চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১ জুন ২০১৭। ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৫ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪০। অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, যালিমের পরিমাণ কি হইয়া থাকে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের’ মাধ্যমে আর কলমের আশ্রয় পুস্তক।                      


 -সৈয়দ মুজতবা আলী।


 


মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট নিদর্শন পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন। 


 

ফটো গ্যালারি
প্রিচ
জামাল হোসেন
০১ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ভবিষ্যতের কোনো একসময়। বারো বছরের কিশোরের বাবা এম এ খান একজন মহাকাশ বিজ্ঞানী। মা ড. সেলিনাও বিজ্ঞানী। তবে তিনি উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করেন। কয়েক দিন আগে নতুন একটি হাইব্রিড বীজও আবিষ্কার করেছেন তিনি। তাপশোষক নতুন গাছটির এখনো কোনো নাম দেননি তিনি। গাছটির বিশেষ গুণ এটা অন্যদের চেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অঙ্াইড শুষে নিতে পারে। এটি তিন দিনেই অনেক বড় হয়ে যায়। তরতর করে বাড়ে। এই গাছের পাতায় আছে বিশেষ আকর্ষণ ক্ষমতা। বাতাসের ধুলা ও দূষিত উপাদানগুলোকে কিভাবে যেন চুম্বকের মতো টেনে নিতে পারে। শোনা যাচ্ছে, এবারের নোবেল পুরস্কার নাকি ড. সেলিনাই পাবেন।

তবে বাবার মতো মহাকাশপাগল কিশোর। দূরের আকাশ নিয়েই তার যত স্বপ্ন। তার ইচ্ছা বাবার বানানো নতুন স্পেসশিপে চড়ে গ্রহ থেকে গ্রহে ঘুরে বেড়াবে। ড. খান যে নিজে মহাকাশযান বানিয়েছেন, কেউ সেটির কথা এখনো জানে না। কিশোর ওটা চালাতে জানে। তার খুব ইচ্ছা একদিন ওটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ার।

একদিন মায়ের আবিষ্কার করা বীজগুলো রোপণ করছিল কিশোর। আচমকা কী মনে করে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল বাবার গ্যারেজের দিকে। দরজা খুলতেই মিনি স্পেসশিপ। ওটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় কিশোর। যানটি দেখতে মাকড়সার মতো। ল্যান্ডিংয়ের জন্য ছয়টি পা। ওপরের অংশ ফোলানো। চালু করতে পাসওয়ার্ড লাগে। কিশোর জানে সেটা। 'বাপকা বেটা সিপাহিকা ঘোড়া'। চাপা গলায় কথাটা বলতেই বিপ বিপ করে লাল বাতি সবুজ হয়ে উঠল মহাকাশযানের। কিশোরের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।

চালকের সিটে কিশোর। যান্ত্রিক একটি কণ্ঠ শুনতে পেল 'আপনার গন্তব্য কোথায় স্যার?' কিশোর জানে না কোন দিকে যাবে। 'নিয়ে যাও দূর আকাশে। যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণীর দেখা পাব।' যান্ত্রিক স্বর কিছু না বলে চলতে শুরু করল। ক্লান্তিতে শরীরটা সিটে হেলিয়ে

দিল কিশোর। পাশে বার্গার ও স্যান্ডউইচ আঁকা বাটন। ওটা দেখতেই পেটের পোকাগুলো খাবারের জন্য আন্দোলন শুরু করে দিল। সে একটি বার্গার আর একটি সোডা দিয়ে খেতে লাগল। কিশোর যখন খাওয়ায় ব্যস্ত, তখন ঘটল ঘটনাটি, একটি শিলাখ-ের সঙ্গে যানটির রাডারে এক সুতা লেগে রাডার সিস্টেমটি নষ্ট করে দিল। যানটি জরুরি অবতরণের জন্য সিগনাল দিচ্ছে। কিশোর পাগলের মতো বাটন টিপে যাচ্ছে। শুরু হলো ঝাঁকুনি। বড় রকমের ধাক্কা খেল যান। জ্ঞান হারাল কিশোর।

চোখ পিটপিট করে তাকাল। আলোটা ভীষণ কড়া। চোখে সয়ে আসতেই দেখল একটা সিলিং। তাতে অদ্ভুত সব ছবি। পশু-পাখিও না, আবার মানুষও না। অদ্ভুত সব প্রাণী। কিশোর ভাবল স্বপ্ন দেখছে। হাত তুলতে চাইল। পারল না। নরম একটা দড়ি দিয়ে বাঁধা। দড়িটা আবার অদৃশ্য। ভয় পেয়ে গেল। না জানি কোন মায়াপুরী এটা। চোখ জ্বলছে। তবু জোর করে খুলে রাখার চেষ্টা করছে।

নরম তুলতুলে কিছু একটা কিশোরকে ধাক্কা দিল। তাকাতেই চোখ ছানাবড়া। এ কোন ধরনের ভূত! হৃৎপি- ধুকধুক করছে। মস্ত বড় চারকোনা মাথা, চারটা চোখ। মুখটা আংটির মতো গোল। হাতটা হাতির শুঁড়ের মতো পেঁচানো। শরীর যেন একটা ড্রাম। পা ক্যাঙ্গারুর মতো। পায়ের পাতা চ্যাপ্টা। কিশোর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল, 'কে তোমরা? কী চাও আমার কাছে? এখানে কিভাবে এলাম? কী ব্যাপার। জবাব দিচ্ছ না কেন?'

হলঘরের অদ্ভুত জীবগুলো পোঁ পোঁ শব্দ শুরু করল। একজন কাছে এসে ভেঁপু বাজাতে শুরু করল। একটু পর আরেকজন এসে একটা যন্ত্র কিশোরের সামনে ধরে আছে। যন্ত্র দিয়ে ভেঁপুর আওয়াজের বাংলা তরজমা বের হতে লাগল। 'হে অতিথি, আপনাকে আমাদের এথ্রেন্টিপেকাস গ্রহে স্বাগত। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। এতক্ষণ আমরা আপনাকে পরীক্ষা করেছি, আপনার মধ্যে দূষিত বস্তু আছে কি না যাচাই করার জন্য। সুসংবাদ হলো, আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উপকারী জীব।' কিশোর অনেক খুশি। এত দিনে তার আশা পূরণ হলো। তাড়াতাড়ি বলল, 'হে বন্ধু, আমি আপনাদের গ্রহ ঘুরে দেখতে চাই।' কিশোরের কথা শুনে ভিনগ্রহের প্রাণীদের নেতা বলল, 'বন্ধু, আপনি এখানে সুরক্ষিত আছেন। বাইরের তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রির বেশি। আমরাই হিমশিম খাচ্ছি। আপনি পারবেন না। আপনি এখানেই নিরাপদ।'

'বলছ কী! এত তাপ বাড়ল কী করে! নাকি আগে থেকেই গরম!'

প্রাণীদের প্রতিনিধি বলল, 'আজ থেকে ১০০ বছর আগে এ গ্রহের সমস্ত প্রিচ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। '

'প্রিচ? সেটা আবার কী?'

'আপনাদের পৃথিবীতে যেমন গাছ আছে। তেমনি আমাদের ছিল প্রিচ। ওটা আমাদের গ্রহের তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখত। '

'ও, আচ্ছা!'

কিশোর ভাবতে লাগল এখন কী করবে। আচমকা চিৎকার দিয়ে উঠলত্মপেয়েছি! পেয়েছি!

'কী পেয়েছেন মহামান্য অতিথি! আপনি তো এখানেই বসে আছেন। '

'তোমাদের মুক্তির উপায় পেয়েছি!'

কিশোর তার পকেট থেকে বের করল মায়ের আবিষ্কার করা সেই বীজ। ভাগ্য ভালো স্পেসশিপে চড়ার আগে ওটা পকেটেই রেখেছিল।

'আমার কাছে কিছু প্রিচ আছে। আমার মায়ের আবিষ্কার। এর কাজই হলো তাপ নিয়ন্ত্রণ করা। শুধু তা-ই নয়, এটি তোমাদের গ্রহের দূষণও কমাতে পারবে। নাও, নাও, এই বীজ বপন করো। '

নেতা ইশারা দিতেই একজন এগিয়ে এসে শুঁড়ের মতো হাত বাড়িয়ে দিল। কিশোর ভাবল, বেশ হয়েছে। মায়ের আবিষ্কার করা বীজের একটা নামও পাওয়া গেল। এবার বাড়ি ফেরা যাক। সে তার ইচ্ছার কথা জানাল ভিনগ্রহের নেতাকে।

'মহামান্য আমরা আপনার যানটি ঠিক করে দিয়েছি। আমাদের সাহায্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।'

কিশোর দেরি করল না। মহাকাশযানে চেপে রওনা দিল বাড়ির দিকে। বছরখানেক পরেই আবার আসবে ঠিক করল। তত দিনে নিশ্চয়ই অনেক অনেক প্রিচে ভর্তি হয়ে যাবে গ্রহটা। তখন ইচ্ছামতো ঘোরা যাবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১২১৬১৭
পুরোন সংখ্যা