চাঁদপুর। শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ৪ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৯ জমাদিউল আউয়াল
ckdf
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আজ ঈদ পালিত হচ্ছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির


৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহ্বান করে কেউ তা বহন করবে না যদি সে নিকটবর্তী আত্মীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামাজ কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।


১৯। দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।


২০। সমান নয় অন্ধকার ও আলো।


২১। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।


 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


বুদ্ধিজীবীদের সহজ সরল চালচলন অন্যের নিকট তাদের শ্রদ্ধাভাজন করে তোলে।


-উইলিয়াম সি ওয়েল।


 


 


 


 


 


 


 


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
কিম ভূতে কিমাকার
নাসরীন মুস্তাফা
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


    আমি মাঝে মধ্যে এমন কিছু কথা বলে ফেলি, যা আসলে বলা ঠিক না। পরে খুব ঝামেলায় পড়তে হয়। সেদিন যেমন এক টিভি অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, আমি ভূতের গল্প লিখতে পারি না।

    কথাটা সত্যি। আমি সত্যিই ভূতের গল্প লিখতে পারি না। মানুষকে ভয় দেখানো কি সহজ কাজ, তোমরাই বলো?

    ঝামেলাটা হলো এই সত্যি কথা বলাতে। বিরাট ঝামেলা। টিভি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথেই ঝামেলা শুরু। মনটা ভালো ছিল। বাড়ি ফিরেই সব পরিচিত বন্ধু-আত্মীয়কে জানাতে হবে খবরটা। সবাই যেন পরশু সন্ধ্যায় টিভি খুলে বসে থাকে। আমাকে দেখাবে! আমি যা বলেছি, শুনে সবাই হাঁ হয়ে যাবে। আমি যে কতো ভালো কথা বলতে পারি, বুঝবে সবাই।

    ছাই বুঝবে!

    মনে মনে যা ভাবছিলাম, তার জবাবে ঠিক এই রকম একখানা পচা কথা আমার কানের পাশে ভাসতে লাগলো। কথারা ভাসে কখনো? এর আগে কখনো ভাসতে দেখিনি। মনের ভুল ভেবে বাড়ি ফিরেছিলাম। কিছু সময় পর ভুলেও গেলাম। সবাইকে খবর পাঠানোর আনন্দে ওসব কি আর মনে থাকে? মনে এলো তখন, যখন আমিও বসেছিলাম টিভিতে অনুষ্ঠানটি দেখতে। মা আমার পাশে বসে দেখছিলেন টিভির ভেতরকার আমাকে। সেই আমি কথা বলতে বলতে এক সময় কী বললো, জানো?

    বললো, আমি ভূতের গল্প লিখতে পারি। বসলেই লেখা হয়ে যায় গা হিম করা ভূতের গল্প। সকালে-দুপুরে-বিকালে আর রাতে ভাত খেতে খেতেই লিখে ফেলি ভূতের গল্প। দিনে চারটা করে ভূতের গল্প লেখা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। হি!

    এই 'হি' মানে হচ্ছে হি-হি করা হাসি। সবগুলো দাঁত বের করে টিভির ভেতরে আমি আমাকে দেখলো। টের পেলাম, মা-ও আমাকে দেখছেন। অবাক হয়ে দেখছেন। বলছেন, তুই সারা জীবন একটা ভূতের গল্পও লিখিসনি।

    মা আমার বুকে মাথায় দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে বলেন, তুই যে এখন থেকে ভূতের গল্প লিখবি, এর চেয়ে আনন্দের খবর আমার জীবনে আর নেই, থাকতে পারে না।

    মা!

    আমি কাঁদি। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, মায়ের দোয়া থাকলে সব হয়। চারটে কেন চারশ' লেখাও কি কোনো ব্যাপার তখন? বল!

    মা!

    যা যা। আর দেরি করিসনে। লিখতে বসে যা। দিনে চারটে করে ভূতের গল্প। কম যেন পড়ে না।

    আমার টেলিফোন ওদিকে কাঁপতে শুরু করেছে। প্রকাশকদের ফোন। সবার এক দাবি, ভূত-পাÐুলিপি দিতেই হবে। বইমেলা ভূতে ভূতে ভূতাকার করে দিতে হবে, এই দাবি জানানো হলো।

    এতোকাল বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখেছি বলে এই প্রকাশকরাই না বলতেন, আমি আধুনিক, আমি শিশু-কিশোরদের ভূতের মতো আবোলতাবোল শেখাই না, আমি বিজ্ঞান ঝেড়ে দেশ ও জাতির পরম উপকার করছি। এই প্রকাশকরাই এখন বলছেন, অবশেষে নাকি আমার বোধোদয় হয়েছে। আমি লাইনে এসেছি!

    প্রকাশকদের শেষ ফোনটি রেখে চমকে উঠে দেখি, পাশের চেয়ারে পা ঝুলিয়ে বসে আছে এক ছোকরা। অচেনা কেন, চেনা কেউও আমার লেখার ঘরে ঢোকার অনুমতি পায় না। এ ছোকরা ঢুকলো কী করে?

    কিছুই বললো না, তবুও টের পেলাম ছোকরার কথা ভাসছে। কিম ভূতের অনুমতি লাগে না। চাইলেই যেতে পারে যেখানে আর সেখানে, লাইনে, এমনকি বেলাইনেও!

    কিম ভূত! সে আবার কী?

    কিম ভূত আবার কী হবে? কিম ভূতই হবে, কিম ভূতই হয়, তাই না?

    ভূত বলে কিছু নেই!

    আমি কাঁদি। আর ওদিকে কথা ভাসাতে জুড়ি নেই কিম ভূতের। বলে কিনা, যারা ভূতের গল্প লিখতে পারে না, তারাই কেবল এসব বাজে কথা ছড়ায় ভূত নিয়ে। ভূত বলে কিছু না থাকলে কিম ভূত এলো কীভাবে?

    কিম ভূত এলো তো এলোই, দিনে চারটে করে গল্পও লিখিয়ে ছাড়লো। দুই হাতে কেবল নয়, দুই পা দিয়েও লিখছি। কী লিখছি জানি না; জানি ভূতের গল্প লিখছি। কিম ভূত লেখাচ্ছে। লিখছি কিম ভূতের জীবন-আশা-ভরসা-স্বপ্ন-ভালোবাসা-দুঃখ-বেদনা-হাহাকার-হতাশা-বাতাসা-কাচা মাছ-তেঁতুল গাছ-বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ-কবর থেকে উঠলো ফুঁড়ে আস্ত একটা কৈ!

    এই বইমেলাতে সোয়া চারশো ভূতের গল্প পাওয়া যাবে কেবল আমারই। কিম ভূত আর কোনো লেখকের কানে কথা ভাসিয়ে ভূতের গল্প লিখিয়ে নিয়েছে কিনা, তা ভূতের গল্পের বইগুলোর লেখকরাই ভালো বলতে পারবেন। আমি আর বলতে চাই না। বলাবলি করে আর কোনো ঝামেলা হোক, সত্যিই আমি চাই না।

২.

    টিভি খুলে দেখছিলাম বইমেলা নিয়ে অনুষ্ঠান। মেলার মাঠে দাঁড়িয়ে উপস্থাপক বলছেন, বইমেলা ভূতে ভূতে ভূতাকার। ভূতের গল্পের বইগুলো দারুণ চলছে। বই পড়তে পড়তে পাঠকের মনের ভেতর ঘটনার দৃশ্য তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। পাঠক মনে করতে থাকে, ঘটনা সত্য। ভয়ে দাঁত কপাটি লাগছে কারও। ঘেমে ভিজে যাচ্ছে কেউ। কুই কুই করে কাঁদছে অনেকেই। না দেখলে বিশ্বাস হয় না।

    আমি এখনো বইমেলায় যাইনি। যাওয়ার সাহস পাইনি আসলে। সব শুনে আমারও দাঁত কপাটি লেগে যায়। ঘামে ভিজে যাই আমি। কাঁদি কুই কুই করে। এরপরও বাকি ছিলো ঝামেলা।

    উপস্থাপক বলছেন, ভূতের বইয়ের এই সাফল্য নিয়ে এখন আমরা কথা বলছি একজন পাঠকের সঙ্গে।

    পাঠক আর কেউ নয়, কিম ভূত! ঠিক আমার দিকে তাকিয়ে বললো, কে বলে মানুষ বই পড়ে না? আমি তো দেখছি, পাঠকে-বইয়ে বইমেলা একাকার!

    ধপাস করে পড়ে যাবার আগে 'একাকার' শব্দটাই আমার কানে ভেসে এলো 'কিমাকার' হয়ে! এই ছিলো কপালে! কিম ভূতে কিমাকার হলো অবশেষে!...

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৬৬০৮
পুরোন সংখ্যা