চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২০, ৩১ বৈশাখ ১৪২৭, ২০ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৯। তাহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ তাহার নিকট না পেঁৗছিলে সে লাঞ্ছিত হইয়া নিক্ষিপ্ত হইত উন্মুক্ত প্রান্তরে।


৫০। পুনরায় তাহার প্রতিপালক তাহাকে মনোনীত করিলেন এবং তাহাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করিলেন।


 


 


 


 


উচ্চাশা যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই শান্তির শুরু হয়।


-ইয়ং


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফোনটা নীলপরী নিয়ে গিয়েছিল
লাবণ্য লিপি
১৪ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মামণি যখন অফিস থেকে এলো তিতির তখন মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। মামণি বললেন, এখন কি ফোন নিয়ে খেলার সময়? পড়তে বসো। হোমওয়ার্কগুলো শেষ করে রাতের খাবার খেতে আসবে।



মা! প্লিজ! আর একটু খেলে তারপর পড়তে বসব। তিতির আবদার করে।



কিন্তু এতে তোমার সময় নষ্ট হচ্ছে সোনা। সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। বলতে বলতে মামণি বাথরুমে ঢুকে গেলেন। তারপর মামণি যখন বাথরুম থেকে বের হলেন, তখনও তিতির ফোনে খেলছিল। রান্নাঘরে ঢুকে মামণি খাবার গরম করে টেবিলে সাজিয়ে দিলেন। বাবা টিভিতে খবর দেখা শেষ করে তিতিরকে ডাকলেন, কোথায় আমার তিতির মা। খেতে এসো।



তিতির ডাইনিং টেবিলে এসে বসল। খেতে বসেও তিতির ফোনে ফানি ভিডিও দেখছিল। একটু পরপর হাসছিল আর ঠিকমতো খেতেও পারছিল না। তিতিরের বাবা ও মামণি দু'জনেই এটা খেয়াল করলেন। কিন্তু এবার আর কিছু বললেন না।



পরদিন স্কুলের ক্লাসটিচার তিতিরের মামণিকে ফোন করে জানালেন, তিতির লেখাপড়ায় ভীষণ অমনোযোগী হয়েছে আজকাল। ঠিকমতো বাড়ির কাজও করে না। ইদানীং ওর চোখেও মনে হয় সমস্যা হয়েছে। বোর্ডের লেখা দেখেও লিখতে ভুল করে।



খুব মন খারাপ নিয়ে অফিস থেকে মামণি বাসায় ফিরলেন। বাসায় ফিরে দেখলেন, আগের মতোই তিতির ফোন হাতে নিয়ে গেম খেলছে। আজও মামণি কিছু বললেন না। তিতিরকে হোমওয়ার্ক করতেও বললেন না। বাবাও ফিরলেন। বাবা ঘরে ঢুকে তিতিরের দিকে তাকিয়ে হাসলেও ভেতরে গিয়ে মামণির সঙ্গে কথা বলার পর কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলেন। অনেকটা সময় এভাবেই কেটে গেল। তারপর খাবার সময় বাসায় যিনি কাজ করেন সেই খালা এসে ডেকে গেলেন। খেতে বসেও সবাই চুপচাপ। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। তিতির আবারও ফোনে ভিডিও দেখতে দেখতেই খাওয়া শেষ করল। রাতে ও কোনো রকমে হোমওয়ার্ক করে ফোনে গেম খেলতে খেলতেই ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে উঠে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথেও বাবা ওর সঙ্গে তেমন কথা বললেন না। তিতিরের দু-একটা প্রশ্নের শুধু জবাব দিলেন তাও হু-হা দিয়ে। তিতির ঠিক বুঝতে পারছে না কেন ওর সবকিছু ঠিক লাগছে না!



এভাবে সপ্তাহখানেক কেটে গেল। একদিন স্কুল থেকে ফিরে তিতির দেখল, ওর টেবিলটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ভালো করে দেখে বুঝতে পারল, টেবিলের শেলফে রাখা তিতিরের গল্পের বইগুলো নেই। স্কুলের সব বইখাতা অবশ্য আছে। প্রথমে তিতিরের মনে হলো, আচ্ছা থাক, কী হবে গল্পের বই দিয়ে! ফোনের মধ্যে কত মজার মজার গেম আছে। কত মজার ভিডিও আছে! কিন্তু দু-একদিন পর থেকেই গল্পের বইগুলোর জন্য ওর মন কেমন করতে লাগল। তবে ও মুখে কিছুই বলল না। মামণি আর বাবা এখনও সেই একই রকম, ওর সঙ্গে ঠিক করে কথা বলছে না। এটা অবশ্য একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। আজ মাসিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। তিতির দুই বিষয়ে খারাপ করেছে। সবগুলোয় মোটামুটি আশির ঘরে নম্বর পেলেও গণিত আর ধর্মশিক্ষায় পঞ্চাশের নিচে পেয়েছে। এবারের রেজাল্ট কার্ড বাবাকে দেখানো যাবে না। মা দেখে সাইন করে দিলেই ও জমা দিয়ে দেবে। কিন্তু মা কি সাইন করবে? যদি না করে? এসব ভাবতে ভাবতে তিতিরের আজ ঘুম আসছে না। আজ গেম খেলাতেও ইচ্ছে করছে না। ওর কেবলই মনে হচ্ছে সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেছে! বাসায় আগে কত হৈচৈ ছিল। প্রতি রাতে মা ওকে ঘুমানোর আগে গল্পের বই পড়ে শোনাত। পরীর গল্প। ভূতের গল্প। রাজা-রানীর গল্প। গল্পের বইগুলোর জন্যও আজ ওর ভীষণ মায়া লাগল। মনে হলো, ওর সঙ্গীরা সব বুঝি ওকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কতদিন হয়ে গেল বাবা আর মামণি ওকে শিশুপার্কে নিয়ে যাননি। এসব ভাবতে ভাবতে বালিশে মুখ গুঁজে তিতির কাঁদতে লাগল। ঠিক তখনই প্রতিদিনের মতো মামণি ওর ঘরে এলেন মশারি টানিয়ে দিতে। এসে দেখলেন তিতির কাঁদছে। এটা দেখে মামণি আর রাগ করে থাকতে পারলেন না। তিতিরের মাথায় হাত বুলিয়ে, চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বললেন, কী হয়েছে মামণি? কাঁদছ কেন?



এটা শুনে তো তিতির আরও বেশি করে কাঁদতে লাগল। ও মামণিকে জড়িয়ে ধরে বলল, তোমরা আমাকে আর কেন ভালোবাস না?



আমরা কে? মামণি জানতে চাইলেন।



তুমি, বাবা। আর স্কুলের টিচাররাও।



এমন কেন হচ্ছে, তুমি কি বুঝতে পারছ মা?



না! আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। কেন তোমরা সবাই এমন করছ?



তুমি যে সবকিছু ভুলে, সবাইকে বাদ দিয়ে ফোন নিয়ে পড়ে থাকো! ঠিকমতো লেখাপড়া করো না। তাই সবাই তোমাকেও বাদ দিয়েছে।



মামণি, আজ আমার রেজাল্ট দিয়েছে। খুব খারাপ নম্বর পেয়েছি আমি। মিসও আমার ওপর রাগ করেছে। তিতির বলল।



এ সবকিছুই হয়েছে তোমার অতিরিক্ত গেম খেলার জন্য।



আমি আর গেম খেলব না মামণি! তাহলেই কি তোমরা আমাকে আগের মতো ভালোবাসবে?



আমরা সবাই তোমাকে খুব ভালোবাসি মা!



তাহলে তুমি আমার ফোনটা নিয়ে নাও!



না। আমি নেব না। কারণ আমি নিলে তুমি আবার আমার কাছে ফিরে চাইবে।



ফোনটা তাহলে আমি ফেলে দিই?



ফেলে দেবে কেন? কাজের জিনিস কি ফেলে দিতে আছে? ফোন তো কাজের জিনিস। ওটা আমরা তোমাকে কিনে দিয়েছিলাম, আমরা অফিস থেকেও যাতে তোমার খোঁজখবর রাখতে পারি তাই। তুমি ওটা রেখে দাও। যার কাজে লাগবে সে ঠিক নিয়ে যাবে।



আচ্ছা মা, আমি আর ফোন নেব না।



তাহলে এখন লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো!



তুমি আমাকে সেই নীলপরীর গল্পটা শোনাবে মা?



অবশ্যই শোনাব।



আর আমার সব গল্পের বই আবার আমার টেবিলে রেখে দেবে?



দেব তো! এখন ঘুমাও। আমি তোমাকে নীলপরীর গল্প শোনাচ্ছি। তারপর কী হলো জানো? 'এক রাতে নীলপরী এলো তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে... !' গল্প শুনতে শুনতে একসময় তিতির ঘুমিয়ে পড়ল! সকালে ঘুম ভেঙে দেখতে পেল টেবিলের ওপর ওর মোবাইল ফোনটা নেই! খাবার টেবিলে নাশতা খেতে খেতে ও মামণির কাছে জানতে চাইল, মা সেই পচা ফোনটা কোথায় গেল?



ওটা রাতে নীলপরীটা এসে নিয়ে গেছে। তুমি কি রাগ করলে?



না মামণি! নিয়ে গেছে খুব ভালো হয়েছে। ওটার জন্য আমার সবকিছু খারাপ হয়েছিল। এখন আবার আমার সবকিছু ভালো হবে। তাই না বাবা?



বাবা উঠে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ঠিক বলেছ মা! এবার চলো তাড়াতাড়ি স্কুলে যাই! তখনই তিতির উঠে স্কুলের ব্যাগ নিয়ে বাবার সঙ্গে বেরিয়ে গেল।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৯৬০২১
পুরোন সংখ্যা