চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০১৯, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ
মোহাম্মদ ছরওয়ার জাহান
১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিশুকালের মাতৃগর্ভ থেকে প্রথম আট বছর অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে প্রথম পাঁচ বছর। এই সময়টা, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের ভিত্তি। এই সময়ে শিশুরা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে তাড়াতাড়ি শেখে। বাচ্চারা এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠে এবং তাড়াতাড়ি শেখে যদি তারা ভালোবাসা, যত্ন, উৎসাহ, মানসিক উদ্দীপনা পায় এবং তার সাথে পায় পুষ্টিকর খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা।



সব শিশুর জন্মের সাথে সাথেই আইনগতভাবে নথিভুক্তি, স্বাস্থ্যের যত্ন, ভাল পুষ্টি, শিক্ষা এবং কোনো রকমের ক্ষতি, নির্যাতন এবং যে কোনো ধরণের বৈষম্য থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। এটা পিতামাতা এবং সরকারের নিশ্চিত করার দায়িত্ব, যাতে শিশুদের অধিকার স্বীকার এবং রক্ষা করা হয়।



 



শিশুদের বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার ব্যাপারে পরিবার এবং সম্প্রদায়ের যা জানার অধিকার আছে :



১) জীবনের প্রথম ৮ বছর, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর, শিশুরা যে যত্ন ও ভালোবাসা পায় তা অত্যন্ত জরুরি এবং তাদের সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে।



২) বাচ্চারা জন্মমুহূর্ত থেকে তাড়াতাড়ি শিখতে থাকে, ওরা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং শেখে ভালোবাসা, দেখাশোনা এবং উদ্দীপনা পায়, তার সাথে পুষ্টি এবং ভালো স্বাস্থ্য যত্ন।



৩) শিশুদের খেলতে এবং সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে উৎসাহ দান করলে ওদের শেখা, সামাজিকতা, আবেগপ্রবণতা, শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিগত বিকাশ হয়।



৪) শিশুরা তাদের নিকটজনের অনুকরণ করে ব্যবহার শেখে।



৫) সব পিতামাতার এবং যত্নদানকারীদের শিশুর বেড়ে ওঠা ও বিকাশ সম্পর্কে বিপদ সংকেত জানা উচিত।



প্রথম কয়েক বছরের যত্ন ও ভালোবাসা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। তাকে ধরা, আদর করা এবং কথা বলা শিশুর বেড়ে ওঠায় উদ্দীপনা দেয় এবং আবেগজনিত বিকাশ ঘটায়। মায়ের কাছাকাছি রাখা এবং চাইলেই বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর মধ্যে একটা নিরাপত্তার ধারণা তৈরি করে। বাচ্চাদের মায়ের দুধ চোষা পুষ্টি এবং আরাম উভয়ের জন্যেই প্রয়োজন।



ছেলে এবং মেয়েদের একই রকম শারীরিক, মানসিক, আবেগজনিত এবং সামাজিক প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয় এবং একই রকম ভালোবাসা, মনোযোগ ও অনুমোদন দরকার। বাচ্চার (শিশুর) নিজের দরকার জানানোর জন্য কান্না একটি পথ। কান্নার সাথে সাথে বাচ্চাকে (শিশুকে) ধরলে এবং ভাল করে তার সাথে কথা বললে বাচ্চার একটা বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার ধারণা জন্মায়।



যেসব বাচ্চা (শিশু) রক্তশূন্যতা বা অপুষ্টিতে প্রায়ই ভোগে, তারা সুস্থ বাচ্চাদের থেকে সহজে ভীত ও আতঙ্কিত হয়। তাদের খেলাধুলার, অনুসন্ধানের এবং অন্যদের সাথে মেলামেশার উৎসাহ থাকে না। এসব বাচ্চার (শিশুর) খাওয়ানোর জন্যে বিশেষ মনোযোগ বা উৎসাহ প্রদান দরকার হয়।



বাচ্চাদের আবেগ খুব বাস্তব এবং জোরালো হয়। ওরা যদি কিছু চেয়ে না পায় বা করতে চেয়ে না করতে পারে তবে খুব নিরাশ হয়ে পড়ে।



বাচ্চারা প্রায়শ অচেনা লোক বা অন্ধকার ভয় পায়। যে সব বাচ্চার প্রতিক্রিয়ায় উপহাস করা, শাস্তি দেওয়া বা অবহেলা করা হয় তারা দ্বিধান্বিত বা আবেগ প্রকাশে অক্ষম হয়ে বেড়ে উঠে। যখন শিশু তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে তখন যদি যত্নদানকারী/শিক্ষকগণ তাদের অত্যাচারে ধৈর্যশীল এবং সহানুভূতিশীল হন তবে শিশু সুখী, নিরাপদ ও সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।



শারীরিক শাস্তি বা উৎপীড়নের দৃশ্য শিশুর বিকাশের ক্ষতি করতে পারে। যেসব শিশুকে রেগে শাস্তি দেয়া হয় তারা নিজেরাই চরম হয়ে যেতে পারে। পরিষ্কার করে বলতে হবে তাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়। ভাল ব্যবহারের জন্য প্রশংসা করা এবং পরিবারের ভাল সদস্য হতে উৎসাহিত করা দরকার।



বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যরা মিলে বাচ্চার যত্ন করা উচিত। বাবার অংশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা বাচ্চার ভালোবাসা, স্নেহ ও উদ্দীপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং তার শিক্ষা, ভাল পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-যত্ন নিশ্চিত করতে পারে। বাবা নিশ্চিত করতে পারে যেন পরিবেশ নিরাপদ এবং উৎপীড়ন মুক্ত থাকে। বাবা বাড়ির কাজও করতে পারে, বিশেষ করে যখন মা বুকের দুধ খাওয়ায় বা গর্ভবতী হয়।



চামড়ার সাথে চামড়ার সংযোগ ও বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের ভাল বুদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে এবং মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে।



 



স্পর্শ, গন্ধ এবং দৃষ্টি হচ্ছে শিশুর শেখার হাতিয়ার, যা দিয়ে সে তার চারপাশের দুনিয়াকে খোঁজে।



শিশুদের সাথে কথা বললে, স্পর্শ করলে, জড়িয়ে ধরলে বা যখন ওরা পরিচিত মুখ দেখে, পরিচিত গলা শোনে এবং বিভিন্ন জিনিস নাড়াচাড়া করে তখন ওদের মন বিকশিত হয়। ওরা ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি পেলে এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশা করলে তাড়াতাড়ি শেখে। যে সব শিশু নিরাপদ বোধ করে তারা সহজেই স্কুলে এবং জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতে ভালো করে মানিয়ে নেয়।



প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাস বয়স থেকে সময়মত নিরাপদ বিকল্প খাদ্য দেওয়া এবং দু বছর বয়স বা তারপরেও বুকের দুধ খাওয়ানো, শিশুর পুষ্টি ও শরীরের উপকার করে, স্নেহের অনুভূতি যোগায় ও যত্নকারীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করায়।



শিশুর শিক্ষা ও বিকাশের জন্যে সবচে' প্রয়োজন অন্যদের সাথে মেলামেশা। পিতামাতা এবং প্রাক প্রাথমিক শিক্ষকরা বাচ্চার সাথে যত বেশি কথা বলবে, তত তাড়াতাড়ি বাচ্চা শিখবে। পিতামাতা বা যত্নকারীর উচিত বাচ্চার সাথে কথা বলা। শিশুরা সবসময় বুঝতে না পারলেও এই প্রারম্ভিক কথোপকথন শিশুর ভাষা ও লেখার ক্ষমতার বিকাশ করে। শিশুদের নতুন এবং আকর্ষণীয় জিনিস দেখতে শুনতে বা ধরতে দিয়ে শিক্ষক ওদের শিখতে সাহায্য করতে পারে। শিশু এবং ছোট ছেলেমেয়েদের অনেকক্ষণ একা ছেড়ে দেওয়া উচিত না। এতে ওদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।



বাচ্চা মেয়েদের ও ছেলেদের একইরকম খাবার, মনোযোগ, ভালোবাসা ও যত্ন দরকার হয়। নতুন কিছু করতে বা বলতে শিখলে সব বাচ্চাকেই উৎসাহ দেওয়া এবং প্রশংসা করা দরকার। শিশু শারীরিক বা মানসিকভাবে না বাড়লে বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য কর্মীর পরামর্শ নেওয়া দরকার। শিশুদের প্রথমে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান শিশুর ভাববার ও প্রকাশ করবার ক্ষমতা বাড়ায়। বাচ্চারা গান, পারিবারিক গল্প, ছড়া এবং খেলার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ভাষা শেখে এবং সহজে মনে রাখতে পারে।



যেসব বাচ্চার টীকাদান কার্যক্রম সময় মত হয় এবং ঠিকমত পুষ্টি প্রাপ্তি ঘটে সেই সব বাচ্চার, মেলামেশার, খেলার ও শেখার উৎসাহ বেশি হয়। এতে তার স্বাস্থ্য-যত্নের জন্য খরচ, অসুস্থতার জন্যে স্কুলে অনুপস্থিতি এবং তাকে দেখাশোনার জন্যে পিতামাতার আয়ের ক্ষতি কমায়।



বাচ্চারা খেলে কারণ তাতে মজা পায়, কিছু খেলা তাদের শেখা এবং বিকাশের মূলেও থাকে। খেলা শিশুদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গঠন করে এবং তাদের অনুসন্ধিৎসা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।



শিশুরা শেখে কিছু করার চেষ্টা করে, ফলের তুলনা করে প্রশ্ন করে এবং অজানার মুখোমুখি হয়ে। খেলা ভাষার দক্ষতা, চিন্তাশক্তি, ছক করা, সংগঠন ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বিকাশ করায়। খেলা এবং উদ্দীপনা বিশেষ করে জরুরি যে সব ছেলের কোনোরকম অক্ষমতা আছে।



মেয়ে এবং ছেলেদের খেলাধুলার এবং পরিবারের সকলের সাথে মেলামেশার একই রকম সুুযোগ দরকার। বাবার সাথে খেলা ও কথাবার্তা বলা বাবা এবং শিশুর সম্পর্ক জোরদার করে।



পরিবারের লোকেরা বা অন্য যত্নকারীরা শিশুদের পরিষ্কার নির্দেশসহ ছোট ছোট কাজ দিলে, খেলার জিনিসপত্র দিলে এবং নতুন কোন ক্রিয়াকলাপের পরামর্শ দিলে, সেটি ওদের খেলাধুলার উপর আধিপত্য না করে শিখতে সাহায্য করতে পারে। শিশুকে নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করুন এবং ওর ধারণাসমূহকে অনুসরণ করুন।



প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষকদের ধৈর্যশীল হওয়া দরকার, যখন একটা ছোট শিশু নিজে নিজে কিছু করতে চায়। বিপদ থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় নতুন ও কষ্টকর কিছু করার চেষ্টা শিশুর বিকাশের জন্য ইতিবাচক। শিশুরা খেলার জন্য খুব সাধারণ জিনিস চায় যা ওদের স্তরে বিকাশের জন্য উপযুক্ত। জল, বালি, কার্ড, বোর্ডের বাঙ্, ইট, পাত্র এবং ঢাকনা ইত্যাদি ওদের কাছে দোকানের কেনা খেলনার মত জরুরি।



বাচ্চারা ক্রমাগত পরিবর্তন হয় এবং নতুন ক্ষমতা অর্জন করে। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষকদের উচিত ওদের পরিবর্তন লক্ষ্য করা এবং গতিবিধি অনুসরণ করে আরও দ্রুত বিকাশে সাহায্য করা।



লেখক : ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৮৫১৫
পুরোন সংখ্যা