ঢাকা। শুক্রবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৯। ৫ মাঘ ১৪২৫। ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।



৪৩। আমিই জীবন দান করি; মৃত্যু ঘটাই এবং সকলের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে।

৪৪। যেদিন তাহাদের উপরস্থ জমিন বিদীর্ণ হইবে এবং মানুষ ত্রস্ত্র-ব্যস্ত হইয়া ছুটাছুটি করিবে, এই সমবেত সমাবেশকরণ আমার জন্য সহজ।

৪৫। উহারা যাহা বলে তাহা আমি জানি, তুমি উহাদের উপর জবরদস্তিকারী নহ; সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাহাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে।

 


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
কাঠবিড়ালির হাসি
সানজিদা সামরিন
১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আইজা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বাগানে আসে। আজও চোখ কচলাতে কচলাতে বাগানে এসে দেখে, ওমা! বেগুনটা গেলো কোথায়! বড়ো করে হাই তুলতে গিয়েও তুলতে পারলো না সে। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি গলিয়ে বাগানে নেমে এলো, আরে কাল রাতেও গাঢ় বেগুনি বেগুনটা ঝুলছিলো। দৌড়ে আইজা রান্নাঘরে গেলো মায়ের কাছে। বললো- মা, বেগুনটা কোথায়? মা কপালে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুলে বললেন, বেগুন কোথায় মানে! আইজা বললো- বাগানে আমার গাছে হয়েছিলো যে। রেঁধে ফেলেছো? মা বললেন, না তো, রাতেও তো দেখলাম। দেখো হয়তো নিচে পড়ে গেছে। আইজা বললো, না মা আমি দেখে এলাম মাত্র। নেই ওখানে, কেবল ডিমের খোসা পড়ে আছে গাছের গোড়ায়। মা হেসে বললেন, তাহলে বিড়াল-টিড়াল কেউ কিছু করেছে। মন খারাপ করো না, আবার হবে। আইজা মুখ ভার করে নিজের ঘরে চলে গেলো।



 



আইজাদের বাড়ির সামনে ছোট্ট এই বাগানে আইজা ওর মায়ের সঙ্গে মিলে বেগুন, টমেটো আর ঢেঁড়স লাগিয়ে এসেছে একদম নিজের হাতে। প্রতিদিন সকালে সে নিজেই পানি দিত। যেদিন প্রথম বেগুন হলো, সেদিন যে সে কী খুশি! ছবি তুলে খালামণি, চাচ্চু আর বন্ধুদের দেখিয়েছে। কিন্তু কী হলো বেগুনটার? আচ্ছা, পাখি কি বেগুন খায়? বিড়ালের উৎপাত আছে অবশ্য। কিন্তু এরাও কি বেগুন পছন্দ করে? জানা নেই আইজার। কিছুদিন পর গাছে আবার বেগুন ধরলো। হলো টমেটো আর ঢেঁড়সও। আইজা এবার খুব খুশি আর সতর্ক। গাছের চারপাশে নেট লাগিয়ে দিয়েছে, যেনো বিড়াল না আসতে পারে। তার পুরনো বড়ো একটা পুতুল সে গাছগুলোর পাশে দাঁড় করিয়ে এসেছে, যাতে পাখিরা ভাবে, ওখানে মানুষ আছে, যেন গাছের সবজি-ফল নষ্ট না করে।



 



একদিন সকালে বাগানে এক চক্কর দিয়ে আইজা নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে পড়তে বসলো। জানালা দিয়ে দেখলো নেটের ওপর দিয়ে ছোট্ট এক কাঠবিড়ালি বেগুনে হাত দিলো। যেই না দেখা, অমনি আইজা ছুটে গেলো বাগানে। অ্যাই না, না একদম না! এ কথা বলতে বলতেই সে ছুটলো বেগুন গাছের দিকে। আর আইজাকে দেখে বেগুন বগলদাবা করেই কাঠবিড়ালি বড়ো গাছটা বেয়ে উঠে গেলো একদম মগডালে। আইজা তো এবার হলো ভীষণ রাগ, তার মানে এই কাঠবিড়ালিই বেগুন নিয়ে যায়!



 



সেদিন আইজা সারাদিন কিচ্ছু খেলো না। মুখ গোমড়া করে পড়ার টেবিলে বসে রইলো। ঠিক সন্ধ্যায় যখন বাবা ফিরলো, তখন আইজা বাবার কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বললো। বাবা বললেন, কাঠবিড়ালি বেগুন নিয়ে গেলো? ভারি দুষ্টু তো!



 



আইজা বললো, হু! খুবই। দেখ মার গাছের টমেটো আর ঢেঁড়স তো নিলো না! কেনো আমার বেগুনই বারবার নিয়ে যায় ও?



 



বাবা গোঁফে তা দিয়ে বললেন, তাই তো! ভারি চিন্তার বিষয়! ঠিক আছে মামণি, এরপর থেকে আমরা খেয়াল রাখবো যেনো কিছুতেই দুষ্টু কাঠবিড়ালি তোমার বেগুন নিতে না পারে। কেমন!



 



আইজা এবার খুশি হলো। হ্যাঁ, বাবা বলেছে যেহেতু তাহলে আর কখনোই ও বেগুন নিতে পারবে না। সেদিন রাতে মা আইজাকে খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গেলেন। যাবার সময় ঘরের বাতিও নেভালেন। হঠাৎ খচ্খচ্ একটা শব্দ শুনতে পেলো আইজা। লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসলো। মনে হচ্ছে শব্দটা বাগান থেকেই হচ্ছে। বিছানা থেকে নেমে জানালার পর্দা সরালো আইজা। ওমা! কাঠবিড়ালিটা উল্টো ঘুরে জানালার কার্নিশে বসে আছে। আইজা আস্তে করে জানালা খুলল আর ওমনি কাঠবিড়ালি আইজার দিকে ফিরলো। ওর হাতে একটা পেয়ারা। আইজা ভ্রূ কুঁচকে বললো, তুমি? এবার কি মার গাছের টমেটো নিতে এসেছো?



 



কাঠবিড়ালি দুই দিকে মাথা নেড়ে বললো, না না, এটা দিতে এসেছি। এ কথা বলে সে তার হাতের পেয়ারাটা আইজার দিকে তুলে ধরলো।



 



আইজা কোমরে হাত রেখে বললো, এটা কী? আমায় দিচ্ছ কেনো?



 



কাঠবিড়ালি একটু হাসলো। হাসার সময় তার সামনের পাটির বড়ো দুটো দাঁত বেরিয়ে এলো। পেয়ারাটা জানালার ওপর রেখে দুহাত কচলাতে কচলাতে সে বললো- আসলে তোমার বাগানের দুটো বেগুন আমি নিয়েছি। না বলেই নিয়েছি। জানি, এটা ঠিক হয়নি। কিন্তু আমার কিছু করার ছিলো না। আমি দুঃখিত।



 



আইজার মেজাজ এবার খারাপ হলো, বললো- কেনো করেছো এমন? তুমি জানো কতো যত্ন নিয়েছি আমি ওই গাছের? কতো কষ্ট হয়েছে আমার? কতোদিন অপেক্ষা করেছি ফল পাওয়ার জন্য!



 



কাঠবিড়ালি বললো- তা জানি, কষ্ট তো আমিও করেছি বলো! তুমি টের পাওনি।



 



আইজা অবাক হয়ে বললো, মানে! তুমি কী করলে?



 



কাঠবিড়ালি বললো, তুমি যখন গাছ লাগিয়েছো। আমি মাঝে মধ্যে নেমে মাটি নেড়ে দিয়েছি। ওই যে ওইখানে, রান্নাঘরের বাইরের ঝুড়িতে যেখানে ডিমের খোসা ফেলো সেখান থেকে খোসা এনে টুকরো করে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছি, যাতে এই সার পেয়ে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।



 



আইজা বললো- কিন্তু এসব তোমাকে কে করতে বলেছে?



 



কাঠবিড়ালি মাথা নিচু করে বললো- আসলে কয়েকদিন আগে আমার মা এসেছিলো আমার বাড়িতে। উনি বেগুন খেতে খুবই ভালোবাসেন। কিন্তু আশপাশে কোথাও নেই এ গাছ। আর মানুষের বাড়ি থেকে এসব নেওয়াও ঠিক না। তবে যেহেতু দেখলাম তোমার বাগানে বেগুন আছে। তাই ভাবলাম আমি যদি বাগানে একটু কাজ করি আর গাছের পরিচর্যায় তোমাকে সাহায্য করি তাহলে বেগুন নিতে আমার অপরাধবোধ হবে না। আর এই যে পেয়ারাটা, এটা আমার মা আমার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। উনি যে গাছে থাকেন, সে গাছেরই পেয়ারা। খেয়ে দেখো ভারি মিষ্টি!



 



আইজার মান এবার ভাঙলো। কাঠবিড়ালিটা আসলেই মিষ্টি আর ভালো। সৎও বলা চলে। আসলেই তো। সে তো ডিমের খোসার টুকরো দেখেছিলো গাছের গোড়ায়। তবুও অভিমানের সুর তুলে আইজা আঙুল নেড়ে কাঠবিড়ালিকে বললো- হ্যাঁ তোমার ওই পেয়ারা আমি খাবো। তবে একটা শর্তে।



 



কাঠবিড়ালি এবার মাথা তুলে ভ্রু নাচিয়ে বললো- নিশ্চয়ই; বলো বলো!



 



আইজা বললো- এবার থেকে রোজ তুমি আমার বাগানে এসে মাটি নেড়ে দেবে। আমাকে সঙ্গ দেবে। আর এবার যখন বেগুন হবে, তখন প্রথমবার সেটা আমি খাবো। আর এর পরেরবার থেকে আমরা দুজনেই ভাগাভাগি করে খাবো।



 



কাঠবিড়ালি লেজ লাড়িয়ে দুটো লাফ দিলো। বললো- নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই!



 



আইজা এবার জানালার ওপর থেকে পেয়ারা নিয়ে দুভাগ করলো। এক ভাগ তুলে দিলো কাঠবিড়ালির হাতে। বললো- এটা খাও, আর কাল সকালেই চলে আসবে আমার বাগানে। আমরা একসঙ্গে এখন থেকে গাছের যত্ন নেবো।



 



কাঠবিড়ালি দাঁত বের করে হাসলো আর লেজ নাড়িয়ে নাড়িয়ে তরতরিয়ে উঠে পড়লো গাছে। আর আইজাও একগাল হেসে পেয়ারায় কামড় দিলো। সূত্র : সমকাল।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১২৭৬৪
পুরোন সংখ্যা