চাঁদপুর, শুক্রবার ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭ মাঘ ১৪২৬, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কাজী ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী লায়ন কাজী মাহাবুবুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ----রাজেউন) || চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম মুত্যুবরণ করেছেন। বাদ আসর তালতলা করিম পাটোয়ারী বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৭-সূরা মুর্সালাত


৫০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। ওযর-আপত্তি রহিতকরণ ও সতর্ক করার জন্য


৭। নিশ্চয়ই তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা অবশ্যম্ভাবী।


৮। যখন নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত হইবে,


 


assets/data_files/web

যে ব্যাপারকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা আমার নেই, তা নিয়ে আমি কখনো ভাবি না।


-বুথ টাসিংটন।


 


 


 


আল্লাহর আদেশ সমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্ট জীবের প্রতি সহানুভূতি-ইহাই ইসলাম।


 


ফটো গ্যালারি
ঝড়ু নামের কাকটি
নিশাত সুলতানা
৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বনের নাম ঝিলিমিলি। এই বনটি আর সব বন থেকে আলাদা। কারণ এত পরিস্কার বন সাধারণত কোথাও চোখে পড়ে না। সেই বনে বাস করে অনেক পশুপাখি। তারা সবাই সবার বন্ধু। তারা মিলেমিশে একসঙ্গে বনটি পরিস্কার রাখে। তবে বন পরিস্কার রাখার নেতৃত্ব দেয় মূলত এক সাহসী তরুণ কাক। নাম তার ঝড়ু। তবে ঝড়ু নামটি এমনি এমনি রাখা হয়নি। একদিন খুব ঝড়ের মধ্যেই নাকি ডিম ফুটে বেরিয়ে এসেছিল ঝড়ু। ঝড় থামা পর্যন্ত নাকি তর সয়নি তার। ডিম থেকে বের হয়েই বাসা পরিস্কার করতে শুরু করেছিল সে। এক নিমিষে খেয়ে সাবাড় করেছিল তার বাসায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা।



ঝড়ু এখন বড় হয়েছে। তার ভয়ে এলাকা থেকে বিদায় নিয়েছে মশা-মাছির দল। ডোবা-নালাতে মশা ডিম পাড়তেই সেখানে ঝড়ুর নির্দেশে হাজির হয় মাছের দল। এক নিমিষেই তারা খেয়ে সাবাড় করে মশার লার্ভা। উচ্ছিষ্ট কিংবা ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা সম্পূর্ণ নিষেধ ঝিলিমিলি বনে। ময়লা-আবর্জনা খেয়ে বন পরিস্কার রাখতে ঝড়ু ও তার দলবলের জুড়ি নেই। শুধু কি তাই! সপ্তাহে তিনদিন ঝড়ুকে আবার পশুপাখির স্কুলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর ক্লাস নিতে হয়। এতে ঝিলিমিলি বনের ছোটরাও শিখছে কীভাবে বন পরিস্কার রাখতে হয়। ঝড়ুকে খুব ভালোবাসে ঝিলিমিলি বনের পশুপাখিরা।



তবে একটি পাখি আছে যে ঝড়ুকে দুই চোখে দেখতে পারে না। সে হলো ময়ূর পরিবারের প্রধান রঙলাল। দেখতে সুন্দর হলে কী হবে; ভীষণ অলস আর ঘুমকাতুরে সে। বাসাবাড়ি পরিস্কার রাখতে মোটেই ভালো লাগে না তার। ঝড়ূ মাঝে মধ্যেই রঙলালের বাসায় আসে। রঙলাল তার ঘরে কিন্তু কমই থাকে। প্রায় সময়ই সে তার ঘরের পাশে মরা চালতা গাছের ওপর বসে ঝিমায়। ঝড়ু রঙলালকে বাসা পরিস্কার রাখার কথা বললেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে সে। বলে, 'নিজের চরকায় তেল দাও তো বাপু! এত পরিস্কার থেকে তোমার কী লাভটা হয়েছে শুনি! তোমার গায়ের কালো রং তো আগে যা ছিল এখনও তাই আছে। একটুও উন্নতি হয়েছে কী? কিন্তু আমার পেখম দেখ। কেউ কি বলবে আমি নোংরা থাকি?' এই বলে রঙলাল তার পেখম মেলে ধরে আর চারদিক আলো ঝলমল করতে থাকে। ঝড়ু তখন মন খারাপ করে ঘরে ফিরে আসে। ভাবে, দেখতে এত সুন্দর রঙলাল কেন যে এত নোংরা থাকে!



রঙলাল আর তার গিনি্ন রঙিলা কেউই তাদের ঘর পরিস্কার করে না। দিনের পর দিন তাদের ঘরের আশপাশে জমতে থাকে ময়লা আর নোংরা আবর্জনা। তাদের ঘরভর্তি পোকামাকড়। কী যে তার দুর্গন্ধ! একদিন এক শিয়াল তাদের বাসা থেকে সামান্য দূরে ফেলে গিয়েছিল ছাগলের মাথার আস্ত এক শুকনো খুলি। আরও জমা হয়েছিল মাটির ছোট-বড় ঢেলা, গাছের ছোট ডাল, শুকনো পাতা, পাখির পালক ইত্যাদি। কিন্তু সেসব কেউ সরালো না। ঝড়ু কয়েকবার তা পরিস্কার করতে চাইলেও বারবার তাকে তাড়িয়ে দিল রঙলাল।



এদিকে রঙিলার ডিম পাড়ার সময় ঘনিয়ে এলো। কিন্তু তারপরও রঙলাল আর রঙিলা তাদের বাসা পরিস্কার করল না। অবশেষে নোংরা বাসাতেই ছয়টি ডিম পাড়ল রঙিলা। ডিমে তা দেওয়া শুরু করার ১৩ দিনের মাথায় হঠাৎ আকাশ কালো করে খুব মেঘ হলো। বনের পশুপাখিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ল তাদের বাচ্চা-কাচ্চা, ছানা-পোনা সামলাতে। কিন্তু রঙলাল তখনও ঝিমুচ্ছে। আর রঙিলা ডিম ফেলে কোথায় যেন গিয়েছে। ছয়টি ডিম পড়ে আছে তাদের বাসায়। হঠাৎ কোথা থেকে এক দমকা হাওয়া এলো। প্রচ- জোরে কোথায় যেন বাজ পড়ার শব্দ হলো। বাসার পাশে গাছের ডালে বসে ঝিমুতে থাকা রঙলাল চমকে জেগে উঠল। কিন্তু এ কি দেখছে সে! প্রচ- বাতাসে তাদের বাসায় থাকা ডিমগুলোর ওপর উড়ে আসছে ছাগলের মাথার খুলিটি। এখন কী করবে রঙলাল! খুলিটি যে গতিতে উড়ে আসছে তাতে সেটি রঙলাল বাসায় পৌঁছানোর আগেই ডিমগুলোর ওপর আছড়ে পড়বে। ময়ূরী দূর থেকে চিৎকার করছে। কী করবে এখন রঙলাল! ঠিক সে সময়ই কোথা থেকে উড়ে এলো ঝড়ু। ছোঁ মেরে খুলিটি ধরে তা ফেলে এলো দূরে। আর রঙলাল আর রঙিলা ব্যস্ত হয়ে পড়ল মাটির ঢেলা থেকে ডিমগুলো বাঁচাতে। একটু পরে দমকা হাওয়া থেমে এলো। ঝড়ু ফিরে এলো রঙলালের বাসায়। দেখল, রঙলাল আর রঙিলা মিলে এরই মধ্যে বাসার চারপাশ পরিস্কার করতে শুরু করেছে।



এই প্রথম ঝড়ুকে দেখে এগিয়ে এলো রঙলাল। বলল, 'বড্ড ভুল হয়ে গেছে আমার। আরেকটু হলেই আমাদের ডিমগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যেত। আমার আর ময়ূরীর আর কখনও ছানাদের মুখ দেখা হতো না। তুমি কতবার আমাকে বাসা পরিস্কার রাখতে বলেছ! আমি শুনিনি। বরং আমি তোমার গায়ের রং কালো বলে কত অপমান করেছি! আর কখনও আমি তোমাকে এমন কথা বলব না।'



রঙলাল আর রঙিলা ঝড়ুকে বলল, 'এসো, তোমাকে একবার আমাদের মতো করে সাজিয়ে দিই।' কাক প্রথমে রাজি হলো না। কিন্তু তারা দুজন মিলে এত করে অনুরোধ করল যে, শেষ পর্যন্ত রাজি হলো ঝড়ু। তারা ঝড়ুকে ময়ূর সাজিয়ে দিল। কিন্তু ময়ূর সাজে কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল ঝড়ূর! এত বড় লেজ কীভাবে সামলায় রঙলাল কে জানে! ঝড়ু ওদের জিজ্ঞেস করলো, 'আমাকে দেখতে কেমন লাগছে?' তারা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, 'খুব সুন্দর লাগছে। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে কালো রঙেই তুমি বেশি সুন্দর। তোমার কালো রঙ যে এত সুন্দর তা আমরা আগে বুঝিনি। তবে তোমার মনটা কিন্তু তার চাইতেও সুন্দর।' ঝড়ু হেসে বলল, 'আমিও জানি, কালোতেই আমি সুন্দর। কারণ এই রংটা আমার নিজের।' রঙলাল আর রঙিলা বলল, 'আমরা চাই আমাদের ছানাগুলো যেন তাদের ঝড়ু মামার মতো সুন্দর মনের অধিকারী হয়।'



ঝড়ু বলল, 'তোমাদের ছানারা ডিম ফুটে বেরিয়ে আসবে কয়েকদিনের মধ্যেই। সামান্য বড় হলেই ওদের স্কুলে পাঠিয়ে দিও। আমি ওদের শিখিয়ে দেব কীভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়।'



রঙলাল আর রঙিলা বলল, 'নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই।'



ময়ূরের বেশ ছেড়ে মনের আনন্দে ঝড়ু ফিরে গেল তার বাসায়।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২১২৭৮
পুরোন সংখ্যা