চাঁদপুর। শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৮। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৫। উহারা পশ্চাতে রাখিয়া গিয়াছিল কত উদ্যান ও প্র¯্রবণ;

২৬। কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ,

২৭। কত বিলাস-উপকরণ, উহাতে তাহারা আনন্দ পাইত।

২৮। এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং আমি এই সমুদ্রদয়ের উত্তরাধিকারী করিয়াছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে।


আইনের মৃত্যু হয় কিন্তু গ্রন্থের মৃত্যু নেই।

-বুলওয়ার লিটন।

 


মুসলমানগণের মধ্যে যার স্বভাব সবচেয়ে ভালো সেই সর্বাপেক্ষা ভালো ব্যবহার করে, তারাই তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।


ফটো গ্যালারি
মীনা ও ইউনিসেফ
মীনা_সব খারাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল ছিলো মেয়ে শিশুর দশক। একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র সিরিজ তৈরি করে তার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়ে, তাদের পরিবার ও কমিউনিটিকে আনন্দ দেয়া ও উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দশক উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনিসেফ। মীনা হলো এই সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র।



এই চরিত্র উপযোগী নাম ও চেহারা ঠিক করতে অনেকগুলো গবেষণা করা হয়েছিলো। আমরা আজকে যে মীনাকে চিনি, তার এই চেহারা ঠিক করার আগে চার দেশের শিল্পীরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মেয়েদের চেহারা উপজীব্য করে কয়েক ডজন ছবি এঁকেছিলেন।



প্রথমদিকের পর্বগুলো নির্মাণের সময় মীনার পোশাক এবং তার জীবনাচরণ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিশুর মতামত নেয় ইউনিসেফ। দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই মীনা নামটি খুব পরিচিত।



মীনা প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর নয় বছরের একটি মেয়ে, যে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। হোক তা তার স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে অথবা শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে।



শিশুদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান বিষয়গুলো সামাল দিতে পারার কারণে মীনা চরিত্রটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের কেন্দ্র করে মীনা, তার ভাই রাজু ও তার পোষা টিয়া মিঠুর রোমাঞ্চকর নানা কর্মকা- নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিরিজের গল্পগুলো।



বাংলাদেশেই প্রথম মীনা সমপ্রচারিত হয়, যেখানে স্কুলে যাওয়ার জন্য মেয়েটির সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়। 'মুরগিগুলো গুনে রাখো' শিরোনামে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে' সমপ্রচার হয়েছিল এর প্রথম পর্ব।



এরপর থেকে টেলিভিশনে ২৬ পর্বের পাশাপাশি রেডিও অনুষ্ঠান, কমিক ও বইয়ে এসেছে মীনা। প্রতিবছর ইউনিসেফ মীনার নতুন গল্প প্রকাশ করে, যা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের শিশু ও বয়স্করা পড়ে ও দেখে। মিনা পর্বগুলি স্থানীয় ভাষায় অনুবাদের পাশাপাশি লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামেও তা টেলিভিশনে সমপ্রচার করা হয়।



মানুষ কোন গল্পগুলো শুনতে চায় তা বের করতে ইউনিসেফ শিশুদের মতামত নিয়ে আসছে এবং এটা তাদের প্রত্যাশা পূরণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।



লিঙ্গ, শিশু অধিকার, শিক্ষা, সুরক্ষা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম হিসাবে মীনাকে ব্যবহার করা হয়।



মীনার গল্পগুলোতে মেয়েদের সমান অধিকার, ভালোবাসা, সেবা ও মর্যাদা অর্জনের জন্য সব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি মেয়ের অনেক ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা হয়। সৃষ্টিশীল ও চমকপ্রদ গল্পে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর উপস্থাপনে নানা সামাজিক সংকট তুলে ধরা হয়।



মূল বিষয়বস্তগুলো ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি, নেপালি ও উর্দু- এই পাঁচটি ভাষায় করা হয়। এগুলোই আবার অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় ভাষা এবং ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত বা টেলিভিশন পর্বে কণ্ঠ দেয়া হয়।



 



মীনার কমিউনিকেশন প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে :



কমিক বই



এনিমেটেড ফিল্ম



পোস্টার



আলোচনা এবং শিক্ষকদের গাইড



রেডিও সিরিজ (বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্মিত)



এনিমেটেড চলচ্চিত্রই হল মীনার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম, যেখানে একদল চরিত্র এবং একগুচ্ছ গল্প মানুষের সামনে চলে আসে। তা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে তাদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগায় এবং একটি নতুন পথে দর্শককে নিয়ে যায়।



গল্পের মূল অংশজীবনের কাছে চলে আসে, দর্শকদের কল্পনা ও মনোযোগকে আকৃষ্ট করে এবং সৃষ্টিশীল ফোকাস প্রদান করে।



সংবাদমাধ্যমে শিশু সংক্রান্ত প্রতিবেদন যাতে আরও ভালো হয় সেলক্ষ্যে সাংবাদিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০০৫ সালে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।



২০১২ সালে ইউনিসেফ একটি সরাসরি রেডিও শো শুরু করে যেখানে মীনা, মিঠু ও রাজুকে উপস্থাপক হিসাবে দেখানো হয়। এক ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান চলাকালেই সারাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার শিশুর ফোন আসে।



২০১৬ সালে ইউনিসেফের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ একটি ব্যয়বিহীন অ্যাপ হিসাবে 'মীনা গেম' চালু করেছে এবং আট লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যেই এটি ডাউনলোড করেছে।



শিশুদের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করা হয়েছে, যেখানে আনন্দদায়ক উপায়ে নিজেদের জন্য কল্যাণকর বিষয়গুলো শিখতে পারে তারা।



অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের এই যুগে 'ডিজিটাল ফুটিং' নামে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। এই প্ল্যাটফর্মটি যাতে মানুষের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ করতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।



সূত্র : ইউনিসেফ বাংলাদেশ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬২১২৯
পুরোন সংখ্যা