চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩০ ভাদ্র ১৪২৫। ৩ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। কাফিররা বলে, তোমরা এই কোরআন শ্রবণ করো না এবং তা তিলাওয়াতকালে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো।

২৭। আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাবো এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের বিনিময় দেবো।

২৮। জাহান্নাম, এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী  আবাস আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকৃতির প্রতিফলস্বরূপ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কাঁচা যে-কোনো জিনিসই পচনশীল

 -লুই পাস্তুর।


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

 


ফটো গ্যালারি
কুমিরের হাসি
শরীফ খান
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

মা কুমিরটি চোখ মুঝে রোদ পোহাচ্ছে শেলা নদীর বালুচরে। ছানাটি মায়ের পিঠের ওপর শুয়েছে। সুন্দরবনের এদিকটা খুবই নিরিবিলি। পোষ মাসের মোষ কাঁপানো শীতের দিনে রোদ পোহানোর মজাই আলাদা।

ওদিকের গোলবন থেকে বেরিয়ে পাশাপাশি সারিতে কুমিরের দিকে আসছে ষোলোটি শিলা কচ্ছপ। ওদের মুখের দুই পাশে দুটি হলুদ ফোঁটা। পিঠের চামড়া উঁচু-নিচু। ওরা যুদ্ধ ট্যাংকের মতো দ্রুত এগিয়ে এসে থামল কুমিরটির নাকের ডগায়। ওদের সরদার ফ্যাসফেসে গলায় ডাকল, 'ও কুমিরের বাবা! আমরা তোমার কাছে একটা নালিশ নিয়ে এসেছি। চোখ খুলে তাকাও অনুগ্রহ করে।'

কুমিরটি চোখ খুলে পিটপিট করে তাকিয়ে বলল, 'কী রে! তোরা তো শীতকালে মাটির তলায় ঢুকে শীতঘুম দিস!'

'এ বছর আর ঘুম দিতে পারছি না আমরা।' বলল কুমির সরদার, 'যেখানেই মাটি খুঁড়ে মাটির তলায় শীতঘুম দিতে চাচ্ছি আমরা, সেখানেই একদল পাজি বুনো শজারু মিলে মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে। আমাদের জীবন ওরা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।'

কুমিরটি শব্দ করে একটা হাই তুলল। মুখের চোয়াল ফাঁক করে বলল, 'তা আমি কী করব রে?'

'বিচার নিয়ে এসেছি আমরা তোমার কাছে। এত বড় সুন্দরবনে ওরা সুড়ঙ্গ করার জায়গা পাচ্ছে না আর! আমরা যেখানে মাটি খুঁড়ছি, ইচ্ছে করে সেখানেই সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে! বিচার চাই আমরা।'

'বিচার তো দিবি সুন্দরবনের মহারাজা বাঘের কাছে। যা যা, তার কাছে গিয়ে বিচার দে।' বলল কুমিরটি, 'শজারুরা বড্ড পাজি প্রাণী। ওদের সারা শরীরে ছয় থেকে বারো ইঞ্চি পর্যন্ত বড় বড় কাঁটায় আবৃত। শুনেছি, ওদের মাংস খুব সুস্বাদু। কিন্তু আমিও ওদের ভয় পাই। এ জীবনে একবারই আমি ওদের একটাকে মুখে চেপে ধরেছিলাম। ওরে বাপরে! শরীর ফুলিয়ে একেবারে গোলগাল হয়ে গেল, অনেকগুলো কাঁটা ফুটে গিয়েছিল আমার মুখে আর দাঁতের ফাঁকে। সে কী বিষ-যন্ত্রণা! বহুদিন ভুগেছিলাম রে!'

সরদার কচ্ছপটি বলল, 'বাঘও তো একই কারণে শজারুদের এড়িয়ে চলে। বাঘ যদি থাবা মারে তো থাবায় বিঁধে যায় কাঁটা। বাঘের থাবায় পচন ধরে। সব জেনে-বুঝেই তোমার কাছে এসেছি আমরা।'

কুমির ছানাটি মায়ের পিঠ থেকে নেমে বলল, 'বুঝিয়ে বলুন, কচ্ছপ আঙ্কেল। আমার মা কী করতে পারে?'

'তোমার মা তার লেজের চাবুক মেরে ওদের পিষে ফেলতে পারে। তোমাদের লেজ আর পিঠ তো লোহার চেয়েও শক্ত! শজারুর কাঁটা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে। আর বাঘ মহারাজ তো আমাদের পেলেই লাথি দিয়ে দিয়ে ফুটবল খেলে। আমরা তো মাথা ঢুকিয়ে দিই খোলসের ভেতর। মহারাজ আমাদের কচুও করতে পারে না। তোমরা তো কচ্ছপদের কোনো ক্ষতিই করো না! তাই বিচার নিয়ে তোমার কাছে আসা।'

কথা শেষ হতে না হতেই ওদিক থেকে কাঁটার ঝমঝম শব্দ তুলে শরীর ফুলিয়ে আর কাঁটা দুলিয়ে দুলিয়ে তেড়ে এল শজারুদের সরদার, ভয়ে কচ্ছপরা তাদের গলা-মাথা খোলসের ভেতর টেনে

নিল। শজারু সরদার হেঁড়ে গলায় চেঁচাতে চেঁচাতে সব কটা কচ্ছপকে উল্টিয়ে দিয়ে বলল, 'এত বড় সাহস তোদের, আমার বিরুদ্ধে নালিশ! এই যে ব্যাটা বোকা কুমির, তোরও তো সাহস কম না! তোদের সাতটি ছানাকে না শিয়াল প-িত তার পাঠশালায় ভর্তি করে নিয়ে একে একে সব কটি ছানাকে খেয়ে ফেলেছিল! বোকারাম হাদু! আমার বিচার করবি! শরীরের কাঁটা তিরের ফলার মতো ছুড়ে তোর চোখ কানা করে দেব আমি!'

কুমিরটি এবার প্রচ- রকম খেপে গিয়ে তেড়ে গেল শজারুটার দিকে, শজারুটাও শরীরের কাঁটাগুলো জাগিয়ে তুলে লাফ দিয়ে পড়ল কুমিরটির পিঠে। তারপর প্রচ- আক্রোশে গড়াগড়ি খেয়ে কাঁটা ফোটাতে চাইল কুমিরের পিঠে! ওমা! সব কাঁটা তো ভেঙে টুকরো টুকরো! কুমিরের পিঠে কি আর কাঁটা বিঁধে! বোকা শজারু দেখে সব কাঁটা শরীর থেকে খসে পড়ায় তাকে দেখাচ্ছে একেবারে নেংটুপুটু। কচ্ছপগুলো গলা-মাথা বের করে নেংটুপুটু শজারুটিকে দেখে 'কচ্ছপ হাসি' হাসছে বিশ্রীভাবে। কী লজ্জা! কী লজ্জা!

শজারু লাফিয়ে নামল ডাঙায়। এতক্ষণে কুমিরটি দৃশ্য দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সে কী হাসি! কুমিরটির দাঁতে দাঁতে টক্কর খাচ্ছে। হাসি আর থামে না। হঠাৎই কুমিরের ওপরের দাঁতগুলো নিচের দাঁতের ফাঁকে খাপে খাপে এত জোরে বসে গেল যে, দাঁতে দাঁত আটকে গেল শক্ত হয়ে। এখন তো আর দাঁত ফাঁক করতে পারে না! এ কী বিপদ! এমনিতেই অবশ্য কুমিরের ওপরের দাঁতগুলো নিচের দাঁতের ফাঁকেই সেঁটে থাকে। শিকার ধরার পরে দাঁতের কপাট লাগিয়ে দেয় কুমিররা। কিন্তু এখন দাঁতের কপাট এমনভাবে লেগেছে যে অনেক চেষ্টা করেও খুলতে পারছে না কুমির।

একেই বলে কুমিরের খিল। ভয়ে ও যন্ত্রণায় বালুচরে গড়াগড়ি ছানাটিকে বুকে ধরে জড়াজড়ি। ছানাটি তো বুঝে ফেলেছে বিপদের গুরুত্ব! সে আতঙ্কে চেঁচাচ্ছে। কচ্ছপদের বলল, তাড়াতাড়ি একটা ব্যবস্থা করতে। না হলে তো তার মা যন্ত্রণা আর অনাহারে মারা পড়বে। এদিকে ক্লান্ত-শ্রান্ত-উদ্ভ্রান্ত কুমিরটি উপুড় হয়ে চুপচাপ তাকিয়ে আছে কচ্ছপগুলোর দিকে। দুই চোখ বেয়ে তার জল ঝরছে। একেই বুঝি বলে 'কুম্ভীরাশ্রু!' 'কুমির মায়ের পুত্রশোক'ও যে আছে, তা এখন বোঝা যাচ্ছে ছানাটিকে বুকে জড়িয়ে ধরার কায়দা দেখে। কচ্ছপগুলো এগিয়ে সম্মিলিতভাবে পিঠের শক্ত খোলস দিয়ে টক্কর দিয়ে অনেক চেষ্টা করল দাঁত-কপাট খুলতে। পারল না।

এ সময় গোল ফুলে এসে বসল কয়েকটা মৌমাছি। কচ্ছপ সরদার তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে ওদের খুলে বলল সব। দশ-বারোটি মৌমাছি এসে ঢুকে পড়ল কুমিরটির নাকের ভেতর। তারপরে হেঁটে হেঁটে আর হুঁল ফুটিয়ে নাকের ভেতরে সুড়সুড়ি দিতে শুরু করল। কচ্ছপগুলোও কুমিরটার পেটের দুই পাশে বসে সামনে দুই পা দিয়ে কাতুকুতু দিতে লাগল। মায়ের প্রচ- হাঁচি আসছে বুঝে ছানাটি চেপে ধরল মায়ের নাক, পরমুহূর্তেই বন কাঁপিয়ে দিল...'হ্যাচ্ছো!'

হাঁচির প্রচ- ধাক্কায় খুলে গেলো কুমিরটির দাঁত-কপাট। খুশিতে হেসে দিয়ে কুমিরমাতা বলল, 'ওই নেংটুপুটুকে গিলতে এবার কোনো সমস্যা নেই। এটাকে আমি না গিলেছি তো আমার নাম কুমির না! সবাই আমাকে বলবি টিকটিকি। চৌদ্দগুষ্টি সাফ করে দেব আমি লেজের চাবুক মেরে মেরে।'

খুশিতে শিলা কচ্ছপরা হাততালি বাজাতে লাগল।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৮৪৮৫
পুরোন সংখ্যা