চাঁদপুর। শুক্রবার ৬ জুলাই ২০১৮। ২২ আষাঢ় ১৪২৫। ২১ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন, আর পরকালের আযাব হবে আরও গুরুতর, যদি তারা জানত!

২৭। আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;

২৮। আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।

-ডাবলিউ জি বেনহাম।


যে ব্যক্তি সবুর করে আল্লাহ তাকে তার শক্তি দেন, সবুরের শক্তির মতো বড় নেয়ামত আর কিছু নেই।    





                         


শিশুর ভুবন
নাসরিন চৌধুরী
০৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিশুর রঙিন ভুবন সাজানোর আগে প্রথমে পরিকল্পনা করে নিন। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র একসঙ্গে করুন। এরপর ঘরের আয়তন বুঝে, শিশুর প্রয়োজন এবং সুবিধার কথা বিবেচনা করে সাজাতে হবে।



সবার আগে নিরাপত্তা : ঘর সাজানোর সময় প্রথমে মাথায় রাখা দরকার নিরাপত্তার ব্যাপারটি। শিশুরা সাধারণত খুবই চঞ্চল হয়। তাই বৈদ্যুতিক তারের কোনো অংশ যেন বাইরে বা মেঝেয় না থাকে। সুইচ এবং বোর্ড হাতের নাগালের বাইরে উঁচুতে বসান। এই ব্যাপারটায় বাবা-মা সচেতন না হলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।



শিশুর ঘরের আসবাব : ঘর সাজানোর সময় মনে রাখতে হবে ঘরটা কোন বয়সী শিশুর জন্য সাজানো হচ্ছে। বাচ্চা বয়স পর্যন্ত শিশুকে বাবা-মার সঙ্গে অথবা পাশে বেবিখাটে রাখা যেতে পারে। এ সময় বিছানাটা আরামদায়ক হওয়া খুব জরুরি। সামনে কোনো রঙিন আকর্ষণীয় খেলনা বা কাগজের ফুল ঝুলিয়ে দিলে আনন্দ পাবে।



যখন হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতে শিখবে তখন থেকে তার জন্য নিচু খাটের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে হঠাৎ করে পড়ে গেলেও সে ব্যথা না পায়। বিছানায় এ সময় পুতুল রাখা যেতে পারে।



স্কুলগামী শিশুদের জন্যও নিচু খাটের ব্যবস্থাই ভালো। ঘরে এ সময় নতুন কিছু আসবাবের প্রয়োজন পড়ে। যেমন : পড়াশোনার জন্য টেবিল-চেয়ার, টেবিল ল্যাম্প। আবার এ সময় থেকেই তার পোশাক, খেলনা ইত্যাদি রাখার জন্য একটি ওয়ারড্রোবও দরকার পড়ে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ওয়ারড্রোবটি যেন তার উচ্চতা অনুযায়ী হয় এবং সে সহজেই সেটি খুলতে ও বন্ধ করতে পারে, দিতে পারেন ছোট একটি বুক সেলফ। সম্ভব হলে একটি কম্পিউটারও দিন। কারণ সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে বা পৃথিবীর সব বিষয়ে খোঁজখবর তাকে রাখতে হবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারও তাকে জানতে হবে।



ঘরের এক কোণায় রেখে দিন একটা ময়লার ঝুড়ি। তাহলে সে আর ঘর নোংরা করবে না। সম্ভব হলে দুজন বসে গল্প করতে পারবে এমন একটা সোফাও বানিয়ে দিন।



 



শিশুর ঘরে রঙের ছোঁয়া :



ঘরের রঙ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত শিশুদের ঘরে ঝকঝকে সাদার বদলে অফহোয়াইট, পিংক, খুব নরম হলুদ এমনকি লাল রঙের ব্যবহারও করা যেতে পারে। আবার ইচ্ছে করলে শিশুর ঘরের একেকটি দেয়ালের কিছুটা অংশ অন্য রঙে বর্ডার টেনে ভিন্নতা আনা যেতে পারে। দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের চিত্র যেমন গাছ, ফুল অথবা রূপকথার গল্পের চরিত্রগুলো এঁকে দেয়া যেতে পারে। আপনি ইচ্ছে করলেই ঘরের ছাদটাকে আকাশ বানিয়ে দিতে পারেন। ফাঁকা দেয়ালটায় গল্প এঁকে দিন, যেদিকে পড়ার টেবিল রাখবেন সেদিকটায় বর্ণমালাগুলো বিভিন্ন রঙে এবং তার সঙ্গে মিল রেখে ছবি এঁকে দিন। অন্যদিকে ছড়ার সঙ্গে মিল রেখে ছবিসহ ছড়াগুলো লিখে ফেলুন। দরজাটাকে গুহার দ্বার বা রাজপ্রাসাদের ফটক বানিয়ে দিন। দেখবেন শিশুর ঘরটাই শিশুর পৃথিবী।



 



আলোকিত শিশুর ঘর :



ঘরে আলোর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস আসে এবং ধুলোবালি তুলনামূলক কম ঢোকে এরকম ঘর নির্বাচন করা উচিত। পড়ার টেবিল যেদিকে থাকবে সেদিকে উজ্জ্বল সাদা আলো দেয়াটা ভালো। ঘরের বিভিন্ন কোণে স্পটলাইট বা ওয়ার্ম ফোকাস লাইট ব্যবহার করলে দেখবেন পুরো ঘরের আবেদনই অন্যরকম হয়ে গেছে। ঘরে রাতে অল্প আলোর জন্য হালকা নীল আলোই সবচেয়ে ভালো। এই আলোর ওপর কাভার দিন। বাজারে খুব সুন্দর শিশুর ঘরের জন্য মানানসই লাইট কভার পাওয়া যায়। যেমন : প্রাকৃতিক দৃশ্য, সমুদ্র, ফুল বা নকশার। এ ছাড়া কাপড়ের ও কাগজের বিভিন্ন লাইট শেডও পাওয়া যায়। চাইলে আপনি নিজেও কাপড় বা কাগজ কেটে শিশুর পছন্দ অনুযায়ী লাইট শেড তৈরি করে দিতে পারেন।



 



শিশুর খাবার :



স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খাবার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। চকলেট চিপস না খাইয়ে পুষ্টির ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর খাবার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোঃ আমিনুল হক ভূঁইয়া বলেন, জন্মের পর মায়ের দুধ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য জরুরি। শিশু যদি ২৪ ঘণ্টায় ৬ বার প্রস্রাব করে তবে এটা নিশ্চিত যে সে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে। এর ফলে শিশু পরিতৃপ্ত থাকবে এবং ধীরে ধীরে তার ওজন বাড়তে থাকবে। ছয় মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দিতে হবে। চাল, ডাল, বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছ, মাংস, সয়াবিন, ফলমূল থেকে শিশুর উপযোগী খাবার তৈরি করে খাওয়াতে হবে।



শিশুর জন্য ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট দুধ। দুধ ছাড়াও খিচুড়ি, হালুয়া, আটার রুটি, মৌসুমি ফল খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং আস্তে আস্তে পরিবারের সবার জন্য রান্না করা খাবারে তাকে অভ্যস্ত করতে হবে। প্রতিটি বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক পুষ্টিমানের খাবারের বিকল্প নেই। সম্ভব হলে মাসে অন্তত একবার আপনার সন্তানকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৮৬৮
পুরোন সংখ্যা