ঢাকা। শুক্রবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৯। ৫ মাঘ ১৪২৫। ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ডিমের ছানা
জ্যোৎস্নালিপি
১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চারদিকে মিষ্টি রোদ। সূর্যের আলো টুপ টুপ করে ঝরে পড়ছে বাতাবি লেবুগাছটার গায়ে। গাছের পাতাগুলোও ঝকমক করছে। সোনালি আলোয় বাতাবি লেবুগুলো রাঙা হয়ে উঠেছে। একটা কাঠবিড়ালি লোভী চোখে সেদিকে তাকিয়ে লেজ নাড়াচ্ছে। সেই বাতাবি গাছের ডালে বাসার মধ্যে বসে ডিমে তা দিচ্ছিলো একটি কাক। কাকের বাসাটার ঠিক পাশেই একটি কাঠঠোকরা তার সরু ঠোঁট দিয়ে ঠক ঠক শব্দ করে গর্ত খুঁড়তে লাগলো। মা কাকটি খুবই বিরক্ত হয়ে বললো, থামাও তো তোমার এই ঠক ঠক শব্দ। দেখছো না আমি ডিমে তা দিচ্ছি। কাঠঠোকরা বললো, দেখো কাক, তোমার যদি ভালো না লাগে তাহলে তুমি অন্য ডালে গিয়ে বাসা বাঁধো, আর না হয় ডিমে তা দেওয়া বন্ধ করে দাও। তখন মা কাকটি বললো, এটা তো তোমার নিজের জায়গা না, এই গাছে তোমার কোনো বাসাও নেই। কেন অন্যের ক্ষতি করছো বলো তো? বাসা নেই তো কী হয়েছে, ঠোঁট দিয়ে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানাবো। তোমার মতো নয় যে ঠোঁট দিয়ে গর্ত খুঁড়তে পারবো না।



কাক বললো, দেখো কাঠঠোকরা, আমার এখন ডিমে তা দেওয়ার সময়, তোমার সঙ্গে ঝগড়া করা জন্য আমার একটুও অবসর নেই। তুমি যাবে না আমি নালিশ করবো। কাঠঠোকরা তার ঠোঁট একটুখানি বাঁকিয়ে বললো, যা ইচ্ছে তুমি করো, কিন্তু আমি আমার কাজ করবো। কী আর করা, তখন কাকটি বিরক্ত মুখে বসে রইলো আর ভাবলো, সঙ্গী বাসায় ফিরলে একটা কিছু করা যাবে। কাককে চুপ থাকতে দেখে কাঠঠোকরা অপমানিত বোধ করলো। ভাবলো, অসুন্দর কাকটি তাকে পাত্তা দিচ্ছে না। তাই গলা উঁচিয়ে বললো, কী চুপ করে গেলে কেন? গলায় জোর নেই বুঝি? তবুও কাক কোনো কথা বললো না। এবার কাঠঠোকরাটি ভীষণ রেগে গেলো। সে বলা শুরু করলো, তা দিয়ে আর কী করবে, ছানা হলে তো তোমাকে ছেড়েই যাবে; দাও, ডিমে ভালো করে তা দাও। এবার মা কাকটির আর সহ্য হলো না; সে বললো, এমন কথা বলছো কেন? ছানা আমায় ছাড়বে কেন? তখন কাঠঠোকরা বললো, আরে, ছাড়বেই বা না কেন, সবকিছু কি আর সবার হয়- এই কথাগুলো ভালো করে কাকটির কানে গেলো না, কারণ কাকটির চোখ তখন ছিলো গাছের নিচে দুষ্টু বিড়ালটার দিকে। কোনো উত্তর না পেয়ে কাঠঠোকরা বলে চললো, এই বলে রাখলাম, এই ছানা যার, তার কাছে চলে যাবে। কাক রেগেমেগে বললো, তুমি এখান থেকে যাও, না হলে আমি তোমার নামে নালিশ করবো।



যা ইচ্ছে হয় করো। আমি যা বলেছি ঠিক ঠিক বলেছি। তোমার যদি নালিশ করার হয় তো কর না- বলে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। তাই করবো- বলে মা কাকটি।



তা করো, অন্যের ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাও।



অন্যের ডিম বলছো কেন? এই ডিম আমি পেড়েছি।



তা, তোমার কি মনে আছে কয়টা ডিম তুমি পেড়েছিলে?



আমি যেকটা পেড়েছিলাম সবগুলোতেই এখন তা দিচ্ছি।



খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চালাক হলেও ভুলে ডিম যা পেড়েছো তার চেয়ে বাড়িয়ে বলছো। আমি তো সেদিন দেখলাম, পাশের গাছের কোকিলটি তোমার বাসায় চারটি ডিম পেড়ে গেলো। তুমি তখন ঘুমিয়ে ছিলে আর তোমার সঙ্গীটি পাশের ডাস্টবিনে খাবার নিয়ে তখন মারামারিতে ব্যস্ত ছিলো।



এমনটা হতেই পারে না।



না হলেই ভালো। ছানাগুলো ডাক শিখলেই না টের পাবে। তোমাদের গলা শুনলে তো সবাই বিরক্ত হয়- কা কা করে কান ঝালাপালা করো। তবে তোমার কাছে থাকা ডিমের ছানাগুলো ফুটলে তার গলা খুবই মিষ্টি হবে। কিন্তু হলে কী! তোমার তো কেউ না! কাক সঙ্গীর ফিরে আসা দেখে কাঠঠোকরাটি অন্য ডালে উড়ে যায়। খুব মন খারাপ করে বসে থাকে মা কাকটি। সঙ্গীকে সে সবকথা জানায়। সঙ্গী কাকটি তাকে বলে, এই কাঠঠোকরাটা খুব হিংসুটে, মিথ্যা কথা বলাতে ওর জুরি মেলা ভার। তুমি ভেবো না, মন দিয়ে ডিমে তা দাও। এই তো কদিন পরেই ডিম থেকে ফুটফুটে ছানা বের হবে। আমাদের কতো আনন্দের দিন সামনে। পরদিন সকালে বাবা কাকটি খাবার খুঁজতে গেলে কাঠঠোকরাটি আবার আসে। এবার সে গর্ত খোঁড়ে না। শুধু বলে, কি গো কাক কেমন আছো? কাক বলে, ভালো। তুমি ভালো তো। সে বলে, ভালো আর থাকি কেমন করে, তুমি তো আমার পড়শি, তোমার চিন্তায় কাল সারা রাত আমার ঘুম হয়নি।



আমায় নিয়ে কী চিন্তা তোমার, আমি তো বেশ আছি।



এই থাকা কি আর থাকা! কদিন পরেই তো তোমার মন খারাপের দিন আসছে, বলে অন্য ডালে উড়ে যায়। এমনি করে দিন যায়। ডিম ফোটার সময় হয়ে আসে। এক বিকেলে বাতাবিলেবুর গাছটির নিচে শিশুরা বাতাবি লেবু দিয়ে বল বানিয়ে খেলছিলো; আর কাঠঠোকরাটি একটা পাকা বাতাবিলেবুতে ঠোঁট ঢুকিয়ে মজা করে খাচ্ছিলো। কাঠঠোকরাটিকে দেখলেই মা কাকটি ভয়ে ভয়ে থাকে-দুষ্টুটি নতুন করে তাকে ভয় না দেখায়। খেতে খেতে কাঠঠোকরা বলে, আমি জানি আমার কথা তুমি বিশ্বাস করেছো; তাই এখন আর ভালো করে ডিমে তা দাও না, তাই না? তোমার ধারণা ভুল, খুব তাড়াতাড়ি ছানাগুলো ফুটবে- দেখতে পাবে তুমি।



আমার মনে হয় অন্যের ডিম বলে তুমি ভালো করে তা দাওনি, তাই তোমার সব ছানা তো দূরের কথা একটি ছানাও ফুটে বের হবে না। মা কাকটি খুব দুঃখ পেয়ে বলে, তুমি এখন যাও, তোমার মতো খারাপ পাখি আর হয় না।



আমি খারাপ হলে কী হবে! লোকে তো তোমাদের পাখি বলেই মনে করে না, বলে, কাক আবার পাখি হলো কবে! যা তোমাদের চেহারার ছিরি।



কাকটি ছলছল চোখে বলে, শোন কাঠঠোকরা, আমি মা, মা কখনো তার ডিমকে অবহেলা করে না। সে যার ডিমই হোক- আমার কথা বুঝেছো!



না বুঝিনি।



শোনো, আমরা খুব উপকারী পাখি, গাছের গায়ে গর্ত করে গাছেদের কষ্ট দিই না তোমাদের মতো। এমন সময় বাতাবিলেবুর দল এসে পড়ে বাসার ওপর। মা কাকটি ডিম আগলে বসে থাকে। তবুও ডিমগুলো ভেঙে যায়। তারপর ডিমের ভেতর থেকেবের হয়ে আসে ফুটফুটে বাচ্চা। মা কাকটা চেয়ে চেয়ে দেখে। না, একটি ডিমও নষ্ট হয়নি। ছানাগুলো চিঁ চিঁ করে ডাকে; একই রকম স্বরে। মা কাকটি বলে, দুষ্টু কাঠঠোকরা দেখেছো তো, তুমি কতো ভুল কথা বলেছিলে। আমার সবগুলো ছানাই ভালো আছে। আর দেখলে তো ছানাগুলো সব আমারই। কাঠঠোকরা ঠোঁট বাঁকিয়ে যেতে যেতে বলে, তোমার আর ছানা হলো কই! ওগুলো তো ডিমের ছানা, কদিন পরে টের পাবে বাছাধন। মা কাকটি ছানাগুলোকে তার ডানার ভেতরে নিয়ে আদর করে বলে, তোরা সব আমার ছানা, আমিই তোদের মা। সূত্র : ঘাস ফড়িং।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫৩৬৫৬
পুরোন সংখ্যা