চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৮ আগস্ট ২০১৯, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ৬ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

যে খেলায় কেউ জিততে পারে না সেটাই সবচেয়ে খারাপ খেলা।


-টমাস ফুলার।


 


 


কৃপন ব্যক্তি খোদা হতে দূরে লোকসমাজে ঘৃণিত, দোজখের নিকটবর্তী।


 


 


ফটো গ্যালারি
ভয়ঙ্কর ভৌতিক গল্প
কীর্তিনাশা
০৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(এ গল্পটা আমার নিজের নয়। বহুকাল আগে শুনেছিলাম আমার এক খালাত ভাইয়ের মুখে। প্রচ- ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। আসলে আবহটা এমন ছিল ভয় না পেয়ে উপায় ছিল না। গ্রামের বাড়ির উঠোনে রাতের বেলা শীতের পিঠা খেতে খেতে শুনেছিলাম গল্পটা। ভয় কেন পেয়েছিলাম তা বলছি গল্পের শেষে।)



এক লোক রাতের অন্ধকারে একা জঙ্গলের পথ ধরে বাড়ি ফিরছিল। হাতে টিমটিম করে জ্বলা হারিকেন। চলতে চলতে হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো, হারিকেনের আলো পড়ে রাস্তার পাশে কী যেন ঝিলিক দিয়ে উঠলো। কৌতূহলী হয়ে লোকটা এগিয়ে গেলো সেই দিকে। গিয়ে দেখলো এক তরুণী মেয়ের লাশ পড়ে আছে। সে ভয় পেলেও ঠিকই দেখলো মেয়েটির ডান হাতের মধ্যম আঙ্গুলে একটি হীরার আংটি জ্বল জ্বল করছে। একটু ইতস্তত করে সে হারিকেনটা পাশে নামিয়ে রেখে লাশের আঙ্গুল থেকে আংটিটা খোলার চেষ্টা করলো। কিন্তু আঙ্গুল ফুলে ওঠায় কিছুতেই ওটা খুললো না। লোকটা তখন তার পকেট থেকে একটি ছুরি বের করলো। তারপর সেই ছুরি দিয়ে লাশের আঙ্গুলটা কেটে ফেলল। ঠিক তখনই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে কাছাকছি কোথাও একটা শেয়াল ডেকে উঠলো। লোকটা প্রচ- ভয় পেয়ে ঐ আঙ্গুল সহ আংটি পকেটে পুরে ছোটা শুরু করলো। এক দৌড়ে বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে সে ঐ রাতেই চুপে চুপে আঙ্গুল থেকে আংটি ছাড়ালো। তারপর আংটিটা লুকিয়ে রেখে আঙ্গুলটা পুঁতে ফেলল মাটিতে।



এরপর অনেক দিন কেটে গেছে। লোকটা সেই মেয়েটির কথা প্রায় ভুলে গেছে। এক অমাবস্যা রাতে সে তখন বাড়িতে একা। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বাইরে দরজার কড়া নড়ে উঠলো_খট্ খট্ খট্ খট্। সে একটু বিরক্তি নিয়ে গিয়ে দরজা খুললো। দেখলো দরজার সামনে শাদা শাড়ি পরে এক তরুণী দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় ঘোমটা দেয়া থাকলেও তাতে তার রূপ ঢাকা পড়ছে না এতটুকু। লোকটা গদ গদ হয়ে প্রশ্ন করলো-কী ব্যাপার? কাকে চান? কেমন খসখসে গলায় বললো, ভাই আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। যাবো আপনাদের পাশের গ্রামে। কিন্তু এত রাতে অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেছি। এদিকে প্রচ- ক্ষুধা পেয়েছে। আমাকে যদি আজ রাতে একটু আশ্রয় দিতেন, একটু খাবার দিতেন!



 



লোকটা যেন এমন সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। বাড়িতে সে একা, তাও আবার এমন সুন্দরী মেয়ে। সে বললো, আসুন আসুন, কোনো চিন্তা নেই। সব ব্যবস্থা হবে। সে মেয়েটিকে বসতে দিয়ে খাবার নিয়ে এলো। মেয়েটি খাবারের থালা টেনে নিয়ে খাবার মাখাতে লাগলো। লোকটা তখন লোভাতুর চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সে চমকে উঠলো। দেখলো মেয়েটি যে হাত দিয়ে খাবার মাখাচ্ছে সে হাতে চারটি আঙ্গুল। মধ্যমা আঙ্গুলটা যেখানে থাকার কথা সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। লোকটির আত্মা কেঁপে উঠলো। সে ভয় পাওয়া গলায় জানতে চাইলো-আ.. আপনার হাতের আঙুলের কী হয়েছে!?



(আমার কাহিনী এখানেই শেষ। কারণ আমার খালাতো ভাই এটুকুই বলেছিল। সে লোকটির ঐ প্রশ্ন করা পর্যন্ত বলে হঠাৎ আমার গলা চেপে ধরে বলেছিল-তুই নিয়েছিস ? আর আমি পুরোপুরি তখন গল্পে ডুবে ছিলাম বলে ভয়ে 'ওরে বাবা!' বলে দে ছুট। আর আমার খালাতো ভাই সহ অন্যরা হেসে কুটি কুটি। এরপর আমি নিজে এই কাহিনী বলে এবং ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেককে ভয় দেখাতে সক্ষম হয়েছি। তবে গল্পটা বলার ঢং এবং পরিবেশ একটু ভৌতিকতার সাথে মানানসই হতে হবে।)



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯১১৫৪
পুরোন সংখ্যা