চাঁদপুর। শুক্রবার ০৭ জুলাই ২০১৭। ২৩ আষাঢ় ১৪২৪। ১২ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৬। কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভূক্ত, কিন্তু সে তাহাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিল। আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম এমন ধনভান্ডার যাহার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তাহার সম্প্রদায় তাহাকে বলিয়াছিল, ‘দম্ভ করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ্ দাম্ভিকদিগকে পছন্দ করেন না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

মাটিকে ভালোবাসো, মাটি তোমাকে ভালোবাসবে।              -ইবনে আহম্মদ।



কবরের উপর বসিওনা এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।  


 

ফটো গ্যালারি
পিকলু
আশিক মুস্তাফা
০৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

কী এক জরুরি কাজে বাসা থেকে বের হচ্ছিল পিকলু। তার অনেক জরুরি কাজ। ইশ্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রায়ই এমন জরুরি কাজে বের হয়। কই বের হয় কেউ জানে না। কাউকে না বলার মতো প্রায়ই এমন অনেক জরুরি কাজ পড়ে পিকলুর। এই একঘেয়ে পিকলুটা সেদিনও জরুরি কাজে বাসা থেকে বের হতেই তার সামনে একটা অঘটন ঘটে গেল। কোত্থেকে এক হুলো বিড়াল রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়ে চলে গেল। সে তো পড়ল ভাবনায়। এই রে, গেলাম তাহলে গোল্লায়। মাথায় হাত দিয়ে রাস্তায় বসে পড়ল পিকলু। এইটুকুন একটা পিচ্ছির সেকি টেনশন। কখনও মাথায় কখনও চিবুকে হাত ঠেকিয়ে টেনশন করেই যাচ্ছে। কার কাছ থেকে যেন শুনেছিল, চলার পথে কারও সামনে দিয়ে এভাবে বিড়াল রাস্তা কেটে চলে গেলে যে কাজ নিয়ে বের হয় সেই কাজটা আর হয় না। তাই এখন পা বাড়ালে তার জরুরি কাজটা আর হবে না। উপায়? এই নিয়েই টেনশন। হঠাৎ একটা বুদ্ধি এলো মাথায়। পকেটেই ছিল আম্মির মোবাইল। মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে আম্মির আইডিতে ঢুকল। তারপর বিড়ালের রাস্তা কাটা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিল। আম্মির বন্ধুরা তেমন কোনো কমেন্টস করছে না। থেকে থেকে দু'-একটা লাইক দিচ্ছে শুধু। তাও অনেক জিরিয়ে-হাঁপিয়ে! কিন্তু সে তো লাইক চাচ্ছে না। চাচ্ছে সমাধান। কিন্তু মিলছে না তা। তবু সমাধানের আশায় সেও মোবাইল স্কিনে তাকিয়ে আছে। লাইক ১৩টা হয়ে গেল। কিন্তু কমেন্টস নেই। হঠাৎ মেঘলা বর্ষা নামে একজন কমেন্টস করল আরে বলিস কী রে? অনেকদিন বিড়ালের রাস্তা কাটা দেখি না। তা বিড়ালটা রাস্তা কেটে কই যাচ্ছে, কিছু বুঝতে পারলি?

মেঘলা বর্ষা আন্টি তো জানে না পিকলু তার মায়ের আইডি চালাচ্ছে। তাই সে তার কথার আনসার না দিয়েই বসে আছে নতুন কমেন্টসের আশায়। এর ভেতর খালি কলসী নামের একজন কমেন্টস করল শ্রাবণী, ইউ টার্ন মি অন। লুলজ!

এই কমেন্টসটা কেন করল খালী কলসী আন্টি বুঝতে পারল না পিকলু। ও তোমাদের তো বলাই হয়নি। পিকলুর মায়ের নাম শ্রাবণী। তিনি একটা বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন। নাম বনলতা সেন। পিকলুদের বাসা বেইলি রোডের ভিকারুননেসা নূন স্কুলের তিন নম্বর গেটের উল্টো পাশে। স্কুলে বাচ্চা-কাচ্চাদের দিয়ে অনেক মা আসেন পিকলুর মায়ের বনলতা সেন পার্লারে। পেডিকিউর-মেনিকিউর করান। কেউ কেউ ভ্রূপ্লাগ, হেয়ার স্পা, বডি ম্যাসেজ, মেকআপ, পলিশ ফেসিয়াল, গোল্ড ফেসিয়াল করান। পিকলুর মা এসব করান। তবে তাদের পার্লারে সাং সাং-উ রাখাইন ঊর্মি নামে একটা রাখাইন মেয়ে কাজ করে। মেয়েটা ভাল বাংলা বলতে পারে না। বিদেশীদের মতো কেটে কেটে বাংলা বলে। সেদিন পিকলুকে বলে, 'এ্যাই পুকলু, টুমি আমার ডন্য ডুটা চমুচা আনটে বলো না কাউখে।' পিকলু বলে, 'চমুচা-টমুচার ডন্য কাউখে বলটে পাব্বো না। টুমি গিয়ে খেয়ে আটো।' রাখাইন মেয়েটা একটা ভেংচি কেটে দোকানের দিকে হাঁটা ধরে। নিজেই সমুচা এনে খায়।

মেয়েটার কথা এখন খুব মনে পড়ছে পিকলুর। রাজ্যের বুদ্ধি তার মাথায়। তাকে একটা ফোন করলে কেমন হয়? পিকলু মায়ের মোবাইলে খুঁজে রাখাইন মেয়েটাকে রিং দেয়। ফোন রিসিভ করেই সে বলে, 'ডি ম্যাডম, আমি টো আসটেসি। রাস্টায় ড্যামে পচ্চিটো, টাই এট্টু ডেরি হচ্চে।' পিকলু বলে, 'আরে ম্যাডম-ট্যাডম না, আমি পিকলু। শোনো, বাসা ঠেকে বের হটেই এট্টা বিড়াল আমার ঠামনে ডিয়ে রাস্টা কেটে চলে গেল। টুমি টো জানোই চলার পঠে কারও ঠামনে দিয়ে এভাবে বিড়াল রাস্টা কাঠলে কাজটা আর হয় না। আমি টো ডরুরী কাডে যাচ্ছি। এখন কী করি বলো টো?'

মেয়েটা হো হো করে হেসে উঠল। হাসতেই থাকল। পিকলু তো ছোট, তাই ঝাড়িও দিতে পারছে না। এক পর্যায়ে মেয়েটা নিজেই হাসি থামিয়ে বলল, 'ঠোনো, টোমাকে টো এখন অন্য রাস্টা ঘুরে যেটে হবে।'

'আরে, আমি অন্য রাস্টা পাবো কই? টুমি ডানো না বাসা ঠেকে বের হওয়ার রাস্টা টো এট্টাই?' পিকলুর এই কথা শোনার পর মেয়েটা আবার হেসে

উঠে বলে, 'টাইলে টুমি এট্টা কাড করো। যেখানে ডাঁড়িয়ে আছো সেই ডায়গাটা ঠেকে গুণে গুণে পাঁচ পা পিছিয়ে আসো।' পিকলু বলে, 'আমি তো না গুণেই অনেক পেছনে চলে এসেছি।'

'টাইলে এক কাড করো। বাসা ঠেকে অন্য কেউ বের হওয়া পর্যন্ট অপেক্ষা করও। কেউ বের হলে টাকে আগে যেটে দাও। কেও টোমার আগে রাস্টা ডিয়ে গেলে অমঙ্গলটা ঠেই নিয়ে ডাবে। টখন টুমি নিশ্চিন্টে যেটে পারবে। টোমার কাডে আর টমট্যা হবে না।' রাখাইন ঊর্মির এই কথা মনে ধরল পিকলুর।

এর ভেতর শুভ্রা ভট্টাচার্য নামে একজন কমেন্টস করল

শ্রাবণ, বেড়ালটা বাঁ-দিক থেকে ডান দিকে চলে গেল নাকি ডান দিক থেকে বাঁ-দিকে গেল?

পিকলুর মাকে তার বান্ধবীরা মাঝে মধ্যে শ্রাবণ নামে ডাকে। তাই শুভ্রা আন্টি শ্রাবণ সম্বোধন করে কমেন্টসটা করলেন। আন্টির কমেন্টস পড়েই পিকলুর মনে পড়ে গেল, বিড়ালটা ডান দিক থেকেই বাঁ-দিকে গিয়েছিল। পিকলু শুভ্রা আন্টির কমেন্টসের আনসারও দিল

বিড়ালটা তো ডান দিক থেকেই বাঁ-দিকে গিয়েছিল।

শুভ্রা আন্টি ফের কমেন্ট করেত্ম তাহলে তো তোমার দিনটা শুভ। তবে বাঁ-দিক থেকে গেলে বিপদই ছিল তোমার জন্য।

পিকলু আগপিছ কিছু না ভেবে পথে নেমে পড়ল। হাঁটা ধরল জরুরি কাজের দিকে। যেই কাজটার কথা কেউ জানে না। জানে শুধু পিকলু আর তার বাবা। পিকলুর বাবা বিদেশে থাকেন। ভাইভারে পিকলুর সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়। খোঁজ-খবর নেন বাবা। পিকলুর কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব তুলে দেন। বলেন, আমি তো জীবিকার জন্য বিদেশে পড়ে আছি। মায়ের পাশে থাকতে পারছি না। তুই ছাড়া যে দেশে আমার মায়ের আর কেউ নেই। আমার মাকে দেখে-শুনে রাখাটাই তোর কাজ। পিকলু তাই বাবার মাকে দেখে-শুনে রাখেন। পিকলুদের বাসায় থাকতে পারেন না দাদী। ঝগড়া-ঝাটি হয়। বয়স হয়ে গেছে তো তাই! আম্মির সঙ্গে বনাবনি হয় না দাদীর। পিকলুর খুব মন খারাপ হয়। তাই বাবার এক বন্ধুর মাধ্যমে দাদীকে গাজীপুরের বিশিয়া এলাকায় একটি বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে রেখে এসেছে। সপ্তায় তিন দিন দাদীকে দেখতে যায়। এটাই তার জরুরি কাজ। দাদীর কথা মনে পড়লে তার মাথা ঠিক থাকে না। অন্য কাজে মন বসে না। কখনও একাকী কখনও বাবার বন্ধু জাফর আঙ্কেলকে নিয়ে গাজীপুরের পথে ছুটে। তাকে কাছে পেলেই দাদী বুকে চেপে ধরে রাখে। বলেন, 'জানিস পিকু, এখানে কোনো কিছুরই অপুর্ণতা নেই। শুধু তোর জন্য আর তোর বাবার জন্য মনটা কাঁদে। কেমন আছেরে তোর বাবা?'

পিকলু দাদীর সঙ্গে বাবার কথা বলানোর জন্যই মায়ের ফোনটা নিয়ে আসে এখানে। ভাইভারে বাবার সঙ্গে দাদীর কথা বলিয়ে দেয়। দাদী ফোনের ভেতর দিয়ে বাবাকে ধরতে চায়। কাজের তাড়া থাকায় তিনি ফোন রেখে দেন। দাদী কান্না বুকে চেপে রাখেন। বাসার কথা জিজ্ঞেস করেন। পিকলু দাদীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। দাদী চুলে বিলি কেটে দেয়। আর বাবার ছোটবেলার গল্প শোনায়। পিকলু ভুলে যায় স্কুলের কথা। ভুলে যায় ঈদের কথা!

লেখক : ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৯২২৫
পুরোন সংখ্যা