চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৮ আগস্ট ২০১৯, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ৬ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন * হত্যাকারী ডিস ব্যবসায়ী লাইনম্যান জামাল ও আনিসুর রহমান আটক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন অল্প বয়স্ক মেয়ে স্ত্রী হিসেবে অথবা মা হিসেবে কোনোটাতেই ভালো নয়। -নজ এডামস।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


 


 


ফটো গ্যালারি
পথশিশুদের ঈদ আনন্দ
মাহমুদুল হক আনসারী
০৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঈদ মানে আনন্দ বা খুশি। ঈদ আসলেই খুশিতে আত্মহারা হয় আবালবৃদ্ধবনিতা। আবহমান কাল থেকে বাংলার ঘরে ঘরে সকল ধর্ম-গোত্রের মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ উদ্যাপন করতে দেখা যায়। সামর্থ্য অনুপাতে পরিবারের শিশু থেকে সব বয়সের সকলেই ঈদ খুশিতে নতুন জামা কাপড় সকলেই চায়। ঈদের বেচা-বিক্রিতে মার্কেট সমূহ হয় জমজমাট। দিনের শুরু থেকে রাতব্যাপী বেচা-বিক্রিতে ব্যস্ত থাকে ব্যবসায়ীরা। শহর, গ্রাম, পাড়া, মহল্লা সবখানেই ঈদের আনন্দ খুশিতে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সকল পরিবারেই নতুন জামা-কাপড় সকলের জন্যেই থাকে এবং দেখা যায়। ঈদে আনন্দ করার জন্য জামা-কাপড়, শাড়ি, চুড়ি, আতর সুগন্ধির কমতি নেই। কেউ ২শ টাকার আবার কেউ লাখ টাকার শাড়ি পরে ঈদ করে। কেউ অর্থ খরচ করার খাত পাচ্ছে না। আবার অনেকেই অর্থের অভাবে সেমাই-চিনি কিনতে পারছে না। তাই নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, নিজে খাবে, পরবে, পাশে অবস্থানরত প্রতিবেশীদের খবর রাখবে। তিনি বলেছেন, "আমার উম্মতের মধ্যে যারা প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব রাখে না, তারা আমার উম্মত নয়।" নিজের ভরণ-পোষণ এবং আহারের সময় পাশের দরিদ্র পরিবার নিপীড়িত মানুষদের প্রতি নজর রাখা ইসলামের শিক্ষা। এ শিক্ষা সমাজে সামান্যতম যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অবশ্যই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র শিশু, অসহায় মানুষগুলো ঈদের খুশিতে কিছুটা হলেও হাসতে পারবে। তারাও নতুন জামা কাপড় পরতে পারবে। সেমাই, মিষ্টি অন্তত একদিন হলেও খেতে পারবে।



শহর, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায়, বস্তিতে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও দরিদ্র মানুষ আছে। তাদের এই ঈদ আনন্দে সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে ঈদ আনন্দ আরো ব্যাপক ফলপ্রসূ হবে।



সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক পথশিশু। কারো বাসা বাড়ি আছে, আবার কারো নাই। ফুটপাতে, রাস্তা ও অলিগলিতে যাদের ঠিকানা, যাদের নেই কোনো ঘর, জমি জমা, ভিটেবাড়ি। আশ্রয়হীন এই পথশিশুদের জন্য এগিয়ে আসতে পারেন বিত্তবানেরা। তাদের মুখেও ঈদের হাসি ফোটাতে পারেন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকা মানুষগুলো।



পথশিশু দরিদ্র শিশুদের সহযোগিতায় সরকারি, বেসরকারি কর্মসূচি আরো বৃদ্ধি করা দরকার। যা আছে তা অপ্রতুল। এখনো পথশিশু, শিশু শ্রমিক রাস্তাঘাটে যত্রতত্র দেখতে পাওয়া যায়। নিশ্চয় কোথাও না কোথাও তাদের জন্ম। অবশ্যই তাদের একটি পরিচয় আছে। মহান আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ান। কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাদের পুনর্বাসনে সাহায্য সহযোগিতা সভ্য সমাজের বাসিন্দাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। একটি শ্রেণীকে পশ্চাৎপদ রেখে সরকারি বেসরকারি যত উন্নয়নই হোক না কেন তা পরিপূর্ণ উন্নয়ন বলা যাবে না। বিত্তবানদের অর্থের পাহাড়ের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটা অংশ অবশ্যই রয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তিতে অবশ্যই রাষ্ট্র ও সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা দেয়াটা সভ্য সমাজের আওতাভুক্ত। শিক্ষা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন অগ্রগতিতে পথশিশু দরিদ্র মানুষদের অংশগ্রহণ ও তাদের সুখ দুঃখের সাথী হতে না পারলে রাষ্ট্রীয় সাফল্য পরিপূর্ণ হবে না। তাই ঈদ আনন্দে সেমাই-মিষ্টি, জামা কাপড়ের খুশিতে অবশ্যই রাষ্ট্র ও সামর্থ্যবানদের উদ্যোগে পথশিশু ও দরিদ্র মানুষদের সংশ্লিষ্ট করা উচিত।



 



লেখক : শিশু সংগঠক।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৮৫০৫
পুরোন সংখ্যা