চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১ জুন ২০১৭। ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৫ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪০। অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, যালিমের পরিমাণ কি হইয়া থাকে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের’ মাধ্যমে আর কলমের আশ্রয় পুস্তক।                      


 -সৈয়দ মুজতবা আলী।


 


মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট নিদর্শন পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন। 


 

ফটো গ্যালারি
দৈত্য নদীর কথা
রাদমান সিদ্দিকী
০১ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

এক দেশে এক বড় নদী ছিলো। সেই নদীটির নাম ছিলো কলাবতী। সেই নদীটির নিচে থাকতো এক দৈত্য। সেই দৈত্যটি অন্য দৈত্যদের থেকে বলবান ও শক্তিশালী ছিলো। তার বাসা ছিল পানির নিচে। সে প্রত্যেক দিন একটি করে মাছ, একজন মানুষ, একটি করে পাখি ও পছন্দমতো অন্য একটি প্রাণী খেতো। যদিও তার কাছে এমন একটা মন্ত্র ছিলো, যা পড়লে যে কোনো জড় পদার্থ, তার যা খাওয়ার ইচ্ছা করতো তা হয়ে যেতো। কিন্তু সে মনে করতো, জড় পদার্থ বেশি সুস্বাদু নয়। তাই সে সবসময় জীব খেতো, যদিও সে প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে চাইতো না। সে ছিলো এক প্রকৃতি প্রেমিক দৈত্য।

একদিন একদল বিজ্ঞানী সেই দেশটিতে এলেন। তারা এসে নদীর নিচের সেই দৈত্যের ব্যাপারে জানতে পারলেন। তারা কয়েকদিন আগে এমন একটি যন্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যে যন্ত্রের ভেতরে যে কোনো বড় জীবকে আটকিয়ে ফেললে ১০ মিনিটের মধ্যে তা একটি ছোট পিঁপড়ায় পরিণত হবে। কিন্তু তারা দৈত্যকে আটকাবেন কীভাবে? তারা ভাবতে লাগলেন কী করা যায়, কী করা যায়। হঠাৎ এক বিজ্ঞানী বললেন, 'আমাদের কাছে তো এমন কয়েকটি রোবট আছে, যেই রোবট মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে। তো আমরা এতো চিন্তা করছি কেন?' কথাটা সবার মনে ধরলো। তো তারা ঠিক করলেন, পরের দিন সকালে সেই রোবটদের একটিকে নদীর ধারে পাঠাবেন। যেই কথা সেই কাজ। তারা পরের দিন যে সময় দৈত্যটি তার খাবার জোগাড় করতে বের হয়, তখন রোবটটিকে নদীর ধারে পাঠিয়ে দিলেন। তখন দৈত্যটি সেই রোবটটিকে দেখে মনে করলো একজন মানুষ।

সে রোবটটিকে যেই ধরতে গেলো, রোবটটি তখনই দৌড় দিলো। দৈত্যটি রোবটটিকে ভালো করে অনুসরণ করতে থাকলো, যেন ধরতে পারে। যেই রোবটটি দেখলো ওই যন্ত্রটির খুব কাছে চলে এসেছে, সে তখনই এক লাফে যন্ত্রটির ভেতরে ঢুকতেই দৈত্যটিও তৎক্ষণাৎ কিছু না বুঝতে পেরে যন্ত্রটির ভেতরে ঢুকে গেলো। তার ভেতরে আসা দেখে রোবটটি তাড়াতাড়ি করে লাফ দিয়ে বের হয়ে গেলো এবং দরজাটি বন্ধ করে দিলো। সেই দৈত্যটি যেই দরজা খুলতে গেলো, তখনই বিজ্ঞানীরা যন্ত্রটিকে অন করে দিলেন। যন্ত্রটি অন হওয়ার ঠিক সঙ্গে সঙ্গে দৈত্যর সব শক্তি চলে গেলো এবং সে প্রায় বেশিরভাগ মন্ত্রই ভুলে গেলো। সে পিঁপড়াতে পরিণত হয়ে গেলো। তারপর যন্ত্রটির ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে এলো। বিজ্ঞানীদের ওপর খুব রাগ হলো তার।

সে ভাবলো, নদীর নিচে তার মন্ত্রের বইটি আছে। কিন্তু সে তো এখন পিঁপড়া হয়ে গেছে, তাই তার নদীর পাড়ে পেঁৗছতে অন্তত ৪৭ মিনিট তো লেগেই যাবে। তাই সে কয়েকটি পাখিকে তাকে নদীর পাড়ে নিয়ে যেতে বললো। সে পিঁপড়ার মতো হলেও অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা দেখতে। তাই তাকে দেখে পাখিরা চিনতে পারলো এবং সবাই একসঙ্গে বললো, 'তুমি আমাদের প্রত্যেক দিন একটি করে খাও আর আমরা কি-না তোমাকে সাহায্য করবো? তোমার ভাগ্য ভালো যে, আমরা তোমাকে এতোক্ষণে খেয়ে ফেলিনি। তাহলে তুমি এতোক্ষণে আমাদের কারও পেটের ভেতরে থাকতে।'

পাখির কথা শুনে দৈত্য রাগ করে চলে গেলো। সে নদীর ধারের অনেক দূরে থাকতে একটি গরুকে মাঠে দেখলো। সে ভাবলো, তার নদীর ধারে পেঁৗছতে অন্তত ৩৪ মিনিট তো লেগেই যাবে। তাই সে গরুটিকে বললো, 'আমাকে একটু নদীর ধারে রেখে আসবে?' গরুটি বললো, 'প্রত্যেক দিন তুমি আমাদের একটি করে খাও আর আমি কি-না তোমাকে সাহায্য করবো? তোমার ভাগ্য ভালো যে, আমি তোমাকে এতোক্ষণে চ্যাপ্টা করে দিইনি, তাহলে তো তুমি মরেই যেতে।'

গরুর কথা শুনে দৈত্য রাগ হয়ে আবার হাঁটা শুরু করলো এবং সে ঠিক করলো এবার একাই যাবে, আর কারও কাছে সাহায্য চাইবে না।

৩৪ মিনিট পর সে নদীর ধারে পেঁৗছে গেলো। কিন্তু সে এখন নদীর নিচে যাবে কীভাবে? ঠিক তখনই তার এমন একটি মন্ত্রের কথা মনে এলো, যেই মন্ত্র পড়লে একটি পাতাকে একটি ছোট সাবমেরিনে পরিণত করা যায়। দৈত্যের সেই মন্ত্রটি খেয়াল ছিলো। সে কাছেই একটা মরা পাতা দেখলো। সে সেই মরা পাতাকে একটি ছোট সাবমেরিনে পরিণত করলো। দৈত্য সেই সাবমেরিনটির ভেতরে ঢুকে পড়লো। আর সাবমেরিনটিকে দ্রুতগতিতে তার বাসার ভেতরে নিয়ে গেলো।

দৈত্য ঘরে ঢুকে দেখল, মন্ত্রের বই সে যেখানে রেখে গিয়েছিলো, সেখানে সেটি নেই। সে আসার আগেই এক ঝাঁক মাছ এসে সেই মন্ত্রের বইটিকে পাখিদের কাছে দিয়েছিলো, পাখিরা সেই বইটিকে মানুষের কাছে দিয়ে দিয়েছিলো এবং মানুষ বইটিকে আগুনের ভেতরে ফেলে দিয়েছিলো। দৈত্যটির বাড়িতে পেঁৗছানোর আগেই বইটি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু মন্ত্রের বইটি না থাকলেও দৈত্যের ওই মুহূর্তে যেই মন্ত্রটির দরকার ছিলো, সেটি তার ঘরের দরজার পেছনে লেখা ছিলো। মাছেরা সেটি জানতো না, তাই তারা এ ব্যাপারে কিছুই করেনি। সেই মন্ত্রটি পড়লে যে কোনো দৈত্য যে কোনো রূপধারণ করতে পারে এবং সেই রূপ থেকে নিজের রূপে আবার ফিরে আসতে পারে।

দৈত্য সেই মন্ত্রটি যেই পড়লো, তখনই সে পিঁপড়া থেকে আবার দৈত্য হয়ে গেলো। সে যেহেতু প্রকৃতি প্রেমিক দৈত্য ছিলো, তাই সে শুধু পাখি, মাছ, গরু বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের ওপরই প্রতিশোধ নিতে চাইলো। সে সবাইকে জাদু করে একটি মাঠে একত্র করলো। কিন্তু মাছ তো পানিতে থাকে, তাই সে মাছগুলোকে অ্যাকুয়ারিয়ামে পানিসহ নিয়ে এলো। সে বিজ্ঞানী, মানুষ, মাছ, পাখিদের জিজ্ঞেস করলো, কেন তারা তাকে সাহায্য করেনি, কেন তার অপকার করেছে। পাখি, মানুষ, মাছরা দৈত্যের প্রশ্নের উত্তরে বললো, 'আমাদের এটি করতেই হতো।' বিজ্ঞানীরা বললেন, 'আমরা মানুষ ও অন্য প্রাণীদের কষ্ট দেখে তাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।'

দৈত্য বললো, 'তোমাদের না খেলে আমি বাঁচবো কীভাবে?' সবাই একসঙ্গে উত্তর দিলো, 'তুমি তো এমন একটি মন্ত্র জানো, যেটি পড়লে যে কোনো জড় পদার্থ তুমি যা চাইবে সে রূপ ধারণ করবে।' দৈত্য বললো, 'কিন্তু সেটা তো অতো সুস্বাদু নয়।' সবাই আবারও একসঙ্গে বললো, 'তুমি কি কখনো সেটি খেয়ে দেখেছো?' দৈত্য বললো, 'না, আমি কখনও খাইনি।' সবাই আবারও একসঙ্গে বললো, 'তুমি একবার খেয়ে দেখো, ওটা কি সুস্বাদু, নাকি বিস্বাদের?'

দৈত্য এ প্রস্তাবে রাজি হলো। সে একটি খালি ড্রিংকসের ক্যানকে একটি জন্তু বানিয়ে ফেললো। তারপর সে সেটিকে খেয়ে ফেললো। সে অনুভব করলো, সেটি তো আসল জন্তুর মতোই সুস্বাদু।

সে সবাইকে কথা দিলো, সে আর কাউকে খাবে না এবং তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। সেদিন থেকে সে আর কোনো মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীকে খায় না; শুধু জড় পদার্থ খায়। অন্য দৈত্যরা খেতে এলে তাদের সঙ্গে লড়াই করে। তাই সেই দৈত্যটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নদীটির নাম কলাবতী নদী থেকে দৈত্য নদী দেওয়া হয়।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১২১৭০৬
পুরোন সংখ্যা