চাঁদপুর, শুক্রবার ১২ জুলাই ২০১৯, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
রাতুল ও তার মায়ের শেষ জীবন
মহিবুল হাসান
১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রাতুল। গ্রামের ছোটখাটো একটি স্কুলে পড়ালেখা করে। বাবা জন্মের আগে মারা গেছে। মা বাড়ির পাশে একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। তার মা মাসে যে কটা াকা পায় তা দিয়ে তাদের দুজনের দিন কেটে যায়।



একদিন ঘটলো কী এক অবাক কা-! রাতুল স্কুলে গিয়ে দেখে তার এক বন্ধু গিটার এনেছে। রাতুল গিটারটির দিকে দূর থেকেই তাকিয়ে রইলো। সেদিন আর রাতুল ক্লাস না করে মন খারাপ করে বাড়িতে চলে গেলে। বাড়িতে এসে রাতুল তার চিত্রাঙ্কন খাতা, পেন্সিল এবং রং নিয়ে গিটারটি অাঁকতে থাকে। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে রাতুল দেখে অাঁকা গিটারটির সাথে পুরো বাস্তব একটি গিটার এবং অাঁকা গিটারটির নিচে লেখা রয়েছে 'এই গিটারটি তোমার জন্যে'। রাতুল স্কুলে গিয়ে তার বন্ধুদের কাছে গিটারটির পুরো কাহিনী বর্ণনা করে দিলো। তারপর থেকে স্কুলের কারো সাথে রাতুলের মনমালিন্য নেই। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো। কয়েক মাস পরে রাতুলের আরেক বন্ধু স্কুলে একটি মোবাইল নিয়ে আসে। মোবাইলটির অনেক দাম। রাতুল সেদিন ক্লাস শেষ করে বাড়িতে চলে গিয়ে আগের মতো মোবাইলটি অাঁকতে থাকে। সেদিন রাতে রাতুলের মাঝ রাতেই ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে ওঠে দেখে তার মা পাশে নেই। সেভাবে ঘুমানোর সময় মা তো পাশেই ছিলো। কিছুক্ষণ পর তার চোখ পড়লো পাশের ঘরে। রাতুল জানালা দিয়ে দেখছে তার মা ওই ঘরে কাজ করছে, আর ঘরের মালিককে বলছে আমার রাতুলকে মোবাইলটি কিনে দিতে হবে। রাতুলের আর বুঝতে দেরি হলো না, যে এতোদিন সে যা কিছু এঁকেছে সেটা কোনো ম্যাজিক ছিলো না। তার মা ঘরে এসে রাতুলকে জেগে থাকতে দেখে মনে করে পাশের ঘরে এতোক্ষণ যা কথা হয়েছিলো সব তো মনে হয় রাতুল শুনে ফেলেছে। রাতুল তখন তার মাকে জড়িয়ে ধরে আর বলে মা আমার মোবাইলটি চাই না, আমি মোবাইল ছাড়া খুশি আছি, তারপরও তুমি আর কাজ করো না। এ কথা শুনে রাতুলের মা অনেক খুশি হলেন। রাতুলরা এখন আগের মতো জীবনযাপন শুরু করলো। এ ঘটনার অনেক দিন পরে রাতুল এখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন পরে রাতুল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিবে। রাতূল একদিন তার মার কাছে বায়না ধরলো, মা আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাও না। আমার সকল বন্ধু বলাবলি করছে পরীক্ষার পরে ঘুরতে যাবে। আমাকেও কোথায় নিয়ে যাও না। রাতুলের মা বললো, পরীক্ষা শেষ হোক। জিপিএ-৫ পেলে তারপর না হয় কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবো। পরীক্ষা শেষ হলো ফলাফল বের হলো। রাতুল জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার রাতুলের ঘুরতে যাবার পালা। রাতুল ও তার মা ঘুরতে বেরিয়েছে। কখনো পায়ে হেঁটে কখনো বাসে করে, আবার কখনো রিঙ্ায় এভাবেই চলছে। রাতুল তার মাকে জিজ্ঞাসা করে মা আমরা কোথায় যাচ্ছি? তার মা কিছুই বলছে না। কিন্তু তাদের ভাগ্যে যে মৃত্যু লেখা ছিলো আল্লাহ ছাড়া কেই জানতো না। রাতুল ও তার মা একটা রাস্তা পার হতে যাচ্ছিলো এমন সময় কোত্থেকে একটা বড় ট্রাক এসে রাতুল ও তার মায়ের শরীরের উপর দিয়ে চলে যায় এবং ট্রাকটির চাপায় তারা মারা যায়। কিন্তু তাদের মৃত দেহটা কেউ খুঁজে পায়নি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৬৬৮৫
পুরোন সংখ্যা