চাঁদপুর। শুক্রবার ৩ নভেম্বর ২০১৭। ১৯ কার্তিক ১৪২৪। ১৩ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নিচে, আল্লাহ তাহাও উপস্থিত করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।


১৭। হে বৎস! সালাত কায়েম করিও, সৎ কর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ করিও এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করিও। ইহাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।                


                                      -জনলক।


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গণ।


 

টুকুন ও তার পোকামাকড়
সামিউল আজিজ
০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

দেখতে দেখতে ছাদ থেকে ঝুলে থাকা বিশ্রী মাকড়সাটা সোজা টুকুনের একদম নাকের ডগা পর্যন্ত ঝুলে এল।

টুকুন ভয়ে প্রায় চোখ বুজে রেখেছিল। এক-দুবার চোখ খুলে যেই মাকড়সার কিলবিলে শরীরটা চোখে পড়ে, আবারও চোখ বুজে ফেলে সে। তারপর আড়চোখে আবারও দেখার চেষ্টা করে, একদম গায়ের ওপর পড়ে গেল না তো! মাকড়সাটা প্রতিদিনই মুরবি্বর মতো ভাব ধরে দেয়ালে বসে থাকে। টুকুন যে খুব ভয় পায়, তা-ও না। আবার কেমন বিদঘুটেও লাগে। কেমন লোমওয়ালা পা। ছি!

সবুজমতো ফড়িংটা ফ্যানের কাছ দিয়ে উড়ছে। ফড়িংটা খুব ভালো। সন্ধ্যা হলেই চলে আসে টুকুনের ঘরে। এখানে-ওখানে ওড়ে, মাঝেমধ্যে টুকুনের হাতে বসে, গালে বসে। ফড়িং নাকি শোনে হাঁটু দিয়ে। মানুষ যেমন কানে-মুখে কথা বলে, ওরা কি হাঁটুতে-মুখে কথা বলে? টুকুন ভাবে প্রায়ই। টুশি আপু অবশ্য ফড়িং ভয় পায়। দেখলেই চিৎকার করে আম্মুকে বলে বাইরে ফেলে দিতে। কী সুন্দর রং ফড়িংটার! শান্ত, চুপচাপ। একে ভয় পাওয়ার কী আছে? অথচ মাকড়সাতে টুশি আপুর কোনো ভয় নেই। একবার বাথরুমে ইয়া বড় একটা মাকড়সা ছিল বলে টুকুন তিন দিন বাথরুমেই যায়নি। ছোটবেলার পটিতেই কাজ সেরেছে। টুশি আপু দিব্যি কোনো টুঁ শব্দটি করল না!

আরেক আজব প্রাণি হলো মশা। বাজেভাবে হুল ফুটিয়ে রক্ত তো খায়ই, কানের কাছে বিশ্রী প্যানপ্যান করে কী বলে কে জানে!

প্রজাপতিটা ফড়িং থেকেও ভালো। কী সুন্দর সব রং প্রজাপতির! তবে ওরা খুব বোকা। এদিক-ওদিক উড়তে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে পড়ে থাকে। কারও পাখা ভেঙে যায়, কারও পা। টুকুনের মায়া লাগে। কী হয় একটু সাবধানে উড়লে! প্রজাপতিদের পিঁপড়ার মতো বুদ্ধিমান হওয়া উচিত। ওদের বুদ্ধি দেখে টুকুন মাঝেমধ্যে খুব অবাক হয়। কী সুন্দর এক লাইন ধরে খাবার নিয়ে যেতে থাকে সবাই! লাইন এলোমেলো করে দিলেও খানিক এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করে আবার ঠিকমতো চলতে থাকে। টুকুন মাঝেমধ্যে খাটের পাশে পিঁপড়ারা যেখান লাইন ধরে যায়, সেখানে কিছু চিনি ও পাউরুটির ছোট টুকরো রেখে দেয়। ছোট মামা বলেছে, প্রাণীদের কিছু খাওয়ালে তারা পোষ মানে। 'পিঁপড়াও কি পোষ মানবে?' এই প্রশ্ন করার পর মামা এমনভাবে তাকিয়েছে, যেন এমন আজব কথা সে আগে কখনো শোনেনি। টুকুন ভেবেছে, পিঁপড়াগুলোকে পোষ মানাবে। ওরা সংখ্যায়ও অনেক বেশি, একজনকে পোষ মানালে নিশ্চয় সবাই মানবে। কত্তগুলো বন্ধু পাওয়া যাবে!

টুকুনের ঘরে একটা মাঝারি সাইজের টিকটিকিও আছে। কয়কে দিন আগে তার লেজ খসে গেছে। এখন প্রতিদিন তার লেজ একটু একটু বাড়ছে। টুকুন প্রতিদিন দেয়ালে টিকটিকিটা খোঁজার চেষ্টা করে। মাঝেমধ্যে দেখে, লেজ আগের চেয়ে একটুখানি বেড়েছে। কী মজার ব্যাপার! টুকুনেরও যদি ইচ্ছে হলেই খসানো যায়, আবার নিজ থেকেই ঠিক গজিয়ে ওঠে এমন একটা লেজ থাকত!

সন্ধ্যায় টুকুন জানালার পাশে টেবিলে পড়তে বসে। জানালা খোলা থাকলে অনেক রকম পোকামাকড় এসে পড়ে টেবিলের ওপর। ওরা নাকি আলোর কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। এটা বাবা বলেছে। তবে বাবা জানালা খোলা দেখলেই বন্ধ করে দেয়, পোকাদের আসতে দেয় না। কদিন আগে বিরাট হুলওয়ালা একটি পোকা টুকুনের পিঠে কামড়ে রীতিমতো ফুলিয়ে দিয়েছিল। টুকুন অবশ্য একদমই কাঁদেনি। শুধু এক-আধটু চিৎকার করেছে, আর চোখ থেকে একটু পানি পড়েছে, এই যা! চোখ থেকে পানি পড়লেই কান্না হয় নাত্মএটা বলেছে ছোট মামা। বাবার ধারণা, ছোট মামা খুবই অযৌক্তিক সব কথা বলে। টুকুনের একদমই তা মনে হয় না। ছোট মামা ঠিক পিঁপড়েদের মতো জ্ঞানী। বাবা হলো মৌমাছির মতো। ওরাও ভালো। তবে টুকুন কখনো মৌমাছি দেখেনি, শুনেছে শুধু। তারা নাকি মধু জমায়। দারুণ ব্যাপার! তবে টুকুনের সঙ্গে ক্লাস টুতে পড়ছে যে রোমেল, সে বলে, মধু নাকি মৌমাছির বমি। ওর কথা শুনে অবশ্য লাভ নেই, ও অনেক মিথ্যা বলে। টুকুন একদমই মিথ্যা বলে না। শুধু পেটব্যথা হলে মাঝেমধ্যে আম্মুকে বলে যে ব্যথা নেই। এটাও খারাপ। পেটব্যথা হলে আম্মু টুকুনকে নিয়ে তাঁর ঘরে ঘুম পাড়ান। টুকুনের ভালো লাগে না। বারবার মনে হয়, ফড়িংটা কি এসেছে? মাকড়সাটা কি আজকেও ঝুলে আছে? টিকটিকির লেজটা কতদূর গজাল?

টুকুনকে তার ঘরের পোকাগুলোও সেসব রাতে অনেক মিস করে। পিঁপড়ারা লাইন ধরে যাওয়ার পথে পাউরুটির টুকরো খোঁজে মাঝেমধ্যে। ফড়িংটা হাঁটু দিয়ে শোনার চেষ্টা করে, কেউ কি বিছানার পাশে তাকে এখনো খুঁজছে?

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১০৭
পুরোন সংখ্যা