চাঁদপুর। বুধবার ৪ জানুয়ারি ২০১৭। ২১ পৌষ ১৪২৩। ৫ রবিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৭। উহারা বলিল, ‘হে লূত! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।


১৬৮। লূত বলিল, ‘আমি তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।’’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

বুদ্ধিমান লোক নিজে নত হয়ে বড় হয় আর নির্বোধ ব্যক্তি নিজেকে বড় বলে অপদস্থ হয়।      -হযরত আলী (রাঃ)। 



বিদ্যা অর্জন করো; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিদ্যা অর্জন করে সে ধর্মকর্ম করছে। যে ব্যক্তি বিদ্যা আলোচনা করে, সে খোদাতায়ালার প্রশংসা করছে। যে বিদ্যা শিক্ষা দেয়, সে দান করার পূণ্যের অধিকারী হবে। যে জন উপর্যুক্ত পাত্রে বিদ্যা দান করে, সে আল্লাহর প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে।             


  

পঁচাত্তরে যে সংস্কৃৃতি অঙ্গনের স্বপ্ন দেখেছিলাম তা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে
মানিক চন্দ্র কুরি
সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
০৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার অধ্যক্ষ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন প্রবীণ সংস্কৃতিবিদ মানিক চন্দ্র কুরি। ১৯৫৫ সালের ৩০ নভেম্বর ফরিদগঞ্জের ১৫নং রূপসা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এ গুণী শিল্পী। তার বাবা ননী গোপাল কুরি ও মা স্বরোজ বালা কুরিও ছিলেন সাংস্কৃতিক মনা। জীবনের ৪০টি বছর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাটিয়েছেন তিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন। তারপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গন দেখার প্রতীক্ষায় কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। তাই তার বক্তব্যে ভেসে আসে ফরিদগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে হতাশা আর হাহাকারের কথা। দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের সংস্কৃতি অঙ্গনের এবারের সংখ্যায় আমরা নিয়েছি তার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার।



সংস্কৃতি অঙ্গন : কেমন আছেন?



মানিক কুরি : জি্ব ভালো।



সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনি সংস্কৃতি অঙ্গনে কত বছর ধরে কাজ করছেন??



মানিক কুরি : প্রায় ৪৫ বছর।



সংস্কৃতি অঙ্গন : প্রথম কিভাবে সংস্কৃতি অঙ্গনে আসেন?



মানিক কুরি : দেশ স্বাধীনের আগে আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন ফরিদগঞ্জ টিটিসি হলে একটি প্রতিযোগিতায় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংস্কৃতি অঙ্গনের যাত্রা শুরু হয়।



সংস্কৃতি অঙ্গন : ঐ প্রতিযোগিতার ফলাফল কি ছিল?



মানিক কুরি : দেশাত্ববোধক ও নজরুল সংগীতে আমি প্রথম এবং রবীন্দ্র সংগীতে ২য় হয়েছিলাম। এ প্রতিযোগিতার সনদ পত্রই ছিল আমার জীবনের ১ম সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করার স্বীকৃতি।



সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কার হাতে হাতেখড়ি নেন?



মানিক কুরি : বি-বাড়িয়ার আলাউদ্দিন সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ মনমোহন কুরি স্যারের হাতেই আমি প্রথম হাতেখড়ি নেই। আমার সংগীত অঙ্গনে তিনিই প্রথম ও শেষ ওস্তাদ।



সংস্কৃতি অঙ্গন : প্রথম কোনো সংগঠনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু করেন।



মানিক কুরি : ১৯৭৪ সালে কলাবাগানের রিপন ভাইয়ের ফরিদগঞ্জ সংগীত নিকেতন নামক একটি সংগঠন ছিল। ঐ সংগঠনটির মাধ্যমেই আমি আমার সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করি। ফরিদ আহাম্মেদ রিপন ভাই ছিলেন ঐ সংগঠনের সভাপতি। তবে ঐ সময় আমি কচি কাঁচার মেলার সাথেও যুক্ত ছিলাম।



সংস্কৃতি অঙ্গন : ১ম গান শিখিয়েছেন কোন সংগঠনে?



মানিক কুরি : ১৯৪৫ সালে রূপসা রূপসী সংগীত নিকেতনের মাধ্যমে গান শেখানো শুরু করি। আমার বহু ছাত্র এখন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। এ পর্যন্ত ২০-৩০ জনকে আমি সংগীতের তালিম দেই।



সংস্কৃতি অঙ্গন : বর্তমানে কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন?



মানিক কুরি : বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার অধ্যক্ষ হিসেবে বর্তমানে যুক্ত আছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ সংগঠনের ব্যানারেই আমি অনুষ্ঠান করি।



সংস্কৃতি অঙ্গন : পূর্বে আর কোন সংগঠনে সম্পৃক্ত ছিলেন?



মানিক কুরি : অবশ্যই আমি ফরিদগঞ্জ সংগীত একাডেমীর সাথেও সম্পৃক্ত ছিলাম। গত ২০১১ সালে ঐ সংগঠন থেকে চলে আসি।



সংস্কৃতি অঙ্গন : এ অঙ্গনে আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কি?



মানিক কুরি : আমার সংগীত ভক্তদের অগণিত ভালোবাসা। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আমিনুল হক মাস্টার আমার গানের খুব ভক্ত ছিলেন। আমাকে নানাভাবে তিনি উৎসাহ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।



সংস্কৃতি অঙ্গন : একাত্তরের যুদ্ধ চলাকালীন আপনার ভূমিকা কি ছিল?



মানিক কুরি : একাত্তরে আমি ১৬ বছরের এক কিশোর। তৎকালীন সময়ে আমাদের বাসায় প্রায়ই মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় গ্রহণ করতো। মাঝে মাঝে আমি তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাগরণী গান শোনাতাম। হাজীগঞ্জ বারেক সওদাগরের ৮ ছেলে একাত্তরে প্রায়ই আমাদের বাড়ি আশ্রয় নিতো। বহুবার আমার গান শুনেছিলেন তারা।



সংস্কৃতি অঙ্গন : বর্তমান ফরিদগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে কিছু বলুন।



মানিক কুরি : বর্তমানে ফরিদগঞ্জে ৪-৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও তারা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরার কথা সেভাবে তারা তুলে ধরতে পারছেনা। ভালো কোন সংগীত শিল্পীও তৈরি হচ্ছে না বেশ কয়েক বছর ধরে। অথচ এক সময় এই ফরিদগঞ্জেই সংস্কৃতির কি জোয়ারইনা ছিল!



সংস্কৃতি অঙ্গন : ফরিদগঞ্জে বর্তমানে কোন সংগঠনের কার্যক্রম আপনার কাছে ভালো লাগে?



মানিক কুরি : 'ফরিদগঞ্জ লেকক ফোরাম' একটি সাহিত্য সংগঠন হলেও শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তারা ব্যাতিক্রমী যে পরিবেশনাগুলো করে থাকে তা আমার খুবই ভালো লাগে।



সংস্কৃতি অঙ্গন : এক সময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আপনি নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে গেছেন। তখন সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা কি পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?



মানিক কুরি : একদম না। দেশ স্বাধীনের পর এ উপজেলায় সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি জোয়ার ছিল। তখন এত বেশি হিংসা আর কাদা ছোড়াছুড়ি ছিলনা। সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে বাণিজ্যিক কোন উদ্দেশ্যও ছিল না। সেই সময় অনকে স্বপ্ন দেখেছিলাম ফরিদগঞ্জ সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে এক সময় জেলাকেও নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু তার কিছুই হলো না। '৭৫ এ আমরা যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বপ্ন দেখেছিলাম তা আজ ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। কতিপয় সংগঠকের ব্যবসায়ী মনোভাব আর সঠিক উদ্যোগের অভাবে আজ ফরিদগঞ্জ সংস্কৃতি অঙ্গন মুখ থুবড়ে পড়েছে।



সংস্কৃতি অঙ্গন : বর্তমানে কিভাবে সময় কাটান?



মানিক কুরি : আমাদের ধর্মীয় কিছু গান নিয়ে প্রতি শুক্রবার ছেলে মেয়েদের কীর্তন শেখাই। বেশ ভালো লাগে তাতে। শিশুদের মাঝে থেকে কাজ করতে পেরে নিজের কাছেও ভালো লাগে।



সংস্কৃতি অঙ্গন : অবসর সময় কি করেন?



মানিক কুরি : অবসর থাকলেই টেলিভিশনে গান শুনি। নতিকে সময় দেয়ার চেষ্টা করি।



সংস্কৃতি অঙ্গন : আগামী দিনগুলোতে সংগীত নিয়ে আপনার কোন ভাবনা আছে কিনা?



মানিক কুরি : তেমন একটা ভাবনা নেই। তবে নিজে যতদিন বেঁচে থাকি শুদ্ধ সংস্কৃতি লালন করে সংগীতকে ভালোবেসে যাবো। সংগীতের মাধ্যমেই বেঁচে থাকতে চাই।



সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনাকে ধন্যবাদ



মানিক কুরি : আপনাকেও ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৩১১৯
পুরোন সংখ্যা