চাঁদপুর। শুক্রবার ০৪ জানুয়ারি ২০১৯। ২১ পৌষ ১৪২৫। ২৭ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || *
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। পক্ষান্তরে যাহারা কুফরী করে তাহাদিগকে বলা হইবে, তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় নাই? কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।  

 


assets/data_files/web

অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ।

-হোমার


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

 


ফটো গ্যালারি
দুর্ঘটনা ও উপলব্ধি
অনুবাদ : সাজরিনা নাজমী হৃদি
০৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

মিকের পরিবার ছোট একটি শহরের কাছাকাছি বসবাস করে। মিক মাঠ ও গ্রামের পথ ধরে বনের ভেতরের রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত সাইকেলে করে স্কুলে যেতো। রাস্তাটি দেখতে ছিমছাম, খুব সুন্দর ছিলো। তার পাশেই কলকল বইছে একটি নদী। নদীটি গভীর নয়। কিন্তু এর স্রোত খুব বেশি। নদীর তীর ও তলদেশ পাথরে ভরা। মিক কখনো এই নদীতে সাঁতার কাটার চেষ্টা করেনি। কারণ সাঁতার কাটতে গেলে নদীতে থাকা পাথরের আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। তার জীবনে একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত নদীটিকে তার কাছে খুব সুন্দর মনে হতো।

সেদিন মিক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলো। এমন সময় মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত তাকে স্কুলেই অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি পুরোপুরি থামলে সে সাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বাড়ির রাস্তাটি পিচঢালা ছিলো না। বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি স্বাভাবিকভাবেই পিচ্ছল হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু মিকের কাছে ব্যাপারটিকে ভয়াবহ বলে মনে হয়নি। সে পূর্বে অনেকবার এ রাস্তা দিয়ে সাইকেলে করে বাড়ি গিয়েছিলো। তাই সে নিশ্চিন্ত মনে সাইকেল চালিয়ে রওনা হলো। একটা সময় সে নদীর পাড়ের উঁচু একটি জায়গায় এসে পেঁৗছলো। বৃষ্টির কারণে নদীর পানি পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। স্রোত প্রবল বেগে গর্জন করে সামনের দিকে যাচ্ছিলো। এসব দেখতে দেখতে হঠাৎই মিক তার সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সে সাইকেলকে বামদিকে নেয়ার চেষ্টা করলেও তা পারেনি। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাইকেলটি রাস্তার ঢাল বেয়ে সোজা নদীতে গিয়ে পড়লো। নদীতে পানি বেশির থাকায় মিক পা দিয়ে তলদেশ স্পর্শ করতে পারেনি। দ্রুতই তার সাইকেলটি পানির নিচে ডুবে যায়। সে নিজে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিলো। চারদিকে তাকিয়ে আত্মরক্ষার জন্যে মিক কোনো কিছুই খুঁজে পেল না। মিক ভালো সাঁতার জানে না। মনে হচ্ছিলো এই বুঝি সে ডুবে যাবে। তবু মিক পানির উপর মাথা রেখে যথাসম্ভব সাঁতার কাটা শুরু করলো। সে সারাজীবন শুনেছে কেউ যখন নদীতে পড়ে যায়, তার উচিত সাঁতরিয়ে তীরের দিকে আসা। কিন্তু মিকের ওই সময় হিতাহিত জ্ঞান ছিলো না। তীরের কথা তার ভাবনায় আসেনি। উল্টো মিক আরেকটি ভুল করে বসলো। সে নিজের অজান্তেই স্রোতের বিপরীতে সাঁতরাতে চেষ্টা করছিলো। প্রবল ঢেউয়ে সে পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগলো। অনেক চেষ্টা করেও সে নিজেকে ভালোভাবে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে পারলো না।

আত্মরক্ষা করতে না পেরে মিক যখন 'বাঁচাও' 'বাঁচাও' বলে চিৎকার করে উঠলো, তখন তার মুখে আরও পানি ঢুকে গেলো। সে শ্বাস নিতে পারছিলো না। মৃত্যুভয় তাকে আরো জেঁকে ধরলো। তার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। মনে হচ্ছিলো, অঙ্েিজনের অভাবে সে এখনই অজ্ঞান হয়ে যাবে।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে মিকের চোখের সামনে তার সারাজীবনের ছবি ভেসে উঠলো। কখনো কখনো তার ভাই-বোন তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখত। কিন্তু তারা মিককে খুব ভালোও বাসতো। মনে পড়লো বাবা-মায়ের শাসন এবং স্নেহের কথা। চোখের সামনে হাজির হলো দাদা-দাদির দু খানা ছবি। তারা তাকে কতই না ভালোবাসে! একদিনও তার সাথে দাদা-দাদি রাগত স্বরে কথা বলেনি। এটাও সত্য, স্কুলজীবন তার মাঝে মাঝে ভালো লাগতো না। আজ নদীতে ডুবে যেতে যেতে স্কুলের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর কথাও মনে পড়লো। আজ সে যদি মারা যায় তবে হয়তো তার কুকুরটি মাসের পর মাস তার জন্যে অপেক্ষায় থাকবে। আরো কত কিছু মনে পড়ছে। প্রতিবেশী একটি মেয়েকে খুব করে মনে পড়ছে। যাকে সে পছন্দ করে। কিন্তু মেয়েকে এ কথা বলার সাহস সে পায়নি কখনো। এরপর মিক মনে মনে আর কী কী ভেবেছিল তার আর মনে নেই।

মিক চোখ খুলে দেখল সে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আছে। তার পুরো শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু কি আশ্চর্য সে এখনো বেঁচে আছে! মিক দেখল, তার বাবা ভেজা শরীরে উদ্বেগ নিয়ে তার পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সে আবারও জ্ঞান হারালো।

মিক যথাসময়ে স্কুল থেকে না ফিরলে মিকের বাবা তাকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। নদীর তীরে পেঁৗছে তিনি সাইকেল পানিতে পড়ার দাগ মাটিতে দেখতে পেলেন। মুহূর্তেই তিনি সবকিছু বুঝতে পারলেন। দেরি না করে তিনি মিককে খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাকে না কোথাও দেখতে পেলেন না। তিনি আতঙ্কিত হয়ে ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ১৯৯ নম্বরে কল দিলেন। কল পেয়ে উদ্ধারকারী দল এসে মিককে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করলো। সে শিকড় প্যাঁচানো ছিলো। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলো। ডাক্তার জানালো, মিকের কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে ওইদিন সন্ধ্যায় মিকের পিতার হৃদক্রিয়া বন্ধের উপক্রম হলো।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মিক সুস্থ হল। ওইদিনের দুর্ঘটনায় সে বুঝতে পারল তার পরিচিত লোকজন তাকে কত ভালোবাসে। তারা তার প্রতি কতটা যত্নশীল। এ ঘটনার পর মিক খুব আত্মবিশ্বাসী হল। সে তার জীবনকে আগের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে শিখল। এখন মিক প্রতিবেশী মেয়েটিকেও তার পছন্দের কথা জানাতে পারবে।

('এঙ্ুয়েলি হ্যাপেনড' ইউটিউব সাইট অবলম্বনে। গল্পকারের নাম জানা যায়নি)

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৩৭৫৬
পুরোন সংখ্যা