চাঁদপুর, শুক্রবার ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৪। কিন্তু যাহার এ সামর্থ্য থাকিবে না, একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিতে হইবে; যে তাহাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়াইবে; ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেনো আল্লাহর ও তাহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করো। এইগুলি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।


 


 


 


assets/data_files/web

খাদ্য খাওয়া ও খাওয়ানোর চেয়ে খাদ্য উৎপাদনই মহত্তর কাজ।


-তাবিব।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুতোষ গল্প
আমাদের রাতুল
আবুল কালাম রহমান
২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অন্যান্য সন্ধার ন্যায় আজও রাতুল বই পড়বে না বলে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বই। কিন্তু রাতুলের এই একগুয়েমি তার মা কখনো সমর্থন করেনি। আজও করেনি। তাই পূর্বের নেয় আজও ধমকি-ধামকি দিয়ে রাতুলকে পড়ার জন্যে টেবিলে বসিয়ে রাখলো।



রাতুল নাছরবান্দা আজ পড়বেই না। তার মা যতই হুমকি-ধমকি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে রাতুলকে তা কোনো কাজে আসছে না। সবে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। এটুকু বাচ্চা এই বয়সে পড়তে এতো আলসেমি করে ভাবতেই রাতুলের মায়ের মাথা থেকে যেনো রাগে-খোবে মগজ উতড়িয়ে বের হয় এমন অবস্থা।



একটি মাত্র সন্তান। তাও এই রাতুল। ছেলেটিকে নিয়ে কতই না স্বপ্ন এঁকে আছে মনের গহীনে। বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে রাতুল। বড় হয়ে একদিন গ্রামের নাম ডাক ছড়িয়ে দিবে সমাজে। এমন হাজারো স্বপ্ন নিয়ে ছেলেটিকে উচ্চ শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখে আসছে। অথচ, ছেলেটি বই নিয়ে পড়তেই চায় না। স্কুলেও যেতে চায় না। কি মুশকিলেই না পড়েছেন। কি করবে বুঝতে পারছে না। তবু রাতুলের মা একটু আগ্রহী হয়ে রাতুলকে জিজ্ঞাসা করলো,



-আচ্ছা রাতুল ওই ঘরের রকি প্রতিদিন স্কুলে যায়, স্কুল থেকে এসে গোসল করে। আবার দুপুর বেলায় ঘুমায়। সন্ধার পর তার মায়ের সাথে পড়তে বসে। কিন্তু তুমি স্কুলেও যেতে চাও না, রাতেও পড়তে চাও না। কেনো তুমি এমন করো আমাকে একটু বলো বাবা?



-স্কুলে যেতে আমার ভালো লাগে না। পড়তেও আমার ভালো লাগে না মা।



-তুমি যদি পড়ালেখা না করো তাহলে, কেউ তোমাকে ডাকবে না। আদর করবে না। খেলায় নিবে না। তখন তুমি কি করবে?



-থাক্, আমার কারো আদর লাগবে না। আমাকে কারো ডাকতে হবে না। কেউ ডাকলে আমি যাবোও না। আমি কারো সাথে খেলবোও না।



-খোকা 'পড়ালেখা করে যে গাড়ি গোড়ায় চড়ে সে' তুমি যদি পড়ালেখা করে বড় হও তবে দামি গাড়িতে চড়তে পারবে। বড় বাড়িতে থাকতে পারবে।



-আমার দামি গাড়িতে চড়ার ইচ্ছে নেই। ওই যে গাড়িটা আমাকে আব্বু কিনে দিয়েছিলো, সেটা এখন আর চলে না। আব্বু তো বলছিলো ওটাও অনেক অনেক টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলো।



ছেলেটাকে অনেক বুঝালো। না এবারো ছেলেকে আয়ত্তে নিয়ে আসতো পারলো না। মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়। ইচ্ছে হয় ছেলের গালে কষে আচ্ছাভাবে থাপড়িয়ে থাপ্পর দিতে। ছেলেটাকে মাঝে মধ্যে খুব মারধরও করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু রাগ হলেও ছেলের সুন্দর আর পাকনা কথার কাছে হার মানতে হয় রাতুলের মাকে।



ওর বয়সী বাড়িতে যারা আছে সবাই ঠিকমতো স্কুলে যায়। সন্ধ্যায়ও পড়তে বসে। কারোই পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সাথে এমন বক্ বক্ করতে হয় না।



এবার রাতুলের মা নতুন একটা কৌশল বের করলো। মায়ের মন কত কিছুই না ভাবে সন্তানদের পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে। রাতুলের মাও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি এবার রাতুলকে বললেন,



-খোকা গল্প শুনবে? অনেক সুন্দর গল্প। গল্পটি শুনলে তোমার অনেক ভালো লাগবে, পড়ায় মনও বসবে।



-না আমি গল্প শুনবো না। আমার ভালো লাগা, লাগবে না। আমি পড়বো না।



-বাবা আমার সোনা আমার, তুমি গল্পটা শোনো। গল্পটা শুনলে পড়াতে তোমার মন বসবে। রকির সাথে প্রতিদিন তুমিও স্কুলে যাবে। দুই ভাইয়ের এই ঘটনাটা। তুমি একবার শোনো। দেখো, তুমি একদিনও স্কুল বন্ধ দিবে না। ঘটনাটি শোনার পর।



-তাহলে তো আমি তোমার এই গল্প শুনবোই না। শুনলেই আমাকে স্কুলে যেতে হবে। আমি তো স্কুলে যেতে চাই না।



এইটুকু বাচ্চার এতো পাকনামী কথায় রাতুলের মা অনেকটাই অসহ্য বোধ করতে লাগলেন। তবুও ছোট বাচ্চা ভেবে তিনি সমীয় করে যাচ্ছেন।



ছোট বাচ্চা পড়তে না চাইলেও বা আর কি করার থাকে। জোর করে তো আর পড়ানো যায় না! তাছাড়া ছেলে এখনো অনেক ছোট। এসব রাতুলের মাও বুঝেন।



তবু ছোটবেলা থেকে যদি পড়ালেখার অব্যস্ত করা না যায় তবে ভবিষ্যতে পড়ালেখায় মন বসাতে তার অনেকটাই কষ্ট হয়ে পড়বে।



পড়াতে ছেলের দৃষ্টি নিয়ে আসতে চেষ্টা কোনো ত্রুটি করলেন না। এবার তিনি বললেন, আচ্ছা রাতুল বাবা, তুমি গল্পটা শোনো। যদি তোমার গল্প ভালো না লাগে তবে তোমাকে পড়ার জন্যে জোর করবো না। স্কুলেও যেতে হবে না!



আর যদি গল্প তোমার ভালো লাগে, তাহলে বলো, ঠিকমতো পড়ালেখা করবে, স্কুলে যাবে?



গল্প ভালো না লাগলে, পড়তে হবে না, স্কুলে যেতে হবে না। এমনটি শুনে তো রাতুল মহা খুশি! সে খুশিতে হাততালি দিয়ে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বললো, আচ্ছা তুমি গল্প বলো। আমি শুনবো। তবে আমার ভালো না লাগলে তুমি কিন্তু আমাকে বকা দিতে পারবে না? আর যদি তোমার গল্প ভালো লাগে তবে আমি নিয়মিত পড়ালেখা করবো। স্কুলেও যাবো। কথা দিলাম।



রাতুলের মাও রাতুলের কথায় খুশি হয়ে তাকে বললো,



-এই আমি ওয়াদা করলাম। গল্প তোমার ভালো না লাগলে স্কুকে যেতে জোর করবো না।



মায়ের ওয়াদায় রাতুল খুশি থেকে মহা খুশি হয়ে গেলো।। এবার রাতুল তার মাকে গল্প শুনাতে বললো।



রাতুলের মা গল্প শুরু করলেন।



জনি আর রনি তারা দুই ভাই। দুই ভাই একসাথে সবসময় চলাফেরা করতো। যেদিকে যেতো একসাথে যেতো।



একদিন জনি আর রনি খেলতে যায় বন্ধুদের সাথে খেলার মাঠে। কিন্তু বন্ধুরা জনিকে খেলায় নেয় রনিকে নিলো না। এতে রনি প্রতিবাদ করলে বন্ধুরা রনিকে মারধর করে। পরে রনি মাঠের বাইরে চলে যায় কান্না করতে করতে।



আরেক দিন (মায়ের কথা শেষ না হতেই রাতুল বলে উঠলে)



-আম্মু থামো! ওরা রনিকে কেনো খেলায় নেয়নি? আর মেরেছে কেনো?



-আচ্ছা বাবা বলবো, এরপরের ঘটনা বলেনি তারপর।



-না আম্মু আমি এখনি শুনতে চাই, তুমি বলো।



-বলবো তো বাবা। আগে পুরো কাহিনি বলে নেই। কেমন?



-ঠিক আছে আম্মু, বলো।



-এরপর একদিন জনি ও রনি পাশের বাড়িতে তাদের বন্ধুদের সাথে দাওয়াত খেতে যায়। সেখানে গেলে সবাইকে বসতে দেয়। জনিকে দেখে সেই বাড়ির সবাই খুশি হলো। সবার আগে রনির ভাই জনিকে খাবার দিলো। কিন্তু এক লোক এসে রনিকে উঠিয়ে দিলো। এ দৃশ্য দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলো। রনি খাবার না পেয়ে কেঁদে দিলো। রনির চোখে পানি দেখেও কেউ রনিকে খাবার দিলো না। বরং সেই বাড়ির লোকেরা রনিকে তাড়িয়ে দেয়। রনি খেতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে।



আরেক দিন জনি ও রনি (পরের কথা না বলতেই রাতুল আবার বলে উঠলো)



-আম্মু রনিকে ওরা খাবার না দিয়ে উঠিয়ে দিলো কেনো? তারা রনিকে তাড়িয়ে দিলো কেনো?



-বলবো বাবা। এরপরের ঘটনাটা শোনো। তারপর বলবো। কেমন?



-না আম্মু তুমি বলো, ওরা কেনো রনিকে খেতে দেয়নি। বলো না আম্মু! বলো?



-হ্যাঁ বাবা বলবো। এরপরের ঘটনাটা শোনো। তারপর বলবো কেমন বাবা?



-আচ্ছা আম্মু বলো, আমি শুনছি।



-একদিন জনি আর রনি স্কুলে গেলো। স্কুলে কিছু সময় ক্লাস করার পর রনি জনিকে বললো চিড়িয়াখানায় যাবে। চিড়িয়াখানা তাদের স্কুলের পাশেই। রনির কথা শুনে জনি না করে দিলো। জনি তার ভাই রনিকে বললো,



'স্কুল ফাঁকি দেয়া যাবে না। স্কুল ফাঁকি দিয়েছি যদি মা শোনে তবে, অনেক অনেক কষ্ট পাবে। আমাদের ঘৃণা করবে। মা কান্না করবে। অভিশাপ দিবে। মায়ের অভিশাপে আমাদের জীবন তছনছ হয়ে যাবে। আমরা স্কুল বন্ধের দিন চিড়িয়াখানায় যাবো। আজ যাবো না ভাই।'



কিন্তু রনি জনির কোনো কথাই শুনলো না। সে চিড়িয়াখানায় যাবেই যাবে। আর যদি চিড়িয়াখানায় আজ না যেতে পারে তবে রনি আর স্কুলে পড়বে না। রনির এ কথা শুনে জনি তাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যায়।



সেখানে গিয়ে দেখতে পেলো, এক কোণায় তাদের বয়সী সব বাচ্চারা হৈ-হুল্লোড় করছে। আনন্দ করছে। তালি দিচ্ছে।



জনি ও রনি ওদের এমন উল্লাস করতে দেখে তারাও সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে তারা গিয়ে দেখে খাঁচার ভেতরে বানর। বাচ্চারা যা করছে বানরও তা করে দেখাচ্ছে।



এসব দেখে তারা দুই ভাইও খুব খুশি হলো। এবার তারাও ওই বাচ্চাদের মতো বানরের সাথে খেলা করতে থাকলো। কিছুক্ষণ খেলা করার পর জনির ভাই রনি খেলা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু জনি বানরের সাথে খেলতে থাকে। খেলাও হচ্ছিলো খুব সুন্দর। সকল বাচ্চাদের সাথে বানর যেমন খাঁচার ভেতর থেকে খেলা করছে তেমনি বাচ্চারা ও জনিও বানরের সাথে খেলা করেই যাচ্ছে।



হঠাৎ একজন লোক এসে সবাইকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো। লোকটা ছিলো ইয়া লম্বা। সেই রকম মোটা। ছিলো বড় বড় গোঁফ। তার হাতে ছিলো একটা লম্বা লাঠি। লোকটাকে দেখে সবাই ভয়ে কাঁপতে থাকে। এক পর্যায় লোকটা সবার মাঝখান থেকে রনির হাতে মুঠ করে ধরে মারধর করতে থাকে। রনির দু গালে লোকটি থাপ্পর দিতে থাকলো। বাচ্চারা উপায়ন্তর না পেয়ে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। থেকে যায় শুধু রনির ভাই জনি।



লোকটি রনিকে কেনো মারছে জনি তা লোকটির কাছে জানতে চাইলো। লোকটি বললো, 'চুপ! কথা বলবি না। বেশি কথা বললে তোমাকেও মারবো। তোর বড় ভাই বড় অপরাধ করছে তাই তাকে বড় শাস্তিও পেতে হবে'।



এই বলে সে আবার রনিকে প্রহার করতে থাকলো। এবার লোকটি তার পকেট থেকে সুঁই নিয়ে রনির হাতের আঙ্গুলের মাথায় আঘাত করতে চাইলো।



জনি লোকটিকে জড়িয়ে ধরে খুব কান্নাকাটি করে তার ভাইকে ক্ষমা করে দিতে বললো। রনি আর এমন করবে না বলে লোকটির সাথে জনি ওয়াদা করে। জনির কথা শুনে লোকটি রনিকে ক্ষমা করে দেয়। এই লোক জনিকেও চিনে। জনির পড়ালেখায়, আচার-আচরণে সবাই মুগ্ধ। সে কারো কাছে কিছু চাইলে কেউ আপত্তি করে না। অনেকে অনেক কিছুই জনির হাতে আদর করে তুলে দেয়। যার ফলে লোকটির কাছে অনেক কান্নাকাটি করায়, অনুনয়, বিনয়ী হওয়ায় জনির জন্যে রনিকে ক্ষমা করে দেয়।



রনিও আর ওমন করবে না বলে ওয়াদা করে। শেষে দুই ভাই হাসি-খুশি মনে বাড়ি ফিরে আসে।



আবার একদিন জনি ও রনি (বলতেই রাতুল কেঁদে দেয় এবং বলে)



-থাক্ আম্মু, তোমাকে এরপর আর বলতে হবে না। আম্মু ওই লোকটি রনিকে কেনো এভাবে মারলো বলো না।



-বলবো বাবা পরের ঘটনা বলে নেই।



-না! না! আম্মু প্লিজ, তুমি বলো না লোকটা কেনো রনিকে মারলো। এই দেখো আম্মু আমার চোখে জল! রনির জন্যে আমার খুব খারাপ লাগছে। আমার কান্না পাচ্ছে। প্লিজ! আম্মু বলো।



-লোকটি কেনো মারলো শুধু এটুকু শুনতে চাও? নাকি আগের গুলোও শুনবে?



-ঠিক আছে আম্মু সবগুলো বলো। কেনো তার বন্ধুরা খেলায় নেয়নি? কেনো রনিকে ওরা মেজবানি খাবার সময় তাড়িয়ে দিয়েছে? আবার ওই লোকটা কেনো এভাবে রনিকে মারলো? সব বলো, সব বলো।



-আচ্ছা বাবা আমি যদি সবগুলো বলি তুমি শুনবে তো মনোযোগ দিয়ে?



-হ্যাঁ, আম্মু আমি মনোযোগ দিয়েই শোনবো। দেখোনি লোকটি রনিকে মেরেছে শুনে আমার চোখে জল চলে এসেছে। আমার খুব কান্না পেয়েছে। তুমি বলো আম্মু আমি শুনবো।



-তাহলে শোনো, যারা রনিকে খেলায় না নিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলো, তারা সবাই ছাত্র। ওরা নিয়মিত স্কুলে যায়। বাসায় পড়ে। তাদের শিক্ষকরা শিক্ষা দিয়েছে, যারা বাসায় পড়বে না, স্কুলে যাবে না তাদের সাথে না খেলতে। তাদের খেলাতে না নিতে। রনি বাসায় পড়ে না। স্কুলে যায় না। তাই ওরা রনিকে খেলায় নেয়নি।



আর সেই মেজবানিতে রনিকে খেতে না দেয়ার কারণ হলো, ওখানে যারা খেতে বসেছিলো তারা সবাই ছাত্র। ওরা নিয়মিত স্কুলে যায় কিন্তু রনি যায় না। যদি রনিকে ওদের সাথে বসতে দিতো তবে মানুষ মন্দ বলতো।



কারণ, যারা মেজবানি খেয়েছে তারা শিক্ষকদের বলেছে, শুধু ছাত্রদের খাওয়াবে। যদি রনিকে সেখানে বসতে দিতো তবে মানুষেরা বলতো, যে ছেলে স্কুলে যায় না, যে ছেলে বাসায় পড়ে না, সে ছেলে কেনো ওদের সাথে খায়? যারা খেয়েছে তারা রাগ করতো তাই রনিকে তাড়িয়ে দিয়েছে তার সহপাঠিরা। যদিও রনিকে তাড়িয়ে দেয়ায় জনির খুব খারাপ লেগেছিলো ভাইয়ের জন্যে কিন্তু কিছু করার ছিলো না।



আর ওইদিন জনি আর রনি স্কুলে যাওয়ার আগে তাদের মা বলে দিয়েছে স্কুল ফাঁকি দিয়ে কোথাও না যেতে। মা-বাবার কথা যারা শুনে না, যারা মা-বাবাকে মানে না তারা খারাপ পথে চলে যায়। যারা স্কুল ফাঁকি দেয় তারা খারাপ হয়ে যায়। আজেবাজে আড্ডা দেয়। নেশা করে। চুরি করে।



জনি তার মায়ের এ উপদেশ মনে রেখেছিলো তাই সে যেতে চায়নি। কিন্তু রনি তার মায়ের উপদেশ মানেনি। তার কারণে জনিকেও স্কুল ফাঁকি দিতে হয়েছে।



তাদের মা বলেছিলো, যারা স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চুরি করে বের হয়ে যায়, তারা চোর হয়। রনি মায়ের এ কথা শুনেনি। সে মায়ের কথা মনে রাখেনি।



তা সবাই যখন বানরের সাথে খেলা নিয়ে ব্যস্ত তখন রনি একটা ছেলের বল স্কুল ব্যাগে চুরি করে রাখতে চেয়েছিলো।



দূর থেকে দারোয়ান এ দৃশ্য দেখে দ্রুত এসে রনির হাতে মুঠ করে ধরে তাকে মারতে থাকে। এই হলো ঘটনা বুঝলে বাবা?



মায়ের কথা শেষ হতেই, শিশু রাতুল দু চোখের পানি ছেড়ে তার মাকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'আম্মু, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর দুষ্টুমি করবো না। স্কুল থেকে ফিরে আসবো না। রাতে আর না পড়ে ঘুমিয়ে পরবো না। এ তোমার সাথে ওয়াদা করলাম আম্মু, কাল থেকে আমি নিয়মিত স্কুলে যাবো।'



-বাবা তোমার কথা শুনে মায়ের মন শান্তিতে ভরে গেলো। তুমি যদি কাল থেকে স্কুলে যাও, আমি তোমার আব্বুকে বলবো, আমাদের রাতুল ভালো হয়ে গেছে। সে এখন থেকে স্কুলে যাবে। রাতেও পড়বে। এই কথা তোমার আব্বু শুনলে অনেক অনেক খুশি হবে।



আচ্ছা এখন ঘুমিয়ে পড়ো বাবা। এই আমি তোমায় ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০২৩৭২৩
পুরোন সংখ্যা