চাঁদপুর। শুক্রবার ০৭ জুলাই ২০১৭। ২৩ আষাঢ় ১৪২৪। ১২ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক || হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৬। কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভূক্ত, কিন্তু সে তাহাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিল। আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম এমন ধনভান্ডার যাহার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তাহার সম্প্রদায় তাহাকে বলিয়াছিল, ‘দম্ভ করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ্ দাম্ভিকদিগকে পছন্দ করেন না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

মাটিকে ভালোবাসো, মাটি তোমাকে ভালোবাসবে।              -ইবনে আহম্মদ।



কবরের উপর বসিওনা এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।  


 

ফটো গ্যালারি
সামসু স্যার, আনিস এবং বাইসাইকেলের গল্প
মাসুম বিল্লাহ
০৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চলার পথে সামসু স্যারের সঙ্গে দেখা হয় আমার। তিনি আমার প্রাইমারির শিক্ষক। প্রতিবার স্যারকে দেখে আমি অবাক হই, স্কুলে পড়ার সময় তাকে যেমন দেখেছি, আজ ছাবি্বশ বছর পরেও তেমন দেখছি। বড়জোর সামনের দিকের দু একটা চুল পেকেছে, হয়ত পাকেনি। সত্যি বলতে স্যারের বয়স বেড়েছে বলে আমার চোখ বিশ্বাস করে না। যেমন অবিশ্বাস করতে পারি না স্যারের চিরসবুজ সৌন্দর্যকে। মনে মনে স্যারকে আমি এখন হিংসে করি, সাক্ষী হিসেবে ঘরের আয়নাকে সামনে রেখে বলি, স্যারের সামনে নিজেকে বুড়োই লাগে। আমার তো সন্দেহ, পথে যখন স্যারকে সালাম দেই, স্যার তখন নিশ্চয় অবাক হন আর মনেমনে বলেন, এই বুড়োছেলেকে আবার কবে পড়িয়েছি!

স্যারকে হিংসে করার বড় কারণটা হলো, তিনি এত ভালো কেন? কেমন চুপচাপ, শান্ত, ভদ্র একটা মানুষ, তারপর কেমন সুন্দর একটা হাসি দিয়ে মিহি গলায় কথা বলেন। বাজি ধরে বলতে পারি, কেউ স্যারের সঙ্গে এক মিনিট কথা বললেই স্যারের প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়বে, ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জন্ম নেবে তার মনে।

আমার বিশ্বাস স্যারের কোনো শত্রু নেই।

স্যার এখনো সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসেন। আমার তো মনে হয় স্যারের সাইকেলটাও স্যারের মতো ভদ্র আর ভালো। কখনোই বুঝি পেছন বা সামনে থেকে পথচারীকে আহত করেনি। এখনো পথে স্যারের সঙ্গ দেখা হলে আমি জানি না কেন সেই পিচ্চিটা হয়ে যাই, তারপর সালাম দেই, তিনি মুখে হাসি ধরে উত্তর দেন। কখনো কখনো সাইকেল থামিয়ে কথা বলেন, তোমার নাম আনিস না? তখন আমি আবারো পিচ্চি হয়ে যাই। ভুলে যাই বর্তমানের আমিকে, ভেতরে ভেতরে খুশি হয়ে মাথা কাত করে বলি, জি্ব স্যার । তারপর পেছন থেকে স্যারের চলে যাওয়া দেখতে দেখতে বলি, স্যার, আমাকে সাইকেল চালানো শেখাবেন? আমি না সাইকেল চালাতে পারি না, কেমন লজ্জার কথা বলেন তো?

আবার ভাবি, থাক সাইকেল না চালাতে পেরে ভালোই হয়েছে, দেখা গেল আমিও সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি, স্যারও সামনে থেকে সাইকেল চালিয়ে আসছেন, স্যারের সামনে এটা বেয়াদবি হবে বলে মনে হয় আমার।

সাইকেল চালানোটা এতোদিনেও শেখা হয়ে ওঠেনি আমার। এখন মনে হচ্ছে না শিখে ভালোই করেছি। কয়েকদিন আগে আমার সাইকেল চালানো শেখার ইচ্ছেটা চিরদিনের মতো মরে যায়।

সেদিন রাতে বাজার থেকে ফিরতেছিলাম। এ সময় সামনে থেকে চোখের ওপর মটর সাইকেলের হেডলাইটের আলো পড়তেই চোখ বামে সরিয়ে নেই, ভাবি, আগে আমাকে পাশ কাটিয়ে যাক, আবার সোজা তাকাতেই দেখি মটর সাইকেলটি রংসাইড হয়ে আমার দিকে ছুটে আসছে, বুক শুন্য হয়ে গেল। হুশ ছিল বলে দ্রুত সরে গেলাম, না গেলে এ যাত্রা আমার মরণ ছিল। বেঁচে গেলাম দুই এক সেকেন্ডের ব্যবধানে। গলার ভেতরটা শুকিয়ে সাতজনমের পিপাসা পেল। বুকের ধুকধুক কাটছে না। সত্যি বলতে প্রচ- ভয় পেয়েছি তখন। বার বার মনে হতে লাগল, মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলাম আজ। তারপর রাগ নিয়ে পেছন ঘুরে তাকাতেই দেখি পেছনের পাশের দোকানটায় মটর সাইকেলঅলা গিয়ে থামল, আমিও গেলাম ক্ষোভ নিয়ে। দোকানের আলোয় মটরসাইকেলের চালককে চিনতে পেরে দ্রুত সরে আসি। মটরসাইকেলঅলা ছেলেটি আমার ছাত্র। নাম হাবিব অথবা এমন কিছু একটা হবে। এক সময় আমিও কিছু ছেলে-মেয়েকে পড়িয়েছিলাম, সময় কাটাতে, ছোটদের সঙ্গ ভালো লাগত বলে; বেকারদের পকেটের প্রয়োজনও। ওদের পড়ানোর সময় স্কুলের স্যারদের কথা মনে পড়ত, স্যারের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠত, নিজেকে তখন অনেক বড় আর স্যারদের কাতারের মনে হত।

আমার এই ছাত্রটির জন্য গর্ব হলো, আমার ছাত্র মটরসাইকেল চালাতে পারে, অথচ আমি শুধু বাইসাইকেলও চালাতে পারি না। মনে পড়ে, পুত্র আর ছাত্রের কাছে পরাজয়ে কোনো লজ্জা নেই।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১১০৪০৫
পুরোন সংখ্যা