চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছেলেটির করোনা ভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নয়। তথ্য সূত্র: আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল। || বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে সনু সাহা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় নি : সিভিল সার্জন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৭-সূরা মুল্ক


৩০ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬। যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি, উহা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
রক্তে রাঙানো ভাষার মিনার
আশিক মুস্তাফা
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফাল্গুনের প্রথম রোদটা তার আলোমাখা ভালোবাসা দিয়ে বিদায় জানিয়ে দিল শীত বুড়োটাকে। মনের সব কটা দরজা-জানালা খুলে অনেকটা প্রকাশ্যেই নিমন্ত্রণ জানাল ঋতুরাজ বসন্তকে। রাজা বলে কথা! গোলাপ ছাড়া যেমন ভালোবাসার দিনটা পূর্ণতা পায় না, তেমনি বসন্ত ছাড়া ঋতুরও যেনো পূর্ণতা আসে না। আসতে পারে না। প্রকৃতিতে ভালোবাসা বিলাতেই আগমন বসন্তের। এ বসন্তের কত ছন্দ, কত গন্ধ। হলুদ বা রক্ত গাঁদা, বেলী কিংবা জুঁই, আবার ছোট্ট ক্যালেনডুলারা সদলবলে বসন্তের রূপ বিলিয়ে যায় অনেকটা বর্ষায় গ্রাম থেকে নদীর দিকে ছুটে যাওয়া খালের মতো করে।



বসন্তের রূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে যেমন অনেক ফুল ফোটে, ডেকে যায় কিশোরী কোকিল; ঠিক তেমনি নিজেকে রাঙাতে আপনিও অনুসরণ করেন নানা ছলাবলা, কলাকৌশল। জানি, এ কৌশলের ট্রাকে নিজেকে যেমনই ছোটান না কেন; ক্ষণিকের জন্যও ভুলে যান না আপনার নিজস্ব ভাষা। আপনি নিশ্চয়ই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ক্ষেপে গেলেও চিৎকার করে ওঠেন বাংলায়। কারণ এ বাংলাটা যে মিশে আছে আপনার অস্তিমজ্জায়!



মহাজাগতিক কোনো নক্ষত্রের দিকে



চায়ের কাপ থেকে শুরু করে বাদাম খোসাথ সবত্রই ছড়িয়ে থাকে আপনার মধুর ভাষা। যার সামনে বারবার আপনার মাথা নুইয়ে আসে। নীরবে-নিভৃতে বিনম্র শ্রদ্ধায় আপনি মাথা নুইয়ে দেন ভাষার মিনারে। কারণ তারুণ্যের আকাশ কখনও ঘোলাটে হয় না। এ উন্মাদ আকাশটাকে কাবু করতে পারে না বৈশাখী ঝড়-ঝাপটা কিংবা সিডর, আইলা বা নার্গিসরাও। অশনিসংকেতও ভেসে আসে না সেই ক্রাশ খাওয়া আকাশে!



স্বপি্নল এ আকাশ মাথায় নিয়ে চলা তরুণরা দলছুট রাতকানাদের দলে নয়, বুবুন চিলের মতো প্রসারিত তাদের দৃষ্টি। তারা জানে, ভাষা আন্দোলনের লক্ষ্যে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির সঙ্গে ছিল ভাষার ব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক দাবি-দাওয়া। তারা জানে, তাতে ছিল সর্বস্তরের বাংলার প্রচলনও।



জানি, সর্বস্তরে বাংলার প্রচলনের পথে হাঁটছেন আপনিও। এও জানি যে, আপনারা যা কিছু মহান তার সঙ্গেই আছেন, থাকবেন। নিজের মতো করে দেশটাকে বুকে বাঁধেন, এ বাংলা ভাষাটাকে আগলে নিয়ে ছুটে চলুন মহাজাগতিক কোনো নক্ষত্রের দিকে। আর এ দীর্ঘপথে নিশ্চয়ই বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবেন সেই ভাষা শহীদদের।



বুকপকেটে ভাষার ঘ্রাণ



ক্যাম্পাস, বাসা কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথে আপনি হাঁটছেন। ভেসে বেড়াচ্ছেন আকাশে কিংবা নীল পানি ভেঙে ছুটছেন গন্তব্যের দিকে। গন্তব্য একেকজনের একেকটা হতে পারে। এই হতে পারাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভাষা? যা দিয়ে আপনি আপনার মনের আকুতি তুলে ধরেন। হৃদয়ের একান্ত গহিনের কথা আওড়ে যান। সে তো সবারই এক।



সেই এক ভাষাটাকে বুকে ধারণ করেন বেশ যত্নে। এতে কাউকে দেখানোর কিছু নেই। কেউ আপনাকে প্রশ্নের মুখোমুখিও দাঁড় করাবে না। কারও সেই অধিকারও নেই। আর অধিকার থাকলেও তা আপনি কেন দেবেন? ভাষাটা যে তার মতো আপনারও হাড়ের প্রতিটা ভাঁজে মিশে আছে। লুকিয়ে আছে ঘামের কতায়। ভাষার গন্ধটা তো আপনার বুকপকেটে লেগেই থাকে!



এই ঘ্রাণটা আপনার প্রতিটা কাজে উৎসাহ জুগিয়ে যায়। আপনাকে উত্তাল করে তোলে। উন্মাদনা দেয় এগিয়ে যাওয়ার স্বাপি্নক পথে। ভাষার এই উন্মাদনা বুকে নিয়ে বুকটাকে উঁচু করে হাঁটুন। এতে আপনি যে নিজেকেই নতুন করে চিনতে পারবেন নিজের ভেতর থেকে!



ভাষার ক্ষমতা



এক শ্রেণি আছে, ভাষা নিয়ে কানকথা ছড়িয়ে যায়। এই এক শ্রেণী কিংবা ভিন্ন শ্রেণী খোঁজার দরকার নেই আপনার। নিজের জায়গায় থেকে ভাষাটাকে আপনি আগলে রাখুন। ভিন্ন ভাষা আমাদের শিখতেই হয়। জানতেই হচ্ছে তাই বলে ভাষাটাকে মানিব্যাগে ফেলে রেখে নয়। বিদেশিদের সঙ্গে তার ভাষায় কথা বলুন। পারলে তাকে দু-এক লাইন বাংলাও শিখিয়ে দিন। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কথা বলতে গিয়ে সৃজনশীলতার চর্চাটা চালিয়ে যেতে বাংলাটাকেই সামনে এনে ধরুন।



ভাষার প্রতি আপনার শ্রদ্ধাটা বলে বেড়ানোর চেয়ে কাজে লাগানোটাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে উপস্থাপন করতে গেলেও ভাষাটাকে সামনে রাখতে হবে। কানকথায় কান না দিয়ে নিজে ঠিক থাকুন। আশপাশটা ঠিক রাখুন। ভাষার প্রতি যে আত্মত্যাগ, সেটা শ্রদ্ধাভরে মনে গেঁথে রাখুন। ভাষা তখন তার ক্ষমতাবলে আপনাকে পেঁৗছে দেবে সর্বোচ্চ স্থানে।



রাক্ষসের পেট থেকে



ছোট্ট জীবন ভালোই যাচ্ছে আপনার। এই জীবনটা রকেট গতিতে চলতে আছে চলতে থাকুক; কিন্তু কিছু বলতে গিয়ে একটু থমকে দাঁড়ান। কী বলছেন, কার সঙ্গে বলছেন, কেনই বা বলছেন; তা ভাবুন একবার। আপনার ভাষাটা কিন্তু বড্ড ওজনি। পাল্লায় নিলে যার কাছে-পিঠে রাজ্যের ভূরি ভূরি ভাষা ঘেঁষতেই পারবে না।



এই ওজনের কল্যাণেই ভাষার দৌড়ে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা। আর এ ভাষাটা এখন শুধু বাংলাদেশেই পালিত হচ্ছে না। বিনম্র শ্রদ্ধায় দেশে দেশে পালিত হচ্ছে গৌরবময় মাতৃভাষার এ স্বর্ণালি দিন। জানেনই তো, প্রিয় এ বাংলা ভাষাটাকে রাক্ষসের পেট থেকে টেনে বের করে আজকের ভাষার দৌড়ে ছয় নম্বরে দাঁড় করাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল আপনার-আমার পূর্বসূরিদের।



আজ থেকে ঠিক ৬৩ বছর আগে আপনার-আমার মতো তরুণ ছাত্ররাই জেগে উঠেছিলেন ভাষাটাকে ধরে রাখতে। রাক্ষসের পেট থেকে বের করে আনতে। রফিক-বরকতরা শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঠিকই নেমেছিলেন রাজপথে। উদ্যত রাইফেলের সামনে বুক পেতে ভেঙে দিয়েছিলেন ১৪৪ ধারা। তখনও হয়তো বসন্ত ছিল। ঠিক, আজকের মতো। সেই রোদ ঝলমল বসন্তে উত্তাল হয়ে উঠেছিল, 'মাতৃভাষা বাংলা চাই' সস্নোগান। তারপর তো ইতিহাস। আমাদের প্রাণ খুলে কথা বলা।



জানি, জীবন নিয়ে আপনি দৌড়ের ওপর আছেন, তা থাক। তবে আপনার তৃষ্ণার জলটা হোক বাংলার। আর এ ভাষাতেই তৃপ্ত হোক আপনার শেষ চুমুক!


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৫২৫৪
পুরোন সংখ্যা