চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১ জুন ২০১৭। ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৫ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪০। অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, যালিমের পরিমাণ কি হইয়া থাকে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের’ মাধ্যমে আর কলমের আশ্রয় পুস্তক।                      


 -সৈয়দ মুজতবা আলী।


 


মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট নিদর্শন পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন। 


 

আমেরিকান রূপকথা
তিনটি শূকরছানার গল্প
মূল : ফ্লোরা অ্যানি স্টিল * অনুবাদ : মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
০১ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একদা এক সময় এক বৃদ্ধা শূকরের তিনটি শূকরছানা ছিলো। কিন্তু বৃদ্ধা শূকর বড় অভাবের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করতো। এমনকি সে ঠিকমতো বাচ্চাদের খাবারও জোগাড় করতে পারতো না। শূকরছানারা যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হলো তখন তাদেরকে বৃদ্ধা ভাগ্য অন্বেষণের জন্যে বনের অপরপ্রান্তে পাঠিয়ে দিলেন।



প্রথম শূকরছানাটি ছিলো অত্যন্ত অলস। সে কোনো প্রকার কাজ করতে চাইতো না। বনের শেষপ্রান্তে এসে শূকর ছানাটি খড় দিয়ে ঘর তৈরি করলো। দ্বিতীয় শূকরছানাটি পরিশ্রমী ছিলো। কিন্তু সেও কিছুটা অলস প্রকৃতির। দ্বিতীয় শূকর ছানাটি লাঠি দিয়ে তার ঘর বানালো। তারপর তারা দিনের বাকি অংশ একসাথে নেচে-গেয়ে ও খেলাধুলা করে কাটিয়ে দিলো।



তৃতীয় শূকরছানাটি কঠোর পরিশ্রম করলো এবং ইট দিয়ে তার গৃহনির্মাণ করলো। এই বাড়িটি মজবুত ছিলো আর বাড়িতে ফায়ারপ্লেস ও চিমনি ছিলো। বাড়িটি দেখে মনে হয়েছিলো এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে পারবে। কিছুদিন পর একটি নেকড়ে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো, যেখানে শূকরছানারা বাস করতো। পথ চলতে চলতে নেকড়েটি প্রথমে একটি খড়ের বাড়ি দেখতে পেল। গন্ধ শুঁকে বুঝতে পারলো বাড়ির ভেতরে একটি শূকর রয়েছে। নেকড়ে মনে মনে ভাবলো, কচি শূকরের মাংস আজ তার ভালো আহারের ব্যবস্থা হতে পারে। মাংসের লোভে তার জিবে পানি চলে আসলো। নেকড়ে দরোজায় কড়া নাড়লো। বিনয়ী হয়ে বললো : 'শূকর ছানা শূকর ছানা আমাকে ভেতরে আসতে দাও।' শূকর ছানা দরজার ফাঁক দিয়ে নেকড়ের বড় বড় থাবা দেখে ফেললো। ভয়ে ভয়ে সে বললো, 'না না না আসা যাবে না।' এ কথা শুনে নেকড়ে তার দাঁত দেখিয়ে বললো, তা বটে। এরপরেই নেকড়েটি খড়ের ঘরের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিলো। জোরে নাড়া দিয়ে ভেঙে ফেললো ঘরটি। কিন্তু ততক্ষণে শূকর ছানাটি দৌড়ে দ্বিতীয় শূকরছানার ঘরে পেঁৗছে গেল।



একটু দূরেই ছিলো দ্বিতীয় শূকরছানার ঘর। নেকড়েও এক দৌড়ে সেই ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ঘরটি ছিলো লাঠি দিয়ে বানানো। দরজায় ফোঁকর দিয়ে নেকড়ে দেখতে পেলো



ভেতরে দুটি শূকরছানা বসে আছে। এবারও তার জিবে জল এসে পড়লো। সে দরজায় টোকা দিতে দিতে বললো, 'শূকরছানা শূকরছানা আমাকে ভেতরে আসতে দাও।' শূকরছানা দরজার ফাঁক দিয়ে নেকড়ের কান দেখে ফেললো। ভয়ে ভয়ে সে বললো, 'না না না আসা যাবে না।' একথা শুনে নেকড়ে আবারও দাঁত বের করে হাসলো। তারপর বললো, দেখি তো বাপু। বলেই সে দরোজায় জোরে জোরে ধাক্কা মারতে লাগলো। ধাক্কার পর ধাক্কা। একটু পরেই দরোজা ভেঙে গেলো। কিন্তু দরোজা ভাঙতে ভাঙতে পেছনের দরজা দিয়ে শূকর দুটি পালিয়ে গেল। তারা এক দৌড়ে পেঁৗছে গেল তাদের ভাইয়ের ঘরে। তৃতীয় শূকর ছানার ঘরটি ইট দিয়ে বানানো হয়েছিলো।



নেকড়েটি লোভী ছিলো। বিশেষত, দুটি শূকর ছানাকে দেখে তার লোভ আরো বেড়ে গিয়েছিলো। ইটের ঘরের সামনে এসে সে অনুভব করলো, ঘরের ভেতরে মোট তিনটি শূকরছানা আছে। আজ জম্পেস একটা ভোজ হবে ভেবে তার আর তর সইছিলো না। নেকড়েটি ইটের তৈরি ঘরটি ভাঙতে চেষ্টা করলো। ঘরের দেয়ালে একের পর এক ধাক্কা দিতে থাকলো। ভেতরে শূকর ছানা তিনটি জড়োসড়ো হয়ে বসে ছিলো। এই বুঝি দেয়াল ভেঙে যায় আর নেকড়ে বুঝি তাদেরকে এক এক করে চিবিয়ে খায়। কিন্তু অনেক ধাক্কাধাক্কিতে দেয়াল ভাঙলো না। নেকড়েটি ক্লান্ত হয়ে পড়লো। কিন্তু হাল ছাড়লো না। সে একটা বুদ্ধি বের করলো। নেকড়েটি ঠিক করলো, চিমনি দিয়ে সে ঘরে প্রবেশ করবে আর শূকর ছানাদের গফাগফ খাবে। যেই বুদ্ধি সেই কাজ। কিন্তু তখনি সে চিমনি দিয়ে উঠতে লাগলো।



তৃতীয় শূকরছানাটি ছিলো বুদ্ধিমান। নেকড়ে যখন চিমনি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে চাইছে_তখন সেই বড় একটা পাতিল পানি ভর্তি করলো। তারপর সেই পানি ভর্তি পাতিল ফায়ারপ্লেসে গরম করতে লাগলো। চিমনি দিয়ে নেমে নেকড়ে যখন মেঝেতে পা রাখবে_তখনি দেখে আরে! তার পায়ের নিচে মেঝে নয়_পাতিলে গরম পানি টগবগ করে ফুটছে। সাথে সাথেই নেকড়ে তার ভুল বুঝতে পারলো। কিন্তু কোনভাবেই সে ওপরে উঠে যেতে পারলো না। এক মুহূর্ত পরই সে পাতিলভর্তি গরম পানির মধ্যে টুপ করে পড়লো। আর তখনই তৃতীয় শূকরছানা পাতিলে ঢাকনা দিয়ে ফেললো। নেকড়েটি গরম পানিতে রান্না হতে থাকলো।



দুপুরটা ছিলো শূকরদের জন্যে উত্তেজনাপূর্ণ। নেকড়েটিকে ভালো করে রান্না করা হয়েছে। নেকড়ের মাংসের গন্ধে চারদিক মৌ মৌ করছে। শূকরছানারা আরাম করে ভালুকের মাংস খেতে লাগলো।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০৩০৭
পুরোন সংখ্যা