চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২০, ৩১ বৈশাখ ১৪২৭, ২০ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৯। তাহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ তাহার নিকট না পেঁৗছিলে সে লাঞ্ছিত হইয়া নিক্ষিপ্ত হইত উন্মুক্ত প্রান্তরে।


৫০। পুনরায় তাহার প্রতিপালক তাহাকে মনোনীত করিলেন এবং তাহাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করিলেন।


 


 


 


 


উচ্চাশা যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই শান্তির শুরু হয়।


-ইয়ং


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


করোনাকালে সোনামণিদের যত্ন
সুরঞ্জিত কর
১৪ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিশুদের জীবন দলছুট হরিণের মতো। তারা গতিবন্ধ জীবন হতে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা বাঁধার প্রাচীর ভাঙ্গতে চায়। শিশুরা চায় নীল আকাশের নিচে উন্মুক্ত জীবন যেখানে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকবে না। খোলা আকাশের নিচে, স্কুলে, নিজের মতো খেলতে চায়, শিখতে চায় আনন্দের সাথে। তাই শিশুর মানসিক ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হয়। কিন্তু এ স্বপ্নকলি আমাদের আদরের সোনামণিরা মরণঘাতী করোনা সম্পর্কে জানেই বা কতটুকু? করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব আজ আতংকিত। আমাদের দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে কোডিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অনেক দিন ধরেই স্কুল, কলেজ বন্ধ। শিশুরা বাসাতেই সময় কাটাচ্ছে। এমন অবস্থায় শিশুসন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা বাড়ছে। এ সময় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা খুব প্রয়োজন।



প্রথমত শিশুদের বাইরে না যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সুকৌশলে। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অভিভাবকদের জরুরি দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে এসেই শিশুদের কাছে আগে যান, কিংবা জড়িয়ে ধরে আদর করার প্রবণতা অনেকেরই। এটা করা যাবে না। আপনারা জরুরি কারণ ছাড়া বাইরে যাবেন না। বাহির থেকে এসে পোশাক পরিবর্তন করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া, অজু করার মতোই সব কিছু পরিচ্ছন্ন করা। আর সবচেয়ে ভালো হয় একেবারে গোসল করে পোশাক-পরিচ্ছদ ধুয়ে তারপর শিশুর কাছে যাওয়া উত্তম। এ সময় আপনার সন্তানদের অতিথি, গৃহশিক্ষক, গৃহকর্মী, গাড়ি চালকদের সংস্পর্শে আনা যাবে না। শিশুদের হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার সম্পর্কে ধারণা দিন। এ সময় দিনে বেশ কয়েকবার তো বটেই, প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে, টয়লেট থেকে আসার পর হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এখানে একটা মজার ব্যাপার যোগ করা যায়, আপনি ওদের দিয়ে একটি হাত ধোয়ার কৌশলের ছবি অংকন করাবেন এবং ঘরের দৃশ্যমান জায়গায় ঝুলিয়ে রাখতে বলবেন এবং হাত ধোয়ার প্রতিযোগিতা মজার ছলেই দিতে পারেন। একটি দাগ কাগজে হাত ধুয়ে এসেই টিক চিহ্ন দিবে। সপ্তাহে যার যত বেশি হবে সে হবে 'ফ্রেস হেন্ড অফ দি উইক'। এতে শিশুরা মনের আনন্দেই হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রাণিত হবে। হাত না ধুয়ে শিশু যেন মুখ, চোখ, নাক না স্পর্শ করে তা শেখাতে হবে। পরিবারের কারো ঠা-াজনিত সমস্যা দেখা দিলে শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখুন। মনে রাখতে হবে জ্বর, ঠা-া, হাঁচি, কাশি হলেই যে করোনা হবে এমন কথা নয়। এটা সাধারণ ফ্লুজনিত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে সবকিছু আলাদা ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন শিশুদের টেলিভিশনের প্রচারিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, সংবাদ দেখার সুযোগ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে একটা মজার কাজ করা যেতে পারে, প্রতিদিন নিজেদের 'পারিবারিক টক শো' আয়োজন করতে পারেন। শিশুরাও বড়দের সাথে অংশ নিবে। এ আলোচনায় দৈনিক আপডেট চলে আসবে। শিশুদের মধ্যে দেখবেন তথ্যসংগ্রহ করার আগ্রহ বেড়ে যাবে এবং মহামারী করোনার বিষয়ে সচেতন হবে। ঘরের যেসব স্থান বার বার স্পর্শ করা হয় যেমন : দরজা জানালার হাতল, টয়লেট দরজার হাতল, চেয়ার, টেবিল, ডায়নিং, মোবাইল, লেপটপ, কিবোর্ড, টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল, সোফা সেট ইত্যাদি জীবাণুনাশক দিয়ে প্রতি দিন পরিষ্কার রাখুন। শিশুদের হাতে টাকা-পয়সা দেয়া যাবে না। প্রতি দিন ঘরের ফ্লোর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। শিশুদের ব্যবহৃত জামা-কাপড় প্রতিদিন সাবান, ডিটারজেন্ট দিয়ে ধৌত করা খুবই জরুরি। এ সময় খাবার তালিকায় প্রতিদিন অবশ্যই সুষম খাদ্য রাখতে হবে। যেসব খাবারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অবশ্যই নিয়মিত খেতে হবে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এসব খাবার অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি সাপ্তাহিক তালিকায় রাখা উচিৎ। ভিটামিন সি, ই, এ, বি-সমৃদ্ধ খাবার শিশুদের খেতে দিন। এ সময় শিশুদের লেবু, পেয়ারা, কলা, কমলা, আমলকি খেতে দিন। বাজার থেকে মাছ, মাংস, শাখ সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন এবং কম সিদ্ধ অবশ্যই খাওয়া যাবে না। এ সময় একটি ভেষজ প্যাকেজ নেয়া যেতে পারে এবং তা আনন্দের সাথেই। একটু ছড়া লেখার দুঃসাহস দেখালাম আরকি! ছড়াটি আবৃত্তি করান শিশুদের দিয়ে, 'রসুই ঘরের রসুন, তার আছে অনেক গুণ, একটু খানি লেবুর রস, টক টক মজার বেশ, হলুদ আমার প্রিয় রং, চলে যাবে করোনার ঢং, নিম তুলসির পাতাখানি, এনে দাওগো মামণি' শিশুদের দিয়ে এই ছড়াটি আবৃত্তি করাবেন প্রতিদিন। ওদের হাতে লেখা ছড়াটি এবং সাথে ছবিও থাকবে, ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন। তাহলে শিশুরা এ ভেষজগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হবে। প্রতি দিন একটু লেবুর সরবত, আদা চা, তুলসি পাতার চা, এক টুকরো রসুন, এক টুকরো কাঁচা হলুদ, দুই/তিনটি নিম পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং শিশুদেরও দিতে পারেন। এ ভেষজ প্যাকেজ শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিবে। এ সময় পরিবারের সবাই একটু বেশি পানি খাবেন এবং শিশুদের বারবার পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। হালকা গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে প্রতিদিন তিন-চারবার খাবেন।



এবার শিশুদের পড়াশোনার বিষয়ে একটু বলা দরকার। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক লেখাপড়ার বিষয়টিতে অবশ্যই ভিন্নতা আসবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ শিশুরা স্কুল ভীষণ পছন্দ করে। সেখানে তারা ওদের প্রিয় শিক্ষকদের সহচর্যে হেসে খেলে আনন্দের সাথে শিখবে। কিন্তু এ সময় তারা বাসায় বন্দী। এই অবস্থায় ওদের লেখাপড়া থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। অভিভাবকদের এ সময় বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। টেলিভিশনে প্রচারিত 'আমার ঘর, আমার স্কুল'-এ সিডিউল অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ দেখানো হচ্ছে। এ পাঠগুলো নিয়মিত শিশুদের দেখানোর দায়িত্ব আপনাদের। এ সময় অভিভাবক হিসেবে আপনিও পাশে থাকবেন এবং একজন সহযোগী হিসেবে অনেক কিছুতে সহায়তা করতে পারবেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মোবাইল নাম্বার নিশ্চই আপনাদের কাছে আছে। ফোনে শিক্ষকদের সাথে নিজে অথবা শিশুরা পড়াশোর গাউডলাইন নিতে পারে। যাদের বাসায় নেটের ব্যবস্থা আছে তারা টিচারদের সাথে ভিডিও ক্লাসে অংশ নিতে পারে। যে সকল শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি রিডিং সাবলীলভাবে পড়তে পারে না ওদের এই সময়ে এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার চমৎকার একটি সময়। অভিভাবকগণ, বড় ভাই-বোন এ সময় শিশুদের মেইন বইগুলো বারবার রিডিং পড়াবেন। পাঠের বিষয় বস্তু বুঝিয়ে দিবেন এবং সঠিক উচ্চারণের বিযয়টি লক্ষ্য রাখবেন। প্রয়োজনে মোবাইলে শিক্ষকদের সাহায্য নিবেন। শিশুদের দিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর সমাধান করিয়ে নিবেন। এ সময় শিশুদের সাথে বর্ণ, বাক্যগঠনে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করতে পারেন। রিডিং পড়া ও সুন্দর হাতের লেখার উপর অনুষ্ঠান করতে পারেন। রাতে পরিবারের সবাই একটি কক্ষে বসবেন, শিশুরা আপনাদের সামনে কোনো নির্দিষ্ট পাতা থেকে কোনো নিদিষ্ট অংশ পড়ে শোনাবে। ওদের হাততালি, প্রশংসা কিংবা পুরস্কার দিয়ে অনুপ্রেরণা দেবেন। দেখবেন বলা লাগবে না, ওরা মনের আনন্দে-মনের মাধুরী দিয়ে সময় পেলেই পড়বে।



এবার আসুন সুন্দর হাতের লেখা নিয়ে কিছু করা যাক। আমরা সবাই সুন্দরের পূজারী। সুন্দর হাতের লেখা মানে ভালো স্টুডেন্ট, ভালো মার্ক পাওয়া, এ কথাটা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাবে না। একটি পরীক্ষার খাতায় প্রথমে শিক্ষকের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে সুন্দর হাতের লেখা। তাই ভালো নাম্বার পেতে সুন্দর হাতের লেখা খুবই প্রয়োজন। এ দীর্ঘ বন্ধে আপনি আপনার সন্তানের হাতের লেখার উৎকর্ষ সাধন করতে পারেন। এ সময় পরিবারের যার লেখা সবচেয়ে সুন্দর তিনি শিশুদের সহায়তা করতে পারেন। একটি মজার কাজ করা যেতে পারে, বাসার কোনো একটি স্থানে 'হেন্ড রাইটিং কর্নার' করতে পারেন। তাদেরকে প্রথমে একটি লেখা সিলেক্ট করে দিবেন। ওরা প্রতিদিন ওই লেখাটি লিখবে এবং একটি কপি তারিখ অনুযায়ী ওই কর্নারে সাজিয়ে রাখবে। সপ্তাহের প্রথমদিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত এভাবে ক্রমানুসারে সাজিয়ে রাখবে। দেখবেন সপ্তাহের শেষের দিনের লেখাটি চমৎকার হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি একটি লেখার মডেল দিতে পারেন কিংবা প্রতিদিনের লেখার। ভুলগুলো প্রতিদিন ধরিয়ে দিবেন, তবে কখনই ওদের লজ্জা দেয়া যাবে না। সপ্তাহের শেষদিন পরিবারের সবাই মিলে তার লেখাটির উপর আলোচনা, সংবর্ধনা, পুরষ্কার প্রদান ইত্যাদি রাখতে পারেন। এ দীর্ঘ বন্ধে শিশুদের মানসিক বিকাশে অন্তরায় হবে। এক্ষেত্রে ওদের বিনোদন, সৃজনশীল কাজ দিয়ে মনকে সতেজ রাখতে হবে। 'পড়িলে বই, আলোকিত হই' এই বহুল প্রচারিত শ্লোগান ওদের শিখাবেন।



শিশুরা চায় বিশ্বকে জয় করতে। অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনার ইচ্ছা ওদের স্বভাব। এ সময় শিশুদের মজার মজার গল্পের বই, কবিতার/ছড়ার বই, মনিষীরদের জীবনী, সাইন্স ফিকশন, শিশু একাডেমি প্রকাশিত শিশুতোষ বইগুলো, পেপার ইত্যাদি পড়তে উৎসাহিত করবেন। ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুযায়ী তাদের মৌলিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবেন। নিজ নিজ ধর্ম অনুসারে যেমন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত, পবিত্র গীতা পাঠ, চ-ী পাঠ, ভজন কীর্তন, উপাখ্যান, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, পবিত্র বাইবেল পাঠ ইত্যাদি শেখাবেন। গান, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, অভিনয়, উপস্থিত বক্তব্য, কৌতুক, ধাঁধা চারু ও কারু শিল্প এ সকল বিষয়ে শিশুদের আগ্রহ প্রবল। এ সময় বাসায় ক্ষুদ্র পরিসরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পর্ব আয়োজন করতে পারেন। পরিবারের সবাই বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় একটি রুমে বসবেন, শিশুরা আপনাদের সামনে গান, আকৃত্তি, গল্প, অভিনয়, নৃত্য ইত্যাদি উপস্থাপন করবে। হয়ে গেলো একটি আনন্দ ঘন সময়। এ সময় ওদের হাতে তালি, উৎসাহসূচক বাক্য বলে কিংবা পুরস্কার ও দিতে পারেন। এখন আপনারা অনেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকেন। শিশুদের উপস্থাপনাগুলো ভিডিও করে কিংবা লাইফ দিতে পারেন। দেখবেন ওরা অনেক মজা পাবে। ওরা নিজেদের আত্মপ্রকাশ করতে চায়। ওদের নিজেদের করা বিষয়গুলো যখন ওরা নিজেরা দেখবে, অনেক খুশি হবে ও আনন্দ পাবে। নিজকে একজন শিল্পীও মনে করবে।



দেয়ালিকা তৈরি কিংবা চিত্রাংকন প্রদর্শনী করা যেতে পারে। এটা সাপ্তাহিক হতে পারে। শিশুরা এক সপ্তাহে কিছু ছবি অঙ্কন করে ঘরের কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঝুলিয়ে রাখবে। সপ্তাহের শেষদিন এ খুদে চিত্রশিল্পীর প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করবেন। পরিবারের সবাই মিলে এই আর্ট গ্যালারী পরিদর্শন করবেন। ছবি তুলবেন, অনুপ্রেরণা দিবেন, ধন্যবাদ জানাবেন। এ সময় ওদেরকে একটু সংবর্ধনাও দিতে পারেন। এ ছবিগুলো ফেসবুকেও দিয়ে দিতে পারেন। দেয়ালিকাও একইভাবে করা যেতে পারে। ওরা ওদের লেখা কবিতা, ছড়া, চিত্রকর্মগুলো একটি বোর্ডে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিবে। দেয়ালিকার একটি নামকরণ দিতে পারেন। পরিবারের কর্তা যিনি, তিনি এ দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচন করতে পারেন। হয়ে গেলো স্বল্প পরিসরে আরেকটি মজাদার পর্ব। এ সময় শিশুদের রঙিন কাগজ কেটে বিভিন্ন শিল্পকর্ম করতে আগ্রহ সৃষ্টি করবেন। এতে তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। বাড়িতে রান্নার কাজে কিংবা বাগান পরিচর্যায় শিশুদের সাথে রাখুন। খেলাধুলার প্রতি শিশুদের প্রবল আগ্রহ। এ সময় যেহেতু আউটডোর গেইমস্গুলো করা যাবে না সেহেতু বাসার ভেতরে বিভিন্ন ইনডোর গেইমস্ খেলতে পারে ওরা। দাবা, লুডু, ক্যারম বোর্ড, দড়ি লাফ, ওয়ার্ড পাজল এ ধরনের বিভিন্ন খেলা ওরা খেলতে পারে। আপনারাও ওদের সাথে খেলবেন, মজা করবেন, সময় কাটাবেন। আমাদের এ সোনামণিরা একদিন বড় হয়ে এদেশের হাল ধরবে। তাদের মধ্যে লুক্কায়িত প্রতিভা বিকাশ করার দায়িত্ব আপনার-আমার সকলের। এখন যেহেতু সারাদেশে করোনার ঝুঁকিতে আছে, তাই ঘরেই এখন তাদের স্বপ্নভূবন। এজন্যে অভিভাবক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব একটু বেড়ে গেলো। একজন শিক্ষক হিসেবে সত্যিই ওদের জন্য এখন অনেক কষ্ট পাই, দেখি না ওদের অনেক দিন। ওদের শিশুসুলভ আচরণগুলো হৃদয়ে নাড়া দেয়। ওদের হাসিমাখা মুখগুলো শিহরিত করে প্রতিদিন।



আশায় থাকি, কবে আবার ওদের সাথে দেখা হবে? কথা হবে, খেলা হবে? ওদের প্রতি আপনাদের দেয়া এই পবিত্র দায়িত্ব আবার কবে ফিরে পাবো? হয়তো সৃষ্টিকর্তা মঙ্গল করবেন নিশ্চয়ই। আবার কাটবে অাঁধার, রঙিন হবে চলার পথ। ফিরে আসবে প্রাণচাঞ্চল্যতা। আমাদের অনেক আদরের মিষ্টি সোনামণিদের পদচারণায় মুখরিত হবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্বপ্নকলিদের স্বপ্ন যেনো আমরা সবাই মিলে বাস্তব রূপে রাঙিয়ে দিতে পারি।



 



লেখক : প্রধান শিক্ষক, মৈশাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৮৬৭৮৬
পুরোন সংখ্যা