চাঁদপুর। শুক্রবার ৩ নভেম্বর ২০১৭। ১৯ কার্তিক ১৪২৪। ১৩ সফর ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের রুপসা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাঙ্গামা, ভোট গণনা স্থগিত || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকায় সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার।। ২০১৯ সালে দেশে লোডশেডিং থাকবে না--মেজর অব: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।  || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার রাস্তার পাশ থেকে হিন্দু মহিলার লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নিচে, আল্লাহ তাহাও উপস্থিত করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।


১৭। হে বৎস! সালাত কায়েম করিও, সৎ কর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ করিও এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করিও। ইহাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।                


                                      -জনলক।


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গণ।


 

ফটো গ্যালারি
জাদুর বাংলা বই
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



 



রোকন ফোরে পড়ে। পড়াশোনায় সে খুব ভালো। স্কুলের পরীক্ষায় সবসময় প্রথম হয়। আজ স্কুলে এসেই তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। ক্লাসে কিছু দুষ্টু ছেলে রয়েছে। তারা সবসময় রোকনকে ক্ষেপায়। রোকনের সাদা শার্টে কলম দিয়ে অাঁকাঅাঁকি করে। কখনো পেছন থেকে কান ধরে টান দেয়। আর খিলখিল করে হাসে। আজ সামনের টেবিলে বই রেখে ক' মিনিটের জন্যে সে মাঠে গিয়েছিলো। ফিরে এসে দেখে তার বাংলা বইয়ের প্রথম দু পৃষ্ঠা কে যেন ছিঁড়ে ফেলেছে। পাতা দুটি টেবিলের নিচে পাওয়া গেল। রোকনের খুব কান্না পাচ্ছিলো। বাসায় গেলে মা খুব বকবে। তাছাড়া নতুন বই বলে কথা। তার কাচুমাচু চেহারা দেখে পেছন থেকে অন্তু, নান্টু, বিপুল হি হি করে হেসে উঠলো। তাদের হাসি থামেই না। নান্টু টিটকারি করে বলে, কি হয়েছে রোকন বাবু? কাঁদছো কেন? ফিডার খাবে? বলেই আবার হিহি করে হাসে। রোকন কোনো মতে রাগ সামলিয়ে নেয়। অন্তু-নান্টুরাই তার বই ছিঁড়েছে। কিন্তু এখন ওদের কিছু বলতে গেলেই ওরা তেড়ে আসবে, ছড়া কাটবে। রোকন বাংলা বইটার ওপর ছেঁড়া পাতা দুটি রাখে। মনে মনে ঠিক করে, ওদের উচিৎ শিক্ষা দেয়া দরকার। পড়াশোনা তো করেই না, উল্টো আরেকজনের বই ছিঁড়ে হাসে।



 



সন্ধ্যায় পড়তে বসলে রোকনকে হঠাৎই চমকে যেতে হয়। মা রান্নাঘরে ছিলেন। বাবা এখনো অফিস থেকে আসেননি। রোকন আঠা দিয়ে বাংলা বইটা লাগাতে চেষ্টা করছিলো। কিন্তু পৃষ্ঠাগুলো ঠিকমতো লাগছিলো না। আচমকায় রোকন শুনতে পায় কাতর গলায় কে যেন বলছে, আহ্! ব্যথা পাচ্ছি তো! রোকন চমকে ওঠে। তার মনে হলো বাংলা বই কথা বলে উঠেছে। এই রোকন, হা করে তাকিয়ে আছো কেন? বাংলা বইয়ের এমন প্রশ্নে রোকনের চমক কাটে। কিছুটা ভয়ও লাগে তার। হ্যারি পটার নামে একটা ছবি দেখেছিলো সে। সেখানে জাদুর কলম দেখেছিলো। কলমটি দিয়ে যা অাঁকা হয়, তাই সত্যি সত্যি তা-ই পাওয়া যায়! রোকন কিছুটা তোতলিয়ে বলে, না, ইয়ে মানে...তুমি কথা বলতে পারো? বাংলা বইটি খলখলিয়ে হাসে। বলে, অনেক কথা পারি আমি। অনেক কাজও করতে পারি! রোকন বিস্ময় নিয়ে বলে, তুমি কি জাদুর বই? বইটি আবারও হাসে। বলে, হ্যাঁ গো, আমি জাদুর বাংলা বই! আজকে নান্টু যখন আমার দুটি পাতা ছিঁড়লো, কী যে কষ্ট পেয়েছি তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না! আমি ওদের উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো বুঝলে! কথাটা শুনে রোকনের মুখটা হাসি হাসি হয়ে উঠে। সত্যিই তুমি পারবে ওদেরকে শায়েস্তা করতে? রোকনের কথা শেষ হতে না হতেই মায়ের গলা শোনা যায়! কিরে রোকন, তুই কার সাথে কথা বলিস্? রোকন নিজেকে সামলিয়ে বলে, কই মা! আমি তো বাংলা বই পড়ছি! সেদিন রাতে বাংলা বইয়ের সাথে রোকন অনেক শলাপরামর্শ করে। বাংলা বইয়ের মজার বুদ্ধি শুনে রোকন নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড়লো।



 



পরদিন অনেক উত্তেজনা নিয়ে রোকন স্কুলে গেল। অন্তু, নান্টু, বিপুল তিনজনই এসেছে। যথারীতি রোকনকে দেখে তারা হিহি করে হেসে উঠলো। রোকন মনে মনে বললো, আজ বুঝবে কত ধানে কত চাল! সে এক পলক বাংলা বইটির দিকে তাকালো। রোকনের মনে হলো, বাংলা বইও মিটিমিটি হাসছে! একটু পর রত্না ম্যাম ক্লাসে এলেন। তিনি অন্যদিনের মতো রোলকল ডাকছেন। রোল ৭ ডেকে তিনি হঠাৎই থমকে গেলেন। পুরো ক্লাসে হাসি রোল উঠলো। রোকন যদিও ব্যাপারটা প্রথমে বুঝতে পারেনি। রোকন দেখলো, বিপুল বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে। ম্যাম বললেন, রোল সাত তো দীপা আক্তারের? তুমি কি দীপা আক্তার? ম্যাডামের এমন প্রশ্ন শুনে পুরো ক্লাস আবারো হো হো করে হেসে উঠলো। দীপার রুল নাম্বারে বিপুল ভুল করে প্রেজেন্ট দিয়ে ফেলেছিলো! সবাই কানাঘুষা করে বলতে লাগলো, ঐ দেখ দীপা আক্তার! হি হি হি। বিপুল মাথা নিচু করে বসে রইলো। রোকন দেখলো, বাংলা বইটা নড়েচড়ে উঠেছে। তারপর রোকনকে ফিসফিস করে বললো, ঐ যে দীপা আক্তার! রোকন বুঝলো সবই বাংলা বইয়ের জাদু। বিপুল ভালো জব্দ হয়েছে।



লেজার প্রিয়ডের আগে আর কিছু হলো না। লেজারে সবাই মাঠে খেলাধুলা করছে। রোকন কানামাছি খেলছিলো। হঠাৎ দেখলো নান্টু হাঁটছে, আর তাকে দেখে সবাই হিহি করে হাসছে। রোকন দেখলো নান্টুর পেছনে বড় এক টুকরো কাগজ। তাতে লেখা : আমি একজন গরু! রোকনও হো হো করে হাসতে লাগলো। তিতলি বলে উঠলো, কিরে নান্টু, তুই গরু হলি কবে! নান্টুকে সে পেছনের কাগজ দেখালো! কাগজের লেখা দেখে নান্টুর চোখ গোলগোল হয়ে গেল! কিন্তু সে বুঝতে পারলো না কে তারসাথে দুষ্টুমি করলো! অথচ রোকন ঠিকই জানে এটা নিশ্চয়ই বাংলা বইয়ের কাজ!



আজ সর্বশেষ ক্লাস ছিলো জীবন কানাই স্যারের। তাকে নান্টুরা পেছনে পেছনে কানা পন্ডিত বলে ডাকতো। বাংলা বই ফিসফিস করে রোকনকে বললো, এখন দেখবে মজা! কানাই স্যার সমাজবিজ্ঞান পড়াচ্ছেন। হঠাৎ বিপুল দাঁড়িয়ে বললো, স্যার একটা অভিযোগ আছে! কানাই স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন, কী অভিযোগ! বিপুল যেটা বললো সেটা শুনে সবাই চমকে উঠলো। বললো, স্যার, অন্তু আপনাকে কানা পন্ডিত বলছে! স্যার অবাক হয়ে বললেন, কিহ! তারপর দাঁত কিড়মিড় করে বললেন, এই অন্তু দাঁড়া! তোর এত বড় সাহস! অন্তু দাঁড়িয়ে মিনমিন করে বললো, স্যার আমি বলি নাই...। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অন্তুকে সারা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকতে হলো।



সেদিন রাতে রোকন বললো, ধন্যবাদ বাংলা বই। কিন্তু ওরা পড়াশোনা রেখে আবারও দুষ্টামি করবে? জবাবে বাংলা বইয়ের হাসির শব্দ পাওয়া গেল। বললো, কক্ষনো না। কাল থেকে ওরা ভালোভাবে পড়াশোনা করবে, ভালো রেজাল্ট করবে। ওদের শিক্ষা হয়ে গেছে। সত্যি সত্যিই এরপর থেকে অন্তু, নান্টু, বিপুলকে কারো বই ছিঁড়তে কিংবা কারো শার্টে কলম দিয়ে অাঁকতে দেখা যায়নি। তবে এখনো জাদুর বাংলা বইয়ের সাথে রোকনের নিয়মিত কথা হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪১৪১
পুরোন সংখ্যা