চাঁদপুর। শুক্রবার ৬ জুলাই ২০১৮। ২২ আষাঢ় ১৪২৫। ২১ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন, আর পরকালের আযাব হবে আরও গুরুতর, যদি তারা জানত!

২৭। আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;

২৮। আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।

-ডাবলিউ জি বেনহাম।


যে ব্যক্তি সবুর করে আল্লাহ তাকে তার শক্তি দেন, সবুরের শক্তির মতো বড় নেয়ামত আর কিছু নেই।    





                         


ফটো গ্যালারি
বিলুর প্রথম স্কুল
আবুল কালাম আজাদ
০৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিলু অনেক কিছু শিখেছে। মা ওকে ফুল, পাখি, প্রজাপতি, মাছ, নানারকম গাছ ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছু চিনিয়েছেন।



বিলু বাংলা বর্ণমালাসহ ইংরেজি বর্ণমালাও শিখেছে। বাংলা বর্ণমালা দুই রকম : স্বরবর্ণ আর ব্যঞ্জনবর্ণ। ইংরেজি বর্ণমালাও দুই রকম। ইংরেজিতে স্বরবর্ণকে বলে ভাওয়াল আর ব্যঞ্জনবর্ণকে বলে কনসোন্যান্ট।



মা বলেন, এতোটুকু শেখায় হবে না; আরও অনেক কিছু জানতে হবে, শিখতে হবে, যেতে হবে স্কুলে। তারপর কলেজে, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর প্রকৃতির কাছে। মানুষের কাছে। সেখানেই আসল শিক্ষা।



মায়ের শেষের কথাগুলো বিলু বুঝতে পারে না।



বিলু স্কুলে যাবে কাল, নানা রকম প্রস্তুতি : নতুন বই, নতুন খাতা, ড্রইংয়ের জন্যও একটা খাতা, পেন্সিল, পেন্সিল কাটার সার্পনার, পেন্সিলের দাগ মোছার ইরেজার। লিখতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তখন মুছতে হবে। এসব রাখার জন্য বঙ্। টিফিন বঙ্। পানির ফ্লাঙ্। ইউনিফর্ম। জুতা-মোজা।



বিলুর মাথায় অনেক ভাবনা, অনেক টিচার, অনেক ছেলেমেয়ে, তারা সবাই কি ওর বন্ধু হবে?



এখন বিলুর বন্ধু মাত্রই একটা। ওদের পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে মিলু।



মিলু মাঝে মাঝে মায়ের সঙ্গে বিলুদের বাসায় আসে। বিলুও ওর মায়ের সঙ্গে যায় মিলুদের বাসায়। মিলু বলে- 'এসো, পুতুল খেলি।'



বিলু বলে-'আমি ছেলে। ছেলেরা পুতুল খেলে না। এসো, টেনিস বল নিয়ে খেলি।'



মিলু টেনিস বল খেলতে রাজি হয় না। তখন ওরা গল্প করে। টিভি চালিয়ে কার্টুন দেখে। বিলুর মা মিলুর মাকে বলেন-'আপা, আপনার মেয়ের নামের সঙ্গে আমার ছেলের নাম কেমন মিল!'



মিলুর মা বলে-'আমিও মাঝে মাঝে সেটা ভাবি।'



বিলুর মাথায় স্কুল। ও ভাবে-কাল তো মিলুও স্কুলে যাবে। একই স্কুল। একই ক্লাস। ও কি মিলুর পাশে বসবে? নাকি অন্য কারও পাশে? টিচার কি কোনো পড়া জিজ্ঞেস করবেন? ও যদি পড়া না পারে? মিলু যদি ঝট করে পড়াটা বলে দেয়? যে চটপটে মেয়ে! তখন টিচার কি মিলুকে ভেরি গুড বলবেন? ওকে কি ভেরি ব্যাড বলবেন?



সারাদিন বিলু স্কুল নিয়ে ভাবলো। রাতেও একই ভাবনা। ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্নের দেশে চলে গেলো। খুবই অদ্ভুত এক স্বপ্ন। কিন্তু খুব সুন্দর।



সে বড় হয়ে গেছে। ওর ছোট চাচার সমান। মিলুও বড় হয়ে গেছে। বিলু আর মিলু হাঁটছে। পাশাপাশি। ছায়া ঢাকা পথ। পাখিরা গান করছে। ফুলেরা সুগন্ধ বিলাচ্ছে। ঝর্ণার কলকল শব্দ। কী অদ্ভুত সুন্দর চারদিক!



মিলু একটা শাড়ি পরেছে। সবুজ রঙের শাড়ি। চুলগুলো বেণিতে বাঁধা। বড় একটা বেণি মিলুর পিঠ বেয়ে নেমে গেছে।



মিলু বিলুকে বলছে-'তোমার এতোবড় চাকরি হলো! দেশের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। একটুও ফাঁকি দেয়া চলবে না।'



বিলু বললো-'তুমি তো টিচারের মতো কথা বলছো।'



মিলু বললো-'ওমা! আমি তো টিচারই। একটা স্কুলে পড়াই। তুমি জানো না বুঝি?'



'তুমি না গান করতে?'



'এখনও করি। স্কুলে ছেলেমেয়েদের গানও শেখাই।'



'একটা গান গাও তো।'



মিলু গাইতে লাগলো-'মায়াবনবিহারিণী হরিণী/গহনস্বপনসঞ্চারিণী/কেন তারে ধরিবারে করি পণ অকারণ...।'



কী সুন্দর কণ্ঠ মিলুর! বিলু মুগ্ধ হয়ে শুনছিলো। তখনই বিকট চিৎকার। বিলুর ঘুম ভেঙে গেলো। সুন্দর স্বপ্নটা মাটি হয়ে গেলো। দেখলো, মা ডাকাডাকি করছেন-'তাড়াতাড়ি ওঠো। আজ তোমার প্রথম স্কুল। সময় হয়ে যাচ্ছে।'



আবার মাথার মধ্যে স্কুল। প্রথম স্কুল। বিলুর কেমন ভয় করতে লাগলো। সেখানে এক মিলু ছাড়া সবাই যে ওর অপরিচিত। আবার আনন্দও হলো মনে। ক'দিন পর সবাই তো বন্ধু হয়ে যাবে। কত্তো বন্ধু!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২২৮২৬
পুরোন সংখ্যা