চাঁদপুর। শুক্রবার ৩ নভেম্বর ২০১৭। ১৯ কার্তিক ১৪২৪। ১৩ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নিচে, আল্লাহ তাহাও উপস্থিত করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।


১৭। হে বৎস! সালাত কায়েম করিও, সৎ কর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ করিও এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করিও। ইহাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।                


                                      -জনলক।


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গণ।


 

জাদুকরি ঘোড়া
মারজান শাওয়াল রিজওয়ান
০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+
আহমাদের বাড়িতে একটি মুরগি আছে। তার খুবই প্রিয়। নাম দিয়েছে কালি। মুরগিটি খুব ভালো। চারটি ডিম দিয়েছে এ পর্যন্ত। বাচ্চা ফুটেছে দুটিতে। আর দুটি ডিম পাশের বাড়ির প্রতিবেশীরা ভাজি করে খেয়ে ফেলেছে! কালি ওই দুটি ডিম ওদের বাড়ির সীমানায় গিয়ে পেড়েছিলো তো, তাই।

কালি আহমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। গায়ের রঙ কুচকুচে কালো, গোলাপি ঠোঁট, চোখ কালো, পা গোলাপি ... এত সুন্দর মুরগি কখনও দেখেনি সে। আহমাদের গরুও আছে। বেশি না আট-দশটি। গুরুগুলো যে দুধ দেয়, আহমাদের বাবা তা বিক্রি করে। আহমাদ মাঝে মধ্যে দুধ খায়। ওর এক বন্ধু আছে, সামাদ। 

আহমাদ আর সামাদ সমবয়সী। দু'জনেরই চার বছর বয়স। সামাদের ছাগলের খামার আছে। কিন্তু ছাগলের দুধ অনেক দুর্গন্ধ! আহমাদ সেটা খেতে পারে না। সে শুধু গরুর দুধই খায়।

কালি ওর সব কথা বোঝে। আহমাদ যদি আসতে বলে, কালি এগিয়ে আসে। যদি যেতে বলে, চলে যায়। খোঁয়াড়ে যেতে বললে, খোঁয়াড়ে ঢুকে যায়। 

মাঝে মধ্যে আহমাদ কালির সঙ্গে গরু দেখতে যায়। আহমাদের চাচাতো ভাই গরুর দুধ দোহায়। আহমাদ দেখে খুব মজা পায়।

আজকেও কালি তার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে। সে গরু দেখছে। সাদা গরু, কালো গরু, বাদামি গরু। লম্বা শিং, মাঝারি শিং, ছোট শিং। কালো জিভ। লেজে কালো পশম। ওর প্রিয় একটা গরু আছে এখানে। বাদামি গরু। সামাদের কাছে শুনেছে, ঘোড়া বলে এক রকম প্রাণী আছে, তাদের পিঠে চড়া যায়। তার মনে হয় এই গরুটা আসলে ঘোড়া, এই গরুটার পিঠে চড়লে অনেক সুন্দর দূরের দেশে যাওয়া যায়। 

আহমাদ ওই গরুর পিঠে উঠলো। চোখের পলকে গরুর পাখা গজালো, বাহ! কী সুন্দর পাখা! মুগ্ধ হয়ে গেলো আহমাদ। কালি আর সে গরুর পিঠে চড়ছে। তার মানে, এটা গরু নয়, এটা ঘোড়াই! বাহ, ঘোড়া তাহলে এমনই হয়? পাখাঅলা ঘোড়া, বাহ! সামাদ কখন আসবে? সেও নিশ্চয়ই এই ঘোড়া দেখে মুগ্ধ হবে।

হঠাৎ ওর ঘোড়া কথা বলে উঠলো;

'তুমি আমাকে ঘোড়া ভাবছো, তাই না?'

'তুমি কীভাবে বুঝলে?'

'আমি তোমার ঘোড়া না? তোমার ঘোড়া তোমার সব কথা বুঝতে পারে।'

'তাই? কালিও তো সব কথা বুঝতে পারে।'

'হ্যাঁ, আমিও বুঝতে পারি'- কালি জবাব দেয়। ওমা! কালির মাথায় ঝলমল করছে মুকুট!

 

'তোমার ঘোড়া তোমার ইচ্ছে পূরণ করতে পারে। তুমি তোমার তিনটা ইচ্ছে বলো।'

'বেশ! আমাকে একটা গল্প শোনাও।'

'আচ্ছা শোনো। বহু আগে একটা দেশ ছিলো, নাম ছিলো বার্মা। সেখানে একটা এলাকা ছিলো, রাখাইন। সেখানে আহমাদ নামে একটা ছেলে থাকতো। তার একটা প্রিয় মুরগি আর প্রিয় গরু ছিলো। সে একদিন চিন্তা করলো, তার গরুটা যদি ঘোড়া হয়ে যায়। সত্যি সত্যি তার গরুটা ঘোড়া হয়ে গেলো...।'

 

২.

প্রচ- চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে গেলো আহমাদের। এটা কোথায়? তার স্বপ্নের ঘোড়াই বা কোথায়? ওমা, কালি কোথায়? সে তো মায়ের কোলে। মা দাঁড়িয়ে আছেন। ওহ, এবার মনে পড়েছে। ওরা গত কয়েকদিন আগে নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে ঢেউয়ের তালে ভেসে ভেসে। গ্রামে কারা যেন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তার গরুর খামারের ঘোড়া এখন কোথায়? বুঝতে পারছে না সে, কালিই বা কোথায়?

আহমাদের মা এসব চিন্তা করছেন না। কীভাবে ত্রাণ পাবেন সেই চিন্তা হচ্ছে। 

আহমাদের বাবা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাচ্চাটা মায়ের কোলে। প্রচ- বৃষ্টি, তাই বাচ্চার মাথায় একটা পলিব্যাগ জড়িয়ে দিয়েছেন। চারদিকে পানির ছলছলানি, যেখানেই পা পড়ছে পিছলে যাচ্ছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৭৯
পুরোন সংখ্যা