেন! আর সেই তিনি ছোট দাদিমাকে রেডিও শুনতে দিতেন না! শোকেসের ওপরে উঠিয়ে রাখতেন নাকি রেডিওটা। বলতেন, 'সময় নষ্ট করে এসব শুনে কাজ কী? তার চেয়ে পড়ো, মানুষ হও।'

দাদিমা আর তার দুই ভাই পড়তেন। রেডিও শুনতেন না।

তারপর?

১৯৭১ সাল চলে এলো। ২৫ মার্চ তারিখে হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেললো পাকিস্তানি সৈন্যরা। ২৬ মার্চ খবর এলো, বঙ্গবন্ধুও নেই! পাকিস্তানি শাসক দল তাকে গ্রেফতার করেছে। তার অপরাধ, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

ছোট চাচা এসব খবর জোগাড় করে আনতেন। ফিসফিস করে বলতেন, এখন নাকি যুদ্ধ হবে। মুক্তির যুদ্ধ। স্বাধীনতার যুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছেন, 'যার যা কিছু আছে', তা নিয়েই যুদ্ধ হবে। একদিন 'দেশকে স্বাধীন না করে ফিরবো না' বলে যুদ্ধে চলে গেলেন।

চারিদিকে কেবলি গুলির আওয়াজ, মানুষের আর্তনাদ। এইসব অন্যায়ের জবাব দিচ্ছেন ছোট চাচা ও তার মতো মুক্তিযোদ্ধারা, যুদ্ধ করছেন। যুদ্ধের খবর পেতে ছটফট লাগতো খুব। বলা হতো না কিছুই। আব্বার ভয়ে।

এক রাত্তিরে আব্বা শোকেসের ওপর থেকে নামিয়ে আনলেন রেডিওটা। নব ঘুরিয়ে নিচু আওয়াজে কোনো একটা স্টেশন ধরলেন। আব্বার মুখে চাপা আনন্দ একেবারে ফেটে পড়ছে। ফিসফিস করে বললেন, 'ওরে, এদিকে আয় তোরা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শুনে যা।'

রেডিওতে বাঙালির যুদ্ধের খবর বলছে আর আব্বা খিকখিক করে হাসছেন। মা হাসছেন। ছোট দাদিমা আর তার ছোট দুই ভাই হাসছেন। একটা অনুষ্ঠান হলো, নাম 'চরমপত্র'। খুব মজা করে ছক্কু মিয়া নামের একজন ছোট চাচার মতো 'বিচ্ছু' কী কায়দায় পাকিস্তানিদের বেকায়দায় ফেলে দিচ্ছেন, সে খবর বলছেন।

দাদিমা হেসে দেন আবারও। মনে পড়ে যায় আব্বার কথা। দিনের বেলায় রেডিও বগলদাবা করে হাটতেন। রাতে শোনা চরমপত্র আওড়াতেন ফিসফিস করে। দাদিমা আর তার দুই ভাই আব্বার মুখে শুনে শুনে খাতায় লিখতেন চরমপত্র। বানানের চর্চা চলতো।

দাদিমার কোলে তার সেই খাতা। কাচা হাতে লেখা চরমপত্র।

বাঙ্টার ভেতর সেই রেডিওটাও ছিলো। দাদিমা কাপা কাপা হাতে তুলে নেন ওটা। কাদতে থাকেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, 'ছোট চাচা!

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮০৭০৯
পুরোন সংখ্যা