চাঁদপুর। শুক্রবার ৩ নভেম্বর ২০১৭। ১৯ কার্তিক ১৪২৪। ১৩ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নিচে, আল্লাহ তাহাও উপস্থিত করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।


১৭। হে বৎস! সালাত কায়েম করিও, সৎ কর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ করিও এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করিও। ইহাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।                


                                      -জনলক।


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গণ।


 

আলোর ট্রেনে স্কুলে
রমাপ্রসাদ বাবু
০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ছুটছে রেলগাড়ি। কু-ঝিক-ঝিক, কু-ঝিক ঝিক...! মেঘাদ্রী খুব খুশি। তার কতোদিনের আশা, সে ট্রেনে চড়বে। বাবার কাছে সে ট্রেন ভ্রমণ নিয়ে অনেক গল্প শুনেছে। গ্রাম ছাড়িয়ে, এঁকে-বেঁকে চলেছে রেললাইন। হঠাৎ দূর থেকে ট্রেনের হুইসেলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এক সময় এসে ট্রেন থামে স্টেশনে। হই-হুল্লোড় করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে যাত্রীরা- কে কার আগে ট্রেনে উঠবে। নির্দিষ্ট সময় শেষে স্টেশন ছেড়ে যায় ট্রেন। একটু একটু করে প্ল্যাটফর্ম দূরে সরে যায়। এক সময় আর চোখেই পড়ে না স্টেশন।

ছুটতে শুরু করে ট্রেন। আস্তে আস্তে গতি বাড়ে। গাড়ির মধ্যেই কতো কেনাবেচা। কতো রকমের হকারের ভিড়। কেউ আসে চকোলেট-চিপস নিয়ে, আবার কেউ আসে বই নিয়ে। নানা রকম খাবারও মেলে ট্রেনে। সব দেখে অবাক হয় মেঘাদ্রী। ট্রেনে এতো কিছু পাওয়া যায়! বাবাকে নানা প্রশ্ন করে। অবাক চোখে চেয়ে দেখে বাইরের সৌন্দর্য। কতো জাতের গাছ-গাছালি। দূরে পাখিরা উড়ে যায়। মাঠে চাষ করছে কৃষক। গরু চরে বেড়াচ্ছে আপন মনে। খেলায় ব্যস্ত গ্রামের দূরন্ত শিশু কিশোর। সবকিছুই তার ভালো লাগে।

এক সময় ট্রেনটা একটা সেতুর ওপর ওঠে। নিচে বড় নদী। বড় বড় নৌকা চলছে তার বুকে। যতোদূর চোখ যায়, নদীটির শেষ দেখা যায় না। তার মনে হতে থাকে- ইস, এ নদীতে যদি নৌকায় ঘুরে বেড়াতে পারতাম! তার আগেই সেতুটি পার হয়ে যায় ট্রেন। মেঘাদ্রীর চিন্তাও ঘুরে যায়। বাবাকে নানা প্রশ্ন করে। মাকেও বলে- এটা কী, ওরা কী করে? কতো প্রশ্ন তার!

রেললাইনে বড় বড় পিলার। ওখানে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন। এ সময় তার চোখ যায় ট্রেনের ভেতরে বগির নম্বর দেখে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করে সব জেনে নেয় সে। কিন্তু কোথায় যেন তার একটু খটকা লাগে। এই যে এতো বড় ট্রেন চলছে, তা কেমন করে চলে? বাবা তাকে বুঝিয়ে বলেন, ট্রেনে পাওয়ার কার আছে। সেখান থেকে ট্রেনের ইঞ্জিনে শক্তি জোগায়। আর তা দিয়েই চলে ট্রেন। তাহলে ট্রেন চালায় কে? ওখানে চালক থাকে, যে ট্রেনের গতি বাড়ায়-কমায়। আবার নির্দিষ্ট স্টেশন কাছে এলে হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করে। একসময় গতি কমিয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেন থামায়। যাত্রীদের কেউ কেউ নেমে পড়ে, আবার কেউ কেউ উঠে।

কিন্তু মেঘাদ্রী আজকের ট্রেনটাকে ঠিক চিনতে পারছে না। অনেক কিছুতেই গরমিল। গাছ-গাছালি নেই, মানুষেরও ভিড় নেই! গ্রামের মাঠ-ঘাট কিছুই তার চোখে পড়ছে না! দূরে উড়ে যাচ্ছে সাদা বক। আজ ট্রেনের বাইরে সে শুধু সাদা সাদা মেঘ দেখতে পায়। তাহলে কোথায় চলেছে ট্রেনটা? ট্রেনের জানালা দিয়ে হাত বাড়ালেই সে তুলোর মতো মেঘ ধরতে পারছে! তবে শুধু তার স্পর্শ পাচ্ছে। হাত একটু একটু ভিজে যাচ্ছে। সে দেখে মেঘের ভাঁজে ভাঁজে অনেক আলো। কোনোটা উজ্জ্বল, কোনোটা সকালের সোনা রোদ। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে যে আলোটা তার ঘরে উঁকি মারে, ঠিক তেমনটি। তার মনে হলো সে ট্রেনে করেই স্কুলে যাচ্ছে! তবে ট্রেনটির যেন থামার ইচ্ছে নেই।

এমন সময় বাবা ডাকলেন-মেঘাদ্রী সকাল হয়েছে। ওঠো, স্কুলে যাবে না?

ঘুমলাগা চোখ মেলে তাকায় সে। দেখে বাবা বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে।

সূত্র : ঘাস ফড়িং।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৩২
পুরোন সংখ্যা