চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৮ নভেম্বর ২০১৮। ২৪ কার্তিক ১৪২৫। ২৮ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
যেভাবে সবার ঘুম ভাঙল
কাজী ফারহান হোসেন পূর্ব
০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পৃথিবীর আকাশে এলিয়েন স্পেসশিপ। সেখানে বড় একটা পর্দায় তাকিয়ে অধীনস্থদের এটা-ওটা নির্দেশ দিচ্ছে বিকট দর্শন এক এলিয়েন। 'সব রেডি। এখন এঙ্পেরিমেন্টের পালা। সুনসান নীরবতার মাঝে হঠাৎ এলিটিনের আমুদে গলা। বড় পর্দায় ড. ওয়েস্টেকে পর্যবেক্ষণ করা রোবট মিনিয়নগুলো এ কথা শুনে বাল্বের মতো জ্বলে উঠল এবং হিহি শব্দে হেসে উঠল। এ আনন্দ বেশিক্ষণ থাকল না। এলিটিনের এক সুইচের চাপে লাফিং কিলার ও সাউন্ড এবসর্বার সব শব্দ শুষে স্পেস ল্যাবরেটরিটাকে একেবারে হিমঘর বানিয়ে দিল। তখনো যাদের চাঞ্চল্য বন্ধ হয়নি, তাদের বস্নাস্টার দিয়ে উড়িয়ে দিল। চেঁচিয়ে বলল এলিটিন, 'কতবার বলেছি এ রকম বাজে শব্দ করবি না! কাজ শুরু কর! আজ রাতেই আমাদের ইনপুট দিতে হবে বিজ্ঞানীর মগজে। শুধু দেখবি ড. ওয়েস্ট যেন হতাশার চূড়ান্ত সীমায় চলে যায়। গ্রিনিয়ন! যদি আজ ভুল করিস, তো তোর কপালে নিউরোনিক হুইপের এক শ বাড়ি জুটবে!'



এদিকে পৃথিবীর ড. ওয়েস্টের কিছুই ভালো লাগছে না। এক বছর হলো, ওয়েইন ইনস্টিটিউটে আছেন। প্রতি রাতেই একমাত্র মেয়ে লিমাকে ফোন করে নানা গল্প করেছেন, অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন। কিন্তু আজকে আর ফোনও দিলেন না। এক বছরে ইনস্টিটিউট থেকে যা চেয়েছেন, সবই পেয়েছেন। অথচ এখনো কোনো আবিষ্কারের মুখ দেখেননি। কাল বিকেলেই কর্তৃপক্ষকে আবিষ্কার দেখানোর শেষ সময়। হতাশার বোঝায় নুইয়ে পড়া ড. ওয়েস্ট এখন আর কোনো কাজ করবেন না ঠিক করলেন। ভাবলেন, একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যাক।



এলিটিন খুশিতে চেঁচাচ্ছে। 'গ্রিনিয়ন, ইনিয়ন, বিনিয়ন তোরা এক্ষুনি ওয়ার্ম হোল ৩৪৭-এ করে গন্তব্যে যা। কী করতে হবে, তা তো জানিস!'



ওয়েইন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের থাকার জায়গাটায় পৌঁছে গেছে গ্রিনিয়ন। এখন কাজ শুরুর পালা। ইনিয়নের হাতে আছে মগজ খোলার যন্ত্র আর বিনিয়নের আছে মগজে নতুন আইডিয়া ঢোকানোর যন্ত্র। ইনিয়ন বলল-'বস, কঠিন কাজ। ব্রেনের নিউরনের জটলা খুলতেই চাচ্ছে না।'



দশ মিনিট কঠোর পরিশ্রমের পর ইনিয়ন সফল হলো। বিনিয়ন তার ব্রেন রাইটার দিয়ে মগজটা স্ক্যান করে নিল এবং দেখল, ড. ওয়েস্টের হতাশার লেভেল চূড়ান্ত সীমা পার করেছে। সে নিউরনের ভেতর বসের নির্দেশমতো আইডিয়াটা ঢুকিয়ে দিয়ে ইশারায় বুঝিয়ে দিল, তার কাজ শেষ। গ্রিনিয়ন সব দেখে বলল-'চল, স্পেসশিপে যাই। মিশন সাকসেসফুল।'



সকাল। ড. ওয়েস্টের রাতটা কেটেছে বিচিত্র সব স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে একটা সূত্র পেয়েছেন। সূত্রটা ঠিকঠাক কি না যাচাই করে দেখতে হবে। হাতে আছে মোটে চার ঘণ্টা। যে কাজ তিনি এক বছরে পারেননি, তা এ অল্প সময়ে পারবেন?



বিশ্বের সব বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী জড়ো হয়েছেন ওয়েইন ইনস্টিটিউটের হলরুমে। সবার মনে প্রশ্ন_কে হবেন এবারের সেরা আবিষ্কারক? একটু পরই ঘোষণা হবে বিজয়ীর নাম। লিমাও এসেছে। বসেছে বাবার পাশে। আচমকা ঘোষণা এলো, 'এবারের বিজয়ী হলেন ড. ওয়েস্ট এবং তাঁর আবিষ্কার ফটোসিনথেসিস মেশিন এ শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার নির্বাচিত হয়েছে!' সবাই তুমুল হাততালি দিল। লিমা অবাক! তার বাবাকে কদিন আগেও আবিষ্কার নিয়ে হা-হুতাশ করতে শুনেছে। এক দিনের মধ্যেই শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার করে ফেললেন!



পরদিন দুনিয়াজুড়ে তোলপাড়। ড. ওয়েস্টের আবিষ্কার এক দিনের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সব দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাঁর মেশিনটার কাজ হলো, সূর্যের আলো থেকে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে সেটা মানুষের কোষে পেঁৗছে দেয়া। এতে মানুষের খাওয়াদাওয়া করতে হবে না। চাইলে সারা দিন ঘুমিয়েও কাটাতে পারবে।



এদিকে আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে হঠাৎ শুরু হলো একটা সুর। ভীষণ দুঃখের সে মিউজিক। শব্দটা কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে কেউ ভাবল না। সবাই ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। লিমা ছাড়া। সে আছে তার বাবার পিছু পিছু। তার বাবাও সুরটা শুনে আর থাকতে পারলেন না। ছুট লাগালেন। এদিকে সুরের মূর্ছনায় বিষণ্ন হয়ে সবাই একে একে সদ্য কেনা ফটোসিনথেসিস কনভার্টার মেশিন শরীরে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। কারণ এমন বেদনাদায়ক সুর কেউ শুনতে চায় না। গভীর সে ঘুম। হতাশার মিউজিকটা চলছেই।



নেশাগ্রস্তের মতো ঘুমাচ্ছে পুরো পৃথিবী। শুধু লিমা একা জেগে। এখান থেকে ওখানে-যেখানেই যায়, সবাই ঘুমোচ্ছে। ঘুমের মহামারি লেগে যায়নি তো! তার বাবাও ফটোসিনথেসিস মেশিন লাগিয়ে ঘুম। লিমা ভাবছে, তারটা ব্যবহার করবে কি না। 'না! না! কিছুতেই না!' লিমার মন বলছে, এমন ঘুম পাড়ানো মেশিন তার বাবার আবিষ্কার হতেই পারে না। নিশ্চয়ই এখানে কোনো ষড়যন্ত্র আছে।



অন্যদিকে এলিটিন প্রচ- উত্তেজিত। খুশিতে মাঝের লম্বা দাঁতগুলো বেরিয়ে এসেছে। চিৎকার করে বলল, 'গ্রিনিয়ন, স্পেসশিপ ল্যান্ড করা! আমরা আজ পৃথিবীতে ভূরিভোজ করতে যাচ্ছি।' গ্রিনিয়ন সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা, বায়ুম-লের চাপ, মানুষের হতাশার সূচক ইত্যাদি হিসাব-নিকাশ করে ফেলল।



আচমকা অাঁতকে উঠল গ্রিনিয়ন। ভয়ে ভয়ে এলিটিনের হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে রেজাল্ট ট্রান্সফার করে দিল। রেজাল্ট দেখে রেগে আগুন এলিটিন। পৃথিবীর একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে হতাশার সূচক পঁচাশি ভাগ। বাকি সব জায়গায় ১০০। জুম করে দেখা গেল, সেটি ওয়েইন ইনস্টিটিউট থেকে ঠিক এক কিলোমিটার দূরে। এলিটিন দেরি না করে বলল, 'আমি সেখানেই নামতে চাই। দেখি কার এত বড় সাহস! কে হতাশ হচ্ছে না!'



পরিচিত হতাশার সুরের পাশাপাশি নতুন একটা শব্দও পাচ্ছে লিমা। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে লিমার চোখের সামনে আলোর তীব্র ঝলকানিতে গিয়ে শেষ হলো শব্দটা। নেমে এলো গ্রিনিয়ন, ইনিয়ন, বিনিয়ন। একটু পর বের হলো এলিটিনও।



'এ তো দেখছি ড. ওয়েস্টের সেই পুঁচকে মেয়েটা! কী বাবু! তুমি হতাশ হচ্ছো না কেন? হাতের কাছের ফটোসিনথেসিসটা পরে লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।'



'তুমি সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চাইছ! কী ভয়ানক! হতাশার মিউজিকই বা কেন বাজাচ্ছ?' রেগে জানতে চাইল লিমা।



'আমার হতাশা খুব ভালো লাগে লিমা। সেই সঙ্গে হতাশ প্রাণীগুলোকেও। আমাদের গবেষণা বলছে, হতাশ প্রাণীরা দিন দিন মোটা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, হতাশ প্রাণীগুলো খেতে খুব সুস্বাদু।'



মিনিয়নগুলো খিলখিল করে হেসে উঠল। এলিটিনের মেজাজ আবার তিরিক্ষি হয়ে গেল। একটা সুইচ টিপে সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটা মিনিয়নকে গায়েব করে দিল। লিমা ভয় পেয়ে গেল খুব।



'কিছু মনে কোরো না খুকি। এখন আমাকে একটু বলো, তুমি হতাশ হচ্ছ না কেন? থাক, বলা লাগবে না। আমি বুঝে গিয়েছি। আমার এ মূর্খ গ্রিনিয়ন তোমার বাবার মগজ ধোলাই করতে গিয়ে নিশ্চয়ই জগাখিচুড়ি পাকিয়েছে।' এই বলে নিউরোনিক হুইপ চেপে ধরল এবং গ্রিনিয়ন সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। লিমা ভয়ে শিউরে উঠল।



'আহ, কাজ করছে, আমি জানতাম আমার পদ্ধতি কাজ করবে। এখন তোমার হতাশার লেভেল বেড়ে ৯০ শতাংশ।' নিউরোনিক হুইপে চাপ দিতেই এবার ইনিয়ন মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। 'এখন তোমার হতাশার লেভেল ৯৫ শতাংশ, ছোট্ট লিমা!'



বিনিয়ন তার সাব-স্পেস সার্ফারের কন্ট্রোল হুইলে দৃঢ়ভাবে হাত রাখল। এলিটিন ফের সুইচ চাপার আগেই বিনিয়ন এক ছুটে লিমাকে ছোঁ মেরে তার সার্ফারের পাশের সিটে বসাল এবং একটা আতশবাজির মতো কী যেন একটা ছুড়ে পালিয়ে গেল।



অনেকক্ষণ ধরে স্পেস সার্ফারে রয়েছে লিমা। হতাশার সুরটাও পাচ্ছে না। তার বদলে হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে মজার একটা কার্টুন চলছে। লিমার মন এখন বেশ ভালো।



'আমার নাম বিনিয়ন। আর লিমা, তোমার হতাশার লেভেল এখন ৫০ শতাংশ।'



'হ্যা, আমি বুঝতে পারছি, আমার খুব আনন্দ লাগছে।'



'তোমার যাতে ভালো লাগে, সেই ব্যবস্থাই আমি স্পেস সার্ফারে করেছি। তোমার ভিজ্যুয়াল ইনপুট হিসেবে সব পজিটিভ জিনিসগুলো দেখাচ্ছি এবং অঙ্েিজনের সঙ্গে বিনিজেন মিশিয়ে দিচ্ছি। ওটাকে আমাদের গ্রহের অঙ্েিজন বলতে পারো।'



'থ্যাংক ইউ বিনিয়ন।'



'আমাদের একটা গ্রহ ছিল। ওই দাঁতাল এলিটিন আমাদের গ্রহের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে। আমাকে তার দাস বানিয়ে রেখেছে। সে তোমাদের গ্রহের সবাইকে খেতে চায়। কিন্তু আমি সেটি হতে দিতে চাইনি। তাই ইচ্ছা করেই প্রগ্রামে একটা ভুল রেখেছিলাম। তুমিই এখন পৃথিবীর একমাত্র আশা। তুমিই পারবে সবাইকে বাঁচাতে।'



'কিভাবে?'



'অনেক পানি আছে, এ রকম একটা ট্যাংক দরকার। এলিটিন পানির ঝাপটা সহ্য করতে পারে না।'



লিমা বিনিয়নকে কাছের একটা পানির ট্যাংক নিয়ে গেল। চলি্লশ ফুট উঁচু একটা ট্যাংক। লিমা পদার্থবিজ্ঞানে ভালো। সে হিসাব করে বের করল ট্যাংকের কোথায় ছিদ্র করা লাগবে এবং কোথায় এলিটিন থাকলে তাকে আহত করা যাবে।



এখন অপেক্ষার পালা। এলিটিনের স্পেসশিপ নেমেছে জায়গামতো। এলিটিন ও তার মিনিয়নেরা জায়গামতো পৌঁছতেই লিমা বলল_'ফায়ার!' সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়ন অস্ত্র তাক করে ট্যাংকের জায়গামতো ছিদ্র করে দিল। প্রবল বেগে পানি গড়িয়ে পড়ল এলিটিন ও রোবট মিনিয়নগুলোর ওপর। মিনিয়নগুলো সব টুপটাপ বিগড়ে গেল। পানির স্রোতে অনেক দূরে ভেসে গেল গ্রিনিয়ন ও ইনিয়ন। এলিটিন তার সর্বশক্তি দিয়ে পানি থেকে সরে যেতে চাইল। কিন্তু পানির ভারে ক্লান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ল।



বিনিয়ন এবার এলিটিনের দিকে একটা শক্ত দড়ি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। লিমা আছে নিরাপদ দূরত্বে। বিনিয়ন এলিটিনের হাত-পা নেড়ে দেখল। কোনো সাড়া নেই। যেই না সে বাঁধতে যাবে, অমনি দুই হাত দিয়ে বিনিয়নের গলা চেপে ধরল এলিটিন। লিমা ছুটে চলে এলো এলিটিনের কাছে এবং কাঠের তক্তা দিয়ে দিল বাড়ি। কিছুই হলো না। উল্টো এলিটিনের ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ল লিমা।



এলিটিন যখন তার দলবল নিয়ে স্পেসশিপ থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তখন একটা মিনিয়ন হতাশাজনক একটা অনুষ্ঠান দেখায় মগ্ন ছিল। কিন্তু যেই না এলিটিন পানির স্রোতের শিকার হলো, তখনই স্পেসশিপে গোলমাল দেখা দিল ও হতাশার অনুষ্ঠান বদলে শুরু হয়ে গেল হাসির একটা কার্টুন। মিনিয়ন আর স্থির থাকতে পারল না। 'হা হা হা হা' করে হাসতে শুরু করল। লিমা অবাক হয়ে দেখল, বিনিয়নকে ছেড়ে এলিটিন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নিজের মাথা চেপে ধরেছে। এদিকে মিনিয়নটার হাসির জোর ক্রমেই বাড়ছে। উন্মত্ত এলিটিন ছুট লাগাল স্পেসশিপে থাকা মিনিয়নটার দিকে। এবার হাসির শব্দ এলো উল্টো দিক থেকে। লিমাও হো হো হা হা শুরু করে দিয়েছে। লিমার হাসির জোর মিনিয়নটার চেয়েও বেশি। এলিটিনকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে। নড়তেই পারছে না। 'বিনিয়ন! আমি ওর দুর্বলতা ধরে ফেলেছি! ও হাসি একেবারেই সহ্য করতে পারে না। তুমিও হাসতে শুরু করো।' বিনিয়ন আহত হলেও কোনো মতে হো হো হা হা শুরু করল। এলিটিন কোন দিকে যাবে, বুঝতে পারছে না। চারদিকে এত এত অট্টহাসিতে ঘেমে অস্থির সে। হাঁপাতে হাঁপাতে শেষে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।



'পৃথিবী এখন এলিটিনের প্রভাবমুক্ত। এলিটিনকে বেঁধে নিয়েছি ভালো করে। আর ওর কানে তোমাদের পৃথিবীর রেকর্ড করা হাসির শব্দ চলতে থাকবে অবিরাম। কোনো একটা অন্ধকার গ্রহ দেখে ওকে রেখে আসব সেখানে। আমরা চললাম, লিমা। শুধু আমাকে কথা দাও, তোমরা ভালো থাকবে, হাসি-খুশি থাকবে। কখনোই হতাশ হবে না। তা না হলে আবার কোনো এক এলিটিন এসে গিলে খাবে।



লিমা বলল, 'ঠিক আছে বন্ধু।'



হতাশার সুরটা থামতেই ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙতে থাকল সবার। ইনস্টিটিউটের ছাদে ঘুমোচ্ছিলেন ড. ওয়েস্ট। আড়মোড়া ভেঙে বললেন, 'হুম, এবার নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।'



সূত্র : দলছুট।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৫৮১৭
পুরোন সংখ্যা