চাঁদপুর। শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ৪ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৯ জমাদিউল আউয়াল
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির


৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহ্বান করে কেউ তা বহন করবে না যদি সে নিকটবর্তী আত্মীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামাজ কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।


১৯। দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।


২০। সমান নয় অন্ধকার ও আলো।


২১। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।


 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


বুদ্ধিজীবীদের সহজ সরল চালচলন অন্যের নিকট তাদের শ্রদ্ধাভাজন করে তোলে।


-উইলিয়াম সি ওয়েল।


 


 


 


 


 


 


 


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
পেটু মামার অপারেশন
কঙ্কন সরকার
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পেটু মামা। এ নামেই পরিচিত এখন তিনি। এ নাম তার পেটটার জন্যেই পেয়েছেন তিনি। পেটটা ইয়া বড়! চেহারাও বেশ নাদুস নুদুস। হেঁটে চললে যেন পেটটাই আগে আগে যায়। তবে ছেলেরা সবাই পেট না বলে ভুঁড়ি বলে ওটিকে। হেঁটে চলেন যখন, পেটটি কেঁপে কেঁপে উঠে। ছেলেরা দেখে মজা পায়। হাসে আর তাকিয়ে থাকে পেটের দুলুনিটা দেখার জন্যে।



পেটু মামার খাবার খাওয়া বড় আশ্চর্যের! খেতে বসলে যেন মেশিন স্টার্ট দেয়া হয়েছে। চলছে তো চলছেই। আর যদি দাওয়াত পেয়ে যান তো আনন্দে আটখানা। আর যিনি দাওয়াত করবেন, তিনিও বেশ প্রস্তুতি নিয়ে দাওয়াত দেবেন। তবে মামার সবচেয়ে প্রিয় হলো মিষ্টি জাতীয় খাবার। যাই খান, মিষ্টি না পেলে যেন মাথা খারাপ তার। অন্য কিছু না খাওয়ায়ে যদি মিষ্টি খাওয়ানো হয়, তবে ভারি খুশি হন তিনি। দাওয়াত থেকে ফিরে সবাইকে নিয়ে বসবেন আর গল্প জুড়ে দেবেন খাওয়ার। কীভাবে আস্ত একটা মুরগি খেলেন! কীভাবে রেজালা খেলেন কেজি পরিমাণ! আর মাঝখানে যদি খাওয়ার প্রতি অরুচি আসে, তবে ওখানেই খেয়ে নেবেন টেস্টি হজমি ডজন দুয়েক!



একবার এক বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেছেন। খাসির মাংসের সাথে ব্রয়লার মুরগি। খাচ্ছেন তো খাচ্ছেন। একটি দেড় কেজি ওজনের ব্রয়লার শেষে দেশি মুরগি খাওয়া শুরু করেছেন। ওদিকে খাসির মাংসও কেজি খানেক শেষ। এর মাঝে যখনি শুনলেন মিষ্টি আর দই আছে, অমনি মাংস খাওয়া বন্ধ রেখে মিষ্টি আর দই-এর জন্যে প্রস্তুত তিনি। ও বাবা! এক কেজি মিষ্টি আর কেজি পরিমাণ দই সাবাড় করলেন এক নিমিষে!



এদিকে ঐ আসরে গল্প জমে উঠেছিলো। মামাও দুদিকে তাল সামলাচ্ছিলেন। গল্পেও হু-হা করছেন, আবার খাবারও গিলছেন সমান তালে। গল্পের তালে আবার খাবার খেতে তিনি এতোই মশগুল ছিলেন, যখন সবাই উঠে পড়ছিলো, তিনিও হুড়মুড়িয়ে উঠতে গেলেন। কিন্তু থমকে যেতে হলো তাকে। শরীর ওঠাতে পারছেন না! সবাই যেন অাঁৎকে উঠে পরক্ষণে মুখে হাসি এনে ফেললো। টিপ্পনি কাটলো কয়েকজন আমতা আমতা করে। মামা আরও দুবার বৃথা চেষ্টা করলেন। অতঃপর ভ্যানগাড়ি এনে তাকে পৌঁছে দিতে হলো তার বাড়িতে।



এবার আর উপায় নেই। অপারেশন করতেই হবে। মামা তো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। কাঁদো-কাঁদো কণ্ঠে বললেন, কী হবে আমার? কী হবে আমার?



সবাই সান্ত্বনা দেবার সুরে বললো, ভয় নেই। পেটটা কেটে খাবারগুলো বের করলেই তো তোমার স্বস্তি! ডাক্তার তো খুবই দক্ষ। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। চোখ বুঁজে থাকো। সব ঠিক হয়ে যাবে।



 



মামা চিৎকার দিয়ে বললেন, অপারেশনে কী আমার চিন্তা!



সবাই বললো, তাহলে?



ডাক্তারও অবাক! তিনি বললেন, অপারেশনে চিন্তা নেই তো হাউমাউ কিসের?



মামা বললেন, ডাক্তার সাব অপারেশন করুন। কিন্তু একটা অনুরোধ আছে।



ডাক্তার ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে বেশ নরম সুরে বললেন, বলুন, অনুরোধটা কী?



মামা হাসিমুখে বললেন, আমার অপারেশন করে শুধু নিচের খাবারগুলো বের করবেন। উপরের দিকে হাত দেবেন না প্লিজ। কেননা, ওপরে মিষ্টি আছে!



ডাক্তার অবাক! মুখে হাসি ফুটলো, তবুও হাসতে পারলেন না।



হয়েছিলো কী, এক দাওয়াতে খাওয়ার পর প্রচুর মিষ্টি খাওয়া হয়েছিলো। আর মামা যা কিছুই খান, মিষ্টিটা খাবেন সবার পরে। কারণ মিষ্টিটা উপরে থাকলে তার নাকি মিষ্টি মিষ্টি লাগে সবসময়। এ দাওয়াতেও তাই হয়েছিলো। আর খাওয়া এমন হয়েছিলো যে ভুড়িটা ফুলে যেন ধানের গোলা হয়ে গিয়েছিলো! ওষুধপত্র সব ব্যর্থ হচ্ছিলো। মামা কাহিল হয়ে পড়েছিলেন। নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছিলো তার। স্বস্তি পাচ্ছিলেন না কিছুতেই। ভুঁড়িটা ফুলে উঠছিলো ক্রমান্বয়ে। তাই তো উপায় না পেয়ে ডাক্তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।



আরও বলি, মামা পরোটা খেতেও দারুণ পটু। আর যদি রসসহ মিষ্টি থাকে তো কথাই নেই। একদিন একজন তাকে পরোটা খাওয়াতে দোকানে নিয়ে গেলেন। দোকানদার চারটি পরোটা দিয়ে মিষ্টি আনতে গেলেন। এসেই তিনি হতবাক! এরই মধ্যে সবকটি খেয়ে সাবাড় করেছেন মামা। একে একে পঁচিশটি পরোটা সাবাড় করেছেন মামা সে খাওয়ায়। ভাবা যায়!



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৭০৪৮৬
পুরোন সংখ্যা