চাঁদপুর। শুক্রবার ১৬ মার্চ ২০১৮। ২ চৈত্র ১৪২৪। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন


৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৯। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়।


৪০। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের, প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


অন্যকে বারবার ক্ষমা করো, কিন্তু নিজেকে কখনই ক্ষমা করো না।


-সাইরাস।


 


 


মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করিও না, ওয়াদা ভঙ্গ করিও না।


 


 


ফটো গ্যালারি
পুষিতা ও পুটুর কাণ্ড
মিরাজুন নাহার মিথিলা মুন
১৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

মিষ্টি মেয়ে পুটু। সে বাসার সবার আদরের। বয়স হবে বড়জোর ছয়। তার একটি ছোট্ট বিড়াল ছানা রয়েছে। সাদা ধবধবে বিড়াল ছানা, নরম লোমে ভর্তি সারা শরীর। নাম তার পুষি। বাবা, মা, বড় আপু ও পুষিকে নিয়েই পুটুর পরিবার। সে পুষিকে প্রতিদিন দুধ-মাছ খাওয়ায়। তাদের বাসার পাশেই আছে ইয়া বড়ো নদী। পুটু পুষিকে প্রতিদিন নদীতে নিয়ে গোসল করায়। তখন পুষি ও নদীর মাছ, কচ্ছপের সে কী খেলা! পুষি সবসময় নদীতে যাওয়ার আগে দুটি করে রুটি নিয়ে যায়। সে রুটি দুটি নদীর বিভিন্ন প্রাণীকে খেতে দেয়। ভালোই দিন কাটছিলো পুটু ও পুষির। একদিন হঠাৎ কী হলো, পুটু পুষিকে নদীতে নিয়ে গেছে গোসল করানোর জন্য। হঠাৎ ঝড় উঠলো নদীতে। পুষি ও পুটু দুজন ঝড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলো। সে কী ভয়ানক ঝড়। পুটু অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে এলেও পুষি ফিরতে পারলো না। পুষি ঝড়ের দাপটে পানিতে পড়ে রইলো। সে সাঁতার জানতো না। তবুও কীভাবে যেন বেঁচে গেলো। পরদিন সকালে পুষি দেখতে পেলো যে সে নদীর তীরে পড়ে আছে। পুষি উঠে দাঁড়ালো। দেখলো, তার দিকে পাঁচ-ছয়টি কুকুর এগিয়ে আসছে। সে যে জায়গায় আছে সেই জায়গাটি তার চেনা নয়। পুষি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো। চারদিকে তাকিয়ে পুটুকে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও পেলো না। পুষির পেছনে নদী ও সামনে কুকুর। সে এবার কীভাবে বাঁচবে? পুষি হঠাৎ নদীতে লাফ দিলো এবং গভীর পানিতে তলিয়ে গেলো। সে চোখের সামনে অন্ধকার দেখতে পেলো।

পানির দেবতা পুষির ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন, কারণ পুষি পানিতে থাকা প্রাণীদের মন থেকে ভালোবাসতো, খাওয়াতো। তাই তিনি পুষিকে বাঁচানোর জন্য তার নিজের রাজ্যে নিয়ে গেলেন। তারপর পুষির শরীরের নিচের অংশ মাছের লেজে রূপান্তর করলেন।

পুষির জ্ঞান ফেরার পর দেখে সে এক অদ্ভুত জায়গায় আছে। চারদিকে সবুজ, নীল বাতি। অচেনা রাজ্যের মুখ। আরও অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে পুষির নিচের পা ও লেজের পরিবর্তে একটি মাছের লেজ। অচেনা পুরুষ-মহিলাদেরও কোমরের নিচের অংশ মাছের লেজের মতো। পানির দেবতা পরে পুষিকে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে দিলেন। এদিকে পানির নিচের ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে তো পুষিকে পেয়ে মহাখুশি। তারা কোনো দিন বিড়াল দেখেনি। তাই তারা পুষির হাতে মুক্তার ব্যাজ, গলায় ফুলের মালা ও মাথায় ফুলের ব্যান্ড পরিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়।

ওদিকে পুষিকে হারিয়ে পুটু তো ভীষণ দুঃখ পেয়েছে। তার খাওয়া-দাওয়া কিছুই ঠিকমতো হয় না। সে প্রতিদিন পুষিকে যে জায়গায় গোসল করাতো সেখানে গিয়ে বসে থাকে, কিন্তু পুষি আর ফিরে না।

এভাবে কেটে যায় বেশ কয়েক বছর।

পুষি ও পুটু দু'জনেই বেশ বড় হয়েছে। পুষিকে পানির নিচের সবাই নাম দিয়েছে পুষিতা। পুটু কলেজ পাস করেছে। পুষির প্রায়ই পুটুর কথা মনে পড়ে, কিন্তু পুটু কোথায় সে তা জানে না। একদিন পুষি তার বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে নদীর সেই জায়গায় এলো, সেখানে পুষি আগে প্রতিদিন গোসল করতো। পুটু তখন নদীর পাড়েই বসে আছে। পুষি পানির ওপরে মাথা তুলতেই পুটুকে দেখতে পায়। পুটুও পুষিকে দেখে পুষি বলে ডাক দেয়। পুষি এখনও সেই আগের মতো ধবধবে সাদা রঙের আছে। তারা দু'জনেই দু'জনকে ফিরে পায়!

পুটু পুষিকে নিজ বাড়িতে যেতে বললে পুষি অসম্মতি জানায়। কারণ তার লেজ আছে, সে তো আর হাঁটতে পারবে না। পানির ওপর বেশিক্ষণ থাকতেও পারবে না। এটা শুনে পুটুর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে থাকলো। তাই দেখে পুষি বললো, সে প্রতিদিন এ সময়ে এই জায়গায় এসে পুটুর সঙ্গে দেখা করে যাবে। সেদিন থেকে প্রতিদিন পুষি পুটুর সঙ্গে অন্তত একবার দেখা করে এবং আজ পর্যন্ত পুটুর সঙ্গে দেখা করা একদিনের জন্যেও বাদ দেয়নি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৪৮৩৬০
পুরোন সংখ্যা