চাঁদপুর। শুক্রবার ৩ নভেম্বর ২০১৭। ১৯ কার্তিক ১৪২৪। ১৩ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নিচে, আল্লাহ তাহাও উপস্থিত করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।


১৭। হে বৎস! সালাত কায়েম করিও, সৎ কর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ করিও এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করিও। ইহাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।                


                                      -জনলক।


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গণ।


 

এসেছে হেমন্ত
মনিরুজ্জামান রাফি
০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

হেমন্ত হল ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই দু মাস নিয়ে হেমন্তকাল। হেমন্ত মানেই শিশিরস্নাত প্রহর। শরতের কাশফুল মাটিতে নুইয়ে পড়ার পরপরই হেমন্তের আগমন ঘটে। এর পরে আসে শীত, তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। হেমন্তে সকাল বেলা আবছা কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারিদিকের মাঠঘাট।

সকালে ধান গাছের ডগায় যে শিশির জমে থাকা তা হেমন্তের জানান দেয়। সকালের প্রথম রোদের বর্ণচ্ছটায় গাছের পাতাগুলো খিলখিল করে হেসে ওঠে। দৃষ্টিসীমা যতদূর গিয়ে পৌঁছে দেখা যায়, আলোকজ্জ্বল অপূর্ব একটি সকাল তার অভাবনীয় সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষমান। গাছেদের নরম-কচি পাতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। হেমন্তের রাতে মেঘমুক্ত আকাশে জোৎস্নার আলো যেন অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ঠিকরে পড়ে।

আর এই সময়ে হালকা শীত অনুভূত হয়। ধান উৎপাদনের ঋতু হলো এই হেমন্ত। বর্ষার শেষ দিকে বোনা আমন ও আউশ শরতে বেড়ে ওঠে। আর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে ধান পরিপক্ক হয়, আর তখনই ধান কাটার উপযোগী হয়। আর এই হেমন্তে শুরু হয় কৃষকের ঘরে ফসল তোলার প্রস্তুতি। কাস্তে হাতে কৃষকরা মাঠে মাঠে আমন ধান কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর নতুন ফসল দেখে কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে হাসি।

নবান্নের উল্লেখ ছাড়া হেমন্তের কথা শেষ হয় না। আবহমান বাংলার শস্যভিত্তিক বড়ো মাপের একটি লোকউৎসব হল নবান্ন। হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা হয় নবান্নের উৎসব, নবান্ন অর্থ-নব নতুন আর অন্ন ভাত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল তোলার সাথে সাথেই নতুন চালের ফিরনি-পায়েশ অথবা ক্ষীর তৈরি করে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। নবান্নে মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়, মেয়েকেও বাপের বাড়িতে 'নাইওর' আনা হয়। হেমন্তকে তাই উৎসবের ঋতু বললেও ভুল হবে না।

হেমন্তে বিভিন্ন ধরনের ফলের সমারোহ ঘটে হেমন্তের দুটি বিশিষ্ট ফল হল কামরাঙা ও চালতা।

নারিকেল এ ঋতুর প্রধান ফল। সুতরাং গৃহিণীর পিঠার তালিকায় থাকে নারিকেলে তৈরি রকমারি মুখরোচক খাবার। মহিলারা সারা রাত জেগে পিঠা তৈরি করে ,আর সে কষ্ট আনন্দময় হয়ে ওঠে সকালে তা পড়শিদের মাঝে বিতরণ করে।

হেমন্তে শিউলী, কামিনী,গন্ধরাজ, মলি্লকা, দেবকাঞ্চন, হিমঝুরি, ধারমার, রাজঅশোক ইত্যাদি নানা ধরনের ফুল ফুটে। হেমন্তের সকালে শিউলির সৌরভ বাঙালির প্রাণে আনে উৎসবের মেজাজ।

বাংলার এমন প্রকৃতি দেখা মনে পড়ে যায় একটি গান- "এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবেনাকো তুমি ,সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি "

অনুভবের ঋতু হেমন্ত, মস্নান, ধূসর, অস্পষ্ট, তাকে যত অনুভব করা যায় তাত দেখা যায় না; শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার মতো হেমন্ত এমন তীব্র, প্রখর, উন্মোচিত নয়, বসন্তের মতো তার বর্ণ, গন্ধ, গরিমা নেই, হেমন্ত মৌন, শীতল, অন্তর্মূখী।

এছাড়াও হেমন্তকাল নিয়ে অনেক কবিই কবিতা রচনা করেন।

হেমন্ত ঋতুতে নিয়ে কবি সুফিয়া কামালের কবিতা " হেমন্ত "।

'সবুজ পাতার খামের ভেতর

হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে

কোন পাথারের ওপার থেকে

আনল ডেকে হেমন্তকে'

এছাড়াও এই ঋতুকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন-'হিমের রাতে'

হিমের রাতে ওই গগনের দীপগুলিরে,

হেমন্তিকা করল গোপন আঁচল ঘিরে।

ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো

'দীপালিকায় জ্বালাও আলো,

জ্বালাও আলো,

আপন আলো,

সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে।

সূত্র : উত্তরাধিকার৭১।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮২২৮
পুরোন সংখ্যা