চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৮ নভেম্বর ২০১৮। ২৪ কার্তিক ১৪২৫। ২৮ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
কাঠবিড়ালির হাসি
জসীম আল ফাহিম
০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বনের ভেতর বড়ো একটি আমগাছ ছিলো। গাছ ভরা শাখা-প্রশাখা। রাজ্যের ডালপালা। আর ডালে ডালে সবুজ পাতা। সেই আমগাছে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে অনেক মুকুল এলো। মুকুল থেকে আমের কুঁড়ি বের হলো। কুঁড়িগুলো আপন মনে বড়ো হতে লাগলো। বড়ো হতে হতে জ্যৈষ্ঠ মাসের দিকে আমগুলো হলদে রঙ ধারণ করলো। আমের রঙ হলুদ হওয়া মানে পেকে যাওয়া। পাকা পাকা আমে গাছের ডালগুলো একেবারে নুয়ে পড়ছিলো।



সেই আমগাছের নিচে বনের পশুপাখি একদিন সভা ডাকলো। সভায় পাখিদের মধ্যে উপস্থিত হলো- ময়না, টিয়ে, দোয়েল, কোকিল, বুলবুলি, টুনটুনি, বউ কথা কও, শালিক, ঈগল, চিল, কলাবাদুর আর কাক। পশুদের মধ্যে এলো-বাঘ, হরিণ, হাতি, শিয়াল, গরু, ছাগল, ভেড়া, খরগোশ, মহিষ, ঘোড়া ও কাঠবিড়ালি।



সব সভারই একজন সভাপতি দরকার হয়। সভার 'পতি' মানে হলো প্রধান। এ সভার 'পতি' হলো হাতি। কারণ হাতি আকারে বড়সড় প্রাণী। স্বভাবে শান্তশিষ্ট ও নম্র-ভদ্র। তাই সকলে তাকে মান্য গণ্য করে। হাতিকে সভাপতি বানিয়ে সভার কাজ শুরু হলো। সভাপতির অনুমতি নিয়ে বাঘ প্রথমে ভাষণ দিলো_



প্রিয় পশু ও পাখি, সবাই আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করো। আজকের সভার মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে-আম। দেখতেই পাচ্ছো আমাদের মাথার ওপর পাকা আম কেমন ঝুলে আছে। আম ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। ফল খেলে বল বাড়ে। তাই গায়ের শক্তি-বল বাড়ানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি ফলমূল খেতে হবে। তারপর বাঘ একটু দম নিয়ে আবার বলতে লাগলো, এই যে আমার মাথার ওপর আমগাছটি দেখছো- আমরা সবাই আমগুলোর মালিক। তাই গাছের আম পেড়ে এখন নিজেরা ভাগ করে নেবো। কী বলো তোমরা? আমার কথা ঠিক আছে তো? বলে বাঘ সমর্থন লাভের আশায় অন্যদের দিকে তাকালো।



বাঘের কথা শুনে শিয়াল বললো, অবশ্যই ঠিক আছে জনাব। ভুল কথা আপনি কখনো বলতে পারেন না। আপনি হলেন ক্ষমতাধর। আমি আপনাকে সমর্থন করছি। শিয়ালের কথা শুনে পশুপাখি সকলেই বাঘকে সমর্থন করে চেঁচিয়ে বললো, ঠিক আছে। ঠিক কথা।



তারপর কাঠবিড়ালিকে গাছে উঠিয়ে আমগুলো পেড়ে আনা হলো। আম পাড়ার সময় সভাপতি হাতি বললো, বনদেবতার ভোগ হিসাবে একটি কাঁচা আম গাছটিতে রেখে দেয়া হোক। হাতির কথামতো একটি কাঁচা আম গাছটিতে রেখে দেয়া হলো।



এদিকে পেড়ে আনা আমগুলো সবার মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেয়া হলো। পশুপাখি নিজ নিজ ভাগের আম নিয়ে খুশি মনে বিদায় হলো।



কিছুদিন পর কাঁচা আমটিও একদিন পেকে গেলো। পাকার পর কেউ একজন লুকিয়ে এসে আমটি খেয়ে ফেললো। এমনভাবে সে আমটি খেলো যে, বোঁটার সঙ্গে আমের কিছু অংশ তখনো ঝুলে রইলো। আম গাছে ঘুরতে এসে দৃশ্যটি কাঠবিড়ালির নজরে পড়লো। আধখাওয়া আমটি থেকে তখনও মিষ্টি সুবাস বেরোচ্ছিলো। আমের মন মাতানো সুবাসে কাঠবিড়ালির জিভে পানি এসে গেলো। নিজেকে ধরে রাখতে না-পেরে অাঁটিতে লেগে থাকা আমটি চুষে খেতে লাগলো।



কাঠবিড়ালির আম খাওয়া দেখে একটি কাক কা-কা করে ডেকে উঠলো। কাকের কা-কা শুনে বনের পশুপাখি আমগাছের কাছে এসে জড়ো হলো। পশুপাখির উপস্থিতিটা বেচারা কাঠবিড়ালি টেরই পেলো না। যখন বুঝতে পারলো, তখন কেমন যেন বোকা হয়ে গেলো সে।



এদিকে কাঠবিড়ালিকে উদ্দেশ করে পশুপাখি চেঁচিয়ে বলতে লাগলো- ওই বেটাকে ধরো। ওই বেটাকে মারো। সে আমাদের সাধের আমটি খেয়ে ফেলেছে।



সে সময় কাকটি উড়ে উড়ে কা-কা করে বলতে লাগলো- আমি নিজ চোখে সবকিছু দেখেছি। আমি সাক্ষ্য দেবো।



টুনটুনি টুনটুন করে বললো, কাঠবিড়ালির শাস্তি হওয়া দরকার।



ভেড়া এসে ভ্যা ভ্যা করে বললো, করলি কী রে বেটা হতচ্ছাড়া! আমাদের প্রিয় আমটি সাবাড় করে ফেললি!



গরু হাম্বা স্বরে বললো, চুরি যখন করেছো। এবার মজা বুঝ।



বাঘ গম্ভীর কণ্ঠে বললো, ওকে টেনেহেঁচড়ে গাছ থেকে নামিয়ে আনো না কেন তোমরা? আজ ওর একদিন কী আমার একদিন। সকলের কথা শুনে হাতি বললো, শুধু শুধু তোমরা চেঁচাচ্ছ কেন? এসো, সকলে মিলে বসে ব্যাপারটা সুরাহা করার চেষ্টা করি।



হাতির কথামতো শেষে আমগাছের তলে জরুরি সভা ডাকা হলো। সভায় সকলেই হাজির হলো। কাঠবিড়ালি গুটিসুটি মেরে অপরাধীর মতো একপাশে বসে রইলো। আর উপস্থিত সকলেই তার দিকে সন্দেহ আর অবহেলার চোখে তাকাতে লাগলো।



বাঘ রাগত চোখে কাঠবিড়ালির দিকে তাকিয়ে বললো, কেন তুই আমটি খেয়েছিস বল?



কাঠবিড়ালি দৃঢ়কণ্ঠে বললো, আমটি আমি খাইনি। আমিই যে আমটি খেয়েছি, তার কোনো প্রমাণ আছে? সাক্ষী আছে?



কাঠবিড়ালির কথা শুনে উপস্থিত সকলেই বিস্ময়ভরা চোখে তার দিকে তাকাতে লাগলো। বলে কী বেটা! হাতেনাতে ধরা। অথচ বলছে, আমটি সে খায়নি। বিষয়টা কেমন যেন গড়বড় মনে হচ্ছে।



পরে বাঘ চেঁচিয়ে বললো, কেউ কি সাক্ষী আছো? থাকলে বলো।



অমনি কাকটি কা-কা করে উঠলো। বললো, আমি নিজের চোখে দেখেছি। আমটি কাঠবিড়ালিই খেয়েছে।



কাকের কথা শুনে কাঠবিড়ালি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললো, কাক মিথ্যে কথা বলছে। আমটি আসলে আমি খাইনি। আমি কেবল আমের অাঁটি চুষেছি।



কাঠবিড়ালির কথা শুনে উপস্থিত সকলেই হো হো করে হেসে উঠলো। মনে হচ্ছে ওর কথা শুনে সকলেই খুব মজা পেয়েছে। কেউ কেউ বললো, বাহ্! বেটা অাঁটি চুষেছে। আম খায়নি। যেন একেবারে নির্দোষ!



সকলের কথা শুনে হাতি বললো, কাঠবিড়ালির কথা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে প্রকৃত অপরাধী সে নয়। প্রকৃত অপরাধী তাহলে কে? নিশ্চয়ই অন্য কেউ। কে সেই অপরাধী? আমাদের তা খুঁজে বের করতে হবে। এটা খোঁজার জন্য আমরা কলাবাদুরকে দায়িত্ব দিতে পারি। কারণ কলাবাদুর গণক পাখি। সে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে পারবেই।



হাতির কথায় সাই দিয়ে বাঘ বললো, ডাকো তাহলে কলাবাদুরকে।



টিয়ে পাখি বললো, কলাবাদুর তো সভায় অনুপস্থিত। সারারাত সে গাছে গাছে ঘুরে বেড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে এখন ঘুমাচ্ছে।



হাতি বললো, জাগাও তাকে। বনের ভেতর এতো বড়ো সমস্যা। আর সে কিনা ঘুমাচ্ছে! ঈগল আর চিল উড়ে গেলো কলাবাদুরের উদ্দেশে। কলাবাদুরকে তারা ঘুম থেকে জাগিয়ে সাথে করে সভাস্থলে নিয়ে এলো। কলাবাদুরের মুখে আমের কিছু অংশ তখনো লেগে ছিলো। তার মুখ থেকে পাকা আমের সুবাস ছড়াচ্ছিলো।



হাতি অবাক হয়ে বললো, কী ব্যাপার! তোমার মুখ থেকে আমের সুবাস আসছে কেনো?



কলাবাদুর বললো, দাদা। গত রাতে আমি একটি পাকা আম খেয়ে ডিনার করেছি। তাই আমের সুবাস পাচ্ছো। বাঘ বললো, তুমি কোন গাছের আম খেয়েছো? কলাবাদুর আমগাছটি দেখিয়ে বললো, এই তো এই গাছেরই আম। কলাবাদুরের কথা শুনে সকলেই বুঝতে পারলো, আমটি আসলে কলাবাদুরই খেয়েছে। কাজেই কলাবাদুরই প্রকৃত অপরাধী।



কাঠবিড়ালি তাহলে সত্যি কথাই বলেছে। আমটি সে খায়নি। সে শুধু আমের অাঁটি চুষেছে। আর আমের অাঁটি চোষার জন্যই বেচারাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো। বাঘ হুকুমের সুরে বললো, পাকড়াও করো বেটা কলাবাদুরকে।



অমনি সকলে গিয়ে অপরাধী কলাবাদুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আর নির্দোষ কাঠবিড়ালি হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে গেলো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৬৪৪০
পুরোন সংখ্যা