চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১ জুন ২০১৭। ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৫ রমজান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪০। অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, যালিমের পরিমাণ কি হইয়া থাকে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের’ মাধ্যমে আর কলমের আশ্রয় পুস্তক।                      


 -সৈয়দ মুজতবা আলী।


 


মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট নিদর্শন পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন। 


 

অস্ট্রিয়ান রূপকথা
রূপসী ড্রাগন ও ঝর্ণার আত্মা
দীপান্বিতা ইতি
০১ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সুন্দরী নারীর রূপের সুনাম কি ছাইচাপা থাকে? লোকমুখে ছড়াতে ছড়াতে ছড়িয়ে পড়ে দূর-দূরান্তে। এমন এক সুন্দরী কুমারী কন্যা সোফি। অস্ট্রিয়ার ছবির মতো সুন্দর এক গ্রামে বাস করে সে। তার রূপের খ্যাতি রাজ্যজুড়ে। তাকে এক নজর দেখতে কিংবা তাকে আপন করে পেতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে অনেক সুপুরুষ। রেশমের মতো দীঘল সোনালি চুল, মাখনের মতো ত্বক, সূর্যশ্মির মতো হাসি, সাগরের মতো গভীর চোখ আর লতানো গাছের মতো পেলব হাত-পায়ের গড়নথ সবাই একবাক্যে স্বীকার করে, সত্যিকারের সুন্দরী সোফি! এমন রূপ রাজার ঘরেও নেই।

কিন্তু কেউ তার মন পায় না। পাবে কী করে? সুন্দরী তো সারাক্ষণ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। নিজের রূপ আয়নায় দেখে, রূপের চর্চা করে আর রূপের যোগ্য প্রশংসাবাক্য ভেবেই দিন পার হয়ে যায় তার। কোনো কাজে তার মন বসে না। সারাদিন ঝর্ণার কাছে বসে কেশবিন্যাসে কেটে যায়। সখিরা গল্প করতে ডাকলে বলে, 'না'; মা কাজে সাহায্য চাইতে এলে বলে, 'না'; দাদি ঘরে ফিরতে বললে বলে, 'না'। রূপের অহঙ্কারে মাটিতে পা পড়ে না তার।

অবশ্য দাদি আর মা প্রায়ই তাকে বলে, 'সোফি, ঝর্ণার পাড়ে বসে চুল আঁচড়ায় না। যদি কখনও এই ঝর্ণায় তোর চুল পড়ে যায়, তাহলে ঝর্ণার আত্মা তোকে অভিশাপ দেবে।' কিন্তু এসব কথায় কান দেয় না সোফি। উল্টো বলে, 'তোমাদের যত পুরনো ধ্যান-ধারণা। ঝর্ণার আবার আত্মা হয় নাকি? ঝর্ণার কাকচক্ষু জলে আমি আমার রূপ দেখি আর নিত্য-নতুন কেশবিন্যাস করিথ এ বুঝি কারও সহ্য হয় না!' ক্ষুরধার জিহ্বার তিতা কথায় বিরক্ত হয়ে কেউ আর তাকে কিছু বলে না। তবে সোফির দাদি আর মা কিন্তু মিথ্যা বলেনি; ঝর্ণার আত্মা আছে!

ঝর্ণার আত্মা সোফির কর্মকা-ে খুবই বিরক্ত। এ কেমন মেয়ে! সারাদিন শুধু রূপ আর রূপথ আর কোনো কাজ নেই? মানুষ এত অহঙ্কারী হয়? তবে আত্মা কিছু করতেও পারছে না; কারণ সোফি তো নিয়ম ভঙ্গ করেনি। ঝর্ণায় যদি চুল পড়তো, তবে না হয় শাস্তি পেতো সোফি। অবশ্য বলা তো যায় না, চুল তো পড়তেই পারে। আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে ঝর্ণার আত্মা।

মন্দ কপাল সোফির। একদিন ঝর্ণায় পড়ে তার একটি দীঘল সোনালি চুল। তাও আবার মুক্তা গাঁথা চুলটি ঝর্ণার জলে আলোড়ন তোলে। ব্যস, আর যায় কোথায়! ঝর্ণার আত্মা অপূর্ব সুন্দরী আর মোহময়ী রমণীমূর্তি ধারণ করে সোফির সামনে আসে। 'তোমার মা আর দাদি এখানে বসে চুল আঁচড়াতে মানা করেছে না? তারা বলেছে না, এই ঝর্ণার আত্মা আছে? বিশ্বাস না করে বড়দের কথা অমান্য করেছো কেন? এই দেখো, ঝর্ণায় তোমার চুল।'থ শান্ত স্বরে সোফিকে বলে ঝর্ণার আত্মা। কিন্তু তবুও অহঙ্কার যায় না সোফির। দাম্ভিক কণ্ঠে ঝর্ণার আত্মাকে সে বলে, 'তাতে কী হয়েছে? আমার অমন রেশমের মতো নরম আর সূযের্র মতো সোনালি চুল ঝর্ণায় পড়েছে, সেটা তো এই ঝর্ণার ভাগ্য!'

'কী? এতো বড় কথা? তুমি জানো আমি কে?' রাগে লাল হয়ে বলে ঝর্ণার আত্মা। তাচ্ছিল্য ফুটে ওঠে সোফির অভিব্যক্তি আর কণ্ঠে, 'কে আবার? নিজেকে সুন্দরী মনে করো, তাই আমার রূপের সঙ্গে তুলনা করতে এসেছো হয়তো। এখন যখন দেখেছো তোমার চেয়ে আমি অনেক রূপবতী, হিংসায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছো।'

সোফির উদ্ধত্য ভঙ্গি আর অহঙ্কারী কথায় ঝর্ণার আত্মা স্তব্ধ হয়ে যায়। রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে, 'আমিই এই ঝর্ণার আত্মা। আমি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি, যে রূপের মোহে অন্ধ হয়ে তুমি দুনিয়া ভুলেছো, এখনই তোমার সেই রূপ বদলে যাবে মেয়ে। তুমি মানুষ থেকে পরিণত হবে ডানাওয়ালা ড্রাগনে। বাস করবে ঝর্ণার নিচের একটি গুহায়। যদি কোনোদিন কোনো সাহসী যুবক তোমার রূপে ভয় না পায়, সেদিন তুমি ফিরে পাবে মানবীরূপ।'

অভিশাপ দিয়ে বাতাসে মিলিয়ে গেলো ঝর্ণার আত্মা। আর সোফি? অবাক চোখে দেখে, বদলে যাচ্ছে তার শরীরের ত্বক। দেখতে দেখতেই বড় বড় সোনালি আঁশে ভরে গেলো শরীর, কাঁধে গজিয়ে গেলো বড় বড় দুই ডানা, অমন সুন্দর চুল হয়ে গেলো জটাবাঁধা শিং আর লম্বা লেজ। সোফি যতোই চেষ্টা করে সবার কাছে যেতে, তার ভয়াবহ চেহারা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে সবাই দূরে পালিয়ে যায়। মনের দুঃখে সে আশ্রয় নেয় ঝর্ণার নিচের গুহায়। অপেক্ষা করে, একদিন নিশ্চয়ই সাহসী কোনো যুবক আসবে, যে তাকে দেখে ভয় পাবে না। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে যায়; তেমন কেউ তো আসে না! যারা আসে, তারা সোফির বর্তমান রূপ দেখে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। নিজের মানবীরূপ মনে করে কাঁদে সোফি।

লোকে বলে, অস্ট্রিয়ার ওই ঝর্ণার কাছে গেলে আজও নাকি কান্নার শব্দ শোনা যায়

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯০৬১৫
পুরোন সংখ্যা