চাঁদপুর। শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭। ০৫ কার্তিক ১৪২৪। ২৯ মহররম ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূম


৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৪।  যে কুফরি করে, কুফরির শাস্তি তাহারই প্রাপ্র্য; যাহারা সৎকর্ম করে তাহারা নিজেদেরই জন্য রচনা করে সুখসশ্যা।


৪৫। কারণ যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সন্দেহ করার চেয়ে বিশ্বাস করা সহজ।


                                  -ইডিমাটিন।

যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অর্থাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।


পরীর কাছে জরির চিঠি
২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঘুম থেকে উঠে জরি দেখে তার আরেকটি দাঁত নেই। ঠিক সামনের বড় দুই দাঁতের দ্বিতীয়টি।



ব্যাপারটা বুঝতে তার একটু সময় লাগে। ঘুম ভাঙার পর বিছানায় আলসেমি করে সময় কাটাচ্ছিলো সে। মাঝে মা দু'বার তাগাদা দিয়ে গেছেন, 'এখনও উঠছো না কেন? স্কুল আছে তো!'



জরি মায়ের তৃতীয় ডাকের অপেক্ষায় ছিলো। প্রতিদিন তাই করে। মা যখন তৃতীয়বারের মতো ডাক দেন, তখন বিছানা ছাড়ে। মাঝের সময়টুকু শরীর থেকে ঘুম তাড়ায় সে।



আজও তাই করছিলো। বার দুয়েক বিছানায় এপাশ ওপাশ গড়িয়ে নিলো। হাত দিয়ে চোখ কচলালো কিছুক্ষণ। তারপর জিভ দিয়ে যখন মুখের চারপাশটা একবার ঘুরিয়ে আনতে গেলো, তখনই ব্যাপারটা টের পেলো সে। তার জিভটা মুখের মাঝ বরাবর আসতেই সেটা দাঁতের ফাঁক গলে পুরো বেরিয়ে এসেছে।



ওমা একি! জরি তো অবাক। জিভ তো এতোখানি বের হওয়ার কথা না। তার একটি দাঁত নেই সেটা ঠিক। কিন্তু সেখান দিয়ে আগে জিভের সামান্যই বের হতো। এখন তো প্রায় পুরোটাই বেরিয়ে গেলো! দ্রুত বিছানা থেকে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় জরি। দেখে, তার সামনের বড় দুই দাঁতের দ্বিতীয়টিও হাওয়া। এর আগে তার প্রথম দাঁতটি যখন হাওয়া হয়ে যায়, তখন মা বলেছিলেন, পরী নিয়ে গেছে। তাহলে এবারের দাঁতটি কই গেলো? কে নিয়ে গেলো?



বিস্মিত ও চিন্তিত জরি তার মাকে ডাকে, 'আম্মু... আম্মু...!'



মা সকালের নাশতা তৈরি করছিলেন। নাশতা রেডি করার পর জরিকে রেডি করতে হবে। তারপর ছুটতে হবে স্কুলে। সকালবেলা তাই মায়ের অনেক ব্যস্ততা। মা রান্নাঘর থেকেই জবাব দিলেন, 'কী হলো আবার? তোমাকে না বলেছি তাড়াতাড়ি দাঁত ব্রাশ করে নাশতা খেতে এসো?'



দাঁত ব্রাশ করার কথা মনে পড়তেই জরির কান্না পায়। সে এখন দাঁত ব্রাশ করবে কীভাবে? তার তো দাঁতই নেই! গাল ফুলিয়ে চোখ ডলতে ডলতে জরি তার মায়ের কাছে যায়। জরিকে দেখে মা বললেন, 'কী হয়েছে? কাঁদছো কেন?'



জরি হাঁ করে তার দাঁত দেখায়। 'আম্মু, আম্মু, আমার আরেকটা দাঁতও নেই। কে নিলো আমার দাঁত! হু-হু...!' মা দেখলেন ভারী বিপদ। এখন জরিকে কিছু একটা বলে শান্ত করতে হবে। না হলে সারাক্ষণ এই একই কথা বলতে থাকবে। আগেরবার পরীর কথা বলে এক রকম থামানো গেছে। এবার কী বলবেন? বারবার তো একজনের ঘাড়ে দোষ চাপানো যাবে না। কিন্তু বলবেনটা কী?



রুটি ভাজার বদলে মা তাই কপালে ভাঁজ ফেলে চিন্তা করতে থাকেন। মাকে উদ্ধার করেন জরির বাবা। তিনি গোসলে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে চুল মুছতে মুছতে জরির কাছে আসেন। 'কী ব্যাপার! সকাল সকাল আমার আম্মুটার মুখ ভার কেন? কে মেরেছে, কে বকেছে, কে দিয়েছে গাল?'



মা বললেন, 'দেখো তোমার মেয়ের মুখের হাল!' জরি হাঁ করে বাবাকে তার মন খারাপের কারণ জানায়। যদিও বাবা সবই জানেন। কাল রাতে জরি যখন ঘুমিয়েছিলো, তখন তার নড়বড়ে দাঁতটা বাবাই তুলেছেন। কিন্তু এখন বাবা এমন ভাব করছেন, যেন কিছুই জানেন না। চোখ কপালে তুলে বাবা বললেন, হায় হায় একি! আরেকটা দাঁত গায়েব। নিশ্চিত এটা ওই দুষ্টু পরীটার কাজ। তারপর জরির মায়ের দিকে তাকিয়ে মিছামিছি রাগ দেখিয়ে বললেন, 'পরীটা বারবার একই কাজ করছে আর তুমি একটু খেয়ালও করছো না। এটা কোনো কথা হলো!' মা কোনোমতে হাসি চেপে বললেন, 'কাল রাতে খুব ক্লান্ত ছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি আর কখন যে পরীটা এসে আমার আম্মুটার দাঁত নিয়ে চলে গেলো, কিছুই টের পাইনি।'



মায়ের কথা শুনে বাবা বড় করে নিঃশ্বাস নেন- 'না, না। বারবার এমনটা মানা যায় না। কেন বাপু, আমার মিষ্টি মেয়ের দুষ্টু দাঁতের দিকে কেন তোমার এতো নজর! পরীটার সঙ্গে এবার একটা বোঝাপড়া করতেই হবে। কী বলো?'



জরি বললো, 'পরীটাকে এক্ষুণি ফোন দাও।' জরির কথা শুনে বাবা লাফ দিয়ে উঠলেন, 'ইয়েস... ফোনই করতে হবে। ফোন করে কড়া ধমক না দিলে কাজ হবে না দেখছি।' এরপর বাবা ফোনটা হাতে নিতে নিতে ছড়া কাটেন :



'বারবার পরী তুমি নিয়ে যাও দাঁত-/ এইবার ফোনে তুমি হবে কুপোকাত।'



বাবাকে ছড়া কাটতে কাটতে নাচতে দেখে মন খারাপের মধ্যেও জরি খিলখিল করে হাসে। 'আচ্ছা করে বকে দাও।'



'কিন্তু মা...'- ফোনটা হাতে নিয়ে বাবা মলিন মুখে জরির দিকে তাকান, 'একটা সমস্যা হয়ে গেলো যে। পরীকে যে ফোন করবো, পরীর নম্বরতো আমার কাছে নেই।'



জরি মুখ ভার করে বললো, 'তাহলে?' বাবা চিন্তিত ভাব নিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললেন, 'উমম... একটা উপায় তো বের করতেই হবে। আচ্ছা, তুমি আপাতত স্কুলে যাও। আমিও অফিসে গিয়ে দেখি কারও কাছে পরীর নম্বর পাওয়া যায় কি-না।'



জরি বললো, 'না। আমি স্কুলে যাবোই না।'



'স্কুলে যাবে না! কেন?'



'স্কুলে গেলে সবাই আমাকে দেখে হাসবে।'



বাবা বললেন, 'তাও তো কথা। আচ্ছা এক কাজ করি তাহলে, আমি তোমার মিসকে এক্ষুণি ফোন করে বলে দিচ্ছি, কেউ যেন হাসাহাসি না করে। তারপর বিকেলে বাসায় ফিরে এর একটা ব্যবস্থা করবোই। ঠিক আছে?' জরি কয়েক মুহূর্ত ভাবে। তারপর বাবার হাত ধরে বললো, 'প্রমিস?'



'হুম। প্রমিস।'



**.



দাদুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে, পরীর ফোন নাম্বার না পেয়ে এবং পরীকে বরং চিঠি লেখার পরামর্শ পেয়ে, লিখতে বসে জরি। বাবা অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে তার চিঠি লেখা হয়ে যায়।



বিকেলে বাবা যখন চা খাচ্ছিলেন, তখন চিঠিটা সে বাবার হাতে দেয়। বাবা বললেন, 'কী এটা?'



'চিঠি। পরীর কাছে লিখেছি। দাদু বলেছে, তোমার কাছে পরীর ঠিকানা আছে।'



বাবা চিঠি পড়ে হাসেন। 'হুম। তা আছে। কিন্তু আজ তো পোস্ট করা যাবে না আম্মু। পোস্ট অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। কাল অফিসে যাওয়ার পথে পোস্ট করে দেবো, কেমন?'



'আচ্ছা। দেবে কিন্তু।'



বাবা জরিকে কোলে নিয়ে চুমু খান, 'অবশ্যই দেবো। কত্তো বড় সাহস, আমার আম্মুটার দাঁত চুরি করে নিয়ে যায়! আমি কি পরীটাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবো ভেবেছিস?' জরি খুশিতে তার বাবার গালে চুমু খায়।



***.



এরপর প্রতিটা দিন পরীর উত্তরের অপেক্ষায় থাকে জরি। বাবা অফিস থেকে ফিরলেই দৌড় দিয়ে তার কাছে যায়।



'বাবা, বাবা, পরীর চিঠি এসেছে?'



বাবা চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন। 'এখনও তো এলো না। মনে হয় ভয় পেয়েছে। তবে চিন্তা করিস না, জবাব তাকে দিতেই হবে।'



শুনে জরির মন খারাপ হয়। তবুও পরীর চিঠির অপেক্ষায় থাকে সে। এভাবে দিন যায়। সপ্তাহ যায়। একদিন সত্যি সত্যি পরীর চিঠি আসে। এক বিকেলে অফিস থেকে ফিরে বাবা জরিকে কোলে তুলে নেন। 'পরীর চিঠি এসেছে।'



'তাই! কোথায়?' খুশিতে পরীর মুখ ঝলমলিয়ে ওঠে। বাবা পকেট থেকে রঙিন একটা ফুল-পাখি আঁকা কাগজ জরির হাতে দেন। তার মধ্যে গোটা গোটা অক্ষরে পরীর জবাব। পরী লিখেছে-



'প্রিয় জরি, তোমার দাঁত চুরি করার জন্যে আমি সরি, সরি, সরি। রাগ করো না। কী করবো বলো, আমার মেয়েটার দুটো দাঁত হারিয়ে গিয়েছিলো। তাই তোমার দাঁত চুরি করেছিলাম। তবে কথা দিচ্ছি, খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে দুটো ঝকঝকে সাদা দাঁত ফিরিয়ে দেবো। প্রমিস প্রমিস প্রমিস।



-ইতি, দুষ্টু পরী।'



পরীর চিঠি পড়ে জরি খিলখিল করে হাসে। আর তার হাসির ফাঁক গলে দুটো নতুন দাঁতের আভাস পাওয়া যায়। কারণ এরই মাঝে জরির নতুন দাঁত উঠতে শুরু করেছে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০০৯১
পুরোন সংখ্যা