চাঁদপুর। বুধবার ৪ জানুয়ারি ২০১৭। ২১ পৌষ ১৪২৩। ৫ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৭। উহারা বলিল, ‘হে লূত! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।


১৬৮। লূত বলিল, ‘আমি তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।’’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

বুদ্ধিমান লোক নিজে নত হয়ে বড় হয় আর নির্বোধ ব্যক্তি নিজেকে বড় বলে অপদস্থ হয়।      -হযরত আলী (রাঃ)। 



বিদ্যা অর্জন করো; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিদ্যা অর্জন করে সে ধর্মকর্ম করছে। যে ব্যক্তি বিদ্যা আলোচনা করে, সে খোদাতায়ালার প্রশংসা করছে। যে বিদ্যা শিক্ষা দেয়, সে দান করার পূণ্যের অধিকারী হবে। যে জন উপর্যুক্ত পাত্রে বিদ্যা দান করে, সে আল্লাহর প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে।             


  

ফটো গ্যালারি
প্রসঙ্গ : চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা
জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো
রাসেল হাসান
০৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা চাঁদপুরবাসীর প্রাণের স্পন্দন। ১৯৯২ সালে চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় যে মেলা শুরু হয়েছিল তা এখন পুরো জেলার সিকি কোটি মানুষের জন্য একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে একজন মুক্তিযোদ্ধা যেমনি তার মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘদিনের না বলা কথাগুলো বলার স্বপ্ন দেখেন তেমনি জেলার প্রায় অর্ধশত সাংস্কৃতিক সংগঠনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের তৈরি করা মুক্তিযুদ্ধের কল্পিত ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত নাটিকা বা যৌথ অভিনয়গুলো উপস্থাপন করার স্বপ্নের জাল বুনে। কোনো কোনো সাংস্কৃতিক কর্মী হয়তো পুরো বছর জুড়ে একটি নৃত্যের মহড়া দিয়ে চলছিলো জেলার সবচেয়ে বড় মঞ্চ চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরবে বলে। সকলের অগোচরে কোনো না কোনো ক্ষুদে সংগীত শিল্পী হয়তবা তার সংগীত গুরুর কাছ থেকে শিখে নিয়েছে এ বছরের সেরা সংগীতটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় হাজারো মানুষের সামনে উপস্থাপন করবে বলে। এ মেলা এখন জেলার শ' শ' সাংস্কৃতিক কর্মীর স্বপ্নের মেলায় পরিনত হয়েছে। এ মেলা এখন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবেগ, অনুভূতি, আশা আকাঙ্ক্ষার কথাগুলো তুলে ধরার অন্যতম একটি মাধ্যমে রূপ নিয়েছে। তাই এ মেলাকে জেলাবাসীর কাছে সার্বজনীন করা, মেলা কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি কর্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একাত্তরের স্মৃতি বিজড়িত চাঁদপুর সদরস্থ হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হলেও তা নিঃসন্দেহে শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর উপজেলার মানুষদের জন্য নয়। জেলার ৮ উপজেলার সকল মানুষের অংশগ্রহণে মেলাটি হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মানুষদের জন্য একটি সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে তা স্বয়ং মেলা কর্তৃপক্ষও চান।



এ বছর মেলার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনে কিছুটা হলেও যেন সার্বজনীনতা হারিয়েছে মেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থান দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র চাঁদপুর সদরস্থ সংগঠনগুলোকে। বিজয় মেলা সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদের কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ের কোনো সংগঠনকে সুযোগ দেননি মেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার। এতে অনেকটাই হতাশ উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বিজয় মেলার সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদের কর্তা ব্যক্তিদের জরিপে যদি উপজেলা পর্যায়ের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন মানসম্মত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হয় তাহলে কিছু বলার নেই। আর যদি চাঁদপুর সদরস্থ একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের তুলনায় উপজেলা পর্যায়ের কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন মানসস্মত অনুষ্ঠান করতে পারে বলে মনে করেন তবে তাদেরকে মেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে না দেয়ায় সার্বজনীনতায় কিছুটা হলেও আঘাত এসেছে কিনা তা নিয়ে ভেবে দেখা দরকার মেলা কর্তৃপক্ষের। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মাত্র দু'বছর হয় আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এমন সংগঠনও মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাচ্ছে অথচ উপজেলা পর্যায়ে থাকা এক যুগ পার করা সংগঠনগুলোরও ঠাঁই হয়নি ৩০ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসূচিতে।



ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, মতলব উপজেলার কবিতাঙ্গন, কচুয়ার ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ইতোপূর্বে তাদের মানসম্মত অনুষ্ঠান পরিবেশনার মাধ্যমে নজর কেড়েছে জেলাবাসীর। বিশেষ করে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি জারি গান, সারি গান, পুঁথি পাঠ পরিবেশনার মাধ্যমে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত মতলব উপজেলার কবিতাঙ্গন নামক সংগঠনটি। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ট্রাজেডি নাটিকা, বৃন্ত আবৃত্তি, নৃত্য আর স্বরচিত সংগীত পরিবেশনাসহ শিক্ষামূলক একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান গত ৫ বছর ধরেই বিজয় মেলা মঞ্চে পরিবেশন করে দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম নামক সংগঠনটি। সম্প্রতি চাঁদপুর ইলিশ উৎসবে ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মাধ্যমে আলোচিত কচুয়া ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনটিও। তবুও এ সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সদর উপজেলার সংগঠনগুলোকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করায় হতাশ উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। যদি এ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কোনো অনুষ্ঠান বিজয় মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে অসৌজন্যমূলক মনে হয় তবে সেক্ষেত্রে তারা তাদেরকে শুধরানোর সুযোগ দিয়ে একটি মানসম্মত অনুষ্ঠান করার সুযোগ দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে তাদেরকে একেবারেই বিজয় মেলার তালিকা থেকে বাদ দেয়ায় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সার্বজনীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



মেলা কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত প্রতি বছর নিজ উপজেলার অনুষ্ঠান দেখার জন্য উপজেলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে পাখির মত ঝাঁকে ঝাঁকে সাংস্কৃতিক প্রেমীরা মেলায় ছুটে আসে। চাঁদপুর বিজয় মেলার জন্য উপজেলা পর্যায়ের যে মানুষগুলোর এত আবেগ ভালোবাসা বুকে জমা আছে তাদের জন্য মেলামুখি কর্মকা- হাতে না নিয়ে মেলা বিমুখি কর্মকা- হাতে নেয়াটা কতটা যৌক্তিক তাও ভেবে দেখা উচিত মেলা কমিটির।



বিজয় মেলা থেকে বাদ পড়া সংগঠনগুলো এখনও জানেনা তাদের অপরাধ কি ছিল। তবে কি উপজেলা পর্যায়ে জন্ম নেয়াই এ সংগঠনগুলোর অপরাধ? চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় অনুষ্ঠান করতে হলে কি কোন সংগঠনকে চাঁদপুর সদর উপজেলাতেই জন্ম নিতে হবে? এমন নানা প্রশ্ন এখন উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের মনে। মেলা কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের পরিমাণ বেশি তবে তারা অন্তত প্রতি উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ সংগঠনকে সুযোগ দিতে পারেন মেলায় অনুষ্ঠান করার। আর চাঁদপুর সদরস্থ কোন সংগঠন যদি উপজেলার সংগঠনগুলোর তুলনায় মানহীন অনুষ্ঠান করে তবে তাদেরকে বাদ দেয়াটাতো আর দোষের কিছু নয়? কারণ জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো। মানসম্মত সাংস্কৃতিক সংগঠন বিবেচনায় জন্মস্থান নয় কর্মই যেন প্রাধান্য পায় এমনটাই দাবি উপজেলার সাংস্কৃতিক সংগঠকদের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৬৩৪১
পুরোন সংখ্যা