চাঁদপুর। শুক্রবার ১০ আগস্ট ২০১৮। ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৭ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৪। ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিলো, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেলো, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালঙ্গনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।

৩৫। যারা নিজেদের কাছে আগত কোনো দলিল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


উপন্যাস মানুষকে জীবন সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

 -রবার্ট হেনরিক।


কাউকে অভিশাপ দেওয়া সত্যপরায়ণ ব্যক্তির উচিত নয়।



 


ফটো গ্যালারি
জবা ও ব্যাঙ
সিফাত চাখারী
১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শ্রাবণ মাস। বর্ষার অবিরাম ধারা চলছে। চারদিকে থইথই পানি। পুবালি বাতাসের গতিটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জোয়ারের গতিও। মাঠঘাট ছাপিয়ে পানি বাড়িতে উঠতে শুরু করেছে। জবারা গ্রামে থাকে। বিকেলে জবার বাবা শহর থেকে বাড়ি ফিরলেন। উঠানে তখন হাঁটুসমান পানি। তিনি বললেন, পানি আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়ার খবরে বলেছে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। হারিকেনের আলোয় জবা পড়তে বসেছে। জবার মা এসে বললেন, পানি তো ঘরের মেঝে ছুঁই ছুঁই করছে। কী হয় বলা যায় না। ভয়ের আভাস কথার ভেতর। জবার বাবা বললেন, ভেবো না। জোয়ারের গতি কিছুটা কমে এসেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর।

জবা পড়ছে টেবিলের নিচে পা ঝুলিয়ে। হঠাৎ পায়ের কাছে কটকট আওয়াজ হলো। চমকে ওঠে জবা। কিসের আওয়াজ! ভয়ে ভয়ে হারিকেন নামিয়ে দেখে একটা ব্যাঙ। টেবিলের পায়া ঘেঁষে বসে আছে। সেখান থেকে জানান দিচ্ছে তার আগমনী বার্তা। হারিকেনের আলোয় ব্যাঙের চোখ পিটপিট করছে।

হারিকেন টেবিলে রেখে আবার পড়া শুরু করে জবা। কিছু সময় পর কটকট করে ব্যাঙ ডেকে ওঠে। জবাকে যেন বলছে, ভয় পেও না জবা। তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি। পানিতে আমার থাকার জায়গা ডুবে গেছে। বিপদে পড়েই তোমাদের ঘরে এসেছি। রাখতে পারো, তাড়িয়েও দিতে পারো। তোমার যা ইচ্ছে। ব্যাঙের কথা শুনে জবার ভয় কেটে গিয়ে মনে বড্ড মায়া খেলে গেলো। ইচ্ছে করছে ব্যাঙটাকে বুকে টেনে আদর করে। কিন্তু পারছে না। বলে, না না তোমাকে মারবো কেন? তোমার দ্বারা আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, জানি। তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে। তবে সাবধানে থেকো। আর আমাকে বন্ধুই ভাবতে পার। কথাগুলো বিনয়ের সঙ্গে বললো জবা।

এরপর জবাদের বাসায় থেকে গেলো ব্যাঙ বন্ধু। তাদের মধ্যে বেশ সখ্যভাব গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল-রাতে দুজনার কথা হয়। রাতে চুপ করে ব্যাঙ জবার পড়া শোনে। আর কটকট করে ডেকে ওঠে। জবাকে বলে, পড়ো জবা। মনোযোগ দিয়ে। তোমাকে নিয়ে তোমার মা-বাবার অনেক আশা-ভরসা। জবার প্রশ্ন, তুমি জানো কীভাবে? জানবো না। তুমি তোমার মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। ব্যাঙের জবাব। ও তাই নাকি। হেসে ওঠে জবা।

পোকামাকড় আর মশাদের খেয়েদেয়ে ভালোই দিন যাচ্ছিলো ব্যাঙের। বিপত্তি ঘটলো এক রাতে- ইঁদুর এসে কামড় বসিয়ে দিল ব্যাঙের পায়ে। চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেলো বাসার সবার। ঘরে আলো জ্বলতেই ইঁদুর ব্যাঙের পা ছেড়ে জীবন বাঁচাতে পড়িমরি দৌড়! ব্যাঙের পায়ে অনেকখানি ক্ষত হয়েছে। রক্ত ঝরছে। ঘরে ওষুধ ছিলো। তা লাগিয়ে টুকরো কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান বেঁধে দিলো জবা। ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠে ব্যাঙ। চিন্তা করো না বন্ধু। ওষুধ লাগিয়ে বেঁধে দিয়েছি। তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।

জবার সেবা আদর যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলো ব্যাঙ। পানিও বাড়িঘর থেকে নেমে যেতে শুরু করেছে। শুকিয়ে গেছে উঠান বাগান রাস্তাঘাট।

আর পরাধীন থাকা নয়। চলে যাবে বাগানে। ঘুরে বেড়াবে স্বাধীনভাবে। ব্যাঙ জবাকে বললো, আমার তো চলে যেতে হবে বন্ধু। আর কতো তোমাদের বিরক্ত করবো? তোমার ভালোবাসা, বিপদে তোমার সেবা, আদর, যত্ন অতুলনীয়। যা কখনও ভুলবার নয়। ব্যাঙ চলে যাবে! ভাবতেই জবার বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার করে উঠলো। তুমি চলে যাচ্ছো তাহলে? তোমার সঙ্গে আর দেখা হবে না? কান্নাভেজা কণ্ঠে জবার প্রশ্ন।

তোমার চোখে জল কেন বন্ধু? আবেগী প্রশ্ন ব্যাঙের। জানি, তুমি আমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছো। আমিও। তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। তারপরও যেতে হবে। এখানে তো আমার থাকার জায়গা না। আমাদের বসবাস বাগানের স্যাঁতসেঁতে জায়গায়। দূরে কোথাও যাবো না। তোমাদের সামনের বাগানেই থাকবো। তোমার সঙ্গে দেখা হবে, কথা হবে। তুমি চাইলে তোমার সঙ্গে আমি খেলা করবো। আর হ্যাঁ, তুমি লেখাপড়া করবে কিন্তু ঠিক মতো! তাতে যেন ভুল না হয়, বুঝলে?

আমায় নিয়ে এতো ভাবো! বললো জবা। ভাবতে হবে না। বন্ধুর জন্যে বন্ধুকেই ভাবতে হয়। তা না হলে কিসের বন্ধু? জবাব ব্যাঙের। ঠিক আছে। তোমার কথা আমি রাখবো। কথা দেয় জবা। শোনো, বাগানে গিয়ে পুরনো সাথিদের পেয়ে আমাকে মনে পড়বে তো?

ব্যাঙ বললো, পড়বে বন্ধু। তারপর বিদায় নিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা পা নিয়ে আস্তে আস্তে বাগানের দিকে চলে যায় ব্যাঙ। অপলক চেয়ে থাকে জবা।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩০৭১৩
পুরোন সংখ্যা