চাঁদপুর। শুক্রবার ১ ডিসেম্বর ২০১৭। ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২-সূরা আহযাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৩। আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।

০৪। আল্লাহ্ কোনো মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেন নি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেন নি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেন নি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ্ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


চা খাদ্য নহে ইহা মাদক উত্তেজক গুণবিশিষ্ট।

-ডাঃ জন ফিসার।


মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত।


ফটো গ্যালারি
সুইচোরা আর টুনটুনি
আহমেদ রিয়াজ
০১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বাসা বানাতে চাইল টুনটুনি। একটা বাসা।

কাঁচা পথের ধারে লাউ মাচান। ওই মাচানের এক লাউগাছে বাসাটা বানাবে।

একটা লাউপাতা মুড়িয়ে নিয়েছে টুনটুনি। হঠাৎ...

চেঁচিয়ে উঠল টুনটুনি, 'টুইট টুইট। টুইট টুইট।'

কাছেই একটা মেহগনি গাছ। ডালে বসেছিল এক ফিঙে। দৌড়ে এল। বলল, 'এত চেঁচানো কেন?'

টুনটুনি বলল, 'চেঁচাই কি আর সাধে? ভাবলাম একটা বাসা বানাব।'

'ভালো কথা। বানিয়ে ফেলো। চেঁচানোর কী আছে?'

'চেঁচাই কি আর সাধে? লাউপাতা মুড়িয়ে নিলাম।'

'ভালো কথা। মুড়িয়ে নাও। তাই বলে চেঁচাতে হবে কেন?'

'বাতাসে লাউপাতা সরে গেল যে।'

'সরতেই পারে। আবার মুড়িয়ে নিলেই হয়। তাই বলে চেঁচাতে হবে?'

'আবার মুড়িয়ে নিয়েছি। সেলাই করব কী দিয়ে? সুই যে নেই।'

ফিঙে বলল, 'বলো কী! সুই নেই? তাহলে আরও জোরে চেঁচাও।'

এবার আরও জোরে চেঁচাতে লাগল টুনটুনি। 'টুইট টুইট। টুইট টুইট।'

চেঁচাতে লাগল ফিঙেটাও। 'চিইট চিট চিট চিচি।'

সারা পাড়ায় সাড়া পড়ে গেল। টুনটুনির সুই নেই। কে নিল?

হাঁড়িচাচা নিয়েছে? নিতে পারে। কাকের জাতভাই বলে কথা। কাকের মতোই ছিঁচকে চোর।

ছুটল টুনটুনি। ছুটল ফিঙে। কোথায়? হাঁড়িচাচার কাছে।

ওই তো হাঁড়িচাচা। লেজ ঝুলিয়ে বসে আছে। আরেক নাম লেজঝোলা। একটা পেঁপের ওপর। ফিঙে বলল, 'টুনটুনির সুইটা দিয়ে দাও।'

অবাক হলো হাঁড়িচাচা। 'সুই!'

টুনটুনি বলল, 'হুঁ। সুই। তোমার হাঁড়ির ভেতর আছে। বের করে দাও। আমি বাসা সেলাই করব।'

চিট চিট করে হেসে উঠল হাঁড়িচাচা। বলল, 'হাঁড়ি তো বাড়িতে।'

ফিঙে বলল, 'চলো তোমার বাড়ি।'

হাঁড়িচাচা বলল, 'আমি এখন বাড়ি যেতে পারব না। পাকা পেঁপে খাব।'

বলেই হলুদ পেঁপের গায়ে ঠোকর বসাল।

নাহ্। এভাবে হবে না। এবার রেগে উঠল ফিঙে। চোখ লাল করে ডাকতে লাগল। 'চিইট চিট চিট চিচি।'

ভয় পেল হাঁড়িচাচা। বলল, "আসলে আমার কোনো হাঁড়ি নেই। নামটাই কেবল হাঁড়িচাচা। আমি কিছু নিইনি।"

'তাহলে টুনটুনির সুইটা কে নিল?'

হাঁড়িচাচা বলল, 'সুইচোরা নিতে পারে।'

'সুইচোরা!'

অবাক হলো ফিঙে। অবাক হলো টুনটুনি।

হাঁড়িচাচা বলল, 'নামেই তো সুইচোরা। ওরা ছাড়া আর কে সুই চুরি করবে?'

তাই তো! আবার ছুটল ফিঙে। আবার ছুটল টুনটুনি। কোথায়? সুইচোরাদের খোঁজে।

সুইচোরারা থাকে নদীর পারে। হুম্। ওই তো ওরা। নদীর কিনারে। ডিগবাজি ডিগবাজি খেলছে।

হাঁক দিল ফিঙে, 'চিইট চিট চিট চিচি। সুইটা কোথায়?'

হাঁক শুনেই ঘাবড়ে গেল সুইচোরাগুলো। এগিয়ে এল সবচেয়ে বড় সুইচোরা। বলল, 'কিসের সুই? কার সুই?'

টুনটুনি বলল, 'আমার সুই। সেলাই করার সুই। সুইটা দাও ঝটপট। বাসা সেলাই করব।'

সুইচোরা তো অবাক! বলল, 'আমরা সুই চুরি করি না।'

ফিঙে বলল, 'ওই যে তোমাদের লেজের পেছনে সুই। সবার একটা করে। কোথায় পেলে?'

'ওটা লেজ।'

'লেজ! তাহলে তোমাদের নাম সুইচোরা কেন?'

সুইচোরা বলল, 'অনেকে আমাদের এ নামে ডাকে। আমাদের খুব চমৎকার একটা নাম আছে। সবুজ বাঁশপাতি। সবুজ বাঁশপাতি বলেই ডেকো আমাদের।'

ফিঙে বলল, 'বেশ ঝামেলায় পড়া গেল দেখছি। তাহলে টুনটুনির সুই নিল কে?'

সবুজ বাঁশপাতি বলল, 'তোমরা বরং প্যাঁচার কাছে যাও।'

সায় দিল ফিঙে, 'হুম্। প্যাঁচা অনেক কিছু জানে।'

ছুটল ফিঙে। ছুটল টুনটুনি। কোথায়? প্যাঁচার কাছে।

সব শুনল প্যাঁচা। বলল, 'সব টুনটুনির কাছেই কি সুই থাকে?'

ফিঙে বলল, 'থাকে বলেই তো জানি। নইলে ওরা বাসা সেলাই করে কেমন করে?'

টুনটুনিও বলল, 'সুই ছাড়া কি সেলাই হয়?'

মাথা নাড়ল প্যাঁচা। একবার এদিক, আরেকবার ওদিক। বলল, 'তোমার সুইটা কোথায় রেখেছিলে টুনটুনি?'

এবার আর মনে করতে পারল না টুনটুনি।

প্যাঁচা বলল, 'আসলে তুমি বাসাই বানাতে জানো না। অথচ সুই খুঁজছ।'

টুনটুনি বলল, 'তাহলে আমার সুই?'

প্যাঁচা বলল, 'তোমার ঠোঁটই তোমার সুই। যাও। মন দিয়ে বাসা বানাও।'

আরকি! লাউয়ের মাচায় ফিরে এল টুনটুনি। লাউ পাতা মুড়িয়ে নিল। আর...

হঠাৎ পাশে তাকাল টুনটুনি। ওই তো আরেকটা টুনটুনি। লাউ পাতা মুড়িয়ে বাসা তৈরি করছে। ঠোঁটে একটা সুতো।

এই টুনটুনিও একটা অাঁশ আনল। নারকেল পাতা থেকে। ওটাই সুতো। তারপর ঠোঁটটাকে সুই বানাল। তারপর বাসা বানাতে লাগল। আর নাচতে নাচতে গাইতে লাগলো

টুনটুনি গো টুনটুনি

লাউয়ের পাতা মুড়িয়ে

আয় দেখে যা ঘর বুনি।

টুনটুনি গো টুনটুনি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪২৮৮৮
পুরোন সংখ্যা