চাঁদপুর। শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ৪ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৯ জমাদিউল আউয়াল
ckdf
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আজ ঈদ পালিত হচ্ছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির


৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহ্বান করে কেউ তা বহন করবে না যদি সে নিকটবর্তী আত্মীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামাজ কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।


১৯। দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।


২০। সমান নয় অন্ধকার ও আলো।


২১। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।


 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


বুদ্ধিজীবীদের সহজ সরল চালচলন অন্যের নিকট তাদের শ্রদ্ধাভাজন করে তোলে।


-উইলিয়াম সি ওয়েল।


 


 


 


 


 


 


 


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বাঘের কোলে হরিণশিশু
ইমদাদুল হক মিলন
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হরিণশিশুটির বয়স দশ দিন। সে একটু বোকা, একটু অলস। বনের নিয়মকানুন কিছুই বোঝে না। মা-বাবা আর হরিণদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। হরিণেরা যখন ছুটে ছুটে বহুদূর চলে যায়, শিশুটি পেছনে পড়ে থাকে। এই করে একদিন সে হরিণের দলটাই হারিয়ে ফেলল। মা কোথায় গেল, বাবা কোথায় গেল, সে আর খুঁজেই পেল না।



সকালবেলা সে মায়ের দুধ পান করেছিল। তারপর মা গেছে হারিয়ে। এখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। তার খুব খিদে পেয়েছে। কী খাবে এখন? মাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্তও হয়েছে। তার খুব কান্না পাচ্ছিল।



এ সময় দেখে ঝোপের ছায়ায় এক বাঘিনী ঘুমাচ্ছে আর তার ছোট্ট শিশুটি মায়ের দুধ পান করছে। বাঘ যে হরিণের বড় শত্রু, হরিণ পেলেই শিকার করে খায় শিশুটি তা জানে না। সে ভাবল, বাঘশিশু তার মায়ের দুধ পান করতে পারলে সে পারবে না কেন?



ছুটে বাঘিনীর কাছে গেল সে। বাঘশিশুর পাশে বসে বাঘিনীর দুধ পান করতে লাগল। বাঘশিশু অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। তার বয়সও দিন দশেকই হবে। এখনো অনেক কিছুই বোঝে না। ভাবল, এ আবার কে রে বাবা? আমার মায়ের দুধে ভাগ বসাচ্ছে? একটা-দুটো ধাক্কা হরিণশিশুটাকে সে দিল। হরিণশিশু নড়ল না। পেট পুরে বাঘিনীর দুধ পান করল।



ততক্ষণে বাঘশিশুর সঙ্গে তার ভাব হয়ে গেছে। পেট পুরে দুধ পান করে দুজনেরই খোশমেজাজ। হরিণশিশু যে মাকে হারিয়ে ফেলেছে, সে কথা তার আর মনেই রইল না। বাঘশিশুর সঙ্গে সে হুটোপুটি আর খেলাধুলায় মেতে গেল। দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গেল হরিণশিশু আর বাঘশিশুর।



বাঘিনীর ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে সে দেখে তার শিশুটি একটি হরিণশিশুর সঙ্গে খেলা করছে। দুজনেই আছে বেদম আনন্দে। বাঘিনী অবাক! হরিণশিশু এল কোত্থেকে? সে কি জানে না বাঘ তাকে দেখে ফেলবে? হরিণের চিরশত্রু বাঘ। সেই বাঘশিশুর সঙ্গে তার ভাব হলো কেমন করে?



মায়ের ঘুম ভেঙেছে দেখে বাঘশিশু ছুটে এল। হরিণশিশুও এল তার সঙ্গে।



বাঘশিশু বলল, মা, এ আমার বন্ধু। তুমি ঘুমাচ্ছিলে আর তখন আমরা একসঙ্গে তোমার দুধ পান করেছি। ও এখন থেকে আমাদের সঙ্গে থাকবে।



বাঘিনী অবাক! আমাদের সঙ্গে থাকবে কেন? ওর মা-বাবা কোথায়?



হরিণশিশু সব খুলে বলল। সন্ধ্যা হয়ে আসছে দেখে মা মা বলে কাঁদতে লাগল। বাঘশিশু তাকে সান্ত্বনা দিল। কেঁদো না কেঁদো না। তোমার মা হারিয়েছে তো কী হয়েছে? আমার মা আছে। তুমি আমার মায়ের কাছে থাকবে। আমরা একসঙ্গে মায়ের দুধ পান করব, একসঙ্গে মায়ের কোলে ঘুমাব, একসঙ্গে ঘুরে বেড়াব, খেলা করব। তুমি কেঁদো না।



বাঘশিশুর কথা শুনে হরিণশিশুটিকে আর কিছুই বলল না বাঘিনী। সন্ধ্যাবেলা বাঘশিশুর সঙ্গে হরিণশিশুও বাঘিনীর দুধ পান করল। এটা তাদের রাতের খাবার। দুধ পান করার সময় নিজের শিশুর মতো হরিণশিশুটিকেও আদর করল সে।



এভাবে বাঘের সংসারে থেকে গেল হরিণশিশুটি।



দিন যায়। বাঘশিশু, হরিণশিশু দুজনেই বড় হয়। তাদের বন্ধুত্ব আরও বেড়েছে। বাঘিনী হরিণশিশুটিকে নিজের শিশুর মতোই আদর করে, ভালোবাসে। একসঙ্গেই থাকে। দিনের বেলা বাঘিনী আর তার বড় হয়ে ওঠা বাঘছেলে শিকার ধরে খায়। হরিণশিশু সবুজ মাঠে চরে। ঘাস খেয়ে পেট ভরায়।



এ সময় বনে অভাব দেখা দিল। বাঘিনী বুড়ো হয়েছে। সে আর শিকার ধরতে পারে না। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়। বাঘছেলে পাঁচ-দশ দিনে এক-আধটা শিকার ধরলে মা-ছেলে ভাগ করে খায়।



তবে হরিণটির খাবারের কোনো অভাব নেই। বনের গাছপালা আর ঝোপঝাড়ের ফাঁকে সবুজ ঘাসের মাঠ। তিনবেলা সেই ঘাস খেয়ে বেশ আছে সে।



এ সময় একদিন বাঘছেলে বলল, এই বনে শিকার পাওয়া যাচ্ছে না, মা। চলো অন্য বনে চলে যাই।



হরিণকে বলল, তুমিও চলো।



হরিণ বলল, না, আমি যাব না। এই বনে আমি খুব সুখে আছি।



হরিণের কথা শুনে বাঘিনী বলল, তাহলে তো আমিও যেতে পারি না। তোর মতো হরিণটিও আমার সন্তান। আমার দুধ পান করে বড় হয়েছে। তুই চলে যা। আমি ওর সঙ্গে থাকব।



বাঘছেলে চলে গেল।



দিনে দিনে বাঘিনীর অবস্থা খুব খারাপ হলো। শিকার সে আর ধরতেই পারে না। না খেয়ে থাকতে থাকতে মারা যাওয়ার অবস্থা। হাঁটাচলাই করতে পারে না। ঝোপের ধারে মরার মতো পড়ে থাকে।



এই দেখে হরিণ একদিন বলল, ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে আমি তোমাকে পেয়েছিলাম। তোমার দুধ পান করে, তোমার আদরে বড় হয়েছি। তোমার কাছে আমি খুবই ঋণী। তোমার ঋণ আমি শোধ করতে চাই। তুমি খেতে না পেয়ে মারা যাচ্ছ, তোমার এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। এই আমি তোমার মুখের সামনে এলাম। তুমি আমাকে খাও। তাহলে তুমি নিজেও বাঁচবে, আমারও ঋণ শোধ হবে।



বাঘিনী কোনো রকমে বলল, তা হয় না। মা কখনো নিজের সন্তান খেতে পারে না। তুই তো আমারই সন্তান। তা ছাড়া মায়ের ঋণ কেউ কখনো শোধ করতে পারে না। সবাইকে একদিন মরতে হবে। আমাকে নিয়ে ভাবিস না। তুই বেঁচে থাক। অন্য বাঘের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা কর।



এ সময় একদিন বাঘিনীর ছেলে ফিরে এল। মায়ের অবস্থা দেখে সে খুব দুঃখ পেল। হরিণ বসে ছিল বাঘিনীর পাশে। বন্ধুকেও সে একই কথা বলল। আমাকে শিকার করে মাকে বাঁচাও। তার মুখে খাবার তুলে দাও।



বাঘিনীর একেবারেই শেষ সময়। এখনই সে মারা যাবে। সেই অবস্থায় ছেলেকে সে বলল, না বাবা, এই কাজ কখনো কোরো না। তোমরা দুজনেই আমার সন্তান। সারা জীবন দুজনে মিলেমিশে থেকো।



বাঘিনী মারা গেল।



বাঘছেলে মায়ের কথা রাখল। হরিণের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। শিকার ধরে ঝোপের ছায়ায় বসে খায় আর সামনের মাঠে চরে হরিণ। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে গল্প করে। রাতে পাশাপাশি শুয়ে ঘুমায়।



হরিণ একদিন বাঘকে বলল, তুমি এত কষ্ট করে শিকার করো আর আমি তোমার একেবারে হাতের কাছে। তুমি তো আমাকে শিকার করলেই পারো।



বাঘ বলল, তা পারি কিন্তু কখনো ও কাজ আমি করব না।



কেন?



আমি আমার মাকে কথা দিয়েছি। মায়ের কথা রাখতে হয়।



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৬৪৫৩
পুরোন সংখ্যা